পৌর-নিগমগুলি আবাসিক এলাকার দোকান, অফিস, কোচিং সেন্টার এবং ছোটো-বড়ো কারখানা খুললে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কিন্তু তারা তখনই ব্যবস্থা নেয়, যখন ৫০০ বাড়ির একটি কলোনির মধ্যে ১০০টি বাড়িতে দোকান এবং অফিস খোলা হয়। আসলে, আবাসিক এলাকা হল বাসিন্দাদের ‘নিরাপত্তা- বেলুন’, যেখানে বাণিজ্যিক কার্যক্রম একটি পিন হিসেবে কাজ করে এবং নিরাপত্তা নষ্ট করে।

দিল্লির কাছে গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ ১, ২, ৩-এ, ৮০০টি বাড়িতে দখল এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসন যখন ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে, তখন সবাইকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতদিন পৌর-নিগম এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা কি তাহলে ঘুমিয়ে ছিলেন? তারা কেন রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় কমার্শিয়াল দখলদারি বন্ধ করেননি আগে?

দিল্লিতে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক সাভারওয়াল একসময় আবাসিক বাড়িতে বাণিজ্যিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করেছিলেন, কিন্তু ১০ বছর পর, পরিস্থিতি আবার একই রকম হয়ে গেছে। কয়েক বছর বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখার পর, কিছু টাকা দিয়ে সমস্ত দোকান আবার সাজিয়েগুছিয়ে চালু করে দিয়েছে। অবশ্য শুধু দিল্লিতেই নয়, অনেক বড়ো শহরেই ঘটছে এমন ঘটনা। জয়পুরের “সি’-স্কিম আবাসিক কলোনি বড়ো শোরুমের জায়গা হয়ে উঠেছে। এতে, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তারাই আসলে তাদের ঘরকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। তাই তারা তাদের সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে পারছেন না।

ভেবে দেখুন, যারা শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন, তারা যদি কোন জমির কী চরিত্র হবে সে সম্পর্কে নিয়ম তৈরি না করে থাকেন তাহলে তো এর পরিণতি সহজেই অনুমেয়। আবার যখন তারা নিয়ম তৈরি করেন যে, এই এলাকাটি আবাসিক, এটি বাণিজ্যিক, এটি শিল্পের জন্য নির্ধারিত, তখন তো সেই নিয়ম বা আইন কঠোর ভাবে বলবৎ করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, এমন আইন করা উচিত, যে এলাকাটি আবাসিক এলাকা হিসাবে নির্ধারণ করা হবে, পরেও সেই জমি কিংবা বাড়ির মালিকরা অর্থের লোভে অন্য মালিকদের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অনুমতি দিতে পারবেন না। শুরুতে যখন একশো ক্রেতার মধ্যে একশোজনই আবাসিক এলাকার সম্মতি দিয়েছিলেন, তখন তারাও যদি নিয়ম ভাঙেন, তাহলে তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত।

আসলে, সাধারণ গরীব নগরবাসীর ক্ষমতাও নেই অসংখ্য বাণিজ্যিক জমির মালিকদের বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করার। তাই, হয়তো আজ কিংবা কাল, লোটাকম্বল গুটিয়ে, তাদের স্ত্রী- সন্তানদের নিয়ে ছাড়তে হবে বাসস্থান। এর জন্য দায়ী প্রশাসন। তাদের অদক্ষতা কিংবা অকর্মণ্যতার কারণেই আসলে এই করুণ পরিণতি।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...