বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ঊষা গঙ্গোপাধ্যায় আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে ১৯৭৬ সালের ১৬ জানুয়ারি তৈরি করেছিলেন জাতীয় নাটকের দল— ‘রঙ্গকর্মী’। এবার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করছে সেই কিংবদন্তি নাটকের দল। পঞ্চাশ বছর সময় ধরে অনেক উত্থান-পতন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও, পরিবর্তন, পরিমার্জন এবং পরিবর্ধন নিয়ে এসেছে ‘রঙ্গকর্মী’। গড়ে উঠেছে একটা বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে।
নিজের শহর কলকাতা থেকে শুরু করে, দেশের তথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ‘রঙ্গকর্মী’ ভালোবাসার বিশেষ আসন প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে। দেশের মাটির বাইরে জার্মানি, পাকিস্তান, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশে নিজেদের নাটক মঞ্চস্থ করে নাটকপ্রেমীদের অন্তরে স্থান পেয়েছে এই দল। দর্শক সমাদৃত নাটকগুলোর মধ্যে কোর্ট মার্শাল, রুদালি, চন্ডালিকা, অন্তর্যাত্রা, মাইয়াৎ, বদনাম মন্টো, লোক কথা উল্লেখযোগ্য। বতর্মানে, ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে নাট্য-নির্দেশক অনিরুদ্ধ সরকারের তত্ত্বাবধানে ‘রঙ্গকর্মী’ তার জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। নাটকগুলোর গল্প যেমন সামাজিক প্রেক্ষাপট নির্ভর, তেমনই নাটক নিয়ে চলে কর্মশালা।
পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। তাই, এই বিশেষ বছরকে মনে রেখে, পাঁচ দিন ধরে কলকাতা-য় আয়োজিত হতে চলেছে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। এই পাঁচ দিনের উৎসব চলবে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত।

১৬ জানুয়ারী সুজাতা সদনে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় উৎসবের সূচনা হবে এবং তারপরে থাকছে বিশেষ ভিডিও স্ক্রীনিং— রঙ্গকর্মীর নাটক ‘লোককথা’, যা পরিচালনা করেছিলেন উষা গঙ্গোপাধ্যায়।
১৭ জানুয়ারী আকাদেমি অফ ফাইন আর্টস-এ, দুপুর ৩-টেয় পরিবেশিত হবে ‘বিডন স্ট্রিট শুভম’-এর ‘হ-জ-ব-র-ল’, পরিচালনায় অনমিত্র খান। এরপরে মঞ্চস্থ হবে রঙ্গকর্মীর ‘চন্দা বেড়নি’, পরিচালনায় অনিরুদ্ধ সরকার।
১৮ জানুয়ারী রঙ্গকর্মীর স্টুডিও-তে বিকেল ৫টায়- মাইম; নীরব প্রতিফলনের মাধ্যমে একটি যাত্রা ,পরিচালক-পালি পাল এবং দেব কুমার পাল। তারপরে মঞ্চস্থ হবে রঙ্গকর্মীর নাটক ‘অভি রাত বাকি হ্যায়’ , পরিচালনায় সৌতি চক্রবর্তী।
১৯ জানুয়ারী রঙ্গকর্মীর স্টুডিও থিয়েটার-এ, বিকেল ৫-টায় রঙ্গকর্মীর নাটক ‘আধে আধুরে’ , পরিচালনায় অনিরুদ্ধ সরকার। এরপরে গানের অনুষ্ঠান। শেষ দিনে অর্থাৎ ২০ জানুয়ারী রঙ্গকর্মীর স্টুডিও থিয়েটার-এ বিকেল ৫টায় রঙ্গকর্মীর নাটক ‘পশমিনা’, পরিচালক সাজিদা সাজি। সবশেষে বাউল গানের পরিবেশনা।
সংস্থার পক্ষে অনিরুদ্ধ সরকার জানিয়েছেন, ‘ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর পর, রঙ্গকর্মীর পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠাতার শৈল্পিক ও নৈতিক লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে নতুন নতুন প্রযোজনা করে চলেছি। আশা করি সবার ভালো লাগবে।’





