বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এখন অনেক দেশের অভিভাবকরা বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠানে আত্মরক্ষার (সেলফ ডিফেন্স) ক্লাসে যোগ দিচ্ছেন। এই বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের গুণ্ডা, চোর কংবা হিংস্র লোকেদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নয়, বরং তাদের নিজেদের হিংস্র হয়ে ওঠা সন্তানদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আত্মরক্ষার কৌশল শিখছেন। আমেরিকার মতো অন্যান্য দেশেও, হিংস্র হয়ে ওঠা সন্তানদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে এবং সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে সন্তান কষ্ট পাবে ভেবে পুলিশের সাহায্যও নিতে পারছেন না অসহায় বাবা-মায়েরা।
ভারতেও বাবা-মায়েরা খুব বেশি নিরাপদ নন, তবে এখানে এই ধরনের ঘটনাগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চাপা পড়ে যায়। ইংল্যান্ডে এই গোপন রহস্য উন্মোচিত হয় যখন একজন মহিলা তার বহুতল ভবনের সেলফ ডিফেন্স এক্সপার্ট দারোয়ানের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। এই ঘটনা প্রচারের আলোয় আসতেই, ধীরে ধীরে, অনেক ক্লায়েন্ট ওই দারোয়ানের কাছে আসতে শুরু করেন।
যারা সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত, সেইসব অভিভাবকদের পরামর্শ প্রদান করে লন্ডন-ভিত্তিক একটি ছোটো সংস্থা ‘প্যারেন্টাল এডুকেশন গ্রোথ সাপোর্ট” এবং দেখা গেছে, গত তিন বছরে সন্তানদের হিংসামূলক আচরণে বিপদগ্রস্ত অভিভাবকদের সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে। আমাদের এখানে এমন অনেক ঘটনা আছে যেখানে মাদকাসক্ত সন্তানরা কেবল তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে জোর করে টাকা নেয় না, এমনকী কখনও কখনও সম্পত্তি বিক্রির জন্য কাগজপত্রেও স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে। এমনকী, কয়েকটি হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
এই প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার, পরিবার এখনও একটি দুর্দান্ত সুরক্ষামূলক ছাদ। যার নীচে নিশ্চিন্তে আশ্রয় নেওয়া যায়। কারণ, সমাজ পরিবারে নাক গলাতে পারে না, যতক্ষণ পরিবারে স্বাভাবিকতা বজায় থাকে। কিন্তু কোনও পরিবারে যখন স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়, অর্থাৎ কোনও হিংসামূলক ঘটনা ঘটে, তখন সমাজ সেই পরিবারে ঢুকে পড়ে এবং পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে।
আমাদের ধর্মীয় আদর্শে পরিণত হওয়া অর্ধেকেরও বেশি দেব-দেবীর হাতে রয়েছে অস্ত্র। রামের হাতে রয়েছে তির-ধনুক, শিবের হাতে রয়েছে ত্রিশুল, নারায়ণের হাতে রয়েছে চক্র, দুর্গা এবং কালীর হাতও অস্ত্রে ভরা।





