পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় ভারতীয় সংস্কার আজও অনেকটাই ভিন্ন, বিশেষকরে প্রেমের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে বিবাহিত নারী কিংবা পুরুষ অন্য কারওর প্রেমে পড়লে কিংবা শারীরিক, মানসিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে, সমাজ সেই সম্পর্ককে ‘অবৈধ’ আখ্যা দেয়। আর যে বিবাহিত পুরুষ কিংবা নারী অন্য কারওর সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হন, তার বিবাহিত জীবনসঙ্গী সেই সম্পর্ককে মেনে তো নিতে পারেনই না, পাশাপাশি, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই নতুন সম্পর্ককে ‘অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে থাকেন। আমাদের দেশের নাগরিকদের এই মানসিকতা সঠিক নাকি বেঠিক, তা হয়তো বিতর্কের বিষয় কিন্তু এই মানসিকতা কিংবা ‘সংস্কৃতি’-র কারণে অহরহ ঘটে চলেছে অপরাধ মূলক ঘটনা।

দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনও সম্পর্ক তৈরি হলে তা যদি জানাজানি হয়ে যায়, তাহলেই বিপদের ঘণ্টা বাজতে শুরু হয়ে যায়। কারণ, বিবাহিত সঙ্গী ওই ‘অবৈধ’ সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়ার পর যদি দাম্পত্য বিরোধ চরমে ওঠে, তাহলে যিনি তার বিবাহিত জীবনসঙ্গীর নতুন সম্পর্ক মেনে নিতে পারছেন না, তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান। অবশ্য শুধু মেরে ফেলার চেষ্টা চলে না, অনেক সময় মেরেও ফেলা হয়।

তবে, রাগ, ক্রোধ কিংবা ভয়ে যাকে সরিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে নতুন সঙ্গীকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করার কথা যারা ভেবে থাকেন, তাদের সেই ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয় কিছুদিন পর। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধ ঘটানোর পর ধরা পড়ে যান ‘অপরাধী’ প্রেমিক-প্রেমিকারা। এর ফলে, যা হবার তাই হয়। দাম্পত্য জীবন যেমন শেষ হয়ে যায়, ঠিক তেমনই নতুন সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পরিবর্তে, কাটাতে হয় জেলবন্দি জীবন।

আসলে, দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, সেই সম্পর্ককে ভারতীয় সংস্কৃতিতে টিকিয়ে রাখা খুবই মুশকিল। কারণ, এখানে স্বামী কিংবা স্ত্রী উদার মনোভাব দেখাতে পারেন না এই ‘এক্সট্রা’ সম্পর্কের ক্ষেত্রে। তাই শুরু হয়, বাদানুবাদ এবং অনেক সময় তা জীবনহানি পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। এমন বহু ঘটনা সামনে আসে বারবার। কিছু ক্ষেত্রে তো এই ‘এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার্স”-এর কারণে এমন সব নৃশংস ঘটনা ঘটে যায়, যা স্মরণীয় হয়ে রয়ে যায় আমাদের সমাজে। এই যেমন দিল্লিতে ১৯৭৩ সালে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা যা আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

এক আই-সার্জন বিবাহ বহির্ভূত প্রেমে পড়ার পর ‘পথের কাঁটা’ সরিয়ে দেন। অর্থাৎ, তার নতুন প্রেমের বিষয়টি স্ত্রী জেনে যাওয়ার পর, স্ত্রী-কে ভাড়াটে খুনি দিয়ে চোদ্দোবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করিয়েছিলেন। তবে, স্ত্রী-কে খুন করিয়ে রেহাই পাননি ওই আই-সার্জন। তিনি এবং তার প্রেমিকা দুজনকেই দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকতে হয়েছে। অতএব, এটা প্রমাণিত যে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হলে, ঘরে-বাইরে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে, ভরাডুবি অনিবার্য।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...