ইয়ামি শুধু সফল অভিনেত্রীই নন, মহিলাদের অধিকার আদায়ের একজন সোচ্চার সমর্থকও। সম্প্রতি তিনি ‘গৃহশোভা’-র সঙ্গে শেয়ার করলেন তাঁর সংগ্রাম এবং সাফল্যের কাহিনি। আজ দ্বিতীয় পর্ব।
কিছু আক্ষেপ
অভিনয়ের জন্য আমি আরও পুরস্কার পেতে পারতাম, কিন্তু পাইনি। তাই আমি হতাশ। আমার অভিনয় জীবনে আমি এমন কিছু ছবি করেছি, যার জন্য আমি পুরস্কার পাওয়ার আশা করেছিলাম। যেমন ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ছবিতে আমার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। সেই সময়, আমি ভেবেছিলাম, এই ছবির জন্য আমি একটি পুরস্কার জিতব, কিন্তু কিছুই হয়নি। সেই সময় আমি খুবই হতাশ হয়েছিলাম। যদিও আমার প্রথম ছবি ‘ভিকি ডোনার’-এর জন্য আমি ‘বেস্ট ডেবিউ অ্যাকট্রেস’-এর পুরস্কার জিতেছিলাম। কিন্তু তারপরও বেশ কয়েকটি ছবিতে ভালো অভিনয় করেও আমি কোনও পুরস্কার পাইনি।
একজন শিল্পীর জন্য, পুরস্কার হল প্রতিভার স্বীকৃতি এবং উৎসাহ পাওয়ার বিষয়। অতএব, প্রায় প্রতিটি শিল্পীই তাঁদের অভিনয়ের জন্য পুরস্কার গ্রহণ উপভোগ করেন। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল— জনসাধারণের কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়া। কারণ, জনসাধারণের কাছ থেকে ভালোবাসা-ই দীর্ঘ সময় ধরে চলচ্চিত্রে থাকতে সাহায্য করে। আমি ১২ বছর ধরে হিন্দি ছবিতে সক্রিয় এবং ভালো অভিনয় করে দর্শকদের থেকে প্রশংসা পেয়েছি। এটাও আমার জন্য স্বস্তির কারণ।
পরিচালনার বিষয়ে
বর্তমানে, চলচ্চিত্র পরিচালনার কোনও ইচ্ছে নেই। কারণ আমার অগ্রাধিকার হল আমার স্বামী, সন্তান এবং অভিনয়ের যত্ন নেওয়া। তাছাড়া, আমার স্বামী আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা B62 স্টুডিও নিয়েও ব্যস্ত থাকি। ‘ধুরন্ধর’ ছবিটির সাম্প্রতিক মুক্তির পর, আমি এখন আমার পরবর্তী ছবি ‘ধুমধাম’ নিয়ে ব্যস্ত আছি। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি B62 স্টুডিওর সঙ্গে জড়িত আছি এবং যতটা সম্ভব সহায়তা করি।
চরিত্র নির্বাচন প্রসঙ্গে
আমি আমার অভিনয় জীবনে খুব বেশি ছবি করিনি। কিন্তু আমি যে-সব চরিত্রে অভিনয় করেছি, দর্শকরা আমার সেইসব অভিনীত চরিত্রগুলি মনে রেখেছেন। আমার প্রথম ছবি ‘ভিকি ডোনার’ হোক কিংবা সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হক’, আমি সবসময় আমার ছবির মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছি। এর পিছনের মূল কারণ হল, আমি যখনই কোনও ছবিতে অভিনয় করি, তখন আমার মনোযোগ থাকে ছবির গল্প এবং আমার চরিত্রের উপর। আমি এমন অনেক ছবি প্রত্যাখ্যান করেছি, যার গল্প দুর্বল ছিল কিংবা আমার জন্য নির্ধারিত চরিত্রটি শক্তিশালী মনে হয়নি।
যদি কোনও ছবিতে আমার ভূমিকা ছোটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং গল্পটিও শক্তিশালী হয়, তাহলে আমি সেই ভূমিকাটিও করতে রাজি। যেমন রাম গোপাল ভার্মার ‘সরকার ৩’ ছবিতে আমার ভূমিকা খুব বড়ো ছিল না, কিন্তু শক্তিশালী ছিল। তাই, আমি ‘সরকার ৩’ ছবিতে একটি ছোটো চরিত্র জেনেও গ্রহণ করেছি। এরকম আরও কিছু ছবি আছে, যেখানে আমি প্রধান অভিনেত্রী ছিলাম না, কিন্তু ভূমিকাটি ভালো ছিল, তাই আমি তা প্রত্যাখ্যান করিনি।
প্রিয় সিনেমা প্রসঙ্গে
যদিও আমার প্রতিটি ছবিই আমার হৃদয়ের খুব কাছের, কিন্তু আয়ুষ্মান খুরানার সঙ্গে আমার প্রথম ছবি ‘ভিকি ডোনার’ আমার প্রিয় ছবি। কারণ, এটি আমার প্রথম হিন্দি ছবি এবং এই ছবির পর আমার কেরিয়ার অনেক এগিয়েছে। এই ছবিগুলি ছাড়াও, ‘ওএমজি ২’ যেখানে আমি একজন আইনজীবীর ভূমিকায় অভিনয় করেছি এবং ‘হক’ ছবিতে মুসলিম নারীদের অধিকারের জন্য লড়াই করা এক নারী চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। আর এই দুটি ছবিই সমাজকে একটি শিক্ষামূলক বার্তা দিয়েছে। তাই আমি এই ছবিগুলিতে কাজ করে আনন্দ উপভোগ করেছি।
এই ছবিগুলি ছাড়াও, হৃতিক রোশনের সঙ্গে ‘কাবিল’ ছবি, দেশপ্রেমের উপর ভিত্তি করে তৈরি ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ (আমার স্বামী আদিত্য ধরের ছবি), প্রতিশোধের অনুভূতি কেন্দ্রিক ‘বদলাপুর’ আমার প্রিয় ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে। এই ছবিগুলিতে কাজ করে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।
দীপিকাকে সমর্থনের বিষয়ে
৮ ঘণ্টা কাজ করার বিষয়ে দীপিকা পাড়ুকোনকে সমর্থন করেছেন ইয়ামি গৌতম৷ সম্প্রতি, দীপিকা পাড়ুকোন কিছু ছবি ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ দীপিকার শর্ত ছিল যে, তাঁর নবজাতক সন্তান এবং পরিবারের দায়িত্বের কারণে, তিনি কোনও ছবিতে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না৷ প্রযোজকরা এই শর্ত মেনে না নেওয়ার কারণে, দীপিকা কিছু বড়ো ছবিতে কাজ করতে অস্বীকার করেন। যেহেতু ইয়ামিও একজন সন্তানের মা, তাই সম্প্রতি যখন ইয়ামি গৌতমকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন ইয়ামি গৌতম দীপিকা-র সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, এটি একজন অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজকের বোঝাপড়ার উপর নির্ভর করে।
প্রত্যেক ব্যক্তি তার সুবিধা-অসুবিধা দেখে-বুঝে নিয়ে কাজ করেন। তাই দীপিকা কিংবা প্রযোজকদের সিদ্ধান্তের বিষয়টিকে ইস্যু করা ভুল হবে। কারণ, প্রতিটি মা তাঁর সন্তানদের জন্য সময় বের করতে চান এবং এটি তাঁর অধিকার। নায়িকা হওয়ার পাশাপাশি যেহেতু তিনি একজন মা এবং একজন স্ত্রীও, যার কারণে তাঁর বাড়ির প্রতিও দায়িত্ব রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাজ এবং পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নিজের শর্তে কাজ করা অপরিহার্য। আবার প্রযোজকরা তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থে নিজের মতো করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই সিদ্ধান্তের বিষয়েও না জেনে কিছু বলা উচিত হবে না।
(ক্রমশ…)





