বিয়ের প্রস্তুতি নিন দু’জনে মিলে (পর্ব-০১)

ভারতীয় বিয়ে কোনও বড়ো উৎসবের থেকে কম নয়। যে-কোনও উৎসব শুরু হওয়ার আগে আমরা যেমন প্রস্তুতি নিই, তেমনই বিয়েও একটা বড়ো উৎসবের মতো।

আগে থেকে পড়াশোনা না করে পরীক্ষা দিলে যেমন ফল ভালো হয় না, রেসের আগে ব্যাপক প্রশিক্ষণ ছাড়া আপনি যেমন ম্যারাথন চালাতে পারবেন না, ঠিক তেমনই বিবাহের ক্ষেত্রেও এটি একই ভাবে প্রযোজ্য। আগামী বিবাহিত জীবনের পথকে মসৃণ করার জন্য, সঠিক ভাবে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক।

মনে রাখবেন,বিয়ের আগে অনেক কিছু করার আছে। ভেবেচিন্তে সবকিছু পরিকল্পনা করলে আত্মীয়স্বজনকে যেমন খুশি করতে পারবেন, ঠিক তেমনই নিজেরাও তৃপ্তি পাবেন। তাই হবু জীবনসঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের প্রস্তুতি নিন। আর এই প্রস্তুতি যাতে নিঁখুত হয়, তার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা দরকার। এই বিষয়ে রইল বিশেষ পরামর্শ।

প্রেম কিংবা দেখেশুনে, যে-বিয়েই করুন-না কেন, বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, হবু স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির নিতে একান্তে আলোচনায় বসার জন্য সময় বের করুন।

যেদিন আলোচনায় বসবেন, কাগজ-কলম নিয়ে বসুন। কাজকর্ম থেকে অন্তত এক সপ্তাহের জন্য দু’জনে বিরতি নিতে পারবেন, এমন একটা সময়কে বেছে নিন বিয়ের জন্য। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, বিয়ের জন্য যদি দিন পনেরোর কর্মবিরতি নিতে পারেন, তাহলে ভালো হয়। কারণ, বিয়ের ঠিক পরেই হনিমুনও সেরে নিতে পারবেন এবং তা খুব সুখকরও হবে।

যাইহোক, হবু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেউ যদি শুভ-অশুভ সময়ের বিষয়টি মানেন, তাহলে পুরোহিতের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের দিন ঠিক করুন। এরপর আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিন যে, বিয়ের অনুষ্ঠান কোথায় করবেন— বাড়িতে নাকি অনুষ্ঠান বাড়ি ভাড়া নিয়ে? এক্ষত্রে ভাবতে পারেন ডেস্টিনেশন ম্যারেজ-এর বিষয়টিও, অবশ্য যদি বাজেট বেশি থাকে৷ কারণ ডেস্টিনেশন ম্যারেজ মানেই তো দূর-দুরান্তে গিয়ে বিয়ে এবং তা যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ। তবে খরচ করতে পারলে, ডেস্টিনেশন ম্যারেজ-এর মজাই আলাদা।

বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার আগে মাথায় রাখুন বাজেটের বিষয়টি। অর্থ সাশ্রয় করতে চাইলে, বরপক্ষ এবং কনেপক্ষ মিলে এক জায়গায় বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন। যদি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করেন, তাহলে জেনে নিন কত টাকা ভাড়া এবং কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে। আর যদি ডেস্টিনেশন ম্যারেজ-এর কথা ভাবেন, তাহলে যে-লোকেশন-এ বিয়ের অনুষ্ঠান করবেন, সেখানে যাতায়াতের জন্য এবং অনুষ্ঠান করার জন্য কত টাকা খরচ হবে, তার হিসেব করুন খোঁজখবর নিয়ে।

বরযাত্রী, কনেযাত্রী এবং বউভাতে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা তৈরি করে রাখুন আগেভাগে। কারণ, আমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচ। প্রি-ওয়েডিং এবং ওয়েডিং টাইম-এ স্টিল এবং ভিডিয়ো শুট-এর ইচ্ছে থাকলে সেই বিষয়টিও রাখতে হবে বাজেটে।

যদি নিজেরা অনুষ্ঠান অয়োজনের দায়িত্ব না নিতে চান, তাহলে কোনও ওয়েডিং প্ল্যানার এজেন্সি-কে দিয়ে সবকিছু করিয়ে নিতে পারেন, তবে তা ব্যয় সাপেক্ষ। আর যদি নিজেরা সবকিছু করতে চান তাহলে বাড়ির লোকজনদের বিয়ের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ভাগ করে দিন। কে অনুষ্ঠান বাড়ি সাজানোর দায়িত্ব নেবে, কে বিয়ের কার্ড পৌঁছে দেবে আমন্ত্রিত অতিথিদের বাড়িতে, কে কেটারিংয়ের দায়িত্ব নেবে, কে আপ্যায়নের ভার নেবে, কে ছোটোখাটো প্রয়োজন মেটাবে, কে সবকিছু তদারকি করবে— এই সবকিছুর দায়িত্ব আগেভাগে ভাগ করে দিন। তবে এক্ষেত্রে যে-ব্যক্তি, যেই বিষয়টিতে পারদর্শী বলে জানেন, তাকে সেই কাজটাই দিন বুঝেশুনে।

সামার সিজনে নিজেকে সাজিয়ে তুলুন নতুন স্টাইল-এ

লেটেস্ট ট্রেন্ড-এর ক্ষেত্রে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন হাউসগুলি এনেছে নতুন স্টাইলিশ কালেকশন, যা ভাইব্র্যান্সি ও কমফোর্ট-এর ক্ষেত্রে অনেক উচ্চ মাত্রার। এগুলি আপনার গ্রীষ্মের পোশাকের ক্ষেত্রে একটি সঠিক পছন্দ  হয়ে উঠবে।

ফ্লোরাল প্রিন্ট, উজ্জ্বল রং বা প্যাস্টেল টোন, পরার জন্য গ্রীষ্ম এবং বসন্ত হল আদর্শ ঋতু। সমস্ত ট্রেন্ডি মহিলাদের জন্য,  জিঞ্জার-এর নরম প্যালেটগুলির মধ্যে পপ রং সহ চটকদার সিলুয়েট রয়েছে। বুটকাট কো-অর্ড সেটগুলি বন্ধুদের সঙ্গে ব্রাঞ্চ আউটিংয়ের জন্য নিখুঁত কালেকশন। এছাড়াও সলিড এবং মাল্টি-কালার প্রিন্টের শিফলি এবং কোরসেট পোশাক রয়েছে যা আপনি সেই বাকেট-লিস্টেড বিচ হলিডে`র জন্য বেছে নিতে পারবেন। যারা তাদের ডেট আপ করতে চাইছেন, তাদের জন্য রয়েছে মজাদার এবং পপিং রঙের ফুশিয়া পিঙ্ক ও উজ্জ্বল নীল রঙের কম্বোস-এর কো-অর্ড সেটগুলি, যা বোল্ড অ্যাবস্ট্রাক্ট স্ট্রাইপে এবং ওয়ান-শোল্ডার-এর। এগুলি অনায়াসে একটি স্টাইলিশ ইমপ্রেশন নিশ্চিত করবে।

যারা কমফোর্ট পছন্দ করেন, তাদের জন্য, হাল্কা ওজনের মার্জিত এবং ট্রেন্ডি পোশাকের বিস্তৃত রেঞ্জ রয়েছে।সূক্ষ্ম ফ্লোরাল প্রিন্ট এবং শিফলি এমব্রয়ডারি সহ প্রশান্তিদায়ক প্যাস্টেল রঙের প্যালেটগুলি একটি স্মার্ট ক্যাজুয়াল আউটিংয়ের জন্য আপনার পছন্দের পোশাক হয়ে উঠবে অনায়াসে।

আপনার পছন্দের তালিকায় যোগ করতে পারেন স্মার্ট ওয়ার্কওয়্যার কুর্তা, যা বিভিন্ন ফেব্রিক এবং প্রিন্টে ভারতীয় পাওয়ার ড্রেসিংকে সংজ্ঞায়িত করে, যেগুলি দিয়ে সহজেই স্টাইল করা যায়।

পুরুষেরা নিওন-রঙের গ্রাফিক টি-শার্ট-এর সঙ্গে তাদের স্টাইলিশ গ্রীষ্মের পোশাকে রঙের পপ যোগ করে দেখতে পারেন। ফ্যাশন ডেনিম এবং ট্রাকার জ্যাকেট আপনার সংগ্রহে থাকলে আপনার স্টাইলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।

লাইফস্টাইলের অ্যাক্টিভওয়্যার পোশাকের সঙ্গে ব্লু এবং হোয়াইট রঙের নটিক্যাল রঙের প্যালেটে কাপ্পা`র সঙ্গে অ্যাথলেটিক পোশাক বেশ আকর্ষনীয়। মূল উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে হুডেড টি-শার্ট, যা আপনাকে স্টাইলিশ দেখাবে এমনকি একটি ক্যাজুয়াল সোয়েটশার্ট, প্রিন্টেড ট্রাকার, যা সহজে চলা ট্র্যাকপ্যান্ট এবং স্লাউচি ডেনিমের সঙ্গে আপনি পরতে পারেন। এটি আপনার দৈনন্দিন পরিধানে আরাম এনে দেবে। চিনোস  গ্রীষ্মের একটি প্রধান পোশাক যা উপরে বা নীচে পরা যেতে পারে।

 মেয়েদের জন্য কেউ ইউনিকর্ন-থিমযুক্ত পার্টি ড্রেস বা রঙিন ভাইব্র্যান্ট টাই ও ডাই টপস, স্কার্ট, শর্টস এবং প্লেস্যুট থেকে বেছে নিতে পারেন, যা উপেক্ষা করা কঠিন। ফ্রুট প্রিন্টস ছোটো বাচ্চাদের এবং অল্পবয়সী মেয়েদের পুতুলের স্টাইল এনে দেবার জন্য একটি জনপ্রিয় পছন্দের আইটেম।

অন্যদিকে, ছোটো বাচ্চা এবং অল্প বয়সি ছেলেদের জন্য মোটরস্পোর্ট ফ্যাশন রয়েছে। অপ্রচলিত ডিজাইনের ডিটেল সহ শার্ট, শর্টস, জগার এবং ডেনিমে সমস্ত রেস কার এবং মনস্টার ট্রাকের অনুপ্রাণিত চেহারাও আপনি খুঁজে নিতে পারেন।

গরমকালে মানানসই গয়না

গরমকালে ঘামের সমস্যা এবং শারীরিক কষ্ট যেমন আছে, ঠিক তেমনই নিজের সৌন্দর্যকে মেলে ধরার সুযোগও রয়েছে। কারণ, গরমকাল মানেই হালকা এবং স্বল্প পোশাক পরার যেমন সুযোগ পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই সুন্দর অলংকারেও নিজেকে মেলে ধরা যায়। আর নিজের সৌন্দর্যকে সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারা মানেই কিন্তু ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্যকে লালন করা। তাই, আর দেরি না করে নিজেকে অলংকার শোভিত করে জাগিয়ে তুলুন আত্ম-প্রেম। বেছে নিন খাঁটি প্ল্যাটিনাম গয়না। কারণ, প্ল্যাটিনাম গহনা মার্জিত ডিজাইনের সঙ্গে আপনার স্বতন্ত্র স্টাইল স্টেটমেন্টকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে, স্থিতিস্থাপক প্ল্যাটিনাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবর্ণহীন আকৃতি এবং ফর্ম বজায় রাখে।

৯৫ শতাংশ খাঁটি প্ল্যাটিনাম সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে মনোমুগ্ধকর নেকলেস, ব্রেসলেট, দারুণ  কারুকাজ করা কানের দুল এবং সুন্দর আংটি। এগুলি আপনার লুকে গ্ল্যামারের ছোঁয়া যোগ করতে পারে এবং একটি ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ককটেল পোশাকের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হলে ইথারিয়াল জাদু তৈরি করতে পারে। সাদা ধাতুর চকচকে এবং অত্যাশ্চর্য কারুকার্য, আপনার সৌন্দর্যকে আরও  সমৃদ্ধ করে চেহারায় আনতে পারে কমনীয়তা। মনে রাখবেন, প্ল্যাটিনাম গয়নার মার্জিত নকশা, ফর্ম, মোটিফ এবং সিলুয়েট সবার মন জয় করে নিতে পারে অনায়াসে।

সাধারণ পোশাক থেকে শুরু করে পার্টি পরিধান, কাজের পোশাক যাই হোক না কেন, প্লাটিনাম ইভারা-র গহনার সংগ্রহ আপনার বসন্ত-গ্রীষ্মের পোশাকের সঙ্গে  থাকা আবশ্যক। এই ইভারার কিউরেটেড সংগ্রহ থেকে তৈরি করুন অনন্য স্টাইল স্টেটমেন্ট।

 প্ল্যাটিনাম ইনচ্যান্টিং রেইনড্রপ: এই ব্রেসলেটটিতে একটি ওভারল্যাপ করা ড্রপলেট মোটিফ দ্বারা একসঙ্গে রাখা চেইন রয়েছে। এটির নকশা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। পুঁতিযুক্ত এই ব্রেসলেটটি একটি সূক্ষ্ম অথচ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে।

প্ল্যাটিনাম কনস্টাল্যাশন: নক্ষত্রের মতো এই গয়না যখন আপনার গলার চারপাশে শোভিত হবে, তখন তার আলো ছড়িয়ে পড়বে চারিদিকে। সন্ধবেলা মার্জিত শাড়ির সঙ্গে কিংবা ককটেল গাউনের সঙ্গে এই গয়না ব্যবহার করে আপনি নজর কাড়তে পারেন সকলের।

প্ল্যাটিনাম ব্লুমস: এই ফ্লোরাল ডিজাইনটি একটি খোদাই করা হিরে সমৃদ্ধ হয়। এই কানের দুলগুলি অত্যন্ত আকর্ষনীয় এবং পার্টিতে কিংবা ডেট নাইটের জন্য শিফট ড্রেসের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন।

প্ল্যাটিনাম ডান্সিং লাইন: বিরল প্ল্যাটিনামে তৈরি এই মার্জিত চেইনটিতে অমিল দৈর্ঘ্যের নলাকার প্ল্যাটিনাম ফর্ম রয়েছে। রিশেপশন পার্টি কিংবা অফিস পার্টিতে এটি পরুন এবং সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।

প্লাটিনাম স্টারফল: রাতের আকাশ থেকে ঝরে পড়া তারার মতো এই গয়নার ডিজাইন। পরতে পারেন যে-কোনও উৎসব-অনুষ্ঠানে।

জীবনকে করে তুলুন আনন্দময়

মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেয় দিশা। কিন্তু বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি কিংবা কর্মক্ষেত্রের সম্মানপ্রাপ্তির কথা দিশা এখনও ভুলতে পারেনি। পুষ্পিতার বিষয়টা আবার অন্যরকম। ও বেকার। কিন্তু চায়, সমাজে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকতে। তাই বন্ধুদের নিয়ে সবসময় আনন্দে মেতে থাকে সে। রিয়া আবার খুব ভালো রাঁধুনি। স্বামী-সন্তানকে ভালো খাবার খাওয়াতে পারলেই তার মানসিক শান্তি এবং রান্নার প্রশংসা পেলেই সে ভীষণ খুশি।

আসলে যে-যার মতো আনন্দে থাকতে চায়। তাই, ভালোলাগার বিষয় যাই হোক, উপলক্ষ্য কিন্তু একটাই— আনন্দলাভ। কারণ আমরা মনে-মনেই বাঁচি বেশি। অতএব, জীবনের সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে, মানসিক শান্তি এবং আনন্দলাভের চেষ্টা করতে হবে। কারণ, জীবনকে আরও আনন্দময়, আরও সুন্দর করতে হলে, সংকল্প নিতেই হবে এবং সেই সংকল্পের সূচনা হোক আজই।

কর্মপ্রাধান্য

ভাগ্য নয়, কর্ম পাক প্রাধান্য। মনে রাখবেন, সফল ব্যক্তি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন না, কর্মময় জীবনযাপন করেন। তাই সুযোগ পাওয়ার জন্য বসে থাকবেন না, সুযোগ করে নেবেন। ‘কাল করব’ বলে কাজ ফেলে রাখলে, মহাকাল পার হয়ে গেলেও সে কাজ আর হবে না। অতএব, কাজ শুরু করুন এখনই এবং কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে অসাধ্য সাধনের চেষ্টা করুন। সাময়িক বাধা এলেও নিরাশ হবেন না, অপেক্ষা করুন, বাধা কাটবেই। কারণ, ঝড় ওঠে, আবার থেমেও যায়। তাই, সাময়িক বাধা অতিক্রম করতে পারলেই জয় সুনিশ্চিত। নতুন বছরের শুরুতে তাই নিজের কাজকে প্রাধান্য দিন।

পরিকল্পনা জরুরি

প্রথমে আপনার পরিকল্পনাগুলি নথিভুক্ত করুন। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। আর পরিকল্পনামাফিক উপকরণ এবং সময় বরাদ্দ করুন। কর্মসাফল্য পেতে অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, তাই আগে থেকেই মজুত করুন অর্থ। কোনও কাজ নিশ্চিন্তে সম্পূর্ণ করতে হলে, পরিকল্পনামাফিক যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত।

আত্মবিশ্লেষণ

আয়নার সামনে দাঁড়ান। দেখুন নিজেকে। কী কী দোষগুণ আছে তা বিশ্লেষণ করুন। দোষগুলিকে কাটানোর চেষ্টা করুন এবং গুণগুলির কথা ভেবে আত্মবিশ্বাস বাড়ান। প্রয়োজনে অন্যদের (শুভাকাঙ্ক্ষী) থেকে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন আপনার কী কী দোষগুণ আছে। কারণ, নেগেটিভ পয়েন্টস না কাটালে, পজিটিভ কাজ আটকে যেতে পারে। অতএব, নিজেই নিজের সমালোচনা করুন এবং অন্যের থেকে সমালোচনা শুনে নিজেকে শুধরে নিন।

সামাজিকতা

টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারের সামনে অহেতুক দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন। যত মানুষের সঙ্গে মিশবেন, ততই আপনি জ্ঞানবুদ্ধিতে সমৃদ্ধ হবেন, উপকার পাবেন। শুধু তাই নয়, অন্যের গুণগুলি নিতে পারলে আপনি আরও গুণী এবং স্মার্ট হয়ে উঠবেন। মনে রাখবেন, কুপমণ্ডুকরা কল্পনার জগতে বাস করে, কিন্তু সামাজিকতা বাস্তবের মুখোমুখি করে।

গুরুত্বের বিচার

গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের তালিকা তৈরি করুন। কারণ, সঠিক গুরুত্ব মানেই সঠিক সাফল্য। এতে বাজে কাজে সময় নষ্ট হবে না। আপনার জীবনের উপযোগী এবং লাভজনক কাজগুলিকে তালিকার শীর্ষে রাখুন। ঠান্ডা মাথায় নিজের কাজের গুরুত্ব নিজেই বিচার করুন।

স্বাস্থ্য সচেতনতা

স্বাস্থ্যই সম্পদ। শরীর-স্বাস্থ্যের যত্ন না নিলে, একসময় সব ধনসম্পদ হারাতে হতে পারে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করুন। খাদ্যতালিকায় রাখুন শাক-সবজি এবং ফল। পান করুন পর্যাপ্ত জল। আর ফার্স্ট ফুড থেকে সরিয়ে রাখুন নিজেকে।

পারিবারিক আনন্দ

নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে থাকুন সর্বদা। সময় পেলেই আড্ডা-গল্পে মেতে থাকুন। বছরে অন্তত দু’বার বেড়াতে যান পরিবারের সবাইকে নিয়ে। তাই বছরের শুরু থেকেই টাকা জমাতে থাকুন।

আয়ব্যয়ের হিসাব

একটা খাতা কিংবা ডায়ারি হাতে নিন। প্রথমে আপনার বাৎসরিক আনুমানিক আয়ের পরিমাণ লিখুন। এবার প্রতি মাসের খরচ লিখুন। যেমন সংসার খরচ, সন্তানের শিক্ষাখাতে খরচ, জামাকাপড় কেনার খরচ, ঋণ শোধের ব্যাপার থাকলে তার খরচ (ইএমআই), যাতায়াতের খরচ, অতিথি আপ্যায়নের খরচ, বিমার খরচ, উৎসব-অনুষ্ঠান প্রভৃতির খরচ হিসাব করুন। এরপর সারা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব কষে দেখুন আর কত টাকা আপনার হাতে থাকছে। এবার সেই মতো ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য টাকা জমান এবং কিছু টাকা রাখুন শখ-আহ্লাদ পূরণের জন্য। নতুন বছরে এটুকু করতে পারলে আপনি থাকবেন মানসিক চাপমুক্ত এবং জীবনযাপন করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে

মা-বাবার উৎসাহ এবং সাকারাত্মক জীবনবোধ বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বাচ্চার নিজের উপর এবং অন্যান্য সবকিছুর ওপরে একটা ধারণা তৈরি হয়, যেটা ওই ছোটো বয়স থেকেই বাচ্চার Confidence বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। বাচ্চার দুর্বল আত্মবিশ্বাস তাদের নিজের মনের মধ্যে গুটিয়ে থাকা মনোভাব তৈরি করে এবং তাদের, চুপচাপ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মা-বাবাকে বাচ্চার এই মানসিক পরিস্থিতির সংকেতগুলো বুঝতে হবে এবং সেইমতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এভাবে বাচ্চারও Confidence বাড়বে এবং সেইমতো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সেটা সমাধানের সাহস সে খুঁজে পাবে।

কৌতূহলী হতে দিন

বাচ্চা বারবার প্রশ্ন করলে বিরক্ত হবেন না। বাচ্চার মনে কৌতূহল থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। তাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহ দিন। প্রশ্ন করাটা বাচ্চার মানসিক বিকাশের জন্য খুব জরুরি। এতে তার আত্মবিশ্বাস, অধ্যাবসায় এবং প্রচেষ্টা বাড়বে।

বাচ্চার সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করুন

বাচ্চাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করবার সুযোগ করে দিন যাতে সম্পর্কের ভ্যালু সে ছোটো থেকেই বুঝতে পারে এবং তার সোশ্যাল লাইফ বিকশিত হতে পারে। বাচ্চার সঙ্গে সহানুভূতিপূর্ণ সহৃদয় ব্যবহার করুন। বাচ্চার প্রতি স্নেহশীল হন। এর ফলে বাচ্চার, সম্পর্ক গড়ে তুলতে সুবিধে হবে এবং মনের কথা খুলে বলার মতো Confidence বাড়বে।

নিজের পছন্দ বাছার সুযোগ দিন

অভিভাবকদেরই সুযোগ করে দিতে হবে বাচ্চাকে নিজের পছন্দ বেছে নিতে। বড়োরা বাছাইয়ের সুবিধা করে দিলেও পুরো ব্যাপারটায় ইন্টারফিয়ার না করে বাচ্চাদের উপর ছেড়ে দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। নিজের পছন্দের বিকল্প বেছে নেওয়া এবং নিজের পরিস্থিতি নিজেই সামলে নেওয়ার স্বাধীনতাও বাচ্চার উপর ছেড়ে দেওয়া ভালো। এতে বাচ্চার কনফিডেন্স বাড়বে। ডিসিশন নিতে শিখবে এবং কী বেশি পছন্দ, সেটা ভালো করে বোঝার ক্ষমতা তৈরি হবে।

বাহবা এবং পুরস্কার দিন

প্রতিটি পদক্ষেপে বাচ্চাকে বুঝতে দিন যে তার মা-বাবা তাকে ভালোবাসে। বাচ্চাকে বলুন, প্রত্যেক বাচ্চার মধ্যেই কোনও না কোনও গুণ অবশ্যই থাকে এবং প্রত্যেক ইনডিভিজুয়ালের মধ্যেই বিশেষ ক্ষমতা ও প্রতিভা থাকে। আপনার জীবনে আপনার সন্তানের যে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে সেটা বাচ্চাকে বুঝতে দিন। বাচ্চার সঙ্গে পজিটিভ আলোচনা করুন এবং হাবভাবে অথবা ছোটো ছোটো কথায় বাচ্চার সাফল্যের প্রশংসা করুন। উৎসাহ দেওয়ার জন্য বাচ্চাকে ছোটো ছোটো পুরস্কার দিন, যেটা আপনার বাচ্চা পছন্দ করে। জিনিস দামি হতে হবে এমন কিন্তু নয়। আশা অনুযায়ী ফল না পেলে অযথা বাচ্চাকে বকাবকি করবেন না। পরের বার ভালো করতে উৎসাহ জোগান।

অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না।

নিজের বাচ্চার ক্ষমতার তুলনা অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে কখনও করবেন না। প্রত্যেক বাচ্চার আলাদা আলাদা গুণ থাকে। মানসিক গঠনও আলাদা হয়। সন্তানের সঙ্গে অন্য বাচ্চাদের তুলনা করা হলে বাচ্চার মনে হীনম্মন্যতা জন্ম নিতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাবও তৈরি হয়। ফলে বাচ্চারা ঈর্ষাপরায়ণ এবং বিদ্বেষপ্রবণ হয়ে ওঠে। বাচ্চার শরীরের জন্যও এটি যথেষ্ট ক্ষতিকারক।

দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করার সাহস জোগান

বাচ্চা যখন কারও দেওয়া কাজ নিজে নিজে শেষ করে তখন বাচ্চার মন আত্মবিশ্বাসে ভরে ওঠে। কাজের প্রতি তার উৎসাহ বেড়ে যায়। রাহুল কিছুতেই নিজের জুতোর ফিতে বাঁধতে পারত না। কিন্তু ওর মা-বাবা সবসময় ওকে বলত যে চেষ্টা করতে করতেই একদিন ওই কাজটা ও নিশ্চয়ই করতে সফল হবে। শেষ পর্যন্ত রাহুল সত্যিই কাজটা করতে সফল হয়। এই ভাবে বাচ্চাকে সব কাজে এনকারেজ করা উচিত যাতে বাচ্চা নিজের উদ্যমেই লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারে।

শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন

বাচ্চা নিজের বন্ধু এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করে সেটা অভিভাবকদের খোঁজ রাখা একান্ত কর্তব্য। এতে বাচ্চার সামাজিক জীবন বুঝতে মা-বাবার অনেকটা সুবিধা হবে। অনাত্মীয়দের প্রতিও বাচ্চার কী ব্যবহার সেটা লক্ষ্য রাখা উচিত বড়োদের।

এ ছাড়া যদি বাচ্চার কোনও কিছুতে সমস্যা হয় অথবা শেখার পথে কিছু অন্তরায় দেখা দেয়, তাহলে সেটা বুঝতেও অভিভাবকদের অনেকটা সুবিধা হবে। সেইমতো প্রয়োজন অনুযায়ী বাচ্চার খেয়ালও তারা রাখতে পারবেন। সুতরাং বাচ্চার বন্ধু এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সময়ে সময়ে কথা বলুন এবং বাচ্চার পছন্দ জানার চেষ্টা করুন।

কাল্পনিক খেলাকে মাধ্যম করুন

সাধারণত বাচ্চারা আশেপাশের মানুষদের এবং জিনিসপত্রের সঙ্গে মনে মনে একটা কাল্পনিক খেলার পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সেই কল্পলোকে বাচ্চা নিজেকে একটা প্রধান ভূমিকায় দেখতে চায়। এই ধরনের কাল্পনিক খেলার মাধ্যমে বাচ্চারা বড়ো কিছু নিয়ে ভাবতে শেখে এবং জীবনে সেটা হয়ে ওঠার স্বপ্নই দেখে। বড়োরাও বাচ্চাদের সঙ্গে এই ধরনের খেলায় যদি অংশগ্রহণ করেন, তাহলে বাচ্চা কল্পনার মাধ্যমে কী ভাবনাচিন্তা করছে সেটা বুঝতে পারবেন এবং বাচ্চার Confidence বাড়াতে সাহায্য করতে পারবেন।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল সম্পর্কের ভিত হচ্ছে ভরসা। বাচ্চাকে ভালোবাসুন, সম্পর্কের ভিত শক্ত করুন। বাচ্চার বোঝা উচিত, যখনই তার আত্মবিশ্বাস কমতে থাকবে তখনই সাহায্যের জন্য আপনি ওর পাশে থাকবেন।

সম্পর্কের ভিত যদি ভরসার হয়, তাহলে সমস্যা এলে স্বাভাবিক ভাবেই বাচ্চা, মা-বাবার কাছেই আগে আসবে। মা-বাবার উপদেশ শুনবে এবং সেই কথার সম্মানও করবে। বাচ্চার নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়লে বাচ্চা অপরের সঙ্গে যেমন সহজে মিশে নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে, তেমনি অপরের কথাও মন দিয়ে শুনবে এবং অপরের কথাকেও সম্মান দিতে শিখবে। সহজে সকলের মাঝে নিজের একটা জায়গা তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে বাচ্চারা।

 

সন্তানের কি Confidence-এর অভাব ?

হিয়ার বয়স ৯। ক্রিকেট খেলা দেখতে ও ভালোবাসে ছোটো থেকেই। বাড়ির সামনে রাস্তায় খেলা হলেই ‘অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলবে বলে রোজই বায়না করে। শ্রাবণী দোনামনা করলেও মেয়েকে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে পাঠায়। সেদিন কাঁদতে কাঁদতে মেয়ে ঘরে ফেরায়, শ্রাবণী কারণ জিজ্ঞেস করাতে একরাশ হতাশা ঝরে পড়ে হিয়ার গলায়। ব্যাট করতে গেলেই খালি আউট হয়ে যায় তাই নাকি কেউই ওকে দলে নিতে চায় না। শ্রাবণী মেয়ের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে ওকে কোলে টেনে নিল। মেয়েকে বোঝাল, চেষ্টা করতে থাকলে ওর বন্ধুদের থেকেও অনেক বেশি ভালো ব্যাটিং করতে পারবে ও। মেয়েকে আশ্বাস দিল, ‘দেখবি একদিন ওরাই তোকে দলে নেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে ঝগড়া, মারামারি করবে।’ শ্রাবণী মেয়েকে মনে করাল আগে সুইমিং শিখতে গিয়ে জলে নামলেও হিয়া ভয়ে সাঁতার কাটতে চাইত না। কিন্তু মা বাবার সাহস পেয়ে ভয়কে জয় করে নিজের চেষ্টায় ভালো সাঁতারু এখন হিয়া। সবকিছুই সম্ভব হয়েছে হিয়ার Confidence অটুট থাকার জন্য এবং এই আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পেছনে শ্রাবণী ও তার স্বামীর অবদানও কিছু কম নয়।

মা-বাবার উৎসাহ এবং সাকারাত্মক জীবনবোধ বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বাচ্চার নিজের উপর এবং অন্যান্য সবকিছুর ওপরে একটা ধারণা তৈরি হয়, যেটা ওই ছোটো বয়স থেকেই বাচ্চার Confidence বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। বাচ্চা কী ভাবছে, আশেপাশে কী দেখছে, কী শুনছে, পারিপার্শ্বিক ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে –এই সব কিছুই বাচ্চার সম্পূর্ণ চরিত্র গঠনে সাহায্য করে এবং তার চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ পায়। যদি কোনও বাচ্চা দুশ্চিন্তা, ভয়, অসন্তোষ অথবা অবসাদের শিকার হয়ে পড়ে তাহলে মানসিক ভাবে সে খিটখিটে স্বভাবের হয়ে উঠবে এবং আত্মবিশ্বাসও হারাবে। বাচ্চার ভীত, চিন্তিত, অবসাদগ্রস্ত হওয়ার অনেক কারণ হতে পারে। স্কুলে অথবা টিউশনে ঠিকমতো পড়াশোনা বুঝতে অসফল হলে অথবা কঠিন কোনও কাজ করার সময় আপত্তিজনক কোনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে, বাচ্চারা অবসাদের শিকার হতে পারে। নিজে ভালো কিছু করতে না পারলে, যদি সে নিজের বয়সি অন্য বাচ্চাদের সেটা সফল ভাবে করতে দেখে, তাহলেও অনেক সময় তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়।

বাচ্চার দুর্বল আত্মবিশ্বাস তাদের নিজের মনের মধ্যে গুটিয়ে থাকা মনোভাব তৈরি করে এবং তাদের, চুপচাপ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। মা-বাবাকে বাচ্চার এই মানসিক পরিস্থিতির সংকেতগুলো বুঝতে হবে এবং সেইমতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এভাবে বাচ্চারও Confidence বাড়বে এবং সেইমতো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সেটা সমাধানের সাহস সে খুঁজে পাবে। অভিভাবকদের চেষ্টা করতে হবে বাড়ির পরিবেশ বন্ধুত্বপূর্ণ রাখতে যাতে বাচ্চা নিশ্চিন্ত বোধ মনে করে। এছাড়া বকুনির ভয় ছাড়াই বাচ্চা যেন নিজের মনের কথা বড়োদের কাছে খুলে বলতে পারে।

 

সন্তান যদি হয় অমনোযোগী

আজকের শিশুরা হল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্ণধার। প্রতিটি সুসন্তান মা-বাবার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। সন্তানের ভবিষ্যৎ সুন্দর এবং সফল করে তুলতে মা-বাবাকে সবরকম প্রচেষ্টা করতে হবে।

সুশিক্ষিত, শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে সন্তানকে গড়ে তুলতে তাকে যেমন স্বাধীনতা দেওয়া এবং তার সঙ্গে সহযোগিতা করা মা-বাবার দায়িত্ব, তেমনি সঠিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে সন্তান যেন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে ভুল না করে, সেটা লক্ষ্য রাখাটাও মা-বাবার জন্য জরুরি।

মা-বাবা সন্তানের প্রথম শিক্ষক, আদর্শ পথপ্রদর্শক। মানুষের জীবনে পড়াশোনার গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। বাড়ির শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের পুঁথিনির্ভর শিক্ষাদীক্ষা তথা গুড স্কুলিং এবং সম্পূর্ণ ভাবে Kid Handling-এর প্রতি যত্ন নেন অভিভাবকেরা। তবে মেধার নিরিখে সব শিশু সমান হয় না। অনেক শিশুই পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে না, কেউ কেউ আবার পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে অসফল থাকে। এর ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক।

আজকাল টেকনোলজি-র যুগে বাচ্চারা মোবাইল, ল্যাপটপ গেমস ইত্যাদি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসে। সেই তুলনায় বইপড়া বা পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া, কিছু মুখস্থ করা ইত্যাদির ক্ষেত্রে অমনোযোগীতা লক্ষ্য করা যায়। অনেকে একটানা বসে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ায় মনোযোগ রাখাটায় বোর ফিল করে। বাচ্চাদের মনোযোগ বাড়াতে মা-বাবাকে সাহায্য করতে হবে। কীভাবে সহজ উপায়ে বাচ্চার মনোযোগ বাড়ানো যেতে পারে আসুন জেনে নিই—

পড়ার জন্য সহজ রুটিন রাখুন এবং লক্ষ্য ঠিক করুন: লক্ষ্য স্থির করে চললে সঠিক পথে চলতে সুবিধা হবে। পড়াশোনার জন্য সময় বরাদ্দ করুন, এতে বাচ্চা পড়ার সময় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারবে। পড়াশোনা শেষ করে কখন উঠতে পারব, এই দুশ্চিন্তায় আপনার শিশু আর থাকবে না। পড়ার মাঝে ৪৫ মিনিট বা ১ ঘন্টা পরপর একটা ব্রেক-এর ব্যবস্থা থাকলে পড়ায় একঘেয়েমি আসবে না।

পড়ার জায়গা নির্দিষ্ট করুন: খুব বেশি কোলাহলের মধ্যে বাচ্চার পড়ার জায়গা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কোলাহলমুক্ত, শান্ত, আরামদায়ক হওয়া উচিত বাচ্চার পড়ার জায়গাটি। সকলের যাতায়াতের পথ যেন ঘরটি না হয়। বাচ্চার পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু যাতে একজায়গায় রাখা যেতে পারে, তার জন্য পড়ার টেবিল একটু বড়ো হওয়াই শ্রেয়। বসার চেয়ারটিও আরামদায়ক হওয়াটা একান্তই জরুরি। পড়াশোনার সময় বাচ্চার যাতে খিদে না পায় তাই হালকা কিছু জলখাবার খাইয়ে বাচ্চাকে পড়াতে বসান।

সহজে বাচ্চার মনোযোগ আকর্ষণ করুন: গল্পের মাধ্যমে বা ছবি এঁকে পড়া বোঝাতে পারেন বিশেষ করে ছোটো বাচ্চাদের ক্ষেত্রে। এতে পড়তে তাদের আগ্রহ বাড়বে। বাচ্চাকে লেখার অভ্যাস করান। কী পড়ছে তার একটা নোট ডায়ারিতে রাখতে বলুন। বিভিন্ন রঙের পেনসিল ব্যবহার করে লিখলে দেখতেও আকর্ষর্ণীয় হবে, চোখেও চট করে পড়বে। যা পড়ছে সেটা সঙ্গে সঙ্গে খাতায় লিখে ফেলতেও অভ্যাস করান বাচ্চাকে। যা লিখছে বাচ্চা যেন মুখে সেটা জোরে জোরে বলারও অভ্যাস করে।

পড়ার সময় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বা এমন কিছু যা মনোযোগ নষ্ট করে তা বাচ্চার চোখের সামনে রাখবেন না: বাচ্চার পড়াশোনার সময় হাতের কাছে মোবাইল, ভিডিও গেমস কিছুই রাখবেন না যেগুলো তার মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। ঘরে টিভি বন্ধ রেখে বাচ্চাকে পড়াতে বসান বা দরজা বন্ধ রাখুন যাতে অন্য ঘরে আওয়াজ হলেও তার শব্দ বাচ্চার কানে না পৌঁছোয়।

পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন: বাচ্চারা সহজে পড়তে বসতে চায় না। তাই মাঝেমধ্যে পড়ার চাপ বেশি থাকলে বাচ্চাকে বলতে পারেন সেদিন তিরিশ মিনিট একটু বেশি পড়াশোনা করতে তার বদলে পরের দিন তিরিশ মিনিট বেশি খেলা করার স্বাধীনতা দিন। অথবা কোনওদিন আপনার কথা শুনে বাচ্চা বেশি পড়াশোনা করলে তার পছন্দের খাবার তাকে বানিয়ে দিতে পারেন। এতে বাচ্চাকেও মানসিক ভাবে আনন্দে রাখা সম্ভব।

প্রশংসা করুন: বাচ্চা পড়াশোনা পারুক বা না পারুক, তার প্রশংসা করুন। বাচ্চা এতে উৎসাহ পাবে। শিশুরা প্রশংসা বা উৎসাহ পেতে দারুণ ভালোবাসে। তাই পড়াশোনার কারণে এই প্রশংসা যদি পাওয়া যায় তবে সেটা করতে তারা পিছপা হবে না।

ইন্ডোর গেমস: এখন প্রচুর ইন্ডোর গেমস, বই ইত্যাদি পাওয়া যায়, যা বাচ্চার কগনিটিভ স্কিল বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটি বুক, বিল্ডিং ব্লকস, পাজলস ইত্যাদি। স্মার্টফোন, কম্পিউটারের বদলে এই ধরনের খেলা বা বই বাচ্চাকে দিলে তাদের মনোযোগের সমস্যা অনেকটাই কমানো যাবে। এছাড়াও মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্টেও তালিম দিতে পারেন। নোট ধরে সুর তোলার মধ্যে দিয়ে কনসেনট্রেশন লেভেল বাড়ানো যেতে পারে।

এগুলো ছাড়াও বাচ্চার সঙ্গে প্রচুর কথা বলুন। বাচ্চার কথাও মনোযোগ দিয়ে শুনুন। অভিভাবকেরা মনোযোগ সহকারে বাচ্চার কথা শুনলে বাচ্চার ছটফটে ভাব অনেকটা কমে যাবে। স্কুলের হোমওয়ার্ক করে দেবেন না, বাচ্চাকে নিজেকেই করতে দিন। স্কুলে যদি বাচ্চা বকুনি খায়ও তাতে মনখারাপ করবেন না, এতে বাচ্চা পড়ার গুরুত্ব বুঝবে।

বাড়ির পরিবেশ শান্ত, স্বচ্ছন্দ থাকলে বাচ্চার স্বভাবেও তার প্রভাব পড়বে। তাই নিজেদেরও টেনশনমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন অন্তত বাচ্চাদের সামনে।

 

বদলে যাওয়া জীবনে আলোর দিশা

করোনা আমাদের জীবনকে ওলট-পালট করে দিয়েছে অনেকাংশে। ভয়, চিন্তা, ভবিষ্যৎ-ভাবনা এসব তো আছেই। দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থেকে শুধু দুশ্চিন্তা আর সারাক্ষণ মোবাইল ফোন-এর স্ক্রিনে চোখ রাখার যে কু-প্রভাব পড়েছে আমাদের শরীরে-মনে, তা কাটিয়ে ওঠা দরকার। কারণ, এই বদলে যাওয়া জীবনেও নতুন ভাবে বেঁচে থাকার পথ খুঁজতে হবে। নতুন বছরে খুঁজে নিতে হবে বেঁচে থাকার নতুন সংজ্ঞা। রইল গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ।

মানসিক সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখুন

সমস্যা এবং দুশ্চিন্তাও পিছু হঠছে না। এই পরিস্থিতিতে ভাবতে হবে নতুন ভাবে। শরীরকে যতটা সুরক্ষিত রাখতে হবে, ঠিক ততটাই গুরুত্ব দিতে হবে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে। মনে আনন্দ থাকলে অর্ধেক রোগ পালিয়ে যায়।

যারা নানা কারণে করোনার আগে থেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, তারা করোনা আবহে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বলা যায় মানসিক সংকটে রয়েছেন। আবার যারা আগে সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন মানসিক ভাবে, তারাও অনেকে করোনা আবহে চার দেয়ালের মধ্যে দীর্ঘদিন আবদ্ধ থাকতে থাকতে নানা ভাবে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাই, মানসিক সু-স্বাস্থ্য বজায় রাখা কিংবা পুনরুদ্ধার করা এখন ভীষণ জরুরি। আর এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজতে হবে নিজেকেই। বাড়িতে থাকলেও, বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে কথা বলে মন ভালো রাখুন। অবশ্য শুধু ভিডিয়ো কল-ই নয়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম স্পেনড করেও মন ভালো রাখা যায়।

সতর্কতা এবং সুরক্ষা

মানুষ সামাজিক প্রাণী। তাই সামাজিক জীবনযাপন করা জরুরি। হেসে, খেলে, কথা বলে দিনের কিছুটা সময় ব্যয় করা উচিত আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে। করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের জীবন যেহেতু অনেকটাই বদলে গেছে, তাই সুরক্ষার জন্য সবরকম সতর্কতা বজায় রেখেই আমাদের সামাজিক হতে হবে। করমর্দন, আলিঙ্গন এসব না করে শুধু কথা বলে, এক ছাদের নীচে বসে খাওয়াদাওয়া কিংবা হইহুল্লোড় করেও অনেকটাই আনন্দ উপভোগ করে শরীর-মন ভালো রাখতে পারি। কারণ, দীর্ঘ বিরতির পর চেনাজানা মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর পর আমরা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারব মানসিক অবসাদ।

আলোর দিশা

মনে রাখতে হবে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রবাদ আছে, যে-সমস্যার সমাধান নেই, সেটা কোনও সমস্যাই নয়। অতএব, মনে জোর রেখে সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এই ভেবে মনে শক্তি সঞ্চয় করতে হবে যে, অন্ধকারের পরই থাকে আলো, তাই অন্ধকার পেরিয়ে আলোর সামনে দাঁড়াতে হবে। প্রায় দুবছর করোনা আমাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যহত করলেও, জীবনের সব শেষ হয়ে গেছে ভেবে হায়-হুতাশ করে লাভ নেই। বরং বাঁচার পথ খুঁজতে হবে সবসময় পজিটিভ চিন্তাভাবনার মাধ্যমে।

তাই সমস্যা থাকলে, সেই সমস্যার শিকড় খুঁজে বের করতে হবে। যেমন, যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই কোভিড থেকে সেরে উঠলেও, মস্তিষ্কের সামান্য অস্বাভাবিকতা যদি দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিত্সকদের পরামর্শ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মস্তিষ্কের চিকিতসা করা উচিত সঠিক ভাবে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, অনেকে কিন্তু নিজের অজান্তেই কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। তাই কোভিডের উপসর্গ না থাকার কারণে অনেকে টেস্ট করাননি অথচ তাদের শরীরে করোনো বাসা বেঁধেছিল। অতএব শরীর-স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সকলেরই খেয়াল রাখা উচিত।

প্রথমে শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হবে, তারপর অন্যান্য সমস্যা কাটিয়ে আলোর দিশা খুঁজতে হবে। তাই ভালো খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত হাঁটাচলা, ফিজিক্যাল চেক-আপ, সঠিক মাত্রায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ফাস্ট ফুড অ্যাভয়েড করা প্রভৃতির মাধ্যমে শারীরিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হবে।

যেখানে ভিড়ভাট্টা কম, উপায় থাকলে সেইসব জায়গায় বেড়াতে যাওয়া উচিত মন ভালো রাখার জন্য। আর শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার পর, কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে অন্যান্য সমস্যা। নিজে সমস্যার সমাধান করতে না পারলে, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা এবং পরামর্শের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন।

করোনাকালে যারা কাজ হারিয়েছেন এবং আর্থিক ও মানসিক কষ্টে আছেন, তাদের একটু অন্যভাবে ভাবতে হবে। যেমন, লজ্জা না করে চেনাজানা মানুষের কাছে নিজের চাকরির প্রয়োজনের কথা বলতে হবে এবং প্রয়োজনে ছোটো কাজও করতে চান, সেই ইচ্ছেও জানিয়ে রাখুন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে পেশা পরিবর্তন করতেও দ্বিধা করবেন না, একথা জানান পরিচিতদের। দেখবেন ঠিক একটা না একটা ব্যবস্থা কোনও একজনের মাধ্যমে হয়ে যাবে।

এমনকী যখন চাকরি একান্তই জোগাড় করতে পারবেন না, তখন হাতে যদি কিছু জমানো টাকা থাকে তাহলে যে-কোনও একটা ব্যাবসা শুরু করে দিন। এতে আর্থিক এবং মানসিক পরিস্থিতি ভালো থাকবে। মনে রাখবেন, পরিস্থিতি যখন খারাপ থাকবে, তখন মনকে আরও বেশি শক্ত করতে হবে এবং মাথা নুইয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে বদলাতে হবে এবং চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার।

প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে কিংবা ব্যক্তিগত ভাবে টাকা ধার নিয়ে ব্যাবসা শুরু করুন। আর কোনও পরিস্থিতিতেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে চলবে না। বরং এই সময় শপথ করুন যে, নিজেকে সংযত রেখে সমস্যামুক্ত হবেন। মানসিক জোর বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে মেডিটেশন করুন। সাঁতার কিংবা সাইক্লিং করেও শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নিজেকে স্বাস্থ্যবান রাখা যায়। অতএব, পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করুন, দেখবেন আলোর দিশা খুঁজে পাবেনই।

 

নতুন সাজে সাজান বাড়ি (দ্বিতীয় পর্ব)

নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট নিয়ে অনেকেরই একটা গর্ব থাকে। তাই, কিছুদিন পরপর নতুন নতুন সাজে নিজের বাসস্থানকে তারা সাজিয়ে তুলতে চান। New Look দেওয়ার বাসনাটা যদি একটু সিসটেমেটিক্যালি করতে চান, যাতে ব্যয়বাহুল্য কম করেও ইচ্ছেমতন বাড়িকে সাজিয়ে তোলা যায়-তাহলে একটু ভেবে চিন্তে বুদ্ধি করে উদ্যোগ নিতে হবে।

যারা ধনী, তারা বাড়ি সাজানোটা খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এটাই একটু আলাদা করে বুদ্ধি খরচ করেও করতে পারেন। টাকা দিয়ে সব সময় সব কিছুর মূল্যায়ন করা চলে না। নিজের প্রাইজড পজেশন বেছে নিয়ে তাদের যোগ্য জায়গায় রাখতে হবে যাতে সকলেই সেগুলোর যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারে।

পুরোনো আসবাব সারিয়ে নিয়ে

পুরোনো আসবাবের খোঁজ রাখুন এবং টুকিটাকি সারিয়ে নিয়ে বাড়িতে রাখতে পারেন। দামি আসবাব সস্তায় কেনার এটা একটা ভালো উপায়। পুরোনো কোনও ফার্নিচারের হয়তো একটা পা ভেঙে গেছে। কার্পেনটারকে দিয়ে অন্য পা-গুলোর সঙ্গে ম্যাচ করিয়ে ভাঙা পা-টা সারিয়ে নতুন একটা কাঠ দিয়ে পা তৈরি করিয়ে নিন। তাছাড়াও পুরোনো কাঠের কাজ করা ফোটো ফ্রেম কিনে নিয়ে এসে, কোনও নতুন আর্টওয়ার্ক সেই ফ্রেম দিয়ে বাঁধিয়ে নিতে পারেন।

পুরোনো পর্দার ব্যবহার

পুরোনো পর্দা যদি দেখতে খুব সুন্দর হয় তাহলে সেটা ডিসকার্ড করার কোনও দরকার নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো কোথাও সামান্য ছিঁড়ে বা ফেটে গেছে— পুরো পর্দা ফেলে না দিয়ে পর্দার ফেব্রিকের সঙ্গে ম্যাচ করে নতুন ফ্লেবিক ওর সঙ্গে এমনভাবে জোড়া দিন, যাতে মনে হয় পর্দার নকশাটাই ওইরকম। ছেঁড়া জায়গাটা কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। এইসব টুকরো টুকরো সারানো, ঠিক করার কাজগুলো খুব অল্প খরচেই সেরে নেওয়া যাবে।

নিজেকে এক্সপ্রেস করাটাই মডার্ন ট্রেন্ড। সুতরাং নিজের মনকে জানতে হবে। ঠিক কী চান, কোনটা আপনার পছন্দ। কী আপনার প্রায়োরিটি। কোন জিনিসের সঙ্গে আপনার সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে আছে। সেগুলো ভালো করে বুঝে নিয়ে, সেই ভাবনাকেই রূপ দিতে হবে এবং সেটাই আপনার ‘হাউস’কে ‘বিউটিফুল হোম’ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

বাড়ি সাজাতে গেলে কোনও স্পেসিফিক সময়ের কালেকশন সংগ্রহ করবার দরকার নেই। কালচার স্পেসিফিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। বংশ পরম্পরায় হয়তো আপনি একটা এলিগেন্ট এলিজাবেথান ডাইনিং টেবল ইনহেরিট করেছেন। সম্প্রতি হয়তো আপনার কোনও বন্ধু জাপান থেকে আপনাকে একটা পেপার ল্যাম্প এনে উপহার দিয়েছে। এই দুটো জিনিসই কিন্তু আপনি একসাথে ম্যাচ করিয়ে বাড়িতে রাখতে পারেন যদিও সময় এবং কালচারের ক্ষেত্রে দুটো জিনিসে মস্ত পার্থক্য। এছাড়াও বাড়ির দেয়ালে সবসময় নিউট্রাল শেড-এর পেইন্ট ব্যবহার করুন, যাতে জায়গা বেশি আছে বলে মনে হয় এবং ঘরগুলোও বড়ো লাগে দেখতে।

সুতরাং বাড়িকে New Look দিতে যেমন মস্তিষ্ক ব্যবহার করবেন, তেমনি যোগ করবেন প্রাণের স্পর্শ ।

 

 

নতুন সাজে সাজান বাড়ি (প্রথম পর্ব)

নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট নিয়ে অনেকেরই একটা গর্ব থাকে। তাই, কিছুদিন পরপর নতুন নতুন সাজে নিজের বাসস্থানকে তারা সাজিয়ে তুলতে চান। New Look দেওয়ার বাসনাটা যদি একটু সিসটেমেটিক্যালি করতে চান, যাতে ব্যয়বাহুল্য কম করেও ইচ্ছেমতন বাড়িকে সাজিয়ে তোলা যায়-তাহলে একটু ভেবে চিন্তে বুদ্ধি করে উদ্যোগ নিতে হবে।

নিজের কাছে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন 

যারা ধনী, অর্থ ব্যয় করা যাদের কাছে কোনও বাধা নয়, তারা বাড়ি সাজানোটা খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন। দু’হাতে অর্থ ব্যয় করে ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার দিয়ে দু-তিন বছর অন্তর তারা বাড়ি নতুন করে সাজিয়ে নেন। দামি দামি আসবাবপত্র, পেইন্টিং, কিউরিও এধার ওধার ছড়িয়ে থাকে। এমনকী সেগুলো কোথা থেকে এসেছে বা তার মূল্য সম্পর্কেও বাড়ির মালিকের কোনও মাথাব্যথা থাকে না। কারণ সবটাই ঠিক করে ইন্টিরিয়র ডিজাইনার। এই পুরো ব্যাপারটাই খুব ইমপার্সোনাল ওয়েতে করা হয় ৷

কিন্তু এটাই একটু আলাদা করে বুদ্ধি খরচ করেও করা যেতে পারে। টাকা দিয়ে সব সময় সব কিছুর মূল্যায়ন করা চলে না। নিজের প্রাইজড পজেশন বেছে নিয়ে এক জায়গায় করুন এবং মনে রাখবেন সেই জিনিসগুলোকে তাদের যোগ্য জায়গায় রাখতে হবে যাতে সকলেই সেগুলোর যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারে।

পুরোনো ফোটোগ্রাফ

ফেড হয়ে যাওয়া পুরোনো পারিবারিক ফটোগ্রাফ ফেলে দিতেও মন চাইছে না অথচ বাড়িতেও আলাদা আলাদা করে টাঙিয়ে রাখার জায়গার অভাব রয়েছে। চিন্তার কিছু নেই— ছবির সাইজ এবং হাইট অনুযায়ী ছবিগুলিকে গ্রুপ করুন। আয়নার ট্রেন্ড এখন ভীষণ ভাবে ইন সুতরাং মিস্টেড, ডিজাইন করা আয়নায় ছবিগুলি পেস্ট করে মেটালিক কালারের ফ্রেমিং করিয়ে নিন যাতে ওয়াল হ্যাংগিং হিসেবে সেগুলি ব্যবহার করতে পারেন।

পুরোনো ব্রাসের পটস

ঘরের কোণায় পড়ে পড়ে কালো হয়ে গেছে এক সময়ের যত্নে রাখা ব্রাস পটগুলি কোণা থেকে বার করে পালিশ করিয়ে নিন এবং এমন জায়গায় সাজিয়ে রাখুন যেখানে রাখলে ঘরে ঢুকেই চোখে পড়ে। এখন বিভিন্ন ধরনের ধাতু, মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে সাজাবার যুগ, সুতরাং ব্রাসের পাত্রের সঙ্গে অন্য মেটাল ম্যাচ করিয়েও ঘর সাজাতে পারেন। পুরোনো আসবাবপত্র পুরোনো দিনের কাঠের আসবাব ফেলে দিতে মন চায় না কারণ ওই ভালো কাঠ এখন আর কেউ দেয় না। পুরোনো ফার্নিচারের সঙ্গে কনটেম্পোরারি ফার্নিচারও মিলিয়ে মিশিয়ে রাখা যেতে পারে। শুধু পুরোনো আসবাবগুলি পালিশ করে নেওয়া দরকার। রোজউড, সেগুন কাঠের ফার্নিচার পেইন্ট করালে কিন্তু তার সৌন্দর্য শেষ। সুতরাং New Look দিতে দরকার শুধু পালিশ করাবার।

কাচের বাসনপত্র

কাচের বাসনপত্র সকলেই যখন কেনে খুব শখ করে কেনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসনের সেট-এ একটা দুটো কাচের বাসন ভাঙতেই থাকে। সুতরাং কাচের বাসনগুলো যদি সত্যি দেখতে খুব সুন্দর হয় তাহলে বুদ্ধি করে ওগুলো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। কাচের কাপ, বাটি বা বোল যদি থেকে যায় তাহলে তাই দিয়ে কনটেনার গার্ডেনিং করা যেতে পারে।

কনটেনার গার্ডেনিং ব্যাপারটা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু কাচের কনটেনার যদি নিজের কাছে থাকে তাহলে খরচাও অর্ধেক হয়ে যাবে। শুধু শিখে নিতে হবে কনটেনার গার্ডেন কীভাবে পরিষ্কার রাখবেন। বাইরে বাগান করতে গেলে যতটা পরিচর্যার দরকার পড়ে কনটেনার গার্ডেন-এর ক্ষেত্রেও ততটাই যত্নের প্রয়োজন। সুন্দর গেলাস থাকলে সেটা দিয়ে জেল ক্যান্ডেল বানিয়ে সাজিয়ে রাখতে পারেন।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব