এবারের বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে পয়লা মার্চ ভারতীয় জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণটি বর্ণময় রূপ নিয়েছিল নাচে, গানে এবং কথায়। সংস্কৃতি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে, ভারতীয় জাদুঘর, ‘প্রভা খৈতান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘দীক্ষা মঞ্জরী’ আয়োজিত বসন্ত উৎসবের বর্ণময় এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করলেন শিল্পপ্রেমী সাধারণ মানুষ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এই উৎসবে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর ওড়িশি নৃত্য প্রতিষ্ঠান ‘দীক্ষা মঞ্জরি’-র কৃতী ছাত্রছাত্রীরা নৃত্য পরিবেশন করে বসন্তের চেতনাকে সুন্দর ভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাই বলা যায়, ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য-পরিকল্পনা ভারতীয় জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণটিকে নৃত্যে ছন্দময় রূপ দিয়েছিল। সেইসঙ্গে, আনন্দ গুপ্ত-র পরিচালনায় রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর।
অনুষ্ঠানের অবসরে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বসন্ত নবায়ন, আশা এবং সম্প্রীতির প্রতীক। বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে আমরা কেবল ঋতুর সৌন্দর্যই নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাও উদযাপন করি। আমার ছাত্রছাত্রীরা আন্তরিকতা এবং আবেগের সঙ্গে ওড়িশি নৃত্যের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতীয় জাদুঘরের মতো ঐতিহাসিক স্থানে নৃত্য পরিবেশনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঐতিহ্য সর্বদা জীবন্ত এবং বিকশিত হওয়া আবশ্যক।”

‘জয় হো’ থেকে শুরু করে ‘ওরে গৃহবাসি’ গানে-নাচে জমজমাট ছিল এই বসন্ত উৎসব। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিচালনা, আনন্দ গুপ্ত এবং দক্ষিণায়ন ইউকে-র শিল্পীদের রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিতে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল।
এবার বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে কলকাতা শহরে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে এই অনুষ্ঠানটি সত্যিই সেরা অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল বলা যায়। কারণ, ভারতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই বসন্ত উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেছেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর ‘দীক্ষা মঞ্জরি’-র পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। বাংলার দোলের আর অন্যান্য প্রদেশের হোলির গানে-নাচে আর আবিরের রঙে ভরে উঠেছিল ভারতীয় জাদুঘরের প্রাঙ্গণ।

দোলের আগে প্রায় ২০ বছর ধরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ভারতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে। কয়েক বছর ধরে কলকাতার জাদুঘরের সঙ্গে যৌথ ভাবে বসন্ত উৎসব পালন করা হয় এই হেরিটেজ স্পেসে। এই প্রসঙ্গে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এখন অনেক ছাত্রছাত্রী, তাই বাড়িতে জায়গা হয় না। ভাললাগে অনেক গুণী মানুষ ভারতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এই রঙের অনুষ্ঠানে সমবেত হন। বাড়ির অনুষ্ঠান বড়ো হতে হতে এখন এই জায়গায় এসেছে। নাচ, গানের মাঝে আবির মাখতে ভালোই লাগে। এখানে অনেক স্কুল থেকে পড়ুয়ারা ঘুরতে আসে। আগে একটা ওয়ার্কশপ করা হয়। এতে খুব খুশি হয়ে সবাই অংশগ্রহণ করেন।”
প্রসঙ্গত আনন্দ গুপ্ত জানিয়েছেন, “আমাদের সংস্থার সঙ্গে দীক্ষা মঞ্জরি-র বেশ কিছু প্রোডাকশন-এর কাজ আগে হলেও, বসন্ত উৎসবে এই প্রথম যোগদান। একসঙ্গে এত নৃত্যশিল্পী, বিশেষকরে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরে আমার বেশ ভালো লাগছে।”





