পহেলগামে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যেমন মর্মান্তিক, ঠিক তেমনই মহাকুম্ভে পদদলিত হয়ে মারা যাওয়া কিংবা গোয়ার সিরগাঁওয়ের লাইরাই দেবী মন্দিরে পদদলিত হয়ে মারা যাওয়াও সমান ভাবে মর্মান্তিক। আসলে কোনও মৃত্যুই কাম্য নয় এবং সব মৃত্যুই মর্মান্তিক। তবে ধর্মের জন্য মৃত্যুবরণ করার মতো মর্মান্তিক আর কী হতে পারে!
মানুষের ধারণা যেখানে ধর্ম করলে রক্ষা পাওয়া যায়, বিপদ থেকে উদ্ধার হওয়া যায়, সুখ-সম্পদে ভরে ওঠে, পরবর্তী জীবনে কিংবা মৃত্যুর পরে সুখী থাকা যায়, সেই ধর্ম কীভাবে পরিবারের উপর মৃত্যুর বোঝা চাপিয়ে দেয়, মহিলাদের বিধবা করে অকালে, শিশুদের অনাথ করে, শ্রমজীবী মানুষের জীবন কেড়ে নেয়! ধর্মের এ কেমন পরিহাস! মৃত্যুর জন্য কেবল মন্দিরে আসা হাজার হাজার ধর্মান্ধরাই দায়ী নয়। প্রত্যেক ব্যক্তিই দায়ী, যারা বিশ্বাস করে যে, মন্দিরে গেলেই জীবন সুখ-সম্পদে ভরে ওঠে। আসলে ধর্ম করতে গিয়ে আমরা সব ধরণের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করি।
কিন্তু এটা কেমন ধর্ম যে, তার ভক্তদের সঠিক পথে চলতে শেখাতে পারে না! আপনাকে কখন আসতে হবে, কোন সময়ে পূজা করতে হবে, কোন পূজার কী কী উপকরণ আনতে হবে, কত দান করতে হবে, কী পরতে হবে, কী খুলতে হবে, তা বলে দেয় ধর্মের দোকানদাররা কিন্তু তারা বলতে পারে না কীভাবে ধীরেসুস্থে আসতে হবে, কীভাবে দাঁড়াতে হবে, কীভাবে মন্দিরে পৌঁছানোর জন্য ধৈর্য নিয়ে যেতে হবে। যদি ধর্মই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে প্রশাসন কেন সমস্যা মেটাবে? পুলিশ কেন পরিশ্রম করবে? এ তো সর্বশক্তিমান সেই দেবতাদের করা উচিত।
এক্ষেত্রে নারীদের দুর্দশা সবচেয়ে বেশি। কারণ, ধর্মস্থানে পৌঁছানোর জন্য তাদের কেবল মাইলের পর মাইল হাঁটতে হয় না, পুজোর উপকরণও বহন করতে হয়, বাচ্চারা যদি ছোটো থাকে তাহলে তাদেরও বহন করতে হয়। আসলে, তাদের মগজ ধোলাই করা হয়েছে যে, স্বামীর উদাসীনতা, শাশুড়ির নিষ্ঠুরতা, অর্থের অভাব, মেয়ের বিয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সমস্যা মেটানোর জন্য তাকে পূজার্চনা করতেই হবে। ধর্ম-ই যেন বিপদ থেকে মুক্তিলাভের একমাত্র পথ। কিন্তু মনে রাখবেন, যত বেশি ধর্ম নিয়ে মেতে থাকবেন, বাস্তবের বাইরে থাকবেন, মস্তিষ্কে ততই মরচে পড়ে বুদ্ধিনাশ হবে, ফলে লাভবান হবে ধান্দাবাজরা। আর ধর্ম করে কী পাবেন? অকাল মৃত্যু, কখনও কোনও কারণ ছাড়াই বিধবা হবেন এবং কখনও আবার হারাতে হবে সন্তানকে।





