আপনার ত্বক শুষ্ক নাকি তৈলাক্ত? চুল কেমন ধরনের? এইসব বিষয়ে নিশ্চিত হোন প্রথমে এবং তারপর শুরু করুন বিউটি রেজিম (Beauty Regime)। কিন্তু কী এই ‘বিউটি রেজিম’?
বিউটি রেজিম হল— ত্বক, চুল এবং সামগ্রিক শারীরিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন বা পদ্ধতি, যা প্রসাধন এবং শরীরের সামগ্রিক যত্ন নেওয়ার উপর নির্ভর করে। বিউটি রেজিম-এ সাধারণত মুখ ধোয়া, ময়েশ্চারাইজিং, সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ত্বক ও চুলের সামগ্রিক যত্নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি ত্বক ও চুলের ধরন এবং ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে। সাধারণ বিউটি রেজিম-এর মধ্যে রয়েছে—
মুখ ধোয়া: ত্বক পরিষ্কার করতে এবং ময়লা ও মেক-আপ তুলতে একটি ভালো ক্লিনজার ব্যবহার করা হয়।
টোনিং: ত্বকের পিএইচ (Potential of Hydrogen) ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং পোরগুলো পরিষ্কার করতে টোনার ব্যবহার করা হয়।
সিরাম: ত্বকের নির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতে ভিটামিন সি বা ই-এর মতো উপাদানযুক্ত সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। ময়েশ্চারাইজিং: ত্বককে নরম ও সতেজ রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়।
সানস্ক্রিন: দিনের বেলায় ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা করার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অপরিহার্য।
বিশেষ যত্ন: ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা কিংবা অন্যান্য সমস্যার জন্য ফেস মাস্ক এবং লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের যত্নে সঠিক শ্যাম্পু এবং অন্যান্য উপকরণ সঠিক হওয়া চাই।
বিউটি রেজিম-এর গুরুত্ব
ত্বকের স্বাস্থ্য: নিয়মিত সৌন্দর্য পরিচর্যা ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। আত্মবিশ্বাস: সুন্দর ও সতেজ চেহারা আপনাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
বিশেষ যত্ন: বিয়ে কিংবা পার্টির মতো বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে একটি নির্দিষ্ট বিউটি রেজিম অনুসরণ করলে আপনি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবেন।
কিছু টিপ্স
ব্যক্তিগত প্রয়োজন: আপনার ত্বকের ধরন (যেমন তৈলাক্ত, শুষ্ক বা মিশ্র) অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করুন। ধৈর্য: ভালো ফলাফল পেতে সময় লাগে, তাই ধৈর্য ধরে আপনার বিউটি রেজিম-এর উপর ভরসা রাখুন।
সঠিক পণ্য: ভালো মানের এবং আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত পণ্য ব্যবহার করুন।
কিন্তু সাধারণ বিউটি রেজিম-এর পাশাপাশি, বয়স অনুযায়ী বিউটি রেজিম-কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, ত্বক যেমন আপনার সৌন্দর্যের অন্যতম আধার, তেমনই বয়স বাড়লে ত্বকের উপরেই চাপ সবচেয়ে আগে পড়ে। তাই যৌবনের শুরু থেকেই ত্বকের ব্যাপারে যত্নবান হোন, মেনে চলুন কিছু বিউটি রেজিম। বয়সের বলিরেখা কে ঠেকিয়ে রাখার, তথা যৌবনকে প্রলম্বিত করার এটাই সহজতম উপায়৷
সব বয়সেই ত্বকের যত্নের প্রয়োজন। তবে তার রকমটা আলাদা আলাদা হয়। বেবি স্কিন টেক্সচার অনেকে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখতে পারেন, যত্নের কারণে। সঠিক বিউটি রেজিম মেনে স্কিন-কে প্যাম্পার করলে, সুফল পাওয়া যায়। তাই শুরুতেই নিজের ত্বকের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। ত্বক শুষ্ক বা তৈলাক্ত যা-ই হোক না কেন, প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবহার তার উপর ভিত্তি করেই করা উচিত।
কুড়িতে কনশাস
২০ বছর বয়সে পা রাখলেই ত্বকের ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠুন। কয়েকটি পয়েন্ট মাথায় রাখুন—
শুধু ভালো ব্র্যান্ডের ক্লিনজার-ই ব্যবহার করুন। যদি আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়, তাহলে টোনারও ব্যবহার করা শুরু করুন। বিশেষকরে তখন, যখন প্রতিদিন মেক-আপ করাটা আপনার পক্ষে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য গ্লাইকোলিক অ্যাসিড যুক্ত ফেস ওয়াশ বা ক্লিনজার ব্যবহার করুন। যদি ত্বক শুষ্ক হয়, তাহলে মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
বেশি এসপিএফ (Sun Protection Factor) যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ফেস ওয়াশ ব্যবহার করার পর অন্ততপক্ষে ৩০ এসপিএফ থাকা সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা উচিত হবে। তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তারা ওয়াটার বেসড সানস্ক্রিন। ব্যবহার করুন।
O খাদ্য তালিকায় গাঢ় রঙের ফল ও সবজি রাখুন।
O ধূমপান এবং মদ্যপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এর প্রভাব ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে।
তিরিশে তৎপর
তিরিশ বছর বয়স মানেই হল যৌবন-এর দ্যুতি ধরে রাখার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। নিজেকে সুন্দর করে প্রেজেন্ট করতে হলে, এ সময় ত্বককে অবহেলা করলে চলবে না, কারণ স্কিন-ই হতে পারে আপনার সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড়ো প্লাস পয়েন্ট।
O ক্লিনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং-এর রুটিন মেনে চলুন। রোদ থেকে ত্বককে বাঁচানো খুব জরুরি, কারণ বলিরেখা দেখা দেওয়ার এটা অন্যতম কারণ
O ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখতে বেশি করে জল পান করুন
O ভালোমানের অ্যান্টি এজিং ক্রিম ব্যবহার করা শুরু করুন তিরিশ বছর বয়সের পর থেকে
O স্ক্রাবিং শুরু করুন, অন্ততপক্ষে সপ্তাহে একবার
O রাতে অবশ্যই ভিটামিন-ই যুক্ত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ফেস ক্রিম ব্যবহার করুন
O ব্যালেন্সড ডায়েট গ্রহণ করুন, যাতে সঠিক পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি থাকে।
চল্লিশে চাকচিক্য
চল্লিশ বছর বয়স মানেই আপনি ডেঞ্জার পিরিয়ড-এ পা রাখলেন। লেট ফর্টিজ-এ মেনোপজের চোখ রাঙানির সম্ভাবনা প্রবল থাকে। তাই ত্বকের হেলাফেলায় এসময় বড়ো ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
O ক্লিনজিং-টোনিং-ময়েশ্চারাইজিং-এর পাশাপাশি, বেশি এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন দু’ঘণ্টা অন্তর আন্ডার আই জেল লাগানো শুরু করুন। তবে এটি যেন ভালো গুণমানের হয়
O অ্যান্টি এজিং ক্রিম এসময়ে বিশেষ ভাবে জরুরি। তবে এই প্রসাধনী কেনার সময় দেখে নিন এতে পেপটাইডস, কো-এনজাইম কিউ-১০, রেটিনোল, পলিহাইড্রক্সি অ্যাসিড প্রভৃতি উপকরণ আছে কিনা
O ফ্রুট পিল ব্যবহার করলে সুফল পাবেন
O এই সময় স্কিন টোন লাইটনিং ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এতে ফ্রুট এক্সট্র্যাক্টস থাকা বাঞ্ছনীয়
O প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম একান্ত জরুরি।
পঞ্চাশে পারফেক্ট
বয়সটা পঞ্চাশ বলেই যে আপনি বার্ধক্যের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছেন এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। চাইলে আরও দশ বছর নিজেকে একইরকমের আকর্ষণীয় আর লাবণ্যময়ী রাখা যায়।
O গোটা শরীরে ময়েশ্চারাইজার লাগানো একান্ত জরুরি, বিশেষকরে শীতকালে। কমপক্ষে ২-৩ বার ময়েশ্চারাইজ করুন সারা শরীর
O পঞ্চাশ বছর বয়সের পর অ্যান্টি এজিং ক্রিমের ব্যবহার বন্ধ করবেন না
O হাইলোরনিক অ্যাসিড-বেস্ড ক্রিম ব্যবহার করুন
O এই বয়সে আপনার ত্বকের কিছু সাধারণ ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। যেমন— লেজার, বোটোক্স প্রভৃতি। অ্যান্টি এজিং, বলিরেখা, দাগ-ছোপের সমস্যা প্রভৃতিতে এখন বিশেষ ট্রিটমেন্ট-এর প্রয়োজন আছে
O লেজার ট্রিটমেন্ট যদি করানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে তা অবশ্যই কোনও বিশেষজ্ঞের সাহায্যে করান
O অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন কমানোর পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করতে যাবেন না। এগুলি ত্বকের স্বাভাবিক টানটান ভাব কমিয়ে স্কিন লুজনিং-এর পথ প্রশস্ত করে এবং মুখে বলিরেখা এনে দেয়
O ব্যালেন্সড ডায়েট, পজিটিভ অ্যাটিটিউডস, পর্যাপ্ত ঘুম আর প্রচুর জল পান— এগুলিই তারুণ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে আপনাকে।





