সবার জন্য চ্যালেঞ্জ আলাদা। কারওর আর্থিক সমস্যা আছে, কেউ ভালো মানুষ খুঁজে পাচ্ছেন না, কেউ কেউ আবার একেবারেই কাজ পাচ্ছেন না। প্রত্যেকেরই আলাদা সংগ্রাম থাকে। এখানে টিকে থাকা কারওর জন্য কঠিন হতে পারে। পূজা আরও জানিয়েছেন, ‘আড়াই বছর ধরে কর্মহীন ছিলাম। নিজের পছন্দমতো চরিত্র না পেলে অভিনয় করব না, এমনই জেদ ধরে থাকার জন্য কিছুদিন কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে থাকতে হয়েছে আমাকে। কিন্তু বিনোদন জগতে অনেকেই বছরের পর বছর ধরে কর্মহীনও থাকেন। টাকা ছাড়া এখানে টিকে থাকা কঠিন। বিশেষকরে মহিলাদের জন্য, যারা প্রায়ই কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি হন। এটি তাদের আত্মবিশ্বাস হ্রাস করতে পারে। আসলে, এই ক্ষেত্রে মহিলাদের কাস্টিং কাউচের মুখোমুখি হতে হয়। ধান্দাবাজরা সরাসরি বাজে প্রস্তাব দেবে না। কিন্তু তার কথা বলার ধরন দেখে মেয়েরা বুঝতে পারে যে, সে কী বলতে চায়। তাই, এই জগতে নিজেকে রক্ষা করাও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ।’

সবাইকে সংগ্রাম করতে হবে

আমি যতই কষ্ট করি না কেন, লড়াইয়ের প্রক্রিয়াটি সত্যিই উপভোগ করি। যখন আমি কঠোর পরিশ্রম করি এবং ইতিবাচক ফলাফল দেখি, তখন আমি অপরিসীম তৃপ্তি অনুভব করি। অডিশন ছাড়াই যদি কাজ পাই, তাহলে আমার ভালো লাগে না। কিন্তু যখন দুই-তিনবার অডিশন এবং লুক টেস্ট-এর পর অনেকের মধ্যে থেকে আমাকে নির্বাচন করা হয়, তখন আমার খুব ভালো লাগে। সবাইকেই সংগ্রাম করতে হয়। আপনি যতই ধনী হন না কেন, অথবা আপনার যতই কাজের সুযোগ থাকুক না কেন, সবার জন্যই একটা সংগ্রাম আছে। মাঝেমধ্যে আপনি ভুল মানুষের খপ্পরেও পড়তে পারেন। আপনাকে প্রতিবারই প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হবে। ধূর্ত লোকেদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ এবং সমস্যা এড়াতে সতর্ক থাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আসলে এ এক জটিল জগৎ।

জীবনের বড়ো শিক্ষা

২০২১ সালে যখন আমি মুম্বইতে ছিলাম, একদিন হঠাৎ আমার মাতামহী মারা যান। তিনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন, কিন্তু তাঁকে আমি শেষবারের মতো দেখতে পাইনি নানারকম প্রতিকূলতার কারণে। সেই মনখারাপ আজও থেকে গেছে। তারপর থেকে আমার চিন্তাভাবনা বদলে গেছে। আমি বাস্তবতা বুঝতে পেরেছি।

যারা আমাদের আপন এবং আমাদের জন্য এত চিন্তা করেন, ভালোবাসেন, তাদের আমরা হালকা ভাবে নিতে পারি না। আমাদের জীবনের কাছের মানুষদের হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়, তাদের সঙ্গে কখনওই অভদ্র ভাবে কথা বলা উচিত নয়। কারণ, আমরা কেউ জানি না যে, তার সঙ্গে শেষ দেখা হবে কিনা! পরে হয়তো আমরা অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি, কিন্তু মনখারাপ থেকে যাবেই। আসলে বিনোদন জগতে কাজ করার এটাই সবচেয়ে বড়ো সমস্যা। কাজ করে, প্রশংসা পেয়ে যতই খুশি থাকি না কেন, আপনজনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তেই থাকে।

সাফল্যের রহস্য

শুধু নিজের প্রতি এবং নিজের কাজের প্রতি সৎ থাকুন। সর্বদা নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। অভিনয় কর্মশালা আপনাকে কথা বলার কিংবা সংলাপ পরিবেশনের মূল বিষয়গুলি শেখায়। কিন্তু যদি আপনি কাজে সৎ থাকেন, তাহলে সবকিছু ঠিকঠাক হবে। আমি এখনও শিখছি। কাজ যদি কিছু চ্যালেঞ্জ না নিয়ে আসে, তাহলে সেটা মজার নয়। যদি আপনার কাজ থেকে নতুন কিছু শেখেন, তাহলেই আপনি প্রকৃত অর্থে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। যদি জীবন গতানুগতিক ভাবে চলে, একই সুর বাজতে থাকে, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি সব আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। তাই আমি সবসময় নতুন কিছু করতে পছন্দ করি। সবসময় কিছু চ্যালেঞ্জ ওভারকাম করতে বেশ ভালো লাগে৷

স্বপ্নের চরিত্র

আমি ওয়ান্ডার উয়োম্যান-এর চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, অ্যাকশন ছবিও করতে চাই এবং থ্রিলার ফিল্ম-এ মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে চাই। আমার মনে হয়, আমি সাইকো-থ্রিলারে ভালো অভিনয় করতে পারব। আসলে, আমি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই, যা আমি আগে কখনও করিনি।

যা মনে রাখা উচিত

কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং মনোযোগী থাকতে হবে। এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল শিল্প মাধ্যম। প্রাথমিক ভাবে, এখানে সবকিছুই বেশ আকর্ষণীয় মনে হবে আপনার। কিন্তু কখনও কখনও এই সবকিছু, এমনকী খ্যাতিও অপ্রতিরোধ্য মনে হতে পারে। ধারাবাহিক ভাবে ভালো ছবি পেলে সাফল্য অপ্রতিরোধ্য হতে পারে, কিন্তু এটি আপনাকে হতাশও করতে পারে। এটি খুবই অস্থির এক মাধ্যম। মানুষও অস্থির। ভালো মানুষ এবং খারাপ মানুষ উভয়ই আছে। যদি আপনি ভালো কিছু করতে চান, তাহলে আপনার নিজের উপর আস্থা রাখা উচিত। আপনি দেখতে সুন্দর এবং প্রতিভাও রয়েছে মানে এমন নয় যে, সবসময় আপনি সহজে কাজ পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, সাফল্য পাওয়ার থেকে, সাফল্য ধরে রাখা আরও কঠিন। আর এই এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি-তে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরিবার ছাড়া কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না কিংবা বিশ্বাস করা উচিত নয়। এখানে সতর্ক থেকে কাজ করা উচিত।

নিজের গুরুত্ব বুঝুন

আমার মনে হয়, বিনোদন জগতে সবাই অনন্য। প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা গুণ আছে। আমি আমার গুণাবলী জানি এবং আমি তা লালন করি। আমি জানি যে, কেউ যদি আমাকে কাজের সুযোগ দেয়, তাহলে আমার মধ্যে অবশ্যই বিশেষ কিছু আছে, নয়তো আমি টিকে থাকতে পারতাম না। কোনও পটভূমি ছাড়াই, কাস্টিং কাউচের শিকার না হয়ে, কোনও ভুল না করেই আমি এতদূর এসেছি।

আমি ভালো কিছু করেছি, আমার আরও ভালো কিছু দেওয়ার আছে এবং এর জন্য আমাকে আরও কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। চলচ্চিত্র জগতে, পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে খুব কম বৈষম্য রয়েছে। আর আমি খুব লাকি যে, পুরুষ সহ-অভিনেতাদের খুবই সহায়ক মানসিকতার এবং বন্ধুর মতো পেয়েছি। আমি কখনওই নিজেকে অহংকারী করে তুলিনি। তবে আমার সঙ্গে কেউ অন্যায় করলে, তাকে সঠিক প্রতিক্রিয়া জানাতে কিংবা উচিত শিক্ষা দিতেও আমি শিখে গেছি এখন।

(সমাপ্ত)

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...