দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদে একটি উঁচু ভবন থেকে লাফিয়ে তিন মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা মর্মান্তিক! এই মেয়েরা কোনও ভাবে কোরিয়ান অনলাইন গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল এবং এটি তাদের জীবনের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। ঘরের চার দেয়ালের ভেতরে অন্য কিছু ঘটে থাকতে পারে, যার কারণে এই মেয়েরা গেমিং-এ আসক্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার বিপজ্জনক হয়ে উঠছে ক্রমশ এবং এর পরিণতিতে মা-বাবার অসহায়ত্ব বাড়ছে।

৬ ইঞ্চি বাই ৪ ইঞ্চির মোবাইল ফোন প্রায় পুরো বিশ্বকে নেশায় বুঁদ করে তুলেছে। ঠিক যেমন একসময় আফিমকে ওষুধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, কিন্তু যখন মানুষ এর আসক্তিকর গুণাবলী বুঝতে শুরু করে, তখন এর ব্যাপক অপব্যবহার শুরু হয়। রাজা, মহারাজারা একসময় শত্রুপক্ষকে পরাস্ত করতে এই আফিম সরবরাহ করে জয়লাভ করত। আর বর্তমানে আফিমের পরিবর্তে মুঠোফোনের প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে প্রতারনার জাল বিস্তার করা হয়েছে। যার কুফল ভোগ করছে বর্তমান প্রজন্মের একাংশ।

যোগাযোগের অসাধারণ আবিষ্কার এই মোবাইল ফোনের অপব্যবহার হতে পারে, তা আগে থেকে ধারণা করা হয়নি, কিন্তু গেমিং তা প্রমাণ করেছে। মোবাইল ফোন কেবল প্রলোভনের জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে না, বরং এটি এমন গেমের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে। আজ, তরুণ প্রজন্মের একটি বড়ো অংশ মাদকাসক্তির পরিবর্তে গেমিং-আসক্তির শিকার হচ্ছে, যা সমান ভাবে বিপজ্জনক। সমস্যা হল, আজকের বেশিরভাগ বাবা-মা এতটাই অজ্ঞ যে, তারা সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন না এবং তাদের বেড়ে ওঠা সন্তানদের উদ্ভূত বিপদ থেকে বাঁচানোর কৌশলও জানেন না। আজকের যুব সমাজ এতটাই প্রযুক্তি নির্ভর যে, তারা সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে পেতে চাইছে এবং এই কারণে প্রতারিতও হচ্ছে কয়েক সেকেন্ড-এর মধ্যে। আর ঠিক এই কারণে অভিভাবকরাও দিশাহারা। তারা সন্তান জন্ম দিয়েছেন কিন্তু তাদের কীভাবে বড়ো করবেন তা জানেন না।

গাজিয়াবাদের মেয়েদের সঙ্গেও হয়তো এই রকমই কিছু ঘটেছিল। তিন বোনই বহু বছর ধরে স্কুলে যাচ্ছিল না এবং তাদের বাবা-মা ঝগড়ায় ব্যস্ত ছিলেন। শোনা গেছে যে, ওই তিন বোনের বাবা অনেকবার বিয়ে করেছিলেন এবং এই মেয়েদের পথ দেখানোর পরিবর্তে, তিনি তাদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল, যেভাবেই হোক ধনী হওয়া এবং সর্বসুখ উপভোগ করা।

আসলে মোবাইল ফোনের আসক্তি সামাজিক ব্যর্থতার লক্ষণ। সমাজ আজ কোনও সুরক্ষা দিচ্ছে না। আগে ধর্ম তার স্বার্থপরতার জন্য সবাইকে এক পথে ঠেলে দিত ভেড়ার মতো, কিন্তু এখন অভিভাবকদের একাংশের অবস্থা অনাথ বাচ্চার মতো। অর্থাৎ, সমাজ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার পথ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

রাজনীতিবিদরা সমাজ ত্যাগ করেছেন। তারা কেবল মন্দির আর নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সর্বদা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুনামির তাণ্ডবে চিন্তাবিদরাও হারিয়ে গেছেন এখন। এর পরিণতি ভয়াবহ! গাজিয়াবাদের মেয়েদের আত্মহত্যা অবশ্যই এক বড়ো বিপদসংকেত। তাই, এখনই সতর্ক না হলে, বিপদ হয়তো আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...