আমি আমার রেকর্ডারটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই ৭জন তরুণীর একজন অন্যদের সতর্ক করে দিলেন। ‘এখন যখন তুমি এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করবে, তখন সাবধান থাকতে হবে', সে হেসে বলল। এই মজার সতর্কীকরণ শুনে সবাই হেসে উঠলেন। তাদের হাসি রেস্তোরাঁর চারপাশের প্লেটের ঝনঝন শব্দে মিশে গেল।
আমি মধ্য দিল্লির একটি রেস্তোরাঁয় ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড উইমেন'-এর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এটি মুম্বই-ভিত্তিক ৮জন শিল্পীর একটি দল, যাঁরা নিজেদেরকে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ মহিলা হিপ-হপ দল বলে দাবি করেন। সাক্ষাৎকারটি শুরু হতে না হতেই তাঁরা গল্পে ফিরে গেলেন। যে দেশে ‘ভালো নারী' হিসেবে পরিচিত হওয়ার পূর্বশর্ত প্রায়ই মৌনতা, সেখানে এই তরুণীরা এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন।
অক্টোবরের শুরুতে এক অলস বিকেলে যখন আমি তাঁদের সঙ্গে দেখা করি, তখন তাঁরা সবেমাত্র তাদের সাউন্ড চেক শেষ করেছেন। সেই সন্ধ্যায় তাঁরা দিল্লির ‘সুন্দর নার্সারি’, যা ষোড়শ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক উদ্যান, সেখানে পরিবেশনার কথা ছিল। কিরণ নাদার মিউজিয়াম অফ আর্টসের মিউজিক ফেস্টিভ্যাল ‘ভয়েসেজ অফ ডাইভারসিটি'-তে সংগীত পরিবেশন করা ১০টি দলের মধ্যে তাদের দলটিও ছিল। এই সংগীতানুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছিলেন কর্ণাটকী গায়ক, লেখক এবং কর্মী টি এম কৃষ্ণ।

এই মহিলারা যখন ঘাসের উপর বিশ্রাম নিতে বসেছিলেন, তখন একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন এবং তাঁদের পারস্পরিক পরিচিতি মিস করা কঠিন ছিল। তাঁদের একজন অভিযোগ করে বললেন, 'খুব গরম, বন্ধু', অন্য একজন হেসে বললেন, ‘এত অসহনীয় কেন বন্ধু!'
‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড উইমেন'-এ পাঁচজন র্যাপার রয়েছেন। এই গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অশ্বিনী হিরেমথ, যার মঞ্চ নাম 'ক্রান্তিনারী'। অন্যজন প্রীতি এন সুতার, যিনি মঞ্চে ‘#প্রীতি' হিসেবে পরিচিত। বাকি সদস্যদের মধ্যে জ্যাকলিন লুকাস, জে কুইন নামে পরিচিত, প্রতীকা ইভাঞ্জেলিন প্রভুনে, যিনি প্রতীকা নামে পরিচিত এবং শ্রুতি রাউত পরিচিত ‘এমসি মহিলা’ নামে। এই দলে আরও আছেন নৃত্যশিল্পী দীপা সিং বা ‘ফ্লা-রা’, মুগ্ধা দাভোলকর যিনি ‘বিগল এমজিকে’ নামে পরিচিত, স্কেটবোর্ডার শ্রুতি ভোঁসলে এবং গ্রাফিটি শিল্পী গৌরী গণপত দাভোলকর। তাদের সকলের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।





