একদিকে অভিজাত পরিবারের শিক্ষিত মেয়েরা ছেলেদের সমান হয়ে উঠছে, অন্যদিকে, কিছু অভিজাত পরিবারের মেয়েদের মানসিকতা এখনও সেই প্রাচীন যুগে পড়ে আছে। পুজো এবং তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে ওদের জীবনযাপন।

সমস্যা তৈরি হচ্ছে সেইসব মেয়েদের, যারা তাদের শিক্ষা এবং প্রতিভার অস্তিত্বকে প্রকাশ করতে চান। তারা বিয়ের পরেও স্বাধীন ভাবে জীবনযাপন করতে চান, উপযুক্ত মর্যাদা পেতে চান, বাড়ি, সম্পত্তি, দোকান কিংবা শিল্প ক্ষেত্রে নিজের আসন প্রতিষ্ঠা করতে চান।

আজকাল, কিছু আদালত বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় পরিপূর্ণ, আবার কিছু আদালত মেয়েদের অধিকার মূল্যায়ন করতে চায়। আগামী দশকগুলিতে যদি কিছু বড়ো শিল্প প্রতিষ্ঠান মেয়েদের হাতে চলে যায়, তাহলে তা লড়াকু মেয়েদের প্রেরণা জোগাবে এবং কুচক্রীরা জব্দ হবেন। সমস্যা হল, মেয়েরা স্কুল- কলেজে পড়াশোনা করলেও, কিছু পরিবারের মেয়েরা ধর্মীয় সংকীর্ণ চিন্তাভাবনা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিজ্ঞান-স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পরও, তাকে সেইসব মন্দিরে যেতে দেখা যায়, যেখানে নারীদের সবসময় দাসত্ব করতে শেখানো হয়। আর এই মন্দিরগুলির মালিকদের অনেক ভক্তই বড়ো-বড়ো শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এবং শিক্ষিত, তবুও তারা ভণ্ডামিতে তাদের চিন্তাভাবনা নষ্ট করেন।

অনেক পুরুষ কূটনীতির এক রূপ হিসেবে ধর্মের সাহায্য নেন, ধর্মের সাহায্যে তারা শত শত রাজনীতিবিদদের থেকে সুযোগ-সুবিধা নেন। সেইসঙ্গে, ধর্মের আড়ালে তারা তাদের ব্যক্তিগত পাপকে পুণ্যে পরিণত করতে চান। আর সেই ধর্মই তাদের ঘরের স্ত্রী, মা, বোন এবং কন্যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শেখায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই যে, এই কৌশলগুলো মেয়েরা বুঝেও বুঝতে পারেন না কিংবা বলা যায় পুরুষদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

তাই, আদালত কিংবা বোর্ড মিটিংয়ে পুরুষদের সামনে মেয়েদের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ তাদের বাবা এবং স্বামী পুরো পরিবারের উপর যে কঠোর ও দুর্বল মানসিকতা চাপিয়ে দেন, তা থেকে বেরিয়ে আসতে এখনও প্রজন্মের পর প্রজন্ম সময় লাগবে। ছেলেরা এগুলো থেকে উপকৃত হয় কিন্তু মেয়েদের অবচেতন মনে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে সৃষ্ট দুর্বলতা নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।

যাইহোক, এখন সব বড়ো শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব মন্দির তৈরি করছে অথবা গোপনে কিছু মন্দির কিনেছে। আর দুর্ভাগ্য এটাই যে, সাধারণ মেয়েরা আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে হেরে যান, কারণ তারা রান্নাঘরে এবং ধর্ম-প্রতিষ্ঠানে বেশি সময় ব্যয় করেন।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...