আমেরিকা থেকে অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেওয়ার কারণ হল, আমেরিকানরা এখন বুঝতে পেরেছেন যে, প্রযুক্তিকে মাধ্যম করে তারা অভিবাসীদের ছাড়াই চলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ট্যাক্সির কথাই ধরুন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ ট্যাক্সি-ড্রাইভারই অভিবাসী। কেউ কেউ জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ট্যাক্সি চালান, আবার কেউ কেউ ছাত্র কিংবা অন্য কোথাও কর্মরত, যারা অতিরিক্ত আয়ের জন্য ট্যাক্সি চালান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাইড-হেইলিং ব্যাবসা ৫০ বিলিয়ন ডলারের এবং চালকরা এতে বেশি লাভবান। উবরের মতো কোম্পানিগুলি অবশ্য ড্রাইভার সরবরাহ করে লাভের ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ অভিবাসী ড্রাইভারদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। তবে, আমেরিকান শ্বেতাঙ্গরা আর যাই করুক না কেন, তারা চায় না যে, তাদের গায়ের রঙের অহংকারের কারণে তারা নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট করুক। কারণ তারা খুব ব্যবসায়ী মানসিকতার মানুষ। ৫০ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যাবসার জন্য যদি চালকবিহীন রোবট-ট্যাক্সি চালানোর প্রযুক্তি পান, তাহলে এগুলো কেবল সস্তাই হবে না, বরং অভিবাসী কার-ড্রাইভারদের উপর ভরসা করা থেকে মুক্তি দেবে বলে মনে করেন তারা।
আমেরিকানরা সবসময় বর্ণবাদের সমর্থক। আমেরিকার উন্নয়নে যখন কৃষ্ণাঙ্গ দাস-দাসীরা ভরসা ছিলেন, তখন থেকেই সেখানে বর্ণবাদের সূত্রপাত হয়। কারণ, কৃষ্ণাঙ্গ দাস-দাসীদের পশুর চেয়েও খারাপ অবস্থায় রাখা হতো, ঠিক যেমন ভারতের উচ্চবর্ণের লোকেরা ওবিসি এবং এসসিদের সঙ্গে ব্যবহার করে। আমাদের দেশে যেমন ওবিসি এবং এসসি সমান অধিকার দাবি করছে, ঠিক তেমনই আমেরিকাতেও, অভিবাসীরা ১০-১৫ বছর সেখানে থাকার পর তাদের অধিকার দাবি করতে শুরু করে। ৪০০ বছরেরও বেশি সময় আগে যেসব কৃষ্ণাঙ্গ দাস-দাসীদের আনা হয়েছিল, তারা এখন নাগরিক, কিন্তু এখনও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক। হয়তো কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন কিংবা কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন কিন্তু তবুও কৃষ্ণাঙ্গরা যে সর্বদা সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক সমতা পেয়েছেন, হয়তো এমনটা নয়। আসলে, প্রযুক্তির সাহায্যে শ্বেতাঙ্গরা সমস্ত কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ন্ত্রণ করবে, নারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেবে, এটাই হয়তো এখন আমেরিকানদের মূল লক্ষ্য।





