কোটিপতি কোম্পানিগুলির কুইক হোম ডেলিভারি-র রমরমা বাজার দেখে পাড়ার মুদি দোকানগুলির মালিকরা এখন বেশ চিন্তিত। জেপ্টো, ব্লিঙ্কিট, সুইগি, বিগ বাস্কেটের মতো কোম্পানিগুলি কেবল দ্রুত পণ্য সরবরাহ করছে না, তারা পণ্যের উপর ভালো ছাড়ও দিচ্ছে। এর ফলে অবস্থা যেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, একক মালিকদের দ্বারা পরিচালিত ১০০-২০০ ফুটের দোকানগুলির ভবিষ্যৎ বড়ো বেদনাময় হতে চলেছে। আজকের জেনারেশন জেড, যারা সবকিছুর জন্য মোবাইলের উপর নির্ভরশীল, তারা এই ‘ক্লিক ই-কমার্স’ কোম্পানিগুলির ফাঁদে পা দিচ্ছে। এই জেনারেশন-জেড, পরিচিত দোকানদারের কাছ থেকে জিনিসপত্র কেনার মূল্য উপলব্ধি করতে পারে না।

কুইক ই-কমার্সে আপনি বাড়ি বসে দ্রুত জিনিসপত্র পেয়ে যাবেন ঠিকই কিন্তু এর জন্য গ্রাহক হিসাবে ভবিষ্যতে জিতবেন নাকি ঠকবেন, সেই বিষয়ে বিচক্ষণতার সঙ্গে বিবেচনা করেছেন কি? মনে রাখবেন, কুইক হোম ডেলিভারির বিষয়টি অত্যন্ত ব্যয়বহুল সফ্টওয়্যারের উপর নির্ভরশীল এবং শত শত লোক এর ব্যাকএন্ড পরিচালনায় নিযুক্ত, যার খরচ গ্রাহকদের আজ হোক কিংবা কাল হোক, পরিশোধ করতেই হবে।

অনেকে এখন ফল এবং সবজিও কিনছেন কুইক হোম ডেলিভারি-কে মাধ্যম করে। কিন্তু ভেবে দেখুন, বাজারে গিয়ে দামাদামি করে যে গুণমানের ফল কিংবা সবজি আপনি কিনতে পারতেন, তা কি হোম ডেলিভারি- -কে মাধ্যম করে পাচ্ছেন? এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, শুরুতে সবকিছুই ভালো পাওয়া যায় কিন্তু আপনি একবার বাড়ি বসে ফল-সবজি কেনার অভ্যাস তৈরি করে ফেললে, তা আর ছাড়তে পারবেন না সহজে। আসলে, ই-কমার্স কোম্পানিগুলো জানে যে, ক্রেতারা একবার আরামের কেনাকাটায় আসক্ত হয়ে পড়লে, তারা আর দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করতে চাইবে না। এক্ষেত্রে হয়তো এক কোম্পানিকে পছন্দ না হলে, ক্রেতারা অন্য কোনও ই-কমার্স কোম্পানি সার্চ করবে।

এক্ষেত্রে আরও একটি বড়ো সমস্যা আসতে পারে। আর তা হল— চার-পাঁচটি বাণিজ্যিক কোম্পানি একসঙ্গে মিলে ক্রেতাদের একটি ফাইল তৈরি করতে পারে এবং এমনকী গ্রাহকদের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ও করতে পারে। বিমান সংস্থাগুলি ‘নো ফ্লাই’ তালিকার মাধ্যমে এটি করছে এবং ব্যাংকগুলি সিভিল স্কোরের মাধ্যমে এটি করছে।

এক সময় হয়তো এমন হয়ে উঠবে যে, এই দ্রুত বাণিজ্য কোম্পানিগুলি সরকারি রেশন দোকানের মতো একচেটিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করবে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭ শতকে বন্দুক ও কামানের শক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা করে শাসন করেছিল, কারণ তারা কৃষকদের সরাসরি পণ্য বিক্রির অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাই বলা যায়, জেনারেশন জেড আসলে জেনারেশন ব্লাইন্ডে পরিণত হতে চলেছে।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...