দাম্পত্য সম্পর্কে ওঠা পড়ার দোলাচল চলতেই থাকে৷ মন কষাকষি, অশান্তি, সবই স্বাভাবিক ঘটনা৷ কিন্তু খেয়াল রাখা উচিত সেটা যেন মাত্রাছাড়া না হয়ে যায়৷ এতটা তিক্ত না হয়ে ওঠে যাতে বিচ্ছেদ হয় অবশ্যম্ভাবী৷

Post marriage problems -এ, অনেকের ক্ষেত্রে হয়তো শেষ পর্যন্ত এই বিচ্ছেদের পর্যায়টাও রোখা যায় না৷ কিন্তু তারপরও কষ্ট কমতেই চায় না৷ পুরোনোকে নিয়ে মনের যন্থণা যদি চলতেই থাকে, তাহলে সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে৷ সম্পর্কটা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবেন, নাকি আরও একবার চেষ্টা করে দেখবেন৷

বিচ্ছেদ চলাকালীন একটা সময় আসে যখন দুটি মানুষ, যে-যার নিজের ভুল বুঝতে পারে ও ভুল স্বীকার করে নিতে চায়। একবার যদি উভয়েই উভয়ের ভুল বুঝতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা উঠে পড়ে লাগে বিচ্ছিন্ন সম্পর্ককে নতুন মিলনের রূপ দিতে। যেসব ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, সেসব ক্ষেত্রে উভয়েই ভাবে তাড়াহুড়ো করে বিচ্ছেদ হয়ে গেল। এমনটা না করে দুজনে দুজনের ভুল স্বীকার করে পুনর্মিলনের আয়োজন করলেই পারত। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না। নতুন সম্পর্ক গড়তে গিয়ে যখন দেখে দ্বিতীয়পক্ষের দোষ সেক্ষেত্রেও বিদ্যমান, তখন তাদের মনে হয় আগের জুটির মেয়েটি বা ছেলেটিই ভালো ছিল। একটু ধৈর্য ধরে মানিয়ে চললেই হতো।

দ্বিতীয় মিলনের সময়

Relationship complications কাটিয়ে, দ্বিতীয়বার মিলনের পর জীবন অনেক সুন্দর ঢঙে চলে। এমনও হয়েছে ৫-৬ বছর বিচ্ছেদের পর কোনও একটি জুটির হয়তো ইচ্ছে হয়েছে দ্বিতীয়বার মিলনের। স্বভাবতই তারা আবার বিয়ে করে বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক জোড়া লাগাতে ব্রতী হয়েছেন।

আনন্দ ফিরে আসে

বিচ্ছেদ হওয়ার কারণ অনেকসময় এই হয় যে, যখন একজন আর একজনকে বিয়ে করে, তখন সঙ্গের মানুষটির গুণাবলি, নিজের জীবনে তার প্রয়োজনীয়তা বারে বারে মনে হয়। ফলে বিচ্ছেদের পর মিলনের সময় সেই হারানো আনন্দ ফিরে আসে। উভয়ের জীবনই হয়ে ওঠে আনন্দময়। এমন বৈশিষ্ট্য উভয়ের সম্পর্ককে নিবিড় নিটোল করে তোলে। জনপ্রিয় হিন্দি ছবি চাচি ৪২০-এর গল্প মনে আছে তো? নায়ক কামাল হাসান, নায়িকা টাব্বুর ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল। কামাল হাসান একদিন সেই ডিভোর্সকেই বলেছিলেন ‘ড্রাইওয়াশ হয়ে গেছে’। যাইহোক, বিচ্ছেদের পর টাব্বু থাকতেন ব্যবসায়ী বাবার কাছে, পিত্রালয়ে। কামাল হাসান কিন্তু সেই বাড়িতে এসেই বাড়ির সবার মন জয় করেন। অন্তিমলগ্নে চূড়ান্ত নাটকীয় মুহূর্তে টাব্বুর কাছে নিজের সত্য পরিচয় জ্ঞাপন করেন। দুজনে আবার ফিরে পান যৌথজীবন।

হ্যাঁ, ভারতীয় সমাজের বৈশিষ্ট্যই এমন যে বিচ্ছেদ তো বটেই, এমনকী ডিভার্স হয়ে গেলেও তা আবার জোড়া লাগে। সেইজন্যই প্রয়োজন নিজেকে ফ্লেক্সিবল রাখা।নমনীয়তাই সম্পর্ককে সহজ করে৷

Tags:
COMMENT