আমেরিকান শুল্কনীতির প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। তাই হয়তো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চিনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে চিনের সমালোচনায় মুখর ছিলেন নরেন্দ্র মোদী।
এটা এমন একটা সময়, যখন আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত চিন থেকে পণ্য আমদানি করছে এবং প্রতিটি বাড়িতে, এমনকী যেসব বাড়িতে গেরুয়া পতাকা উড়ছে, সেখানেও কয়েক ডজন পণ্য পাওয়া যাবে, যা চিনের তৈরি। ভারতে অনেক জিনিস তৈরি হয়, কিন্তু কাঁচামাল কিংবা পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত মেশিনগুলিও চিন থেকে আসে। উল্লেখ্য, চিন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি করে ভারত।
আজকাল, আপনি যদি কোনও পাইকারি বাজারে যান, তাহলে আপনি প্রচুর প্যাকেটজাত চিনা পণ্য দেখতে পাবেন। অনেক পণ্যের নাম ছাড়াই আসে অথবা চিনা নির্মাতারা তাদের উপর ভারতীয় ব্র্যান্ডের লেবেল সেঁটে দেয়। আসলে সস্তা হওয়ার কারণে চিনা পণ্য পেয়ে খুশি অনেক ভারতীয় এবং এতে কোনও শত্রুতার গন্ধ পান না কেউই। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্ক বিরোধের আগে, শাসক দল চিনকে শত্রু হিসাবে বিবেচনা করত।
এখন এটা স্পষ্ট যে, ভারতের নেতারা ভীত এবং চিনের হাত ধরে আছেন। যদি সত্যিই চিনের সমালোচনা করতেই হয়, তাহলে প্রথমে চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের অবসান ঘটানো উচিত।
দীর্ঘ ঝগড়ার পর যদি দুটি পক্ষকে মিটমাট করতে হয়, তাহলে প্রথমেই করণীয় হল, ঝগড়ার কারণ খুঁজে বের করা। যদি এক ঘর থেকে ধোঁয়া বা নোংরা জল অন্য ঘরে ঢুকে পড়ে, তাহলে প্রথমে তা বন্ধ করে বিবাদের নিষ্পত্তি ঘটাতে হবে।
যদি এক বাড়ির লোকেরা অন্য বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করাকে তাদের অধিকার বলে মনে করে এবং আপত্তি জানানোর পরেও কার-পার্কিং বন্ধ না করে, তাহলে বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে প্রতিবেশীর সাহায্য চাইতে পারে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্পও কোনও কারণে নরেন্দ্র মোদীর উপর রেগে গিয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও বিদেশে নরেন্দ্র মোদীর দলের সমর্থকরা প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিলেন।
চিনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করে ভারতের কোনও লাভ হবে না। কারণ, চিন এমন একটি প্রতিবেশী দেশ, যার প্রচুর সম্পদ রয়েছে, কিন্তু আদর্শ নেই। আর ভারতের জমি আছে, জনসংখ্যাও অনেক, কিন্তু বেশিরভাগ ভারতীয়র পকেট খালি। আসলে, নিম্নমানের পণ্য বিক্রির জন্য একটি বাজারের প্রয়োজন এবং এই বাজার রয়েছে আমাদের দেশে।
মনে রাখবেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ আছেন এবং আগামীকাল পদে বহাল নাও থাকতে পারেন। তাই, তাঁর শুল্কনীতি আজ আছে এবং আগামীকাল হয়তো থাকবে না। অতএব, এই মুহূর্তে আমেরিকার বিষয়টি ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয় কিন্তু চিনের সঙ্গে স্বার্থের বন্ধুত্বের জন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে ভবিষ্যতে। চিন ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল এবং ওই সময় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। আসলে, চিন এক দোকানদার, পণ্যের প্রস্তুতকারক, তাই ওরা বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখতে পারবে না। ওরা হয়তো জানেই না যে, বন্ধুত্ব কতটা দামি।





