২৫-টি মনসুন ফিটনেস টিপস

যে-ঋতুই হোক না কেন, ফিট থাকা অত্যন্ত জরুরি। বর্ষাকালে সবারই একটু আলসেমি হয়। বিশেষ করে বৃষ্টিতে মাঠে মর্নিংওয়াক করার বা জিমে গিয়ে ব্যায়াম করতে ইচ্ছে হয় না। অথচ অন্য সব ঋতুর মতো এই সময়ও শরীরের প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করাটা জরুরি। সে আপনি গৃহবধূই হোন বা ওয়ার্কিং উয়োমেন। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীরে পাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে নানা অসুস্থতা ঘিরে ধরে। তাই বর্ষাকালেও নিজেকে ফিট রাখা থেকে বিরত থাকবেন না। বরং জেনে নিন কীভাবে বাড়িতে থেকেও নিজেকে ফিট রাখতে পারবেন।

১)   এই সময় আর্দ্রতা বেশি থাকার ফলে, শরীরে জলের চাহিদা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ১০-১২ গেলাস জল খাওয়া জরুরি।

২)   এই মরশুমে শসা, তরমুজ, খরবুজা এবং সিট্রাস ফল খাওয়া অত্যন্ত সুফলদায়ী। এগুলি ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে।

৩)   ওয়ার্কআউট করাটা রুটিন বানিয়ে ফেললে সেটা একঘেয়ে হয়ে যায়। তাই চেঞ্জ করে করে বায়াম করুন। কোনও দিন ফ্রিহ্যান্ড, কোনওদিন যোগ ব্যায়াম, কোনও দিন অ্যারোবিক্স বা ডান্স।

৪)   প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট বরাদ্দ রাখুন ওয়ার্কআউট-এর জন্য।

৫)   বৃষ্টির জন্য জিম-এ যাওয়া সম্ভব না হলে, বাড়িতেই ওয়েট এক্সারসাইজ বা স্ট্রেচিং করুন।

৬)   ওয়ার্কআউটের আগে প্রপার ওয়ার্মআপ অত্যন্ত জরুরি, এতে পেশিতে ইঞ্জুরি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।                                                           ৭)   ওয়ার্কআউট শেষ হলে কিছুক্ষণ কুল ডাউন পজিশনে থাকুন।

৮)   দিনে যে-কোনও সময়ই ব্যায়াম করা যায়, তবে সবচেয়ে ভালো সময় দিনের শুরুতে বা বিকেলে।

৯)   ওয়ার্কআউট করার সময় চেষ্টা করুন নিশ্বাস মুখ দিয়ে নেওয়ার বদলে নাক দিয়ে নিতে। এর ফলে হয়তো আপনার গতি একটু ঢিমে হবে, কিন্তু ক্যালোরি বার্ন হবে তাড়াতাড়ি।

১০)  ওয়ার্কআউটের সময় হালকা রঙের আরামদায়ক পোশাক পরুন।

১১)  ওয়ার্কআউট করতে করতে এক্সজস্টেড হলে, অল্পক্ষণ ফ্যান-এর নীচে বসে জিরিয়ে নিন। তারপর আবার ব্যায়াম শুরু করুন।

১২)  ব্যায়ামের সময় মন ভালো রাখতে পছন্দের কোনও গান বা মিউজিক শুনতে পারেন। এর ফলে মন অযথা কোনও চিন্তায় ভারাক্রান্ত হবে না। আপনিও স্ট্রেস-ফ্রি থাকতে পারলে ব্যায়ামের সুফল পাবেন।

১৩)  ব্যায়াম একা না করে বন্ধু বা পরিবারের কারও সঙ্গে করুন। এর ফলে একঘেয়ে লাগবে না। পরস্পরকে বুষ্ট করতে পারবেন।

১৪)  সঠিক ডায়েট গ্রহণ করুন। মিষ্টি খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি বর্জন করুন। জাংক ফুড যাতে নুনের পরিমাণ বেশি, যেমন চিপ্স, আচার, চাটনি, কম খান। ফল-সবজি বেশি করে খান।

১৫)  বাইরে বেরোনোর সময় কলা, খরবুজা, আপেল প্রভৃতি ফল কেটে লাঞ্চ প্যাক বানিয়ে নিন। বোতলে লেবু জল, আমপানা, ঘোল প্রভৃতি ভরে নিন।

১৬)  সাধারণ জলের মধ্যে এক স্লাইস লেবু বা শসা বা পুদিনাপাতা দিয়ে দিন। এর ফলে জল খাওয়ার পর ফ্রেশ ফিল করবেন।

১৭)  খাবার প্রস্তুত করার সময় ধনেপাতা, পুদিনাপাতা ও মৌরি ব্যবহার করুন। এগুলি শরীর ঠান্ডা রাখে। গরমমশলা কম খাওয়াই ভালো।

১৮)  রান্না করার আগে ঈষদুষ্ণ গরম জলে নুন দিয়ে সবজি ধুয়ে নিন।

১৯)  বৃষ্টিতে ভিজে ফেরার পর অবশ্যই শ্যাম্পু করে ফ্রেস হয়ে নেবেন। পারলে একটা গোটা কাঁচা পেঁয়াজ অল্প নুন সহযোগে খেতে পারলে আর হাঁচি-সর্দিকাশির ভয় থাকবে না।

২০)  ৮-৯ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন।

২১)  বাড়িতে থাকলে ভালো মিউজিক শুনুন, বই পড়ুন।

২২)  বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই মেডিকেটেড সাবান দিয়ে হাত-পা ধুয়ে নিন। পার্সোনাল হাইজিন বজায় রাখতে জামাকাপড় একবার ফ্রেশ জলে ডিসইনফেকট্যান্ট মিশিয়ে ধুয়ে নিন।

২৩)  এই মরশুমে পায়ের যত্ন নেওয়া বিশেষ ভাবে জরুরি, কারণ বাইরের নোংরা জলকাদা পায়ে ইনফেকশন তৈরি করতে পারে। তাই নখ পরিষ্কার রাখুন। বিউটি পার্লারে যাওয়া সম্ভব না হলে, বাড়িতেই ঈষদুষ্ণ জলে দুফোঁটা শ্যাম্পু মিশিয়ে পা পরিষ্কার করুন, স্ক্রাবিং করুন।

২৪)  রেনকোট, ছাতা ব্যবহার করুন। বৃষ্টির জলে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল ভেজানো থেকে বিরত থাকুন।

২৫)  বৃষ্টিকে দোষারোপ না করে ঘরে বসে এর আনন্দ নিন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। মন ভালো রাখুন।

 

 

 

 

বাচ্চাকে শেখান ইন্টারনেট এটিকেটস

আধুনিক প্রযুক্তি এবং গেজেট-এর ব্যবহারে বাচ্চারা বড়োদের থেকে অনেকবেশি এগিয়ে। ছোটো থেকেই বাচ্চারা আধুনিক প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসছে। বাড়িতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ইত্যাদি দেখেই তারা বড়ো হচ্ছে। কিন্তু ইন্টারনেটের নেতিবাচক দিক এবং এর ব্যবহার করার সময় কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত সে বিষয়টা নিয়ে তাদের খুব একটা মাথাব্যথা নেই। অবিভাবকদের উচিত শূন্যস্থান পূরণ করা এবং ইন্টারনেট এটিকেটস সম্পর্কে তাদের অবগত করানো।

করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে যে ইন্টারনেটের এতদিন তাও বাচ্চাদের এতটা প্রয়োজন ছিল না, এখন সেটাই তাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে। এখন তাদের অ্যাকাডেমিক ক্লাস থেকে শুরু করে, সামার ক্যাম্প, হবি ক্লাস, সবই অনলাইনের মাধ্যমে চলছে। সুতরাং কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে গেছে। এমনিতে প্রযুক্তিবিদ্যায় বাচ্চারা বড়োদের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে তবুও নেট-এর ক্ষতিকারক দিক এবং নেট ব্যবহার করার সময় কী কী ব্যাপারে সাবধান হওয়া দরকার সেটা বাচ্চাদের আগে থেকে জানিয়ে রাখাটা খুব দরকার।

ক) বাচ্চারা যে-গেজেটগুলি রোজ ব্যবহার করছে তাতে পেরেন্টাল ফিচার-এর ব্যবহার অবশ্যই করা উচিত যাতে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট তাদের হাতের নাগালে না আসে।

খ) বাচ্চাকে আগে থেকে বলে রাখুন নেটে কাউকে নিজের বাড়ির ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেল অ্যাড্রেস এবং যে-কোনওরকম ব্যক্তিগত তথ্য যেন শেয়ার না করে।

গ) গেম খেলার সময় স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কোনওরকম পপ-আপ, অ্যাড অথবা কোনও সাইট-এ যেন ক্লিন না করে।

ঘ) স্ক্রিনে কোনও অপরিচিত বা অজানা লিংক-এ ক্লিক যেন না করে। কেবল পরিচিতদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখে।

ঙ) কোনও সেলফি তুলে যেন পোস্ট না করে, কারণ নেটে যে-কারওরই ছবি নিয়ে তার অপব্যবহার করাটা কোনও কঠিন কাজ নয়।

চ) বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অভিভাবক নিজেরা মোবাইল বা কম্পিউটারে সবসময় চোখ রেখে সময় কাটাচ্ছেন অথচ বাচ্চাকে বারণ করছেন ওগুলির থেকে দূরে থাকতে। এটা না করে বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটানো প্রয়োজন।

ছ) অনলাইন ক্লাস করার সময় বাচ্চাকে অ্যাটেনটিভ এবং প্রেজেন্টেবল হতে জোর দিন। কারণ ভবিষ্যতে অধিকাংশ কাজই অনলাইনে করতে হবে। সুতরাং এখন থেকেই অভ্যাস করানো দরকার।

জ) কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ব্যাটারির পাওয়ার কম হয়ে গেলে, গেজেটস চার্জে বসিয়ে যথাস্থানে তুলে রাখার অভ্যাস করান বাচ্চাকে।

ঝ) যদি ওয়াইফাই-এর বদলে মোবাইল ডাটা ব্যবহার করছেন তাহলে বাচ্চাকে শেখান কাজ হয়ে যাওয়ার পর নেট বন্ধ করে দিতে।

ঞ) সবশেষে, বাচ্চা যখনই ইন্টারনেটের ব্যবহার করবে, বড়োদের উচিত তার উপর নজর রাখা। এছাড়াও চেষ্টা করতে হবে যাতে ইন্টারনেটের অত্যধিক ব্যবহার না করে বাচ্চা কোনও সৃজনশীল কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

 

ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডরোব

নম্রতা কর্পোরেট সেক্টরের এক ব্যস্ত কর্মী। সম্প্রতি মাতৃত্বের সুন্দর অনুভূতিগুলির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে নম্রতা। তার শরীরের ভিতরের ভ্রূণ যত পরিণত হচ্ছে, আকার পাচ্ছে শিশু, ততই তার বাহ্যিক চেহারায় বদল ঘটছে। এতদিনকার মাপমতো পছন্দসই পোশাকগুলি আর কিছুতেই শরীরে আঁটতে চাইছে না, তার ক্রমশ স্ফীত হতে থাকা উদরের কারণে। মাতৃত্বের অনুভূতি একদিকে যেমন ভারি সুন্দর, অন্যদিকে এই শারীরিক পরিবর্তন যেন বড়োই অস্বস্তিকর। অথচ এ যুগের ব্যস্ত কর্মরতা মেয়েদের পক্ষে আগাগোড়া প্রেগন্যান্সি পিরিয়ড-এ ছুটি  নিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়াও সম্ভব নয়। সুতরাং চেহারার এই অবস্থা সত্ত্বেও নিজেকে প্রেজেন্টেবল করতে হবে দফতরে, এটাই এ যুগের দস্তুর।

ভরা মাসগুলোয় নম্রতার ক্ষেত্রে অবশ্য একটা ‘পোশাকি’ দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তার ড্রেসিং-এর সচেতনতার অভাবের কারণে। সেই পরিস্থিতি-টা অবশ্য নম্রতা অতিক্রম করতে পেরেছিল তারই এক অফিস-সহচরীর সাহায্যে। নম্রতার সেই অভিজ্ঞতা পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করতে গিয়ে সে বলে, ‘আমি যখন এক্সপেক্ট করছি, একবারও ভাবিনি যে এই সময়টার জন্যও আমার ওয়ার্ডরোবে কিছু বিশেষ ধরনের পোশাক দরকার। ভেবেছিলাম নিজের ক্রমবর্ধমান চেহারাটা অনায়াসেই তার মাপমতো পোশাক খুঁজে পাবে স্বামীর আলমারিতে। তাই ওর কিছু টি-শার্ট আর জিনস দিয়েই কাজ চালাতে শুরু করলাম। কিন্তু একদিন কাজের ফাঁকে আমার সহকর্মী সুমনার, হঠাৎই চোখ পড়ে আমার আনবাটনড্ জিনস-এর উপর দিয়ে বেরিয়ে থাকা পেট এবং সে-ই আমায় সচেতন করে ওই বিসদৃশ সাজের ব্যাপারে। বোঝায় যে, ‘বডি শেপ-এ যখন পরিবর্তন হচ্ছে, তখন পোশাকেও পরিবর্তন করা জরুরি।’

ঠিক এই ভাবনাটাই প্রত্যেক সচেতন প্রেগন্যান্ট নারীর থাকা উচিত, গর্ভবতী অবস্থায় পোশাক নির্বাচনের সময়। আর সত্যিই তো হালফিল সময়ের মেয়েরা, ওয়েডিং ড্রেস, পার্টি ড্রেস সবকিছুতেই যখন ফ্যাশনদুরস্ত, তখন, প্রেগনেন্সি ওায়ার্ডরোব চয়ন করতেই বা পিছপা হবে কেন! সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই তো ভাবনাও বদলায়, তাই এই সময়ের জন্যই চাই রুচিশীল আরামদায়ক পোশাক যাতে উদরের স্ফীতিও চট করে লোকসমক্ষে না আসে। কিন্তু মুশকিল হল, উদরের স্ফীতি ঢাকতে অনেকেই ওভার সাইজড পোশাক পরে বিসদৃশ সাজে পথে বেরিয়ে পড়েন। এটা বোঝা জরুরি যে, হঠাৎ করে নিজের ড্রেসিং না বদলেও, আকর্ষণীয় সাজে নিজেকে প্রেজেন্ট করা যায়।

এথনিক ওয়্যার যারা পরেন তারা ঘেরওয়ালা কামিজ, আমব্রেলা কাট কুর্তি পরতে পারেন। ওয়েস্টার্ন পরলে বেলুন টপ বা ফ্রিলড ড্রেস ভালোলাগবে। আসলে পোশাক যা-ই পরুন না কেন, কমফর্ট-এর শুরুটা হয় অন্তর্বাস দিয়ে। মাতৃত্বের সময়টাতে স্তনের আকারেও পরিবর্তন আসে। সেক্ষেত্রে অন্তর্বাসের মাপেও বদল প্রয়োজন। শুরুতে কেবল নরম স্পোর্টস ব্রা পরুন। শেষের দিনগুলিতে নরম ইলাস্টিক কাপ বেছে নিন, স্টিফ আন্ডার-ওয়্যার যুক্ত ব্রা-এর বদলে। দেখবেন যাতে কাপ আর ব্রা-এর ব্যান্ড অতিরিক্ত টাইট হয়ে শরীরে না চেপে বসে। ভালো হয়, যদি স্তনের আকারের ক্রমপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে, সাধারণ ব্রা থেকে ম্যাটারনিটি ব্রা-এ নিজেকে মানিয়ে নেন। একই সঙ্গে ম্যাটারনিটি ব্রা ও পরবর্তী সময়ের জন্য নার্সিং ব্রা হিসাবে ব্যবহার করা যাবে, এমন ব্রা-ও আজকাল পাওয়া যায়। সে ধরনের ব্রা পরলে দীর্ঘ সময় অফিসে বসে কাজ করতেও অসুবিধা হবে না। সাধারণ অবস্থায় যে-পোশাক পরেন, সেই স্টাইলেই স্টিক করে থাকুন, শুধু উদর স্ফীতির সঙ্গে সঙ্গে পোশাকে ১-২ সাইজ বাড়িয়ে নিন। কেবল সুতি অথবা কোনও স্ট্রেচেবল ফ্যাব্রিকের পোশাকই কিনুন। আরামদায়ক, ঢিলেঢালা কিন্তু ফিটিং-এও বেঢপ নয়, এমন পোশাকই আপনার প্রায়োরিটি হওয়া উচিত।

এ যুগের নারীদের অন্যতম পছন্দের পোশাক জিনস। কিন্তু এ সময়ে জিনস পরলেও তা ওয়েস্ট ব্যান্ড-যুক্ত জিনস হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এছাড়া লংড্রেস, স্কার্ট-টপ, স্ল্যাক্স, কেপ্রি– এখন সবই পরছেন সাহসিনীরা। অফিসের জন্য অবশ্য ফ্রিল্ড বা বেশি ঘেরদার স্কার্ট, প্লিটেড কামিজ, লুজ ফিটিং কুর্তি, লেগিংস-ই ভালো। মলমল, ভয়েল, সুতি– এইসব ফ্যাব্রিকই আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশের পক্ষে আদর্শ।

ফিগারের হেরফের

আপাদমস্তক স্থূল হলে – একরঙা উপরের ও নীচের পোশাক নির্বাচন করুন। এর ফলে আপনার চেহারা একটু লম্বাটে দেখাবে এবং স্থূল লাগবে না। বোট নেক ও হাই নেক দুই-ই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরতে পারেন। স্লিম ফিট কাট-এর পোশাক নির্বাচন করুন।

দেহের নীচের অংশ ভারী দেখালে – গাঢ় রঙের স্ল্যাক্স, প্যান্টস্, স্কার্ট বা লেগিংস বাছুন। কালো, ব্রাউন, নেভি ব্লু, ডার্ক গ্রে, ও ওয়াইন রং এক্ষেত্রে আদর্শ। হরাইজনটাল স্ট্রাইপ অ্যাভয়েড করুন। পুরুষালি স্ট্রাইপ খারাপ লাগবে না আর শার্ট সামান্য ওভার সাইজড্ হলেও ক্ষতি নেই।

যদি লম্বা হন – ম্যাটারনিটি নি-লেংথ পোশাক, বা প্লিটেড স্কার্টে খারাপ দেখাবে না। একরঙা পোশাকের বদলে মাল্টিকালার্ড পোশাক পরুন। দেহের উপরের অংশের পোশাকের সঙ্গে নীচের দিকের পরিধান কন্ট্রাস্ট কালারের মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ রাখুন। লং জ্যাকেট ও প্যান্ট-এও দারুণ মানাবে।

জিনস – প্রেগন্যান্ট হলেই বা কী, জিনস পরার লোভ কি সহজে সংবরণ করা যায়? সমস্যা সমাধানে রয়েছে ম্যাটারনিটি জিনস। ‘নো ব্যান্ড’ বৈশিষ্ট্যের জন্যই ম্যাটারনিটি জিনস, এ সময়ের পক্ষে জাস্ট পারফেক্ট। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি থেকে কেটি হোল্মস– স্ফীত উদরেও এই পোশাকে নজরকাড়া সৌন্দর্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এই প্যান্টের লো রাইজ আন্ডারবেলি ফিট, একটি বোতাম ও চেন-এর সাহায্যে পেটের স্থূল অংশ-কে সাপোর্ট দিয়ে রাখে এবং পোশাকটিকে আরামদায়ক করে তোলে।

যারা একটু এক্সট্রা বেলি সাপোর্ট চান, তাদের জন্য রয়েছে ইলাস্টিক ওয়েস্ট ব্যান্ড-যুক্ত বিলো দ্য বেলি জিনস। এই ওয়েস্ট ব্যান্ড, পেট-কে সুন্দর সাপোর্ট দেয়, এর সঙ্গে একটু ঝুলওয়ালা টপ পরলে, পেটের ফোলাভাব ঢেকেও ফেলা যায় সহজেই।

মিড বেলি জিনস চাইলে, একটি বিদেশি কোম্পানির তৈরি ‘মামা ব্ল্যাক ম্যাটারনিটি জিনস’-এর খোঁজ করুন। এতে এক্সট্রা সাপোর্ট-এর জন্য ইলাস্টিক ব্যান্ড রয়েছে। এটি দু’ভাবে ব্যবহার করা যায়। প্রেগন্যান্সির সময় ব্যান্ড থাকা অবস্থায় জিনস পরুন। প্রয়োজন ফুরোলে ব্যান্ড গুটিয়ে পেট অনাবৃত রেখে জিনসটি ব্যবহার করুন।

আসলে ফ্যাশনেবল্ থাকাটাই হল মূল ব্যাপার। এই টিপস শুধু কর্মরতাদের জন্যই নয়। সাধারণ গৃহবধূরাও এই অবস্থায় নানা কাজে বাইরে বেরোতে হলে, একই পরামর্শ মেনে চলুন। এই অবস্থাতেও যে-কোনও পোশাকই স্বচ্ছন্দে ক্যারি করুন। শুধু চাই একটু কনফিডেন্স।

 

১৫টি স্মার্ট কিচেন ম্যানেজমেন্ট টিপ্স

বাড়িতে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গার কথা মনে হলেই রান্নাঘরের কথাটাই আগে মনে হয়। শরীর কর্মক্ষম রাখতে হলে খাবারের প্রয়োজন। নোংরা অপরিচ্ছন্ন জায়গায় যদি রান্না করতে হয়, তাহলে তা অস্বাস্থ্যকর তো বটেই।

আজকাল মহিলা এবং পুরুষ উভয়েই নিজেদের কর্মজগৎ নিয়ে ব্যস্ত। বাড়িতে তেমনভাবে সময় কেউ দিতে পারেন না। অথচ চাহিদা কিন্তু থেকেই যায়। অফিসেও যেরকম আপনার ‘বেস্ট’-টা আপনার কাছে আশা করা হয়, সেরকম বাড়িতেও কিন্তু মুখে না বললেও আপনার কর্মকুশলতার প্রদর্শনেই সকলে খুশি থাকে।

বিশেষ করে কর্মরতা মেয়েরাই মুশকিলে পড়েন বেশি, কারণ অফিসের দায়িত্ব সামলে বাড়ির দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিতে হয়। সমস্যা হয় সেখানেই। এই পরিস্থিতিতে যদি রান্নাঘর সামলাবার কয়েকটা টিপ্স জেনে নেওয়া যায়, তাহলে মন্দ হয় না। নিঃসন্দেহে সমস্যার সমাধান হবে।

পরম্পরাগত অথবা মডিউলার কিচেন, যাই হোক না কেন, রান্নাঘর পরিষ্কার এবং ব্যবহারযোগ্য রাখতে হবে।

বিভিন্ন কৌটোতে জিনিস গুছিয়ে রাখুন। যে-কৌটোতে যে-জিনিস থাকে এবং যে-জায়গায় রাখা থাকে, প্রতিবারই সেই একই নিয়ম মেনে চলুন।

কৌটো বা বোতল, যাই ব্যবহার করুন না কেন, ব্যবহারের পরেই পরিষ্কার করে তবেই জায়গায় রাখুন। কালকের জন্যে ফেলে রাখবেন না, তাহলেই একসঙ্গে পরিষ্কার করতে হলেই করার ইচ্ছে থাকবে না।

কিচেন পরিষ্কার রাখার জন্যে কাগজের কিচেন ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারেন। কাপড়ের ন্যাপকিন ধুয়ে শুকোবার ঝামেলা থেকে মুক্তি।

রান্নাঘারের যা-যা জিনিস ফুরোল, সেগুলো একটা নোটবুকে লিখে লিস্ট তৈরি করুন তৎক্ষণাৎ। মনে রাখার ঝামেলা থাকবে না এবং দোকানে গেলে লিস্ট মিলিয়ে কিনতেও সুবিধা হবে।

ডাল, মশলা, রান্নাঘরের এমন আরও জিনিস কৌটোতে ঢেলে রাখার পরেও অনেক সময় প্যাকেটে কিছুটা বেঁচে থাকে। ঢেলে রাখার পরে আলাদা আলাদা প্যাকেটের মুখ ভালো করে বেঁধে আলাদা একটি দেরাজে গুছিয়ে তুলে রাখুন। দরকার পড়লে সহজেই বার নিতে যাতে অসুবিধা না হয়।

প্রয়োজন অনুসারে রান্নাঘরে জিনিস রাখুন। রান্নাঘরকে স্টোররুম করে তুলবেন না।

ছুটির দিনে সারা সপ্তাহের বাজার করে ফ্রিজে গুছিয়ে তুলে রাখুন। সময় থাকলে, কিছু সবজির খোসা ছাড়িয়ে একদম কেটে জিপব্যাগে ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন।

ফ্রোজেন স্ন্যাক্স আজকাল বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যায়। বাড়িতে অতিথিদের জন্যে কিছু প্যাকেট কিনে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। অল্প সময়ে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করতে পারবেন।

সকালের জলখাবার এবং লাঞ্চ, ডিনারে কী রান্না হবে তা আগের রাতেই ঠিক করে রাখুন। প্রয়োজনমতো জিনিস আছে কিনা তাও চেক করে নিন আগের রাতেই।

রোজের রান্নায় পেঁয়াজ, আদা, রসুনের ব্যবহার করার দরকার পড়েই। রোজ এগুলো বাটার ঝঞ্ঝাটের হাত থেকে রেহাই পেতে, এগুলোর পিউরি বানিয়ে রাখলে অনেক সুবিধা হবে। ২৫০ গ্রাম রসুনের সঙ্গে ১০০ গ্রাম আদা এবং ১/৪ কাপ ভিনিগার মিশিয়ে পিউরি বানিয়ে নিন। টম্যাটো পিউরির জন্যে ১ কিলো টম্যাটো, ২টি বড়ো পেঁয়াজ, ১০ কোয়া রসুন, কয়েকটি লবঙ্গ এবং এলাচ ও ১ টুকরো দারচিনি প্রেশারে দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। একসঙ্গে সব মিক্সি করে এয়ারটাইট কৌটোয় ভরে ফ্রিজে তুলে রাখুন। গ্রেভি অথবা শুকনো তরকারি বানাতে এবং তা সুস্বাদু করে তুলতে এর থেকে সুবিধা আর কিছুতে হতে পারে না। রান্নার জন্যে সময়ও খুব অল্প লাগবে।

রান্নাঘরের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে হলে রান্নাঘরকে হাইটেক বানান। আজকাল বাজারে রান্নাঘরের জন্য অনেক আধুনিক বৈদ্যুতিক উপকরণ কিনতে পাওয়া যায়। এইসব ব্যবহার করতে পারলে রান্নার সময়ও কম লাগবে এবং নানা ধরনের রান্না করে খ্যাতিও অর্জন করতে পারবেন। তবে সাবধানে যত্ন নিয়ে এগুলো ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের পর ভালো করে পরিষ্কার করে তুলে রাখতে হবে।

বাড়িতে যদি আভেন, মাইক্রোওয়েভ, ফুড প্রসেসর, রাইস কুকার, ইন্ডাক্শন, মিক্সি ইত্যাদি না থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে অল্প অল্প টাকা জমিয়ে তা কিনে নেওয়া উচিত। শাড়ি গয়না ইত্যাদির থেকেও এই জিনিসগুলি অনেক বেশি প্রয়োজনীয়।

রান্নাঘর পরিষ্কার করেই তবে অফিস যান। অফিস থেকে ফিরে পরিষ্কার রান্নাঘর আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবে।

রান্নাঘরে পোকামাকড় রোধ করার জন্য তিন মাস অন্তর পেস্ট-কন্ট্রোল করান। আজকাল হার্বাল পেস্ট কন্ট্রোলও শুরু হয়েছে।

সন্তানের উদ্বেগ কমান

চারপাশে লক্ষ্য রাখলেই আমরা বুঝতে পারব মানুষ যত বেশি আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে ততই জীবনের নানা সমস্যার গভীরে পৌঁছে যাচ্ছে। সাধারণ জীবনযাত্রায়, পড়াশোনায়, কর্মক্ষেত্রে সর্বত্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিটি ব্যক্তিকে। প্রতিনিয়ত Mental Pressure বেড়ে চলেছে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।

এই সমস্যা শুধু বড়োদের নয়, বাচ্চারাও আজ অতিরিক্ত আধুনিকতার শিকার। প্রতিযোগিতার মনোভাব শৈশব থেকেই অভিভাবকেরা এমনকী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও তাদের শিশুমনে প্রবেশ করাচ্ছে।

এর উপর রয়েছে করোনার মতো অতিমারির প্রকোপের পরিণাম। ২০২০ সাল থেকে করোনার প্রকোপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সরকার বাধ্য হওয়ার ফলে ছোটো ক্লাস থেকে উঁচু ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীই বাধ্য হয়েছে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষাবর্ষ পার করতে। এটা কিন্তু মোটেই সহজ হয়নি বাচ্চাদের জন্য। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে চোখ রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বড়োদের কাছেই দুঃসাধ্য যেখানে, সেখানে বাচ্চাদের মানসিক চাপ সৃষ্টি হওয়াটা কোনও আশ্চর্যের ব্যাপার নয়।

সবথেকে দুঃখের বিষয় ধীরে ধীরে করোনার দুটো ঢেউ পার করে যখন পরিস্থিতি প্রায় ঠিক হওয়ার মুখে তখন নতুন করে করোনার তৃতীয় ঢেউ, লকডাউনের আশঙ্কাকে আবার চাগিয়ে তুলতে উদ্যত। এই অবস্থায় অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের উপর সবসময় দৃষ্টি রাখা। আসুন জেনে নিই, কী ভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান মানসিক উদ্বেগে রয়েছে কিনা?

প্রতিযোগিতার মানসিকতা এবং আধুনিক পরিস্থিতির চাপে বাচ্চাদের উদ্বেগ সবথেকে বেশি, নিজেদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করার চাপ থেকেই সৃষ্টি হয়। তাদের মনের ভিতর ভীতি জন্মায় যেটা অনেক সময় তারা প্রকাশ করতে পারে না। এছাড়াও অভিভাবকেরা আশা করেন তাদের সন্তান লেখাপড়া ছাড়াও অন্যান্য অ্যাক্টিভিটিতেও পয়লা নম্বরে থাকবে। মা-বাবার আশানুরূপ ফলাফল যদি বাচ্চা করতে না পারে, তাদের শিশুমনকে হতাশা এবং উদ্বেগ গ্রাস করে। এছাড়াও শারীরিক অসুস্থতা এবং পরিবারে প্রিয়জনের মৃত্যুর কারণেও বাচ্চার মনে অবসাদ জায়গা করে নিতে পারে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চার আচরণ এই ক্ষেত্রে বড়োদের মতো হয় না। সাধারণত বাচ্চা মানসিক চাপে থাকলে নীচের লক্ষণগুলি দেখে অভিভাবকেরা সন্তানের মানসিক স্থিতি উপলব্ধি করতে পারবেন।

 

খাবারে অনীহা : বাচ্চা যখন মানসিক চাপের মধ্যে থাকে তার মধ্যে খাওয়াদাওয়ার ধরন বদলে যায়। যে-কোনও খাবারের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। কেউ কেউ কিছুই খেতে চায় না আবার অনেক বাচ্চা বেশি খেয়ে ফেলে। এরকম কিছু আপনার সন্তানের সঙ্গে ঘটলে অবশ্যই সমস্যার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।

মনঃসংযোগের অভাব : সন্তানের মধ্যে পড়াশোনায় অমনোযোগিতা যদি লক্ষ্য করেন, আগেই সাবধান হন। জানার চেষ্টা করুন বাচ্চার উপর পড়াশোনা বা খেলাধুলোয় ভালো ফলাফল করার জন্য অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করছেন না তো?

দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুমের মধ্যে জেগে ওঠা : পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ এবং আশঙ্কার কারণে বাচ্চার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ঘুমের মধ্যে বারবার দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারে। ঠিকমতো হোমওয়ার্ক করতে না পারা, ক্লাসে টিচারের কাছে বকা খাওয়ার ভয়, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করার আশঙ্কা বাচ্চার মনের ভিতর ভয়টা আরও বেশি চেপে বসে, যেটা বাচ্চা বাইরে প্রকাশ করতে পারে না। এর ফলে দুঃস্বপ্ন দেখার পাশাপাশি ঘুমের মধ্যে বিছানা ভিজিয়ে ফেলার সমস্যাও বাচ্চার মধ্যে প্রকট হতে শুরু করে। অভিভাবককে বুঝতে হবে সন্তানের মনের মধ্যে জমে থাকা ভয়ের সঠিক কারণটা কী।

আক্রমণাত্মক আচরণ : বাচ্চার মধ্যে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে সে অল্পতেই রিয্যাক্ট করে বসবে। পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝলেই, অনেক বাচ্চাই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। আশেপাশে খেয়াল না করেই চিৎকার চ্যাঁচামেচি জুড়ে দিতে পারে। কারও সঙ্গে কথা বলতেও ওরা অনেক সময় অস্বীকার করে। এগুলো মানসিক উদ্বেগ এবং নিরাপত্তাহীনতার লক্ষণ। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝলে বিশেষজ্ঞের মতামতের উপর নির্ভর করুন।

হাইপার অ্যাক্টিভিটি : বাচ্চা অনেক সময় Mental Pressure সহ্য করতে না পেরে জেদ বা রাগ দেখাতে থাকে। যেটা করতে বলা হয় ঠিক তার উলটোটা করে থাকে। এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ধৈর্য রেখে বাচ্চার সঙ্গে ডিল করতে হবে। বোঝাতে হবে আপনি তাকে ভালোবাসেন এবং যেটা করতে বলেছেন সেটা ওর ভালোর জন্যই বলেছেন। ভালোবাসা আর আদরের মাধ্যমে বাচ্চার মনের ভিতরের নেগেটিভ থিংকিং-কে দূর করতে হবে।

এককথায় বাচ্চার মনে কনফিডেন্স গড়ে তুলতে বাচ্চাকে সবদিক দিয়ে সাহায্য করুন, যাতে ভবিষ্যতে সে নিজেই সমস্ত চ্যালেঞ্জের Mental Pressure সম্মুখীন হয়ে সব সমস্যার সমাধান নিজেই করতে পারে।

বর্ষায় ফার্নিচারের যত্ন

প্রাকৃতিক নিয়মেই বর্ষাকালে কাঠের আসবাবপত্র ময়েশ্চার অ্যাবজর্ব করতে শুরু করে। ফলে দরজা জানালা থেকে শুরু করে কাঠের আসবাবপত্রের স্ট্রাকচারে খানিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় অর্থাৎ এই সময় কাঠ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ফাংগাসের সমস্যাও পিছু ছাড়ে না। তাই বর্ষায় ফার্নিচার সুরক্ষিত রাখতে হলে দরকার অতিরিক্ত যত্নের।

সরল উপায়ঃ

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে হলে বর্ষার প্রাক্বালে-ই কোনও বিশেষজ্ঞকে দিয়ে ঘরের ফার্নিচার দেখিয়ে নিতে পারেন এবং বারবার হওয়া সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা সর্বদাই বলে থাকেন, যে-কোনও আসবাব বানানোর আগে কাঠকে সিজন করে নেওয়া জরুরি। ওয়াটারপ্রুফ প্লাইউড দিয়েও ফার্নিচার বানাতে পারেন, তবে ফার্নিচার জোড়ার আঠাও হতে হবে যথোপযুক্ত, যাতে বর্ষাকালে কোনওরকম ভাবে প্রভাব না পড়ে আসবাবপত্রে।

বর্ষা চলাকালীন আসবাবপত্রের সুরক্ষার জন্য কিছু সহজ আর ব্যবহারিক উপায় নীচে দেওয়া হল–

  •  কোনও অবস্থাতেই কাঠের ফার্নিচার জানালার পাশে রাখবেন না
  • অবিরাম বৃষ্টির ফলে ফার্নিচারের জোড়া অংশ খুলে যেতে পারে। সেই কারণেই সংযুক্ত জায়গাটিতে সর্বদা ওয়াটারপ্রুফ অ্যাডহেসিভ-ই ব্যবহার করুন
  • সোফা বা চেয়ার পরিষ্কার করতে হলে ভিজে কাপড়ের প্রয়োগ করবেন না। বরং নরম আর শুকনো কাপড় কাজে লাগান
  • ওয়ার্ডরোব বা আলমারি যাই হোক না কেন, দেয়াল থেকে এক ইঞ্চি হলেও দূরে রাখুন। এই সময় আলমারির ভিতরে ন্যাপথলিন রাখতে ভুলবেন না। প্রয়োজনে নিমপাতাও রাখতে পারেন। এতে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমবে
  • বর্ষায় কাঠের দরজা জ্যাম হয়ে যায়। সহজে দরজা খোলা বন্ধ করতে হলে দরজায় পিতলের হাতল লাগানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে
  • যদি উডেন ফ্লোর হয়, সেক্ষেত্রে এই সময় ভালো করে পলিশ করিয়ে নেওয়া উচিত
  • বৃষ্টি থামলেই দরজা-জানালা খুলে দিন
  • আপনার বাড়ির গ্যাজেটের মধ্যে সিলিকনের প্যাকেট রাখুন। সিলিকন আর্দ্রতা টেনে নেয়

এছাড়াও আরও কয়েকটি বিষয়ের উপর খেয়াল রাখুন–

  •  বর্ষায় কলিন ব্যবহার করবেন না
  •  ফাংগাসের কারণে অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশন হওয়ার সম্ভাবনা অতিমাত্রায় থাকে, যার মধ্যে অ্যাজমা, কাশি, শ্বাস সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগ অন্যতম। জল আর ডিটারজেন্ট-এর সহায়তায় অবিলম্বে কালো ফাংগাস রগড়ে তুলে ফেলুন
  • আর্দ্রতার কারণে এই সময়ে ফার্নিচারে উইপোকা হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। এই কারণেই অ্যান্টি টার্মাইট সলুউশন প্রয়োগ করুন বা পেস্ট কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞকে খবর দিন।

বর্ষায় কার-ড্রাইভিং-এর ট্রিকস

বর্ষাকাল এসে গেছে। বর্ষার বারিধারা গ্রীষ্মের তপ্ত ধরনির বুকে শীতলতার প্রলেপ লাগায় ঠিকই, সবুজ গাছগাছালি, প্রাণীজগত্, এমনকী মানুষও শীতল প্রলেপে নতুন করে সবীজতা লাভ করে। কিন্তু এত সুবিধা সত্ত্বেও এই মরশুমে রাস্তায় জলকাদা ভরে যাওয়া থেকে জায়গায় জায়গায় গর্ত হয়ে সেগুলো জলে ভরে যায়। এই সমস্যাগুলোর কারণে গাড়িও অনেকসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বর্ষার সময় গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরোলে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত দরকার। এই সাবধানতাগুলো মেনে চললে গাড়ির সেলফ লাইফ যেমন বাড়বে তেমনি রাস্তার মাঝেও গাড়ি নিয়ে আপনাকে অসুবিধায় পড়তে হবে না।

১) বর্ষার আগে গাড়ির সার্ভিসিং করান। ইঞ্জিন অয়েল, এয়ার ও ফুয়েল ফিলটার বদলাবার সঙ্গে সঙ্গে সাসপেনশন জয়েন্ট, সাইলেন্সার পাইপও অবশ্যই চেক করিয়ে নিন। কারণ বর্ষায় এই পার্টগুলোই বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২) বর্ষায় রাস্তায় জায়গায় জায়গায় কাদামাটি জমা হয়ে থাকে। ফলে টায়ার স্কিড (পিছলে যাওয়া) করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই সমস্যা রোধ করতে ৪-৫ বছরের পুরোনো ঘষে যাওয়া টায়ার বদলে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। স্টেপনিও ভালো আছে কিনা দেখে সবসময় সঙ্গে রাখুন, যাতে দরকার পড়লে তৎক্ষণাৎ ব্যবহার করতে পারেন।

৩) গাড়ির সমস্ত লাইট চেক করিয়ে নিন। লাইট-এর কাচে ক্র‌্যাক থাকলে বদলে নিন। নয়তো জল ঢুকে বাল্ব শর্ট হয়ে যেতে পারে।

৩) বর্ষার মধ্যে নতুন রাস্তা বেছে না নিয়ে পুরোনো চেনা রাস্তাই ব্যবহার করা ভালো যাতে অ্যাক্সিডেন্টের চান্স কমানো যায়।

৫) বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালাবার সময় ডিপার অন করে চলুন যাতে সামনের গাড়ির ড্রাইভার আপনার স্থিতি বুঝতে পারে।

৬) গাড়ির ভিতর পরিষ্কার করে ফুট কভার-এ কাগজ বিছিয়ে নিন, যাতে কাগজ নোংরা হয়ে গেলে দু-তিন দিনে বদলে দিতে পারেন। এর ফলে গাড়ির ভিতর এবং ফুট কভার কোনওটাই নোংরা হবে না।

৭) বৃষ্টিতে গাড়ি ভিজে গেলে সেটা কভার দিয়ে ঢেকে না রেখে খুলে রাখাই ভালো। ভেজা অবস্থায় ঢেকে রাখলে গাড়িত জং ধরতে পারে।

৮) গাড়ি চালাবার সময় সঙ্গে বাচ্চা থাকলে, নিজের সঙ্গে খাওয়ার জল, বিস্কুট, চিপস ইত্যাদি রাখুন যাতে রাস্তার মধ্যে নামতে না হয় গাড়ি থেকে।

৯) বর্ষার মরশুমে গাড়ি চালাবার সময় একটা ছাতা এবং একটা ছোটো তোয়ালে সবসময় সঙ্গে রাখুন।

১০) আপনার অফিস এবং কার পার্কিং করার জায়গার মধ্যে যদি দূরত্ব বেশি থাকে তাহলে সঙ্গে রেনকোট রাখুন যাতে আপনাকে একটুও না বৃষ্টিতে ভিজতে হয়।

১১) যদি আপনাকে বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হয় এবং পৌঁছোতে রাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সঙ্গে টর্চ অবশ্যই রাখবেন কারণ যে-কোনও মুহূর্তে টর্চের প্রযোজন আপনার হতেই পারে।

১২) বৃষ্টির বেগ যদি খুব বেশি থাকে তাহলে সুবিধামতো জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখুন কারণ প্রচণ্ড বৃষ্টিতে সামনে পিছনে কিছু দেখা না গেলে অন্য গাড়ির স্থিতি বুঝতে পারা বা আন্দাজ করা মুশকিল হতে পারে।

গাড়ি জলে আটকে পড়লে

বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমে থাকলে অনেক সময় গাড়িতে জল ঢুকে গাড়ি আটকে যেতে পারে। এই অবস্থায় জোর করে গাড়ি বার করার চেষ্টা না করে এই প্রাসঙ্গিক কোম্পানিকে ফোন করুন। তারাই গাড়ি ওখান থেকে বার করে আপনাকে সুরক্ষিত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। যদি কোনও অজানা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার প্রযোজন হয়, জিপিএস-এর সাহায্যে সুরক্ষিত পৌঁছোতে পারবেন।

 

সময়োপযোগী আরামদায়ক পোশাক

বর্ষাকাল শুরু হলেও, মাঝেমধ্যে তাপপ্রবাহের কবলেও পড়তে হচ্ছে। কিন্তু তাতে কী! এরজন্য তো আর জীবন থেমে থাকে না, সে তার নিয়মেই বয়ে চলে। রোজকার বাইরে বেরোনো তো আর থেমে নেই। তাই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, সব বয়সের মহিলারাই ফ্যাশনেবল অথচ আরামদায়ক পোশাকের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, তাঁত, কোটা, মলমল, ভয়েল, লিনেন। নরম কাপড় আর ডিজাইনারদের অভিনব ডিজাইন– দুইয়ের মিশেলেই ভারতীয় আর ওয়েস্টার্ন পোশাকের ফিউশন সত্যিই অনবদ্য।

টিনএজার-রা তাদের পছন্দের তালিকায় রাখছেন ব্লক প্রিন্ট নয়তো বিভিন্ন রঙের ভ্যারিয়েশনে তৈরি ফুলেল অথবা জ্যামিতিক নকশা করা মলমল কাপড়ের কুর্তি কিংবা টপস্। স্টাইলিশ পোশাক বানাতে শুধুমাত্র টাচ-আপ হিসাবে দেওয়া হচ্ছে সরু পাইপিং। সঙ্গে সামনে কাঠের বড়ো বোতাম। অনেকেই আবার রংচঙে পাতিয়ালা সেটের সঙ্গে একরঙা কুর্তিও বেছে নিচ্ছেন। পাতিয়ালার সঙ্গে শর্ট, লং দুইরকমের কুর্তিই চলতে পারে, তবে শর্ট কুর্তিই বেশি ভালো লাগে। অনেকে ওয়ার্ডরোবে আনারকলি কুর্তিও রাখছেন। এছাড়া জিন্স, লেগিংস, গেঞ্জি কাপড়ের টপস্, সালোয়ার তো চলছেই। জিন্সের সঙ্গে পিনটাক টপস্ বা টিউনিক আজকাল ভীষণভাবে ইন। এই ঋতুতে ফ্যাশনেবল হয়ে উঠতে খান দুয়েক ক্রাশড স্কার্টও কিনে নিতে পারেন। এতে লুকটাও বদলাবে।

যেসব মহিলারা জিন্স এড়িয়ে চলেন বা সেই অর্থে পরতে ভালোবাসেন না, তাদের জন্য তো বাংলার ঐতিহ্যশালী তাঁত রয়েছে। হাইনেক কাটের থ্রি-কোয়ার্টার অথবা স্লিভলেস কলমকারী ব্লাউজের সঙ্গে মানানসই একখানা ফুলিয়ার তাঁত আপনাকে নজরকাড়া করে তুলতে বাধ্য। সঙ্গে যদি থাকে হালকা ডিজাইনের কিছু কস্টিউম জুয়েলারি, তাহলে একেবারে সোনায় সোহাগা। এছাড়া এই মরশুমের জন্য ঢাকাই, পাটোলা, কোটা, শিফন, কেরল কটন একেবারে আদর্শ। শুধু মহিলারাই কেন বর্তমানে টিনএজাররাও এই শাড়িগুলি বেশ পছন্দ করছেন। কলেজ ফেস্ট থেকে অফিস পার্টিতেও এসব পরতে দেখা যায় তাদের। এবারের ফ্যাশনে নিওন কালার অর্থাৎ ডিপ-নীল, ইয়েলো, পিংক, ভীষণভাবে ইন।

সালোয়ার স্যুট, শাড়ি কিংবা কোনও অনুষ্ঠানের জন্য স্পেশাল ড্রেস কেনার সময় ফ্যাব্রিক দেখে তবেই কিনুন। আজকাল কাপড়ে সিন্থেটিক মেটেরিয়াল অত্যধিক পরিমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরনের পোশাক এই ঋতুতে বেমানান তো বটে সেই সঙ্গে কষ্টদায়কও। বরং ঢাকাই, কিংবা তাঁতের মধ্যে লখনউয়ি, কাশ্মিরি, হায়দ্রাবাদি কাজ করা শাড়িতে আপনি হয়ে উঠতে পারেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আপনার পোশাকই আপনাকে করে তুলতে পারে সকলের থেকে আলাদা। তাই পোশাক বাছুন ভেবেচিন্তে।

মনে রাখবেন

  •  এই ঋতুতে সুতির পোশাকই পরুন
  • জর্জেট, ব্যাঙ্গলোর সিল্ক, কাঞ্জিভরম জাতীয় হেভি শাড়ির কথা মনেও আনবেন না
  • জবরজং নকশাদার বা হেভি এমব্রয়ডারির পোশাক একেবারেই পরবেন না
  • দিনের বেলা কালো রং এড়িয়ে চলাই ভালো। চাইলে রাতে পরতে পারেন
  • টাইট পোশাক পরবেন না। বরং ঢিলেঢালা পোশাকই পরুন।

ব্যাগ বটুয়ায় ফ্যাশন স্টেটমেন্ট

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পার্স এখন একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অ্যাক্সেসরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরে বেরোবার জন্যে যা-যা কিছু প্রয়োজন যেমন টাকা পয়সা, মেক-আপের প্রোডাক্টস, চাবি, চশমা, সেল ফোন ইত্যাদি আরও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস আমরা পার্সে ভরে নিয়ে বেরোতে ভুলি না। ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতেও পার্সের অবদান অনেকখানি। নানা ধরনের পোশাক যেমন আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তেমনি পার্স-ও ব্যক্তিত্বের গভীরতাকে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

বহু প্রাচীনকাল থেকেই হাতে ব্যাগ নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। পার্স নামটি ইংরেজি শব্দ। আগে বটুয়া, ঝুলি বহু নামেই ব্যাগের ব্যবহার হতো। পুরুষেরা জামা অথবা ফতুয়ায় লুকোনো পকেটে, বটুয়ায় ভরে মূল্যবান সামগ্রী রাখত। মেয়েরা অনেকে টাকা পয়সা বটুয়ায় ভরে কোমরে বেঁধে রাখত।

কাপড়-চোপড় সঙ্গে নেওয়ার জন্যে আগে কাপড়ের মধ্যে একসঙ্গে সব বেঁধে নেওয়া হতো। মুখটাতে গাঁট বাঁধা হতো বলে গাঁটরি বলত লোকে। এটা পিঠে ঝুলিয়ে বা কাঁধে করে নিয়ে বেরিয়ে পড়া যেত। পরে বড়ো থলিতে করে হাতে ঝুলিয়ে, জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া শুরু হল। দেখতে যাতে খারাপ না-লাগে তার জন্যে নানা কারুকার্যে সজ্জিত করে ব্যাগ বা থলিকে সুন্দর দেখাবার চেষ্টা করা হতো।

এরপর ধীরে ধীরে পাশ্চাত্য প্রভাবে সাজের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাক্সেসরিস-এও পরিবর্তন আসতে থাকল। হাতে জায়গা করে নিল নানা বাহারের পার্স। আর এখন তো বাজার ছেয়ে গেছে নানা ধরনের ডিজাইনার পার্সে। পোশাকের সঙ্গে মিলমিশ খাইয়ে পার্স নেওয়ার প্রচলন এখন। এছাড়াও কোথায় যাওয়ার জন্যে পার্স ব্যবহার হচ্ছে, সেটা মাথায় রেখেও নানা সাইজের, নানা মেটেরিয়ালের তৈরি পার্স এখন পাওয়া যায় মার্কেটে। লেডিজ শপিং ব্যাগ, বিডেড পার্স, ডিজাইনার ক্লাচ ব্যাগ, ফ্যান্সি ক্লাচ ব্যাগ, স্ট্র্যাপড ক্লাচ ব্যাগ এবং ওয়েডিং ক্লাচ ব্যাগ নানা রঙের এবং স্টাইলের পাওয়া যায়।

কাঁধ থেকে সাইডে ঝোলানো স্লিংগ ব্যাগও এখন অল্প বয়সি মেয়েরা এবং মহিলারা উভয়েই পছন্দ করছেন ব্যবহার করতে। এগুলি দেখতেও যেমন আধুনিক তেমনি ব্যবহার করাও খুব সুবিধা। ব্যাগগুলিতে জায়গাও থাকে যথেষ্ট। বর্তমানে আধুনিকাদের পছন্দের ফ্যাশনে রয়েছে বক্স ক্লাচার্স, নিয়ন ক্লাচার্স এবং বিগ সাইজ ক্লাচার্স।

বক্স ক্লাচার্স – সাধারণত চ্যাপটা এবং বক্সের আকারে হয় এই ক্লাচার্সগুলি। লেদার এবং অনেক ধরনের মেটেরিয়ালেই বক্স ক্লাচার্স পাওয়া যায়। এগুলিতে ক্রেডিট কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, টাকা ক্যারি করা খুব সুবিধে।

নিয়ন ক্লাচার্স – পিংক, ইয়েলো, অরেঞ্জ ইত্যাদি ব্রাইট এবংঞ্জভাইব্র্যান্ট কালারে ব্যাগগুলি কিনতে পওয়া যায়, যা রং অনুযায়ী পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে নিতে অল্পবয়সি মেয়েরা পছন্দ করে। লেদার এবং কাপড়ের তৈরি দুই ধরনেরই পাওয়া যায়।

বিগ সাইজ ক্লাচার্স – এই ব্যাগগুলি আকারে একটু বড়ো হয়। যার মধ্যে মেক-আপের জিনিস, সারাদিনের প্রয়োজীয় কাগজপত্র, জিনিস, বই-খাতা খুব সহজে জায়গা করে নেয়। অফিসে যাঁরা কাজ করেন এবং কলেজ ছাত্রীরা এই ব্যাগগুলি নিতে পছন্দ করেন।

আজকাল যাঁরা ব্যাগ অথবা ক্লাচ ব্যাগ ডিজাইন করছেন তাঁরা বিশেষ করে অকেশন, পার্টি এবং ওয়েডিং মাথায় রেখে ব্যাগের স্টাইলাইজিং-এর কাজ করছেন। অনেক ডিজাইনার-রা আবার পুরোনো ফ্যাশনকেই মর্ডানাইজ করে তুলতে বেশি আগ্রহী। এদের মধ্যে প্রখ্যাত পার্স ডিজাইনার নিনাদ রাণে-র নাম করতেই হয়।

রাণে-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, পুরোনো ফ্যাশনকেই মডার্ন করার কথা কেন ভাবলেন তিনি? তাঁর উত্তর ছিল, একজন গ্রাহকের চাহিদা মতো লেদারের জায়গায় শাড়ির বর্ডার দিয়ে তিনি পার্স বানিয়ে দিয়েছিলেন। গ্রাহকের পছন্দ তো হয়েইছিল, নিনাদেরও জিনিসটা এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে তিনি ওই ধরনের পার্স বানানো শুরু করেন। তবে সবথেকে গ্রাহকরা যেটি বেশি পছন্দ করেন সেগুলি হল ওয়ারলি প্রিন্ট পার্স, ফ্যান্সি পার্স, পৈঠানি বর্ডার (ব্রোকেড) পার্স, বেনারস ফ্যাব্রিক পার্স এবং খণ্ড ফ্যাব্রিক পার্স।

ওয়ারলি প্রিন্ট পার্সঃ  প্রাচীনকালে পাথরের গায়ে খোদাই করা যে-ধরনের আঁকা পাওয়া গেছে তার উপরেই বেস করে এই প্রিন্ট করা হয়। এই ফেব্রিক দিয়ে অফিস ব্যাগ, ক্লাচাস, স্যাক এবং স্মল প্যাকেট পার্স তৈরি করা হয়।

ফ্যান্সি পার্সঃ  এর মধ্যে আছে ক্লাচার্স, শোল্ডার অফিস ব্যাগ, ট্র্যাভলিং এবং স্লিংগ ব্যাগ।

পৈঠানি বর্ডার ক্লাচার্সঃ  পৈঠানি টিসু ফ্যাব্রিক এবং জামেওয়ার ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি এই পার্সগুলি অনুষ্ঠান এবং বিয়েতে বেশি ব্যবহার হয়। শাড়ি বা ড্রেসের রঙের সঙ্গে ম্যাচ করে এই ব্যাগ ব্যবহৃৎ হয়।

বেনারস ফেব্রিক পার্সঃ  বেনারসি কাপড় দিয়ে তৈরি এই ফ্যান্সি পার্সগুলি সাধারণত অনুষ্ঠান এবং বিয়ের পারপাসেই ব্যবহার করা হয়।

খন্ড ফ্যাব্রিক পার্সঃ  ছোটো ছোটো নানারকমের কাপড় জুড়ে জুড়ে আকর্ষণীয় এই ব্যাগগুলি তৈরি করা হয়। কন্ট্রাস্ট অথবা ম্যাচিং পোশাকের সঙ্গে এই ধরনের ব্যাগ বেশি ব্যবহার হয়।

আপনার সাজগোজ ও ব্যক্তিত্বের অনেকটাই নির্ভর করে আপনার পোশাক ও অ্যাক্সেসরির উপর। তাই পার্স বাছাইয়েও আপনার রুচির পরিচয় দিন এবং তৈরি করুন আপনার ফ্যাশন স্টেটাস।

প্রযুক্তি ও এই প্রজন্ম

আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম বড়ো অবদান হল কম্পিউটার এবং এই যন্ত্রটির মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যবহার। সারা বিশ্বের মানুষ আজ এর ব্যবহারে অভ্যস্ত। পড়াশোনায়, কর্মক্ষেত্রে, ঘরে-বাইরে সব জায়গায় কম্পিউটারের প্রয়োজন। অজানা কোনও কিছু জানতে হলে, প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্বের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অল্প সময়ের মধ্যে পাঠাতে হলে, জায়গার দূরত্ব ঘুচিয়ে দুটো মানুষ আবার অনেক সময় একাধিক মানুষ একসঙ্গে কথা বলতে চাইলে ইন্টারনেটের প্রয়োজন মাথা তুলে দাঁড়ায়। এককথায় আধুনিক জীবনযাত্রা নেট ছাড়া অসম্ভব।

প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়িয়েছে ঠিকই কিন্তু এর অপব্যবহার নতুন প্রজন্মকে পৌঁছে দিতে পারে অপরাধ জগতের দোরগোড়ায়। সুতরাং তাদের মধ্যে সচেতনতা নিয়ে আসার দরকার যেমন, তেমনই প্রয়োজন রয়েছে বাড়িতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার।

সুগত কলেজের থার্ড ইয়ারে পড়ে। সুগতর মা-বাবা দু’জনেই চাকুরিরত সুতরাং দীর্ঘ সময় তারা বাড়িতে থাকেন না। ছেলের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ কম হলেও তারা ছেলের সার্বিক প্রোগ্রেসের খবরাখবর নিয়মিত রাখেন। হঠাৎ করেই তারা লক্ষ্য করেন অনেক রাত পর্যন্ত কম্পিউটারে সুগত বসে থাকে। তারা জিজ্ঞাসা করলে বলে পড়াশোনা করার জন্যে প্রয়োজনে তাকে রাত পর্যন্ত কম্পিউটারে বসতে হয়। এটা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু কোনও কারণে সুগতর বাবার মনে সন্দেহ দানা বাঁধে, ফলে ছেলের অনুপস্থিতিতে কম্পিউটার খুললে বুঝে ফেলেন ছেলে অত রাত পর্যন্ত বসে কী করে? পর্নোগ্রাফি সাইটগুলির প্রতি তার আসক্তি পরিষ্কার হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে অবশেষে সুগতর মা-বাবা কাউন্সেলিং-এর রাস্তা বেছে নেন।

এখন ইন্টারনেট খুললেই অজস্র সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের ভিড়, মেসেঞ্জার, চ্যাট্ রুমের ছড়াছড়ি। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা এগুলির ব্যবহারে এতটাই অভ্যস্ত যে তারা সেফটি ব্যাপারটায় তেমন আমলই দেয় না। সুতরাং অভিভাবক হিসেবে মা-বাবার দায়িত্ব পুরো প্রক্রিয়াটার সঙ্গে নিজে পরিচিত হয়ে, নেট ব্যবহারের ভালোমন্দ দিকগুলি নিজে বিশ্লেষণ করে তবেই সন্তানকে নেট সার্ফিং করতে দেওয়া। ইন্টারনেট ব্যবহারের কিছু সেফটি বিষয়ক নিয়মাবলী রয়েছে যেগুলি অভিভাবকেরা চাইলে সন্তানের নিষিদ্ধ সাইট ভিজিট করার সম্ভাবনাকে রোধ করতে পারেন।

এই যুগে যেখানে সাইবার অপরাধের এতটা রমরমা এবং অনলাইনে সেক্সুয়ালি এক্সপ্লিসিট তথ্যের এবং ভিডিও-র ছড়াছড়ি সেখানে অভিভাবকদের নিজেদের সন্তানদের কম্পিউটারে পেরেন্টাল কন্ট্রোল স্থাপন করা উচিত।

‘Windows 7’-এ চারটি সহজ স্টেপে পেরেন্টাল কন্ট্রোল সেট করা যায়। এর জন্যে অভিভাবকদের নিজস্ব অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ইউজার অ্যাকাউন্ট থাকা প্রয়োজন।

১)  পেরেন্টাল কন্ট্রোল সেট করতে প্রথমে স্টার্ট বাটন ক্লিক্ করুন। কন্ট্রোল প্যানেল ক্লিক্ করে আন্ডার ইউসার অ্যাকাউন্ট এবং ফ্যামিলি সেফ্টি-তে আসুন। এবার যে-কোনও ইউজার-এর জন্য ‘সেট-আপ-পেরেন্টাল কন্ট্রোল’ ক্লিক্ করুন। অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ড টাইপ করতে হবে অথবা কনফারমেশন প্রোভাইড করতে হবে।

২)  যে স্টান্ডার্ড ইউজার অ্যাকাউন্টের জন্য আপনি পেরেন্টাল কন্ট্রোল সেট করতে চান সেই অ্যাকাউন্টে ক্লিক্ করুন। স্টান্ডার্ড ইউজার অ্যাকাউন্ট যদি না থেকে থাকে তাহলে ‘ক্রিয়েট আ নিউ ইউজার অ্যাকাউন্ট’ ক্লিক করুন নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য।

৩)  পেরেন্টাল কন্ট্রোলের মধ্যে ক্লিক করুন ‘এনফোর্স কারেন্ট সেটিংস’।

৪)  আপনার বাচ্চার স্ট্যান্ডার্ড ইউজার অ্যাকাউন্টের জন্যে পেরেন্টাল কন্ট্রোল খোলার পরে আপনি নিজস্ব সেটিং অ্যাড্জাস্ট করতে পারেন যেটা কিনা আপনি নিজের কন্ট্রোলে রাখতে চান।

নিয়ন্ত্রণ এখন আপনার হাতে

 আপনি নিজের সন্তানকে কীভাবে কম্পিউটারের ব্যবহারে অভ্যস্ত করাবেন সেটা পেরেন্টাল কন্ট্রোলের মাধ্যমে আপনি পুরোপুরি পরিচালনা করতে পারবেন। যেমন কতক্ষণ আপনার সন্তান কম্পিউটার ব্যবহার করবে, কী কী গেমস্ খেলতে পারবে, কী কী প্রোগ্রাম রান করাতে পারবে ইত্যাদির ওপর আপনি, আপনার ইচ্ছা প্রয়োগ করতে পারবেন। যখন কোনও গেম অথবা প্রোগ্রাম, পেরেন্টাল কন্ট্রোল দিয়ে ব্লক করা থাকবে, তখন এগুলো চালাতে গেলে একটা নোটিফিকেশন ডিসপ্লে বোর্ডে দেখাবে যে এগুলি ব্লক্ করা রয়েছে। আপনার সন্তান চাইলে নোটিফিকেশনে দেওয়া একটি লিংকে ক্লিক্ করে আপনার অনুমতি চাইতে পারে গেমটি খেলার জন্যে অথবা কোনও প্রোগ্রাম চালাবার ইচ্ছা হলে। আপনি চাইলে আপনার অ্যাকাউন্ট ইনফর্মেশনে ঢুকে সন্তানকে অনুমতি দিতে পারেন গেম অথবা প্রোগ্রামটি চালাবার।

তবে এটাই যথেষ্ট নয়। আপনার সন্তানের প্রতি দৃষ্টি রাখাটাও একান্ত জরুরি। আপনার ছেলে অথবা মেয়ে কতটা কম্পিউটারের ব্যবহার জানে, কীসের জন্যে কম্পিউটার ব্যবহার করে, নানা ধরনের অনলাইন কার্যকলাপের সঙ্গে তারা কতটা পরিচিত এবং স্বপ্নের এই জগৎ কতটা তাদের উপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম– এরকমই খুঁটিনাটি বিষয়গুলি সম্পর্কে আপনাকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। এরজন্যে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করা একান্ত বাঞ্ছনীয়। এছাড়াও কম্পিউটার বাচ্চাদের ঘরে না রেখে নিজেদের লিভিং রুমে রাখাই শ্রেয়। এর ফলে বাচ্চারা কতটা সময় বসে কম্পিউটার চালাচ্ছে সেটা নজরে থাকবে এবং অনলাইনে কী করছে সেটাও চোখের সামনে থাকবে। যদি ওয়েব ক্যাম থাকে তাহলে খেয়াল রাখতে হবে যাতে ক্যামেরার মাধ্যমে অপরিচিত কারও সাথে ভিডিও চ্যাটে ছেলেমেয়ে মত্ত না হয়ে পড়ে। বাচ্চাদের পরামর্শ দিন যাতে ইন্টারনেটে বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর কারও সাথে শেয়ার না করে এবং বন্ধুদের সঙ্গেও যেন পাসওয়ার্ড শেয়ার না করে।

অনলাইনে বিভিন্ন মেসেঞ্জারস এবং চ্যাট্ সাইটে যে চ্যাট্ রুম-স রয়েছে সেখানেই বেশিরভাগ পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট চালাচালি হয়। সাইবার সেক্স (সেক্স-টেক্সট-চ্যাট্ অথবা ভিডিও) নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের প্রলুব্ধ করে বেশি কারণ তাদের মধ্যেই অজানা বিশ্ব নিয়ে একটা প্রচণ্ড জিজ্ঞাসু মন রয়েছে। আর স্বাভাবিক ভাবে যা-কিছুর উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেটাই জানার ইচ্ছে প্রবল– এটাই মানুষের ধর্ম। অনলাইনের এই জগৎ সদ্য প্রস্ফুটিত মনকে প্রলোভনের কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে সেটা ভাবতেও মন উদ্বেল হয়। তাই যতটা সম্ভব চ্যাট্ সাইটগুলির গাঢ়, পঙ্কিল, অন্ধকারময় রাস্তা থেকে সন্তানকে দূরে রাখুন।

যদি তারা চ্যাট্ রুম একান্তই এক্সপ্লোর করতে চায় তাহলে, ছেলে কি মেয়ে বোঝা যাবে না এমন নাম ‘ইউজারনেম’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। এর ফলে কিছুটা হলেও আনওয়ানটেড পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের সম্মুখীন কম হতে হবে আপনার সন্তানকে। যদিও এই চ্যাট্ রুমগুলি টিনএজারস-এর কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে কিন্তু এটি যে ব্যবহার করছে, সে যে প্রাপ্তবয়স্ক নয় এমন কোনও গ্যারান্টি অনলাইনে দেওয়া যায় না। মিথ্যা পরিচয়পত্র দিয়ে সে অনায়াসেই এই সাইটগুলি ব্যবহার করতেই পারে।

মনে রাখুন

 ভাইরাস এবং হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচতে, অপরিচিত কারও পাঠানো ই-মেল অ্যাটাচমেন্ট অথবা লিংক খোলা একেবারেই উচিত নয়। লিংক খোলার আগে দেখে নেওয়া উচিত ডোমেন নেম (প্রেরকের নাম), সিওএম (কমার্শিয়াল), জিওভি (গভর্নমেন্ট), ওআরজি (অর্গানাইজেশন), এনইটি (নেটওয়ার্ক), ইডিইউ (এডুকেশনাল অর্গানাইজেশন) অথবা দু’অক্ষরের কানট্রি কোড (কানট্রি অফ ওরিজিন)। এগুলি দেখে নিলেই বোঝা যাবে সাইটটির বিশেষ উদ্দেশ্যটা কী? শিক্ষা (এডুকেশন) না বিক্রি (সেলস্)।

সন্তানকে বোঝান, ইন্টারনেট একটি শক্তিশালী টুল। সুতরাং বুদ্ধি, বিবেচনা দিয়ে এটির ব্যবহার করা উচিত এবং এর সঙ্গে নিজের চিন্তা শক্তিকেও সংযত করা একান্ত কাম্য।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব