একজন নারী নৃত্য পরিচালক হিসেবে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি, এই প্রশ্নের উত্তরে গীতা জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে চ্যালেঞ্জের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কম। তবে আমি আসার আগে যেসব মহিলা কোরিওগ্রাফির কাজ করতেন, তাঁদের বেশ বড়ো ধরনের প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হয়েছিল। কারণ, সে সময় এই ক্ষেত্রে পুরুষ কোরিওগ্রাফারদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। সেই পরিবেশে নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা ছিল বেশ কঠিন। তাঁরা অনেক বেশি বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের সেই সংগ্রামই আমাদের জন্য পথ মসৃণ ও সহজ করে দিয়েছে। আর এখন তো এই ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের জন্য বিষয়টি আরও অনেক সহজ হয়ে গেছে।’

প্রকৃত শিক্ষা

প্রসঙ্গত গীতা জানিয়েছেন, ‘আমার পরামর্শদাতা ফারহা খান আমাকে শিখিয়েছেন, জীবনে ধৈর্য ও নির্ভীকতা অপরিহার্য। নির্ভয়ে কাজ করা জরুরি। কারণ, ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করলে আপনি আর সামনে এগোতে পারবেন না। সবচেয়ে বড়ো শিক্ষাটি হল— কোনও কাজ হাতে নিতে বা তা সম্পন্ন করতে ভয় না পাওয়া। হয়তো ফলাফলটা ভালো হল না, কিন্তু কেন তা ভালো হল না, সেই বিষয়ে শিক্ষা লাভ তো হবে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরেরবার আরও ভালো করার উপায় শিখুন। মূল কথা হল— কোনও কিছুতেই ভয় পাওয়া চলবে না।’

মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়ে গীতা–র বক্তব্য

গীতা কপূর-এর মতে, “যে ক্ষেত্রেই হোক না কেন, প্রতিটি বাবা-মা-ই তাঁদের সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভাবেন এবং সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, কাজের প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় সন্তানদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল— সেই বিষয়ে বাবা-মায়ের উচিত সন্তানদের সঠিক ভাবে চালিত করা। অনেক সময় সন্তানরা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন, আবার বাবা-মায়েরাও একইরকম দ্বিধায় ভোগেন। তাঁরা অনেক সময় ভাবেন, ‘ও তো এখনও ছোটো, তাই এই বিষয়ে কি আদৌ ওর সঙ্গে কথা বলা ঠিক হবে? একই ভাবে, শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে খোলামেলা ভাবে কথা বলতে পারে না। অথচ নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায় এবং কেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝার জন্য একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। অতএব, অভিভাবক এবং সন্তানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। কারণ, জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুলগুলো এবং কঠিনতম পরিস্থিতিগুলো তখনই তৈরি হয়, যখন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বা খোলামেলা আলোচনার অভাব থাকে। পরিবারই হল আপনার সবচেয়ে বড়ো আশ্রয় ও নিরাপত্তা। আমি প্রতিটি মেয়েকে অনুরোধ করব, যেন তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং বাইরে যাওয়ার সময় তাঁদের অবশ্যই জানিয়ে যায়।’

নারীশক্তির বিষয়ে

গীতা মনে করেন, ‘আমাদের নিজেদের ভিতরের সেই অসাধারণ শক্তিগুলোকে চিনতে হবে এবং লালন করতে হবে। কারণ, অন্য কেউ তা আপনাকে দিতে পারবে না— – জন্মের সময় থেকেই সেগুলো আপনার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। এই শক্তিগুলো হল— প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা (resilience), ধৈর্য এবং নির্ভীকতা। সেগুলোকে বিকশিত হতে দিন। তুচ্ছ বিষয়ে কণ্ঠস্বর চড়াবেন না। তবে পরিস্থিতি যখন দাবি করে, তখন অবশ্যই সোচ্চার হোন।’

লাইভ–শো বেশি পছন্দের কারণ

গীতা কপূরের কথায়, “ইভেন্ট বা অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই আমার কর্মজীবনের শুরু। বিভিন্ন শো-তে আমি ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে কাজ করতাম। আমি সবসময়ই লাইভ-শো বা সরাসরি পরিবেশনা বেশি পছন্দ করি, কারণ এতে তাৎক্ষণিক স্বীকৃতি ও তৃপ্তি পাওয়া যায়। দর্শকরা যখন করতালি দেন, তখন বোঝা যায়, পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে। আর যদি তারা বিরক্ত হয়ে বসে থাকেন কিংবা উঠে চলে যান, তবে বুঝতে পারি যে, পরিবেশনাটি আশানুরূপ হয়নি।’

তাঁর উপলব্ধি

ব্যক্তিগত উপলব্ধির বিষয়ে গীতা-র বক্তব্য, ‘আজকাল শিশুরা যা করছে, তা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বাইরে থেকে হয়তো মনে হতে পারে যে আড়াই বা তিন মিনিটের একটি গানের নৃত্য পরিবেশন করা সহজ ব্যাপার। কিন্তু এর পিছনে প্রচুর পরিশ্রম থাকে। আমাদের কোরিওগ্রাফাররা এতে অসামান্য শ্রম দেন। এটি মোটেও সহজ কাজ নয়, কারণ এখানে একটি শিশুর দায়িত্ব থাকে কোরিওগ্রাফার- এর কাঁধে।’

(সমাপ্ত)

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...