সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’-এ রাজকুমারী কনকাবতীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে সুন্দরী অভিনেত্রী রুক্মিণী বসন্ত-কে এবং এই ছবিতে দারুণ অভিনয় করে তিনি দর্শকচিত্ত জয় করে নিয়েছেন। রুক্মিণী বসন্ত ভারতীয় চলচ্চিত্রের এমন এক উজ্জ্বল প্রতিভা, যিনি এখনও পর্যন্ত কন্নড়, তেলুগু এবং তামিল ভাষার ছবিতে কাজ করে স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।

লন্ডনের ‘রয়্যাল আকাদেমি অফ ড্রামাটিক আর্ট” অর্থাৎ আরএডিএ থেকে অভিনয় প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর, রুক্মিণী বসন্ত ২০১৯ সালে কন্নড় ছবি ‘বীরবল ট্রিলজি’ দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু রুক্মিণীর পরিচিতি বাড়ে ২০২3 সালে তাঁর পরবর্তী মুক্তিপ্রাপ্ত কন্নড় ছবি ‘সপ্ত সাগরদাচে এল্লো সাইড এ অ্যান্ড বি’-র মাধ্যমে, যেখানে রুক্মিণী প্রিয়ার ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। এই ছবিতে রুক্মিণীর অসাধারণ অভিনয় শুধু সমালোচকদের প্রশংসাই অর্জন করেনি, পাশাপাশি তাঁকে দিয়েছে সেরা ‘কন্নড় ফিল্মফেয়ার ক্রিটিক অ্যাওয়ার্ড”।

দক্ষিণী ছবিতে অভিনয় এবং পুরস্কার জেতার পাশাপাশি, রুক্মিণী ‘বানা দারিয়াল্লি’, ‘বাঘিরা’, ‘ভৈরথি রানাগল’-এর মতো বহুভাষিক সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। রুক্মিণী শুধু তাঁর চলচ্চিত্রের জন্যই খবরে থাকেন না, বরং তাঁর অসাধারণ সৌন্দর্যের কারণে সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন জাতীয় আইকনও হয়ে উঠেছেন।

‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’-এর নায়িকা রুক্মিণী বসন্ত তাঁর অ্যাক্টিং কেরিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন ‘গৃহশোভা’-কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। ১৫ বছর বয়সে কীভাবে তিনি তাঁর অভিনয় সফর শুরু করেছিলেন, তাঁর পরিবার তাঁকে কতটা সাপোর্ট করেছিল, রুক্মিণী কোন পরিবারের সদস্য এবং বলিউডি ছবিতে অভিনয়ের বিষয়ে তাঁর কী বক্তব্য, সবকিছুই রুক্মিণী জানিয়েছেন অকপটে।

রুক্মিণী বসন্তের অভিনয় সফরের কাহিনি তাঁর নিজের বয়ানে—

আমার জন্য এটা ছিল প্রশিক্ষণ সফর

‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১” আমার কাছে বিশেষ একটি ফিল্ম, কারণ এই ফিল্মটি আমার কাছে আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের চেয়ে কম কিছু নয়। আসলে, এই ছবির শুটিংয়ের সময় আমি তলোয়ার চালানো, ঘোড়ায় চড়া এবং নৃত্যে বৈচিত্র্য ইত্যাদি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এই ছবির শ্যুটিংয়ের সময় কিছু দৃশ্য খুব কঠিন ছিল আমার কাছে, আবার কিছু দৃশ্য স্মরণীয় হয়ে আছে। এই ছবিতে কাজ করার সময়, আমি প্রতিদিন নতুন কিছু শিখতাম। এই ছবির অভিনেতা, পরিচালক এবং লেখক ঋষভ শেট্টি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। আমি তাঁকে অসাধারণ প্রতিভাধর মনে করি, কারণ শুটিংয়ের সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁকে আমি দক্ষতার সঙ্গে মনোনিবেশ করতে দেখেছি। এই ক্ষমতা সবার থাকে না। তাছাড়া, ঋষভ একজন ভালো মানুষ এবং খুব সহজ সরল। তাই তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময় আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এই ছবিতে আমি রাজকুমারী কনকাবতীর চরিত্রে অভিনয় করেছি, যে খুবই সাহসী এবং শিল্পপ্রেমী। এই চরিত্রে অভিনয় করা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং এবং মজাদার ছিল, যে কারণে ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’ আমার জন্য সবসময় স্পেশাল ফিল্ম হয়ে থাকবে।

এই প্রসঙ্গে জানাই, আমার পরিবারই আমার শক্তি। নম্রতার পাশাপাশি, আমি শিল্প ও সেবার চেতনা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। আমার বাবা কর্নেল বসন্ত বেণুগোপাল সেবা, বন্ধুত্ব এবং ত্যাগের জন্য অশোক চক্রে সম্মানিত হয়েছেন। আমার মা সুহাসিনী বসন্ত একজন ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী। আমার মা, যিনি একজন নিয়মানুবর্তিতাপ্রিয় এবং শিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগী। অভিনয়ের জন্য তিনিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাঁর প্রেরণা-ই আমাকে শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল এবং ১৫ বছর বয়স থেকেই আমি অভিনয় এবং অন্যান্য শিল্পকলার সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে যাই।

আমার অভিনয় সফরের শুরুটা ছিল মজার

আমি তখন কোনও অভিনয় কোর্স না করেও, মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করি। মায়ের উৎসাহে আমার মনের কোথাও একটা ইচ্ছা জাগছিল যে, আমি অভিনয়ের ক্ষেত্রে নতুন কিছু শিখি। কিন্তু যেহেতু আমি অভিনয়ের কোনও প্রশিক্ষণ তখনও নিইনি, তাই এই ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তারপর একদিন আমি আমার মা- কে বললাম যে, ঘরে বসে আমার বিরক্ত লাগছে এবং আমি নতুন কিছু করতে চাই। আমি যেহেতু অভিনয়ে আগ্রহী, তাই অন্তত আমাকে থিয়েটার ক্লাসে ভর্তি করাও। আমার ইচ্ছেকে বাস্তবায়িত করার জন্য আমার মা আমাকে থিয়েটার ক্লাসে ভর্তি করিয়েছিলেন।

যেহেতু আমি আগেই ধ্রুপদী ব্যালে নৃত্য এবং ভরতনাট্যমে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম, তাই অভিনয়ের ক্ষেত্রটা আমার জন্য আরও সহজ এবং আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। আমি নৃত্যের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশের শিল্প জানি। কিন্তু থিয়েটারের মাধ্যমে, আমার অভিনয় ভাষা পায়। থিয়েটারে অভিনয় প্রশিক্ষণের পর আমি শব্দ এবং মুখভঙ্গীর মাধ্যমে আবেগ প্রকাশের কৌশল শিখেছি। হৃদয়ের অনুভূতিগুলোকে সামনে এনে মুখের ভাবের সঙ্গে শব্দের মিশ্রণ অভিনয়ের জন্ম দেয়, যা আমি থিয়েটারে শিখেছি। থিয়েটার ক্লাসে অভিনয় শিক্ষা শুরু করার পর, আমি লন্ডনের আরএডিএ অ্যাক্টিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। সেখানে আমি থিয়েটার, মিউজিক্যাল থিয়েটার এবং সিনেমার বিষয়ে পড়াশোনা করি। আর প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার পর, আমি সেরা অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে ফিরে আসি। আমার লক্ষ্য ছিল সিনেমা জগতে স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করা এবং তা আমি কিছুটা হলেও করতে পেরেছি বলে মনে হয়।

আমার প্রথম ছবিবীরবল ট্রিলজিসম্পর্কে

ভারতে আসার পর, আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয় করার চেষ্টা করা, যার জন্য আমি অডিশন দিচ্ছিলাম। আমি একইসঙ্গে মডেলিংও করতাম। তারপর একজন কাস্টিং ডিরেক্টর-এর সঙ্গে দেখা করি। আমি তাকে বলি যে, আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী। এরপরই ‘বীরবল ট্রিলজি’ ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পাই। যেহেতু এটি আমার অভিনয়ের প্রথম সুযোগ ছিল, তাই আমি যেমন খুশি ছিলাম, তেমনই নার্ভাসও ছিলাম কিছুটা।

কিন্তু আমি আসল স্বীকৃতি পেয়েছি ২০২3 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সপ্ত সাগরদাচে সাইড এ অ্যান্ড বি’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবির জন্য আমি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে কন্নড় ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছি। এই ছবির জন্য, আমি ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’-এর মতো একটি বড়ো ব্যানার-এর সিনেমায় অভিনয়ের অফারও পেয়েছি। আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে, আমাকে এত বড়ো ছবির অফার দেওয়া হবে। কিন্তু যখন এটা ঘটল, তখন আমার আনন্দের সীমা ছিল না।

( ক্রমশ )

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...