সুপরিকল্পনার মাধ্যমে সন্তানের লালনপালন এবং তার ভবিষ্যৎ কেরিয়ার গঠন করার স্বপ্ন এবং ইচ্ছে প্রতিটা পরিবারেই অভিভাবকদের মধ্যে থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মা-বাবার মধ্যে সুষ্ঠ সুপরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করা যায়। সন্তানের কেরিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে অভিভাবকের আকাশছোঁয়া আকাঙ্ক্ষা থাকলেও, সময়মতো সেগুলি রূপায়িত হয়। অধিকাংশ মা-বাবাই, সন্তান মাতৃগর্ভে থাকাকালীনই, ভবিষ্যতে সে কী হবে বা কেরিয়ার হিসেবে কী গ্রহণ করবে তার স্বপ্ন দেখা আরম্ভ করে দেন। কিন্তু সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মা-বাবার ব্যক্তিগত ইচ্ছেটাকে সন্তানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ারই নামান্তর। সেক্ষেত্রে এটি মোটেই সুপরিকল্পনা বলা চলে না।
কৈশোরে একটি ছেলে বা মেয়ের পক্ষে অনেক সময়, কোন Career সে বাছতে চায় সেটা নির্ণয় করা সহজ হয় না। এই দায়িত্বভার গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন বেশিরভাগ অভিভাবকেরাই। সুতরাং সন্তানের কেরিয়ার নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে চিন্তা ভাবনা করে তবেই, মা-বাবার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সন্তানের মেধা এবং সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিন
সন্তানের সামর্থ্য বা পারদর্শিতা বিচার না করেই অভিভাবকেরা নিজস্ব ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে চান। কৈশোরে সন্তান সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম হলে মা-বাবার দায়িত্ব সন্তানের মেধা, সামর্থ্য বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
সন্তানের ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্যায়ণ করুন
অভিভাবকের নির্ধারিত কেরিয়ারের রাস্তায় সন্তান পা ফেলতে কতটা ইচ্ছুক সেটার বিচার করা খুবই প্রয়োজন। সন্তান আর্টস, সাযে্ন্স নাকি খেলাধূলায় কেরিয়ার গড়তে চায় এই ইচ্ছা সম্পূর্ণ তার নিজের। জোর করে সন্তানের উপর কেরিয়ারের গুরুদায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া কখনওই কাম্য নয়। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি প্রথাগত বিষয়গুলি নিয়ে পড়াশোনা না করলে ভবিষ্যৎ খারাপ হয়ে যাবে, আজকের যুগে এমন চিন্তা অবান্তর।
নিজের ব্যক্তিগত আবেগ বা ঈর্ষাকে দমাবার চেষ্টা করুন
ব্যক্তিগত আবেগ কিংবা ঈর্ষা সন্তানের Career নষ্ট করে দিতে পারে। সব অভিভাবকই চান সন্তানকে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত দেখতে। যার ফলে গতে বাঁধা সম্মানজনক পেশা বলতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল ইত্যাদি পেশাকেই তারা স্বীকৃতি দেন এবং সন্তানের উপরেও চাপ সৃষ্টি করেন সেই পেশা গ্রহণ করার পথে এগোতে। কিন্তু বড়োদের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা সন্তানের ভবিষ্যৎ Career গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র উপকরণ হতে পারে না। অন্যের সন্তানের প্রতি ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে অনেক মা-বাবা সন্তানের কেরিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। যেমন নিকট আত্মীয় বা প্রতিবেশির ছেলে বা মেয়ে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, তাই নিজের সন্তানের উপরেও চাপ সৃষ্টি করেন ওই একই বিষয় নিয়ে পড়ার জন্য। এতে ভবিষ্যৎ ফলাফল কখনওই ভালো হয় না।
সন্তানকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার প্রচেষ্টা
বেশিরভাগ মা-বাবাই বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে নিজস্ব ভুল ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে সন্তানকে ভুল পথে চালিত করে বসেন, ফলে তাদের হতাশার সম্মুখীন হতে হয়। গুটিকয়েক প্রচলিত পেশাকেই গুরুত্ব দিয়ে সন্তানকেও ওই পেশায় দেখার ইচ্ছার ভার, অনিচ্ছুক সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে চান অভিভাবকেরা। কিন্তু সকলের ওই পেশায় যাওয়ার মনোভাব বা সামর্থ্য বা মেধা কোনওটাই থাকে না। সেক্ষেত্রে হতাশাই কপালে জোটে।
ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার না হতে পারলেই মা-বাবা ধরে নেন সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অথচ বর্তমানে সারা বিশ্বে অগণিত চাকরির ক্ষেত্র খোলা রয়েছে। অভিভাবকের উচিত হচ্ছে সন্তানকে ইচ্ছে অনুযায়ী বিষয় বেছে নিতে উৎসাহ দেওয়া। তাদের নিজেদের চোখে সেটি মূল্যবান বিষয় না হলেও অভিভাবক হিসেবে উচিত সন্তানকে সেই বিষয়টিতে দক্ষ হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা।
সন্তানের দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে তুলুন
পড়াশোনা করার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানকে দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করা একান্ত আবশ্যক। শুধু নিজের বা নিজের পরিবারের প্রতি নয়, সমাজের প্রতি, অন্যান্য মানুষের প্রতিও তার কিছু কর্তব্য রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করুন।