অলকানন্দা মেয়েকে বোঝাবার চেষ্টা করতে করতে বলছেন, “শিল্পা, ঠাকুমা আগে থেকেই তোমার গ্রহশান্তির জন্য গুরুদেবকে বলে রেখেছেন, সুতরাং তোমাকে তো পুজোতে বসতেই হবে। এই পুজোর ফলে তোমার ভালো বাড়িতে বিয়ে হবে। স্বামী, শ্বশুরবাড়ি সব ভালো হবে।'
সামান্থা আর অপেক্ষা করতে পারল না, দরজা ঠেলে ঘরের ভিতর ঢুকে এল। শাশুড়িকে সরাসরি জিজ্ঞেস করল, “মা কী হয়েছে, গ্রহশান্তির কথা শুনে শিল্পা এত কাঁদছে কেন?' অলকানন্দা উত্তর দিলেন না। একই ভাবে মেয়েকে বোঝাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। হঠাৎই শিল্পা নিজের রাগ সামলাতে না পেরে অলকানন্দার উপর চেঁচিয়ে উঠল, “মা তুমি কেন বুঝতে পারছ না, পুজোর পর প্রতিবার আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার সারা গায়ে-হাতে প্রচণ্ড ব্যথা করে। মা, আমার ভীষণ ভয় লাগে। প্লিজ মা, আমি পুজোতে বসব না।'
শিল্পার কথার থেকে বেশি ওর চোখে, মনের ভয়টা পরিষ্কার ফুটে উঠেছিল। শিল্পার অবস্থা দেখে স্বাভাবিক কণ্ঠেই সামান্থা শাশুড়িকে জিজ্ঞেস করল, 'মা, শিল্পার পুজোতে বসা কি খুব দরকার?'
‘সামান্থা, তোমার এ বাড়িতে মাত্র তিন-চারদিনই হয়েছে। সুতরাং প্রশ্ন করা ছেড়ে কালকে গুরুদেবের সেবায় এবং খাওয়াদাওয়ার আয়োজনে আমাকে সাহায্য কোরো। আর নীলয়কে বোলো, এক লক্ষের একটু বেশি টাকা তুলতে। কারণ পুজোর খরচ ছাড়াও গুরুদেবকে দক্ষিণাও দিতে হবে, যাতে শিল্পার জন্য ভালো সম্বন্ধ আসে।
শাশুড়ির কথা শুনে সামান্থা বুঝে গিয়েছিল, সময় থাকতে তাকেই সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো তার সংসার ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে, সেই সঙ্গে তার নিজের পরিচয়, অস্তিত্ব সবই ধুলোয় চাপা পড়ে যাবে।
এই পরিবারের লোকেদের চোখে অন্ধবিশ্বাসের এমন ঠুলি পরানো আছে, যা বার করে ফেলাটা খুব সহজ নয়। সামান্থা এও জানে, সে চেষ্টা করলেই সফল হবে এমন কোনও নিশ্চয়তাও নেই। তাই শুদ্ধিকরণ, নামকরণ, বিয়ের জন্য গ্রহশান্তির পুজো— এসব যে কতটা বুজরুকি তা জেনেও, পরেরদিন সকালে উঠে সামান্থা, শাশুড়িকে সাহায্য করার জন্য তৈরি হয়ে নিল।
যথাসময়ে গুরুদেব পাঁচ শিষ্যকে সঙ্গে করে সামান্থার শ্বশুরবাড়িতে এসে উপস্থিত হলেন। সামান্থা বাদে সকলে গুরুদেবের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিল। সবার হয়ে গেলে মৈত্রীদেবী সামান্থাকে ইশারা করলেন, গুরুদেবের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিতে।





