জে কুইনের প্রথম সংগীত জগতে অভিষেক ঘটে তাঁর বাবার কাছ থেকে, যিনি আমেরিকান গায়ক এবং নৃত্যশিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের একজন বিশাল ভক্ত ছিলেন। তিনি কুইনের স্কুলে এবং তাঁর নিজের পাড়ার অনুষ্ঠানে জ্যাকসনের গান পরিবেশন করতেন।

‘আমিও মাইকেল জ্যাকসনের একজন পাগল ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম’, জে কুইন জানান আবেগের সঙ্গে। একজন শিক্ষকের উৎসাহে, জে কুইনও প্রকাশ্যে গান গাওয়া শুরু করেছিলেন। একসময় তিনি হিপ হপের জগতের সঙ্গে পরিচিত হন ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে। তাঁর প্রিয় শিল্পীদের মধ্যে একজন ছিলেন নিকি মিনাজ, তিনি একজন ত্রিনিদাদীয়ান র‍্যাপার এবং গায়িকা, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

‘আমি আগে ছেলেদের র‍্যাপ করতে দেখতাম, কিন্তু এই নিকি মিনাজ একটু আলাদা।’ জে কুইন সেই দিনগুলোর কথা মনে করে আরও জানান, ‘আমিও ভেবেছিলাম আমারও এরকম কিছু করা উচিত। তাই আমি তাদের গানের কথাগুলো নকল করতাম এবং একাই অনুশীলন করতাম। নিজে থেকেই বিটবক্সিং শিখেছি আমি। এ এমন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে শিল্পীরা ড্রামের শব্দ অনুকরণ করতে পারেন।’

একবার, যখন জে কুইনকে ক্লাসে দেরি করে আসার শাস্তি হিসেবে কিছু পরিবেশন করতে বলা হয়েছিল, তখন তাঁর বন্ধুরা জানতে পেরেছিল যে, তিনি র‍্যাপ করতে পারেন। তখন তাঁকে বন্ধুরা উৎসাহিত করেছিল।

হিপ-হপ দলের আরেক বন্ধু জে কুইনকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের বিখ্যাত জ্যামাইকান গায়ক ও গীতিকার বব মার্লির নামের এক জায়গায় নিয়ে যান। এটি বব মার্লির মন্দির নামে পরিচিত ছিল। আসলে, গিটার বাদক হরপাল সিং-এর মালিকানাধীন একটি কর্মশালা ছিল। তিনি তরুণ সংগীত শিল্পীদের জন্য তাঁর কর্মশালা উন্মুক্ত রেখেছিলেন, যাতে তারা এখানে মিলিত হয়ে অনুশীলন করতে পারে। জে কুইন স্মরণ করেন যে, হরপাল সিংয়ের কারণেই তিনি ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’ এবং সুইডিশ পপ গ্রুপ ‘এব্বা’-র সংগীত শুনতে শুরু করেছিলেন। জে কুইন কর্মশালায় র‍্যাপারদের সঙ্গে দেখা করেন, যাদের মধ্যে একজন পুরুষ ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে পারফর্ম করতে শুরু করেন।

জি কুইনের বাবা-মা চেয়েছিলেন আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য তিনি ৯টা-৫টার চাকরি করুন। তাই প্রায় ৬ বছর ধরে তাঁকে খুব কঠিন রুটিন অনুসরণ করতে হয়েছিল। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে, এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে একটি রিয়েল এস্টেট ফার্মে তাঁকে চাকরিতে যেতে হতো। সেখান থেকে, তিনি তাঁর দলের সঙ্গে অনুশীলনের জন্য আরও দেড় ঘণ্টা সফর করতেন এবং এর জন্য বাড়ি ফিরতে দেরি হলে মা-বাবার বকুনি খেতে হতো।

‘আমি এটা তাঁদের (বাবা-মা) জন্য করছিলাম এবং নিজের জন্যও করছিলাম।’ জে কুইন আরও বলেন, “আমি যা করছিলাম তা উপভোগ করছিলাম।’ জে কুইন যখন পরিচিতি পেতে শুরু করলেন, তখন অন্যান্য ক্রু সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করতে শুরু করলেন। অবশেষে, তাদের একজন জে কুইনকে দল ছেড়ে চলে যেতে বললেন। এরপর কয়েক বছর ধরে জে কুইন একা গান গাইতে থাকলেন। কিন্তু তখন তিনি কেবল নিজের জন্যই গান গাইতেন।

অভ্যাস নয়, আবেগ

ইতিমধ্যে, আরেকজন তরুণী ভিন্ন মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠস্বর খুঁজে পাচ্ছিলেন। প্রীতির কাছে লেখালেখি সবসময়ই আবেগ প্রকাশের একটি মাধ্যম ছিল। বোর্ডিং স্কুলে পড়ার সময়, তাঁকে প্রতি সপ্তাহে তাঁর বাবা-মাকে একটি চিঠি লিখতে হতো। বড়ো হওয়ার পর এই অভ্যাসটি নিয়মিত ডায়েরি লেখায় পরিণত হয়। ধীরে ধীরে প্রীতি বুঝতে পারেন যে, শব্দ নিয়ে কাজ করা কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং তাঁর আবেগ ছিল।

‘আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং আমার বাবা-মা সবসময় ভাবতেন যে, আমিও অবশেষে ব্যাবসা করব, যার সঙ্গে অনেক সুযোগ-সুবিধা এবং বিশেষ সুবিধা রয়েছে।’ নিজের সম্পর্কে জানান প্রীতি।

‘তখনও কিছু বিধিনিষেধ ছিল, আমি যা চাইতাম তা বাড়িতে কখনও শোনা যেত না। আমি কখনও নিজেকে শিল্পী হিসেবে দেখিনি, আমি সবসময় নিজেকে অবমূল্যায়ন করেছি।’ —জানান প্রীতি।

প্রায় ৭ বছর আগে যখন তিনি হিপ হপের জগৎ আবিষ্কার করেন, তখন সংগীত সত্যিই তাঁর জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তারপর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটা করা যেতে পারে এবং তিনি সবসময় এটাই করতে চেয়েছিলেন।

প্রীতি এমন এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে নারী পরিবেষ্টিত পরিবেশ ছিল। অনেক বোন ছিল এবং স্কুলের মেয়েদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। যখন তিনি খুব ব্যস্ত থাকতেন, তখন তাঁর মনে হয়েছিল, মেয়েদের চাই। তাঁর প্রথম র‍্যাপটি সম্পর্কে জানান, ‘এটি সেই মেয়েদের জন্য, যারা হিপ-হপ বোঝে।’

প্রীতি যখন শুরু করেছিলেন, তখন তিনি ছেলেদের একটি দলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল না। তবে তিনি যে পথে ছিলেন, তা সঠিক ছিল কিনা তা তিনি জানতেন না। তিনি সবসময় বিচলিত থাকতেন। কিন্তু প্রীতির স্বপ্ন ছিল যে, তিনি মেয়েদের একটি দল তৈরি করবেন।

জীবনের ভালো সিদ্ধান্ত

ক্রান্তিনারী এবং জে কুইন হিপ-হপ “গিগ” থেকে একে অপরকে চিনতেন এবং পূর্বে তাঁরা সম্পূর্ণ মহিলা দলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। এরপর ক্রান্তিনারী জে কুইন-কে ফোন করে জানালেন যে, তিনি এবং প্রীতি যে সাইফার তৈরি করছেন, জে কুইন তাতে যোগ দেবেন কিনা৷

কিন্তু সত্যি বলতে কী, জে কুইন প্রথমে এই বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। এরপর জে কুইন এক বন্ধুর কাছে পরামর্শ চেয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয়, ক্রান্তিনারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়াটা আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত ছিল।’

অন্যদিকে ক্রান্তিনারী এবং প্রীতি স্মরণ করেন যে, “ওই উদ্যোগে বেশিরভাগ উত্তরই ছিল হ্যাঁ এবং না-এর মাঝখানে। কিছু উত্তর এত সংক্ষিপ্ত ছিল যে, আমরা বুঝতে পারছিলাম না যে, ফাইনালি নতুন দল গড়া সম্ভব হবে কিনা। কিন্তু ফাইনালি বেশিরভাগ তরুণী এসে যোগ দিয়েছিলেন নতুন দলে।’

(ক্রমশ…)

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...