প্রসঙ্গত অঞ্জলি জানিয়েছেন, 'তথ্য অধিকার আন্দোলনের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হল, তথ্য যেন মানুষের কাছে এমন একটি মাধ্যমে ও তাদের ভাষায় পৌঁছায়, যা তাদের নাগালের মধ্যে। আপনি যদি ইন্টারনেটে ইংরেজিতে প্রচুর তথ্য দেন, তাহলে যারা ইংরেজি বোঝেন না, ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন না, তারা সেই তথ্য থেকে বঞ্চিত হবেন। আপনি যদি কোনও আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে তথ্য দিতে যান, তাহলে আপনাকে হয়তো ঢোল বাজাতে হবে, লোক জড়ো করতে হবে এবং তাদের ভাষায় কথা বলতে হবে।'
লোকপাল আইন
অঞ্জলি জানিয়েছেন, “লোকপাল আইনটি খুবই ভালো। কিন্তু সরকার তাদের দুর্নীতি দমন করতে চায় না। এত দীর্ঘ ও ব্যাপক সংগ্রামের পর ২০১৪ সালে আইনটি কার্যকর হয়, অথচ ২০১৯ সাল পর্যন্ত একজনও লোকপাল নিযুক্ত হননি। লোকপালের পদটি পাঁচ বছর খালি রাখা হয়েছিল এবং অবশেষে যখন লোকপাল নিযুক্ত হলেন, তখন তা এমন ভাবে করা হয়েছিল যে, বেশিরভাগ নিয়োগ সরকার নিজেই করেছে। এতে মানুষের মধ্যে এই ভয় তৈরি হয় যে, তারা হয়তো সরকারের চাপে কাজ করতে বাধ্য হবেন। ফলে, এই আইনটির বাস্তবায়ন সঠিক ভাবে হয়নি।”
আরটিআই এবং ক্ষমতায়ন
অঞ্জলির মতে, ‘আমাদের দেশে প্রশ্ন করা সহজ নয়, আর মহিলাদের জন্য তো এটা আরও কঠিন। কারণ, আপনি একজন মহিলা হয়ে জবাব চাইলে লোকে ধরে নেয়, এটা আপনার কাজ নয়। আমাদের সংগঠনে অনেক মহিলা যুক্ত আছেন। একটা উদাহরণ দিই। এখানে বেগমপুর বস্তিতে জল সরবরাহ ছিল না। এটা একটা বিরাট সমস্যা ছিল। রাত বারোটায় মাত্র এক ঘণ্টার জন্য জল আসত। মানুষ খুব দুর্দশাগ্রস্ত ছিল।
মহিলারা বারবার এমএলএ-র কাছে গিয়ে উপযুক্ত জল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করতে পাইপ বসানোর জন্য অনুরোধ করেন। এমএলএ জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কাছে টাকা নেই। মহিলারা তাঁর কাছে কোনও তহবিল আছে কিনা তা জানতে চেয়ে একটি আরটিআই আবেদন করেন। তাঁরা জানতে পারেন যে, প্রত্যেক এমএলএ বছরে ৫ কোটি টাকা পান।’





