দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘সাদ্যা' হল— সুস্বাদু নিরামিষ খাবার, যা বিশেষ উৎসবে কিংবা ওনামের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবে পরিবেশিত হয়। এটি কেরালার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। কলাপাতায় পরিবেশিত সাদ্যাতে ভাত, সাম্বার, আভিয়াল, ঘোড়ান, ওলান, পাচাদি, আচার এবং পাঁপড়ের মতো বিভিন্ন ধরনের খাবারের পাশাপাশি, পায়েস এবং ক্ষীরের মতো মিষ্টি খাবারও রয়েছে। ওনাম সাদ্যায় সাধারণত ২৪ থেকে ২৮-টিরও বেশি খাবার থাকে, যার সবকটিই সহজে এবং স্থানীয় ভাবে পাওয়া যায় এমন উপাদান দিয়ে তৈরি।
মাথাঙ্গা এরিসেরি
মাথাঙ্গা এরিসেরি হল কেরালার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা মিষ্টি এবং মশলাদার। এই মাথাঙ্গা এরিসেরি (Mathanga Erissery) আসলে কাঁচা কুমড়োর কারি। নারকেল এবং মশলার সঙ্গে কুমড়ো মিশিয়ে তৈরি করা হয় এবং এটি সাধারণত ওনাম (Onam) সহ বিভিন্ন উৎসবে পরিবেশন করা হয়। এটি একটি হালকা মিষ্টি স্বাদের তরকারি, যা ভাত বা রুটির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। এই তরকারিটি কেরালা রন্ধনশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি প্রায়ই ‘ওনাম সাদ্যা’-য় একটি বিশেষ ভোজ হিসাবে পরিবেশিত হয়।
উপকরণ: কুমড়ো ৬০০ গ্রাম, নারকেলের শাঁস ১০০ গ্রাম, মসুর ডাল আধা কাপ, লাল লংকা ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়ো ১ চা চামচ, সামান্য কারিপাতা, নারকেলকুচি ২ চামচ, হলুদগুঁড়ো হাফ চা চামচ, গোটা সরষে এক চা চামচ, পেঁয়াজকুচি ২ চামচ, লবণ স্বাদমতো, জল এক কাপ ৷
প্রণালী: কাঁচা কুমড়োর খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে ছোটো ছোটো টুকরো করে কেটে নিন। একটি পাত্রে ওই কাটা কুমড়ো, হলুদগুঁড়ো, গোলমরিচের গুঁড়ো, স্বাদমতো লবণ এবং কিছুটা জল দিয়ে ঢেকে রান্না করুন। কুমড়ো রান্না হয়ে গেলে, সেদ্ধ মসুর ডাল যোগ করুন।
এবার নারকেলের শাঁস, জিরেগুঁড়ো এবং গোলমরিচের গুঁড়ো অল্প জল দিয়ে পিষে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি কুমড়ো এবং মসুর ডালের মিশ্রণে যোগ করুন এবং ভালো ভাবে মেশান। কয়েক মিনিট রান্না হতে দিন।





