এবছর বর্ষা যেন প্রলম্বিত৷ শরতের ঝলমলে রোদের বদলে শুধুই বৃষ্টি৷ এদিকে ক’দিন পরেই বাঙালির সেরা পার্বণের শুরু৷ তাই রূপচর্চার বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গি জড়িয়ে৷ ‘বিউটিফুল স্কিন’ কমপ্লিমেন্ট পেতে হলে, ত্বকের সৌন্দর্য মেইনটেন করা বিশেষ ভাবে আবশ্যক। যত্নের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ত্বক ভালো রাখার সিক্রেট। এর জন্য ত্বকের ন্যাচারাল ময়েশ্চার বা প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখা খুব জরুরি। বৃষ্টির আবহাওয়ায় ত্বক মেইনটেন করতে চাই বিশেষ যত্ন। বিশেষ করে এসময় যখন জার্ম ও ইনফেকশনের প্রভাব পড়ে মারাত্মক ভাবে। করোনার এই আবহে তো আরও বেশি করে পার্সোনাল হাইজিনের বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। তাই বিশেষ ভাবে জরুরি হল Bodywash৷

আপনি যদি দেখেন সাধারণ সাবান ব্যবহারের ফলে, ত্বকে শুষ্ক ভাব এসে যাচ্ছে, তাহলে এটাই সঠিক সময়, সাবান বদলে বডিওয়াশ-এর উপর নির্ভরতা বাড়ানোর। এতে ত্বক ঝলমলে যেমন হবে, তেমনি সফ্ট অনুভতিও বজায় থাকবে।

এবার প্রশ্ন উঠবে বাজারে এত রকম বডিওয়াশের মধ্যে থেকে, সঠিক বডিওয়াশ নির্বাচন করবেন কীভাবে? এক্ষেত্রে বাছুন তেমন বডিওয়াশ, যাতে রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদানের গুণ। হার্বাল বডিওয়াশের কোনও বিকল্প নেই। নিম, তুলসী, অ্যালোভেরা, পাপায়া পাল্প বা মিল্কক্রিম-যুক্ত Bodywash আপনাকে সহায়তা করবে ত্বক ভালো রাখতে।

কেন বডিওয়াশ জরুরি?

স্কিন ময়েশ্চার বজায় রাখে : স্কিন মেইনটেন করতে হলে, যা আবশ্যক, আর্দ্রভাব তার অন্যতম। সাধারণ সাবান বা রাসায়নিক-যুক্ত বডিওয়াশ প্রাথমিক ভাবে এই ক্ষতিটাই করে, যার ফলে আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। তাই এমন বডিওয়াশ ব্যবহার করুন যা স্কিন ড্যামেজ রোখার সঙ্গে সঙ্গে, ত্বকের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে দেবে। তুলসী-নিম বা কেসর-গ্লিসারিন-যুক্ত বডিওয়াশ ব্যবহার করা শুরু করুন।

ডিপ ক্লিনজিং : আর্দ্র আবহাওয়ায় আপনার রোমকূপে ময়লা ঢুকে নানারকম ইনফেকশনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বৃষ্টির দূষিত জলে স্কিন র‍্যাশও বর্ষার আরও এক সমস্যা। এই সময় তাই প্রয়োজন ডিপ ক্লিনজিং-এর। আর এই কাজটাই করে বডিওয়াশ। হার্বাল বডিওয়াশ-এ মজুদ তুলসী, যা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি প্রপার্টিজ-এ সমৃদ্ধ। এটি ত্বকের জমে থাকা মাইক্রোবস এবং ময়লা বের করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ফিরিয়ে দেয় ত্বকের ইলাস্টিসিটি এবং অয়েল ব্যালান্স।

স্কিন এক্সফলিয়েশন : এই আবহাওয়ায় ত্বকের মরা কোশ দূর করাও বিশেষ ভাবে জরুরি। স্কিন এক্সফলিয়েশন অর্থাৎ মৃত কোশ দূর করার কাজটাও করে স্ক্রাবার-যুক্ত বডিওয়াশ। এই এক্সফলিয়েশন না করলে অ্যাকনে জাতীয় সমস্যা বাড়তে পারে এই ভেজা ভেজা আবহাওয়ায়। বডিওয়াশ পোরস বা রোমছিদ্র খুলে দেয়। যার ফলে ত্বক নিঃশ্বাস নিতে পারে। ত্বক নিমেষেই হেলদি হয়ে ওঠে।

পিগমেন্টেশন ফাংগাস : স্কিন-এর দাগছোপ ও স্কিন ফাংগাসের সমস্যায় যারা জর্জরিত, বডিওয়াশ তাদের এক নিশ্চিত সমাধান। গ্রীষ্মে রোদে পোড়া ত্বক, বর্ষার আবহাওয়ায় আরও কালচে দেখতে লাগে। কেসর-যুক্ত হার্বাল বডিওয়াশ ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে কাজে লাগে।

স্কিন ইনফেকশন : বৃষ্টিতে নানারকম অ্যালার্জি ও ইনফেকশন হয়৷ এগুলি রোধ করতে ত্বক পরিচ্ছন্ন রাখা বিশেষ জরুরি। ঋতুবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাই নিম-যুক্ত বডিওয়াশকে আপন করুন।

ফ্রেশ লুক : কে না চায় ফ্রেশ লুক-এ নিজেকে প্রেজেন্ট করতে। ঋতু যাই হোক না কেন, নিজের তরতাজা ভাব বজায় রাখতে স্নানের সময় বডি স্ক্রাবার এবং বডিওয়াশ নিয়মিত ব্যবহার করুন। এর ফলে শরীরে দুর্গন্ধ ও ময়লা কোনওটাই স্থান পাবে না। ভালো ব্র্যান্ডের বডিওয়াশ-এ থাকে ডিসাইল গ্লুকোসিড যা সেন্সিটিভ ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দেয়। আর থাকে অল্যান্টোইন যা ত্বককে আর্দ্র রাখে। এতে ত্বকে অ্যান্টি এজিং এফেক্টও বজায় থাকে। শুধু এটুকু যত্নেই আপনি এবার পুজোয়, ফ্রেশ লুক-এ নিজেকে উপস্থাপিত করতে পারবেন৷

Tags:
COMMENT