আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে, যেখানে সবাই নিজেদেরকে অন্য কারওর সঙ্গে তুলনা করে, তবুও তাদের বারবার গজল মনে করিয়ে দিতে চান যে, তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব সফর ভিন্ন পথে এবং সেই পথ অনুসরণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

একজন উদ্যোক্তা এবং একজন মা হওয়ার কারণে, তিনিও মানসিক চাপ অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, মানসিক চাপ মোকাবিলার সবচেয়ে ভালো উপায় হল নিজের সঙ্গে সময় কাটানো। সকালে ঘুম থেকে ওঠে তিনি প্রথম ১৫ মিনিট কারওর সঙ্গে কথা বলেন না কিংবা ফোন চেক করেন না। ওই সময় তিনি শুধু নিজের সঙ্গে কথা বলেন মনে মনে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, যখন একজন ব্যক্তি নিজের সঙ্গে কথা বলেন, তখন তিনি অনেক গুণ অর্জন করেন এবং বুঝতে পারেন যে, তিনি কী ভাবছেন এবং কী অনুভব করছেন।

গজল জানিয়েছেন, ‘ব্যবসায়িক ক্ষেত্র আমাকে শিখিয়েছে যে, সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই যা নিয়ন্ত্রণে আছে তার উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত। সারাদিন আমি কী করেছি, কী করিনি, কী ঘটেছে এবং তার থেকে শিক্ষা নিয়ে কী করলে ভালো হবে, নিয়ে ভাবি দিনের শেষে। এরই পাশাপাশি, ভালো ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি”
বাচ্চাদের জন্য সেরা উপহার গজল আলাঘের মতে, ‘একজন কর্মজীবী মা তার সন্তানদের যে সেরা উপহার দিতে পারেন তা হল— তাদের রোল মডেল হওয়া। যখন শিশুরা তাদের মায়েদের কঠোর পরিশ্রম করতে, চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়াই করতে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে দ্যাখে, তখন তারা ভালো বার্তা পায়। তারা এও শেখে যে, নারীরা সবকিছু করতে পারে। দ্বিতীয় সেরা উপহার হল– কোয়ালিটি টাইম দেওয়া। আমরা যদি পর্যাপ্ত সময় দিতে নাও পারি, তবুও যখনই আমরা সন্তানের সঙ্গে থাকি, ফোন, ল্যাপটপ এবং টেনশন দূরে রেখে আমাদের সম্পূর্ণ ভাবে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো সঙ্গ দেওয়া উচিত। তৃতীয় উপহার হল — স্বাধীনতার শিক্ষা। কর্মজীবী মায়েরা তাদের সন্তানদের নিজেদের জন্য দাঁড়াতে, দায়িত্ব নিতে এবং নিজেদের স্বপ্নে বিশ্বাস করতে শেখান।”

একজন কর্মজীবী মায়ের সাফল্যের রহস্য

গজল আলাঘ বিশ্বাস করেন যে, একজন কর্মজীবী মায়ের সাফল্যের সবচেয়ে বড়ো রহস্য হল, অপরাধবোধ থেকে মুক্ত থাকা। এটাই সত্যি যে, আমরা হয়তো সম্পূর্ণ নিখুঁত মানুষ হতে পারব না এবং নিখুঁত পেশাদারও হয়তো হতে পারব না। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে যে, ভালো মানুষ হতে গেলে নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয়ত, সাপোর্ট সিস্টেম-কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্বামী, বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব অথবা সাহায্যকারী সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার রেখে তাদের সাহায্য- সহানুভূতি নিতে হবে। তৃতীয়ত, নিজেকে সময় দিতে হবে। আপনি নিজে যদি সুখী এবং সুস্থ না থাকেন, তাহলে অন্যদের সুখ দিতে পারবেন না। তাই নিজেকে অগ্রাধিকার দিতে শিখুন। সবকিছুতে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর মনোযোগ দিন। সেইসঙ্গে, নমনীয় থাকা উচিত এবং কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শেখা উচিত। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— নিজের উপর এবং আপনার সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখা
ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য প্রয়োজন।

গজল আলাঘের মতে, ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্যাশন। আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে আপনি কী চান এবং পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। আপনার গ্রাহকদের চাহিদা এবং সমস্যাগুলি বুঝতে হবে এবং তাদের সমস্যার সমাধান তৈরি করা সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, একটি ভালো টিম গঠন করা খুবই জরুরি। তাই, সঠিক লোক নিয়োগ করুন এবং তাদের কাজের স্বাধীনতা দিন। সর্বদা নতুন কিছু করার ইচ্ছেও রাখতে হবে মনে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ওঠা- পড়া লেগেই থাকে। তাই সেই পরিস্থিতিও মানিয়ে নেওয়ার মতো মনে শক্তি রাখতে হবে। কারণ, বাজার ক্রমাগত পরিবর্তিত হয় এবং এর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও পরিবর্তন করতে সক্ষম হওয়া উচিত। আর নেটওয়ার্কিং উপেক্ষা করবেন না। ভালো সংযোগ তৈরি করুন এবং পরামর্শদাতাদের কাছ থেকে শিখতে থাকুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অধ্যবসায়। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোই আসল সাফল্য।

(সমাপ্ত)

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...