কবি— পুজো সংখ্যার জন্য সব পত্রিকাই তাড়া দেয়। 'আমার লেখাটা আগে দিন প্লিজ, হাতে সময় নেই, প্রেস-এ যাবে' ইত্যাদি। তাই পুজো সংখ্যায় যতটা পারা যায় গোঁজামিল, সার শূন্য লেখা দিয়েই চালিয়ে দিতে হতো।
চিত্রগুপ্ত— পাঠকদের ঠকাতে খারাপ লাগত না। বিবেক বাধা দিত না ?
কবি— না, কারণ বেশিরভাগ পাঠক ওগুলোই গোগ্রাসে গেলে আর বাহবা দেয়। তাতে আমাদের থেকে কোথাও ভালো সাহিত্য, কবিতা হলেও সেগুলো উঠে আসার সুযোগ কম।
চিত্রগুপ্ত— মাই লর্ড, প্রতিষ্ঠিত কবি হিসেবে এই কবি নিজের সততা ও বিবেকের কাছে আত্মবিসর্জন দিয়ে উৎসবের আবহে বছরের পর বছর পাঠক ঠকিয়ে গেছেন।
চিত্রগুপ্ত— আপনি তো কবিতা পাঠ করতে বিভিন্ন মঞ্চে যেতেন বলছিলেন, কখনও কবিতার শরীর ছাড়িয়ে কবিতায় ঢুকতে পেরেছেন, নাকি আমন্ত্রণপত্রে নিজের নাম আর মঞ্চের আসনে বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের আলোয় শুধু কবিতার শরীর রাঙিয়েছেন?
কবি— দেখুন সত্যি কথা বলতে কী, কবিতা পাঠ কেউ শুনতে যায় না, আর পড়ার ব্যাপারটাও তাই একটু যোগাযোগ, পরিচিতি, হইচই এইসব আর কী। আর এমনিতেও বেশিরভাগ কবিতা পাঠের সভাঘরে কবিরাই থাকেন। পাঠকদের উপস্থিতির সুযোগ থাকে না তেমন। সেইজন্য আমি ঠিক নিজেও জানি না কবিতার শরীর অতিক্রম করে কবিতায় ঢুকতে পেরেছিলাম কিনা।
চিত্রগুপ্ত— মাই লর্ড, কবিতার উপরে এক শরীর থাকে, ভিতরে তার নির্যাস। কবিতা পাঠে শরীর অতিক্রম করে সেই নির্যাস পর্যন্ত পৌঁছালে তবে কবিতা পাঠের আসর সার্থক। কিন্তু মর্তে সেই আসর যখন একটা ছল মাত্র, সেখানে কীভাবে সেই নির্যাসে পৌঁছানো যায়!
চিত্রগুপ্ত— মৃত্যুর ঠিক দু'বছর আগে কবিতার জন্য বরাদ্দ সবচেয়ে বড়ো পুরস্কারটি আপনি পান। তার আগে অবশ্য বেশ কিছু পুরস্কার, সম্মাননা পেয়েছেন।
কবি— ঠিক স্যার।
চিত্রগুপ্ত— আপনি আপনার ১৪টি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে প্রথম দিকের দু-একটি বাদ দিয়ে তো প্রায় সব বইয়েই কিছু না কিছু পেয়েছেন?
কবি— ঠিক স্যার।
চিত্রগুপ্ত— আপনি এত খবর রাখতেন কী করে?





