পূজা কাতুর্দে যেমন স্টাইলিশ, তেমনই আকর্ষণীয় তাঁর দুটো বড়ো চোখ। তিনি মূলত একজন মারাঠি অভিনেত্রী, কিন্তু হিন্দি টিভি সিরিজ-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ‘পুষ্পা ইম্পসিবল’ ধারাবাহিকে অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করছেন। একসময় তিনি ‘হৃদয়ী প্রীত জাগতে’ ধারাবাহিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেও পরিচিতি পেয়েছেন। ‘সং তু আহেস কা’, ‘বিঠু মৌলি’ ‘ভাখরওয়াড়ি” এবং “গেমাডপন্থী’ প্রভৃতি টিভি ধারাবাহিকে সাবলীল অভিনয় করেও দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন পূজা।
পুনেতে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে পূজার জন্ম। ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি আছে তাঁর। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়ে গিয়েছিল অনেকদিন আগেই। তাই, ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর, তিনি অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি তিনটি অভিনয় কর্মশালায় যোগ দেন এবং নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তারপর, তিনি টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যান৷
পূজার মা একজন গৃহিণী, আর তাঁর বাবা একজন চাকুরিজীবী। তাঁর মায়ের নাম প্রতিভা কাতুর্দে এবং তাঁর বাবার নাম নাথ কাতুর্দে। ২৯ বছর বয়সি পূজার এক ছোটো বোন আছে এবং সেই বোন একজন স্কিন থেরাপিস্ট। পূজার এক ছোটো ভাইও আছে, যে একজন শেফ এবং বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করে। বিনোদন জগতে পূজার কোনও পারিবারিক পটভূমি নেই। তাই তিনি যা কিছু অর্জন করেছেন, তা কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার মাধ্যমেই।
পূজা বেশিরভাগ মারাঠি ভাষায় কাজ করেছেন। তিনি প্রায় ৭-৮টি মারাঠি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। তবে ৩-৪টি ধারাবাহিকে প্রধান এবং পজিটিভ চরিত্রে অভিনয় করলেও, বাকি ধারাবাহিকে তিনি নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পূজা জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি তিনি দুটি ছবিতে অভিনয় করলেন এবং এই ছবি দুটি চলতি বছরেই মুক্তি পাবে। হিন্দি ছবির নাম এখনও ঠিক করা হয়নি এবং মারাঠি ছবিটির শিরোনাম ‘গুড লাক’। কিছুদিন আগে তিনি একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন, যার নাম ‘ক্লিপ্টোম্যানিয়া”, যা অ্যামাজনে আসছে। বর্তমানে ‘পুষ্পা ইম্পসিবল’ সোনি সাব-এ সম্প্রচারিত হচ্ছে, যেখানে তিনি একজন আইপিএস অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করছেন। তিনি ২০১৮ সালে হিন্দি ধারাবাহিক ‘ভাখরওয়াড়ি’-তেও অভিনয় করেছিলেন। তিনি অতীতে বিভিন্ন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। ‘সাওয়ান কুইন’- ‘-এর জন্য তিনি ‘বেস্ট পার্সোনালিটি অ্যান্ড হেয়ার অ্যাওয়ার্ড” পেয়েছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে পুনেতে ‘মিস ডিভা’-র উইনার হওয়ার পর থেকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন।
‘মারাঠি ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে, হিন্দি বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে কি কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে আপনাকে?’
এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, হিন্দি সিরিয়াল বা সিনেমায় সুযোগ পেতে তাঁকে বিশেষ কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। কিন্তু বাড়িতে বা ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি যেমন সবসময় মারাঠি ভাষায় কথা বলেন, তেমনই, হিন্দিতে কথা বলার সময় মাঝেমধ্যে তাঁর সামান্য সমস্যা হয়। তাঁর মতে, হিন্দি ভাষায় উন্নতি করতে মারাঠিদের কিছুটা সময় লাগে, কারণ মারাঠিদের উচ্চারণে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।
পূজার মতে, হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোকেরা অনেক বেশি খোলামেলা, সহায়ক এবং যত্নশীল। এই বিষয়ে পূজা-র বক্তব্য….
সিরিয়ালে প্রথম সুযোগ
আমি প্রথমে থিয়েটার করতাম। তারপর আমার অডিশন আসতে শুরু করে, আর ফেসবুক তখন যোগাযোগের একটি খুব সক্রিয় মাধ্যম ছিল। আমার ফেসবুক পেজে আমি বার্তা পেয়েছি, কিছু ভুয়ো, কিছু আসল। সেই সময় ক্যামেরা সম্পর্কে আমার কোনও জ্ঞান ছিল না। কোনও পেশাগত অভিজ্ঞতাও ছিল না আমার। বলতে পারি, আমার এক ধরনের ক্যামেরা ফোবিয়া ছিল। অডিশনের জন্য পুনে থেকে মুম্বই সফর করার সময় বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
(ক্রমশ…)





