আসলে, ‘সপ্ত সাগরদাচে’-র প্রযোজক রক্ষিত শেট্টি এবং ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’-এর প্রযোজক ঋষভ শেট্টি দু’জনে খুব ভালো বন্ধু। দু’জনেই একসঙ্গে ‘সপ্ত সাগরদাচে’-র প্রিমিয়ারে এসেছিলেন এবং সেই ছবিটি দেখে আমার অভিনয়ের খুব প্রশংসা করেছিলেন ঋষভ শেট্টি। আর এর পরের ঘটনা আমার কাছে ছিল পুরোটাই চমক। ঋষভ শেট্টি আমাকে তাঁর ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’ ছবির জন্য বেছে নিয়েছিলেন। অবশ্য এর জন্য আমাকে এক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেই অবসরে আমি আরও কয়েকটি ছবিতে কাজ করে নিয়েছি। তবে, ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’ ছবিতে অভিনয় করা আমার জন্য খুব-ই চ্যালেঞ্জিং ছিল।
চলচ্চিত্র জগতে আমার কোনও গডফাদার নেই
আজ আমি যতটুকু প্রতিষ্ঠা পেয়েছি, তা আমার নিজের কৃতিত্বে। অবশ্য আমার মা আমার মধ্যে এমন আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিলেন, যাতে আমি আমার প্রতিভার উপর ভিত্তি করে অভিনয় জগতে স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করতে পারি। আর খুব স্পষ্ট ভাবেই জানাতে চাই যে, ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে আমার কোনও গডফাদার নেই। আজ পর্যন্ত আমি যা কিছু অর্জন করেছি, তা নিজের চেষ্টায় করেছি। আমার সবচেয়ে বড়ো শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পথপ্রদর্শক হলেন আমার মা। যদিও অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমার সাফল্য এসেছে ধীর গতিতে, তবুও আমি প্রতিটি সিনেমা থেকে কিছু না কিছু শিখেছি এবং ধীরে ধীরে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি। ‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’ আমার সেই সাফল্যকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্ম–এ কাজ করা নায়িকাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া
আমি কন্নড় চলচ্চিত্র জগতে কয়েক বছর ধরে কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। এর বাইরেও আমি তামিল এবং তেলুগু ফিল্মেও কাজ করেছি। এই সময়ের মধ্যে, আমার এমন কোনও তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়নি, যা আমাকে আমার অভিনয় কেরিয়ার ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করবে। আমি বিশ্বাস করি যে, আপনি যদি কোনও শিল্পে কাজ করেন, তাহলে এটি সম্পূর্ণরূপে আপনার উপর নির্ভর করে যে, আপনাকে কোন পরিস্থিতিতে কাজ করতে হবে, কী কী মেনে নিতে হবে এবং কী নয়।
ভালো-মন্দ স্বভাবের মানুষ সব জায়গায় আছে। এটা নির্ভর করে তুমি তাদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবে। আমি যেখানেই কাজ করি না কেন, প্রথমেই আমি যে জিনিসটি দেখি, তা হল— পরিবেশ এবং আমি কার সঙ্গে কাজ করছি। যখন আমার মনে হয় সবকিছু ঠিক আছে, তখন আমি সামনের দিকে পা বাড়াই। আর দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা আমাকে দিয়েছে নাম, খ্যাতি এবং গৌরব। তাই, দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।
বলিউড অভিনেতাদের সঙ্গে এবং সাউথ–ইন্ডিয়ান অভিনেতাদের একসঙ্গে কাজ করা চলচ্চিত্র জগতে নতুন বিপ্লব আনার মতো
যদি আমি নিজের কথা বলি, আমি নিজেও বলিউডের ছবির একজন ভক্ত। ছোট্ট একটি চরিত্রে কাজও করেছি একটি হিন্দি ছবিতে। আর আমি সবসময়ই হিন্দি ছবিতে কাজ করতে চেয়েছি। আমার মতো বয়সি দক্ষিণের অনেকেই একই ভাবে হিন্দি ছবিতে কাজ করতে চান এবং হিন্দি ছবির কিছু শিল্পী দক্ষিণি ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির সঙ্গে অলরেডি যুক্ত। উভয় শিল্পের নামীদামি শিল্পীরা যদি একসঙ্গে কাজ করেন, তাহলে এটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য খুবই ভালো। এখানে কারও-র নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি থাকবে না এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার অনুভূতি তৈরি হবে। এই কারণেই দক্ষিণের কিছু লোক হিন্দি ছবিতে কাজ করছেন এবং বলিউডের কিছু লোক দক্ষিণের ছবিতে কাজ করছেন। এটি চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বিষয়।
হিন্দি ছবিতে কাজ করা আমার সবচেয়ে বড়ো ইচ্ছে
আমি হিন্দি ছবি দেখতে ভালোবাসি এবং আমি হিন্দি ছবিতে কাজ করতে চাই। উদাই সিং পাওয়ার পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘আপস্টারস’-এ ছোট্ট একটি চরিত্রে আমি অভিনয়ও করেছি ২০১৯ সালে। প্রিয়াংশু, চন্দ্রচূড়, সাদাব কামাল এবং শীতল ঠাকুর ছিলেন এই ছবিতে আমার সহশিল্পী। এই মুহূর্তে নতুন করে কোনও হিন্দি ছবিতে আমাকে অভিনয়ের জন্য নির্বাচন না করলেও, মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে, পরিচিতিও বাড়ছে। আশা করি ভবিষ্যতে আপনারা অবশ্যই আমাকে হিন্দি ছবিতে নায়িকা হিসাবে অভিনয় করতে দেখবেন। ‘সপ্ত সাগরদাচে’ ছবি দেখে করণ জোহর যখন একবার আমার প্রশংসা করেছিলেন, তখন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। করণ জোহরের প্রায় প্রত্যেকটি ছবি আমার ভালো লেগেছে, বিশেষকরে তাঁর তৈরি রোমান্টিক ছবিগুলো আমার ভীষণ প্রিয়। তাই, বলিউডের রোমান্টিক ছবিতে আমারও কাজ করার খুব ইচ্ছে রয়েছে।
‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’ ছাড়াও অন্যান্য চলচ্চিত্রের প্রসঙ্গ
‘কান্তারা চ্যাপ্টার ১’ ছাড়াও, আমার আরও কিছু ভালো প্রজেক্ট আছে, যেমন আমি দক্ষিণের অভিনেতা যশের সঙ্গে ‘টক্সিক’ ছবিতে অভিনয় করছি। আমি এনটিআর জুনিয়রের সঙ্গেও একটি ছবি করছি। এর বাইরেও আরও কিছু ফিলম-এ কাজ করার জন্য আলোচনা চলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ইয়ুথ ক্রাশ‘ হয়ে ওঠার কাহিনি
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যুবসমাজের ক্রাশ’ ট্যাগ পাওয়া আমার জন্য আনন্দের বিষয়। আমি প্রচুর ভালোবাসা পাচ্ছি। মানুষ আমাকে পছন্দ করছেন এবং আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ। আমার কেরিয়ারের সাফল্যে সোশ্যাল মিডিয়া বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। ভক্তদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার কারণেই আমি আজ এতদূর আসতে পেরেছি। একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে যখন আমি আরও সাফল্য অর্জন করব, তখন আমি আরও বেশি খুশি হব এবং এটি কেবল তখনই সম্ভব, যদি আমি দর্শকদের ভালোবাসা পেতে থাকি।
উৎসব উদযাপন নিয়ে আমি সবসময়ই আবেগপ্রবণ
ভারতে এত উৎসব আছে যে সারা বছর ধরেই এগুলো উদযাপন করা হয় এবং এটা আমার জন্য আনন্দের বিষয়। কারণ, প্রতিটি উৎসবই আমাকে ইতিবাচক শক্তি জোগায়। শুধু আমি নই, উৎসব এলে সবাই খুশি হয়। যেমন এই দীপাবলিতে সবাই মিলে আনন্দ করলেন এবং আমিও খুব আনন্দ উপভোগ করেছি পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। ব্যক্তিগত ভাবে, আমিও উৎসব উদযাপন খুব পছন্দ করি এবং খুব আনন্দ উপভোগ করি। কারণ, উৎসব সম্পর্কগুলোকে আরও মজবুত করে।
—আরতি সাক্সেনা





