আত্মহত্যার আগে অতুল সুভাষের ভিডিও এবং দীর্ঘ সুইসাইড নোট নিয়ে হইচই হয়েছে। আবার মিরাটে এক প্রেমিকের সহযোগিতায় মুসকান নাকি তার স্বামীকে হত্যা করে সিমেন্ট মাখিয়ে ড্রামে রেখে দিয়েছিল! অন্যদিকে, এও জানা গেছে, পার্টনায় ৪ জন সহকর্মীর সহযোগিতায় স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। এখন বিষয়টি হচ্ছে, কেন এই অপ্রীতিকর ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে? এক্ষেত্রে আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসছে যে, অপরাধী নারী-পুরুষ যে-ই হোক না কেন, পৃথক বিচার হয় না। কিন্তু কোনও স্বামী খুন হলে সমাজে যতটা আলোড়ন পড়ে যায়, স্ত্রী খুন হলে অনেক ক্ষেত্রে তা নিয়ে চর্চা অনেকটা কম থাকে। কিন্তু কেন এমনটা হয়?
কয়েক দশক আগেও মহিলাদের মরতে হতো নানারকম কারণে। যেমন— বিয়েতে দাবি মতো পণের টাকা দিতে না পারার জন্য কিংবা বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, অনেক পরিবারে তো কন্যা সন্তানকে পৃথিবীর আলোই দেখতে দেওয়া হতো না। হয়তো সেই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে কড়া আইন বলবত করে, অর্থাৎ এখন কন্যাভ্রূণ হত্যা কমেছে। কিন্তু মহিলাদের প্রতি অন্যায়-অত্যাচারের ঘটনা কমলেও, তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, হয়তো অত্যাচারের ধরন কিছুটা বদলেছে। তাহলে কি ধরে নিতে হবে যে, নারীদের প্রতি অত্যাচারের পরম্পরা বজায় থাকবে? আইন কিংবা মানবিকতা কি নারী-সম্মান কিংবা নারী-সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না?
বিষয়টি হল— না চাইলেও এখন মহিলাদের ধর্ম এবং রীতিনীতির বেড়াজালে আটকে রাখা হচ্ছে, ডানা কেটে ফেলা হচ্ছে, স্বামীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললে তাকে মেরেও ফেলা হচ্ছে। অপরাধী পুরুষটি যদি রাজনৈতিক ভাবে ক্ষমতাধারী হন, তাহলে তো তার অপরাধ ঢেকে দেওয়ার জন্য কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ এবং আদালত যাতে অপরাধের তদন্ত সঠিক ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য নানারকম কৌশল অবলম্বন করা হয়ে থাকে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, আজও মহিলাদের বোঝানো হয়, বিয়ে হল ধৈর্য সংস্কৃতির পরিচয় এবং স্বামী হলেন পরমেশ্বর! অতএব, স্বামীর উপপত্নীকে সহ্য করার, তার মারধর সহ্য করার, শ্বশুরবাড়ির লোকদের কটূক্তি সহ্য করার ক্ষমতা রাখতেই হবে মহিলাদের।





