গত বছরের ২৫ মে একটি সংবাদপত্রে হেডলাইন ছিল— ‘হিমাচলের ব্যবসায়ীকে দিল্লিতে ডেকে নিয়ে ২ লক্ষ টাকা লুটে নিলেন এক মহিলা’। খবরের শিরোনাম দেখে মনে হয়েছে, অপরাধী একজন মহিলা। ওই খবরে প্রকাশিত হয়েছে যে, হিমাচলের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব করেন ওই মহিলা এবং তাকে দিল্লির নজফগড়ে ডেকে লুট করেন। কিন্তু এই অপরাধ কি শুধু ওই মহিলাই ঘটিয়েছেন, নাকি এর নেপথ্যে শিকারি ছিল অন্য কেউ?
জানা গেছে, আসলে এই মেয়েটিকে কুচক্রী পুরুষরা ব্যবহার করেছিল। তাকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ওই ধনী ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলতে বলে কুচক্রীরা। তারপর ওই কুচক্রীদের নির্দেশ মতো সেই ব্যবসায়ীকে দিল্লিতে ডেকে নেন ওই মহিলা এবং সেখানে নকল দুই পুলিশ ভয় দেখিয়ে এই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা লুট করে।
আজকাল হানিট্র্যাপের অসংখ্য ঘটনা ঘটছে কিন্তু এর সামনে মহিলা অপরাধীরা থাকলেও, পেছনে থাকে কিছু শয়তান পুরুষ। আসলে মেয়েরা হল বড়শিতে আটকে রাখা একটা খাবারের টুকরো, যা মাছ ধরার জন্য প্রয়োজন। বাকি লুটপাটের সমস্ত পরিকল্পনা করে অসাধু পুরুষেরা। তারাই বদ মতলব আঁটে, পুলিশের পোশাক পরে ভয় দেখায় এবং লুট করা টাকার বেশিরভাগই ওইসব অপরাধীদের হাতে চলে যায়। পতিতাবৃত্তি হোক, খুল্লামখুল্লা নাচই হোক কিংবা পর্ন সিনেমাই হোক— সবকিছুতেই মেয়েদের ব্যবহার করা হয় টোপ হিসাবে। বেচারা মেয়েরা তাদের যৌবনের ৫-৭ বছর এই ব্যবসায় নষ্ট করে এবং তারপর কালের স্রোতে কোথায় হারিয়ে যায়! সবচেয়ে মজার কথা হল, টাকার লোভে কিংবা কারওর পাল্লায় পড়ে যে-সব মেয়েরা অপরাধ জগতে প্রবেশ করে, তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যক মেয়েই নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয় অপরাধ জগতে। সাধারণত তারা কেবল টোপ হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং তাদের যৌবন নিয়ে খেলার পর, ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দেয় আসল অপরাধীরা।
এখন তাই মনে প্রশ্ন জাগে যে, আসল অপরাধীরা কি তাহলে থাকবে ধরাছোঁয়ার বাইরে আর শুধু মেয়েরাই পাবে অপরাধীর তকমা? ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, কম্পিউটার সায়েন্স, ম্যানেজমেন্ট করার পর যেসব মেয়েরা নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন, তাদের মধ্যে হয়তো কয়েকজন সম্মান ও স্বীকৃতি পাচ্ছেন। কিন্তু অভাবী মেয়েদের মধ্যে অনেকেই হয়তো ভুল করে কুপথে যাচ্ছেন কিংবা কয়েক বছরের মধ্যে বিয়ে করে ঘরের পুরুষদের শিকারে পরিণত হয়ে চলেছেন। এর জন্য দোষী কে?





