কিছুদিন পর বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাবেন বাংলার মানুষ। আর ঠিক তার এক মাস আগেই 'পয়লা পার্বন ২০২৬' শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক মহোৎসবের মাধ্যমে, নববর্ষের চেতনাকে জাগিয়ে তোলা হল আনুষ্ঠানিক ভাবে।
গত ১২ থেকে ১৫ মার্চ সল্টলেকের করুণাময়ী সেন্ট্রাল পার্ক-এর বইমেলার প্রাঙ্গণে আয়োজিত, চার দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক মহোৎসবটি পরিবারবর্গ, শিল্পী, উদ্যোক্তা এবং সংস্কৃতিপ্রেমীদের একত্রিত করেছিল বাংলার ঐতিহ্য এবং সমসাময়িক সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত উদযাপনের লক্ষ্যে। লাইভ সংগীত এবং হস্তশিল্প থেকে শুরু করে লোভনীয় খাবার, সবকিছু কলকাতার অটল ভালোবাসাকে তুলে ধরেছিল।
চার দিনের এই কার্নিভাল সমসাময়িক বাঙালি সংগীত শিল্পীদের লাইভ পরিবেশনা, তাঁতের বস্ত্র, টেরাকোটা, ডোকরা শিল্প এবং স্থানীয় কারিগরদের হস্তনির্মিত সৃষ্টি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি হস্তশিল্প বাজার এবং একটি প্রাণবন্ত খাদ্য মণ্ডপের মাধ্যমে বাংলার প্রাণবন্ত চেতনাকে মূর্ত করে তুলেছিল। মণ্ডপে খাঁটি বাঙালি খাবার পরিবেশিত হয়েছিল। পাশাপাশি, কলকাতার বিখ্যাত স্ট্রিট ফুডও পরিবেশিত হয়েছিল। সৃজনশীল কর্মশালা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমগুলোতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণও ছিল অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। যার ফলে এই উৎসবটি পরিবারবর্গ এবং সংস্কৃতিপ্রেমী উভয় গোষ্ঠীর জন্যই এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। সংগীত, শিল্পকলা, ভোজনরসিকতা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য উদযাপনের লক্ষ্যে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগমে, ‘পয়লা পার্বণ ২০২৬’ কলকাতার উৎসব-পঞ্জিতে একটি অত্যন্ত সমাদৃত সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে নিজের অবস্থানকে আবারও সুদৃঢ় করেছে । এটি এমন এক উদযাপন, যেখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ভাবধারার মিলন ঘটে এবং যেখানে প্রতিটি দর্শনার্থীই ‘বাঙালিয়ানা’-র এক অভিন্ন আখ্যানের অংশ হয়ে ওঠেন।
উদযাপনের অংশ হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছিল সৌন্দর্যচর্চার বিষয়ও। 'হিমালয়া ওয়েলনেস' অংশগ্রহণ করে, তাদের 'ডার্ক স্পটস ক্লিয়ারিং টারমারিক' রেঞ্জ এবং 'ব্রাইটনিং ভিটামিন সি' রেঞ্জের মাধ্যমে দর্শকদের আকৃষ্ট করে। তারা কলকাতা জুড়ে গ্রাহকদের কাছে ত্বকের যত্নের অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বেশ কিছু কার্যক্রমেরও আয়োজন করেন। এই উপলক্ষ্যে ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ১০ দিন ধরে শহরজুড়ে ভ্রমণ করে এক্সপেরিয়েন্সিয়াল ভ্যান, যা কলকাতা জুড়ে উৎসবের অনুভূতি দিয়েছে। এই উদ্যোগটি শহরের ছাত্র-সমাজের মধ্যেও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, যার অংশ হিসেবে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ কলেজ ও নিউ আলিপুর কলেজের মতো দশটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। উদযাপনের এই ধারা ‘পয়লা পার্বণ ২০২৬’ -এ এসে পূর্ণতা পায়।





