তারপর, ভয়ে আমি অডিশন না দিয়েই চলে আসি। কিন্তু ধীরে ধীরে আমার ভয় কমে যেতে থাকে। আমি ক্যামেরার মুখোমুখি হতে শিখেছি এবং কয়েকটি শর্ট ফিল্মের শুটিং করেছি। আমি মোবাইল ক্যামেরার সামনে অনেক অনুশীলন করেছি, অনেক অডিশন দিয়েছি এবং অনেকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। পরে, আমি প্রযোজক মহেশ কোঠারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। তাঁর একটি প্রযোজনা সংস্থা আছে, যার নাম “কোঠার ভিশন”। তাঁর ‘অহল্যাবাই হোলকার’ ধারাবাহিক দিয়ে আমার বড়ো প্রজেক্ট-এ অভিনয় সফর শুরু হয়েছিল। ওটা ছিল আমার প্রথম ধারাবাহিক এবং ওই ধারাবাহিক আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল।

পছন্দের চরিত্র

স্টার প্রবাহের ‘বিথু মৌলি’ ধারাবাহিকে কাজ করেছি আমি। অভিনয় করেছি রাধার চরিত্রে। এই চরিত্রটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের ছিল। কারণ এতে অভিনয় করার সময় আমি খুব আনন্দ অনুভব করেছি। ভালোবাসার সুন্দর আবেগে ভরা রাধা চরিত্রটি আমার উপর প্রবল প্রভাব ফেলেছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে আমি রাধার মতো আচরণ করেছিলাম। রাধা যেহেতু কোমল স্বভাবের একটি চরিত্র, তাই সেই চরিত্রে রূপ দেওয়ার পর আমার স্বভাবেও পরিবর্তন এসে যায়। আমি সবার সঙ্গে খুব নরম ভাবে কথা বলতে শুরু করি। কিন্তু কিছু লোক এর সুযোগ নিয়েছে এবং নিজেকে বদলাতে আমার অনেক সময় লেগেছে। তবে, এটি একটি দুর্দান্ত ভূমিকা ছিল এবং এর জন্য আমি দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি।

স্ক্রিপ্ট নির্বাচন

আমি চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, গল্প এবং চিত্রনাট্যের গভীরতা বিবেচনা করি। কখনও কখনও, গল্পটি কম আকর্ষণীয় বলে মনে হয়, যদিও চরিত্রটি দুর্দান্ত। কিন্তু কখনও কখনও চরিত্রটি তেমন বিশেষ না হলেও, গল্পটি খুবই আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। একসময় আমার এও মনে হয়েছিল, যে কাজই করি না কেন, মন সায় দিলে তবেই সেই কাজ করা উচিত। তাই আমি কোনও চরিত্রকে ছোটো বা বড়ো মনে করি না। আমার মন চাইলে আমি সবরকম চরিত্রে অভিনয় করি।

পূজা-র ফিটনেস সিক্রেট

ফিটনেস-এর বিষয়ে আমি খুব সচেতন। কিন্তু এখন সময়াভাবে ফিটনেস-এ কিছুটা অবহেলা হয়ে যায়। তবে, সময়-সুযোগ থাকলে আমি খুব ভোরে জিমে যাই। আর জিমে যেতে না পারলে, দিনের কিছু কাজ যেমন— এক ঘণ্টা হাঁটা, নাচ বা সাইকেল চালানো ইত্যাদি প্র্যাকটিস করি, যাতে আমাকে ফিটনেসের সঙ্গে আপস না করতে হয়। যখন আমি শুটিং করি না, তখন আমার একটা অন্যরকম প্ল্যান থাকে। আমি ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে দৌড়াতে যাই। তারপর, কফি খাওয়ার পর, আমি জিমে যাই। সেখান থেকে ফিরে আসার পর, খাবার খাই। অর্থাৎ, যা করার দরকার তা করি এবং আমি সাঁতার কাটতে যাই। এটাই আমার সারা দিনের পরিকল্পনা। আমার প্রতিদিন নাচের ক্লাস থাকে। আমি সবসময় নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি। এই মুহূর্তে, আমি এরিয়াল শিখতে চাই। আমার অনেক ফর্ম শেখার আছে। আমি ওয়েট ট্রেনিং এবং ক্রসফিটের উপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। যখন আমি কোনও ডায়েট অনুসরণ করি, তখন তা মেনে চলি। অন্যথায় আমার খাবারের পরিমাণ এবং সময়ের দিকে মনোযোগ দিই। তারপর আমি ব্যায়ামও করি। তবে, ফিটনেস-এর ক্ষেত্রে আমার কোনও হার্ড রুল নেই।

চলচ্চিত্র, থিয়েটার এবং ধারাবাহিকের জগতের মধ্যে পার্থক্য

যদিও আমি টিভি ধারাবাহিক এবং সিনেমায় অভিনয় করতে ভালোবাসি, কিন্তু থিয়েটারকে আমি আরও বেশি ভালোবাসি। সিনেমায় আপনি রি-টেক করতে পারেন। কিন্তু থিয়েটার-এ যেহেতু সেই সুযোগ নেই, তাই কঠিন অনুশীলনকে মাধ্যম করতে হয় এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, দর্শকদের থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়ার মজা-ই আলাদা। সরাসরি প্রশংসা পেলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং এক অন্যরকম তৃপ্তি দেয়। থিয়েটার এবং সিনেমার এই ভিন্ন প্রক্রিয়া আমার খুব ভালো লাগে। তবে, টিভি ধারাবাহিকে খুব দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে অভিনয় করাও খুব চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। আর সিনেমায় মুভমেন্ট যেহেতু খুব মাপা, তাই এই ক্ষেত্রে অভিনয় করার বিষয়টিও বেশ অন্যরকম চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। কিন্তু ধারাবাহিকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ৯-১০ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করলেও, তাঁরা সিনেমায় খুব বেশি অভিনয়ের সুযোগ পান না। তাই, ধারাবাহিকে কাজ করতে করতে এক সময় একঘেয়েমি কিংবা বিরক্তি আসতে পারে।

মহিলাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং

সবার জন্য চ্যালেঞ্জ আলাদা। কারওর আর্থিক সমস্যা আছে, কেউ ভালো মানুষ খুঁজে পাচ্ছেন না, কেউ কেউ আবার একেবারেই কাজ পাচ্ছেন না। প্রত্যেকেরই আলাদা সংগ্রাম থাকে। এখানে টিকে থাকা কারওর জন্য কঠিন হতে পারে। আমি আড়াই বছর ধরে কর্মহীন ছিলাম। নিজের পছন্দমতো চরিত্র না পেলে অভিনয় করব না, এমনই জেদ ধরে থাকার জন্য কিছুদিন কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে আমাকে। কিন্তু বিনোদন জগতে অনেকেই বছরের পর বছর ধরে কর্মহীনও থাকেন। টাকা ছাড়া এখানে টিকে থাকা কঠিন। বিশেষকরে মহিলাদের জন্য, যারাতারপর, ভয়ে আমি অডিশন না দিয়েই চলে আসি। কিন্তু ধীরে ধীরে আমার ভয় কমে যেতে থাকে। আমি ক্যামেরার মুখোমুখি হতে শিখেছি এবং কয়েকটি শর্ট ফিল্মের শুটিং করেছি। আমি মোবাইল ক্যামেরার সামনে অনেক অনুশীলন করেছি, অনেক অডিশন দিয়েছি এবং অনেকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছি। পরে, আমি প্রযোজক মহেশ কোঠারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাই। তাঁর একটি প্রযোজনা সংস্থা আছে, যার নাম “কোঠার ভিশন”। তাঁর ‘অহল্যাবাই হোলকার’ ধারাবাহিক দিয়ে আমার বড়ো প্রজেক্ট-এ অভিনয় সফর শুরু হয়েছিল। ওটা ছিল আমার প্রথম ধারাবাহিক এবং ওই ধারাবাহিক আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল।

পছন্দের চরিত্র

স্টার প্রবাহের ‘বিথু মৌলি’ ধারাবাহিকে কাজ করেছি আমি। অভিনয় করেছি রাধার চরিত্রে। এই চরিত্রটি আমার হৃদয়ের খুব কাছের ছিল। কারণ এতে অভিনয় করার সময় আমি খুব আনন্দ অনুভব করেছি। ভালোবাসার সুন্দর আবেগে ভরা রাধা চরিত্রটি আমার উপর প্রবল প্রভাব ফেলেছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে আমি রাধার মতো আচরণ করেছিলাম। রাধা যেহেতু কোমল স্বভাবের একটি চরিত্র, তাই সেই চরিত্রে রূপ দেওয়ার পর আমার স্বভাবেও পরিবর্তন এসে যায়। আমি সবার সঙ্গে খুব নরম ভাবে কথা বলতে শুরু করি। কিন্তু কিছু লোক এর সুযোগ নিয়েছে এবং নিজেকে বদলাতে আমার অনেক সময় লেগেছে। তবে, এটি একটি দুর্দান্ত ভূমিকা ছিল এবং এর জন্য আমি দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি।

স্ক্রিপ্ট নির্বাচন

আমি চরিত্রটির ব্যক্তিত্ব, গল্প এবং চিত্রনাট্যের গভীরতা বিবেচনা করি। কখনও কখনও, গল্পটি কম আকর্ষণীয় বলে মনে হয়, যদিও চরিত্রটি দুর্দান্ত। কিন্তু কখনও কখনও চরিত্রটি তেমন বিশেষ না হলেও, গল্পটি খুবই আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। একসময় আমার এও মনে হয়েছিল, যে কাজই করি না কেন, মন সায় দিলে তবেই সেই কাজ করা উচিত। তাই আমি কোনও চরিত্রকে ছোটো বা বড়ো মনে করি না। আমার মন চাইলে আমি সবরকম চরিত্রে অভিনয় করি।

পূজা-র ফিটনেস সিক্রেট

ফিটনেস-এর বিষয়ে আমি খুব সচেতন। কিন্তু এখন সময়াভাবে ফিটনেস-এ কিছুটা অবহেলা হয়ে যায়। তবে, সময়-সুযোগ থাকলে আমি খুব ভোরে জিমে যাই। আর জিমে যেতে না পারলে, দিনের কিছু কাজ যেমন— এক ঘণ্টা হাঁটা, নাচ বা সাইকেল চালানো ইত্যাদি প্র্যাকটিস করি, যাতে আমাকে ফিটনেসের সঙ্গে আপস না করতে হয়। যখন আমি শুটিং করি না, তখন আমার একটা অন্যরকম প্ল্যান থাকে। আমি ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে দৌড়াতে যাই। তারপর, কফি খাওয়ার পর, আমি জিমে যাই। সেখান থেকে ফিরে আসার পর, খাবার খাই। অর্থাৎ, যা করার দরকার তা করি এবং আমি সাঁতার কাটতে যাই। এটাই আমার সারা দিনের পরিকল্পনা। আমার প্রতিদিন নাচের ক্লাস থাকে। আমি সবসময় নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি। এই মুহূর্তে, আমি এরিয়াল শিখতে চাই। আমার অনেক ফর্ম শেখার আছে। আমি ওয়েট ট্রেনিং এবং ক্রসফিটের উপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। যখন আমি কোনও ডায়েট অনুসরণ করি, তখন তা মেনে চলি। অন্যথায় আমার খাবারের পরিমাণ এবং সময়ের দিকে মনোযোগ দিই। তারপর আমি ব্যায়ামও করি। তবে, ফিটনেস-এর ক্ষেত্রে আমার কোনও হার্ড রুল নেই।

চলচ্চিত্র, থিয়েটার এবং ধারাবাহিকের জগতের মধ্যে পার্থক্য

যদিও আমি টিভি ধারাবাহিক এবং সিনেমায় অভিনয় করতে ভালোবাসি, কিন্তু থিয়েটারকে আমি আরও বেশি ভালোবাসি। সিনেমায় আপনি রি-টেক করতে পারেন। কিন্তু থিয়েটার-এ যেহেতু সেই সুযোগ নেই, তাই কঠিন অনুশীলনকে মাধ্যম করতে হয় এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, দর্শকদের থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়ার মজা-ই আলাদা। সরাসরি প্রশংসা পেলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং এক অন্যরকম তৃপ্তি দেয়। থিয়েটার এবং সিনেমার এই ভিন্ন প্রক্রিয়া আমার খুব ভালো লাগে। তবে, টিভি ধারাবাহিকে খুব দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে অভিনয় করাও খুব চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। আর সিনেমায় মুভমেন্ট যেহেতু খুব মাপা, তাই এই ক্ষেত্রে অভিনয় করার বিষয়টিও বেশ অন্যরকম চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। কিন্তু ধারাবাহিকের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ৯-১০ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করলেও, তাঁরা সিনেমায় খুব বেশি অভিনয়ের সুযোগ পান না। তাই, ধারাবাহিকে কাজ করতে করতে এক সময় একঘেয়েমি কিংবা বিরক্তি আসতে পারে।
প্রায়ই কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি হন। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস হ্রাস করতে পারে। আসলে, এই ক্ষেত্রে মহিলাদের কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি হতে হয়। ধান্দাবাজরা সরাসরি বাজে প্রস্তাব দেবে না। কিন্তু তার কথা বলার ধরন দেখে মেয়েরা বুঝতে পারে যে, সে কী বলতে চায়। তাই, এই জগতে নিজেকে রক্ষা করাও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ।

(ক্রমশ…)

—- গরিমা পঙ্কজ

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...