অভিনয় প্রতিভাকে মাধ্যম করে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। তবে ইয়ামি শুধু সফল অভিনেত্রীই নন, নারীদের অধিকার আদায়ের একজন সোচ্চার সমর্থকও। সম্প্রতি তিনি ‘গৃহশোভা’-র সঙ্গে শেয়ার করলেন তাঁর সংগ্রাম এবং সাফল্যের কাহিনি।

প্রাথমিক সংগ্রাম প্রসঙ্গে

বলিউডে পক্ষপাতের কারণে প্রথম দিনগুলিতে আমাকে সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আমার কেরিয়ারের প্রথম দিকে, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, চলচ্চিত্র শিল্পের বাইরে থেকে আসা শিল্পীদের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের তুলনায় কাজ পেতে বেশি সংগ্রাম করতে হয়। প্রথম দিকে আমাকেও সিনেমায় কাজ পেতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছিল। আমার প্রথম ছবি ‘ভিকি ডোনার’-এর সাফল্যের পরেও, অন্যান্য নায়িকাদের মতো আমাকে অসংখ্য ছবির জন্য অডিশন দিতে হয়েছিল। কিন্তু তারপরও, আমি হাল ছাড়িনি এবং অধ্যবসায়ের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাই।

অবশেষে, যখন আমি হৃতিক রোশনের সঙ্গে ‘কাবিল’ ছবিটি পেলাম, তখন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম এবং অনুভব করেছিলাম যে, , ধীরে ধীরে হলেও আমি সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করেছি এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছি। আর এর থেকে আমি যা শিখেছি তা হল, যদি আপনার কাজ ভালো হয় এবং আপনার কাজের প্রতি আপনি সৎ থাকেন, তাহলে কেউ আপনার সাফল্য আটকাতে পারবে না।

প্রেম এবং বিবাহের বিষয়ে

‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সিনেমার সময় আদিত্য ধরের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। ছবির প্রচারের সময় থেকেই আমাদের বন্ধুত্বের শুরু, যা পরে প্রেমে পরিণত হয়। আমরা দুই বছর ধরে বন্ধু ছিলাম, তাই আমরা আমাদের পরিবারকে জানিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম। যখন আমি আদিত্যকে আমার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম, তাঁরা আমার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন।

কিন্তু আমার ঠাকুমা বলেছিলেন যে, হিমাচলের প্রথা অনুসারে বিয়ের আগে ‘আশীর্বাদ’ অনুষ্ঠান হয় না, তাই আমাদের সরাসরি বিয়ে করতে হবে। সেই সময়, আদিত্য আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি কি সরাসরি বিয়ের জন্য প্রস্তুত? আমি রাজি হয়ে গেলাম এবং কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই, আমরা ২০২১ সালের ৪ জুন বিয়ে করলাম। বিয়েটা এত অল্প সময়ের নোটিশে হয়ে গেল যে, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।

আমাদের বিয়ে এত তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল যে, আমি নিজেই আমার বিয়ের মেক-আপ করেছিলাম এবং বিশেষ ভাবে আমার ঠাকুমার দেওয়া হিমাচলি আংটিটি পরেছিলাম। আমাদের বিয়েতে খুব কম লোকই উপস্থিত ছিল, তাই আমার বিয়েটা খুব সাধারণ ভাবে হয়েছিল। কিন্তু, হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুরে আমার পরিবারের সামনে প্রায় সমস্ত রীতিনীতি মেনে হয়েছে।

প্রসঙ্গত ইয়ামি জানিয়েছেন যে, আদিত্যকে একজন শান্ত, ধৈর্যশীল এবং শ্রদ্ধাশীল পরিচালক হিসেবে পেয়েছি। শুধু স্ত্রী হিসেবেই নয়, একজন অভিনেত্রী হিসেবেও আমি বলতে পারি যে, আদিত্য ধর সেইসব পরিচালকদের মধ্যে একজন, যিনি সম্মান খোঁজেন না, বরং তাঁর কাজের মাধ্যমে তা অর্জন করেন। ব্যক্তিগত ভাবে, আদিত্য খুবই শান্ত স্বভাবের মানুষ। আমি তাঁকে কখনও মেজাজ হারাতে দেখিনি। কঠিন সময়েও সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করে।

ভারসাম্য প্রসঙ্গে

অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও, আমি সবসময় পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন এবং অভিনয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছি। অভিনয় সবসময়ই আমার নেশা, তাই কখনও অভিনয় ছাড়ব না, এটাই আমার সিদ্ধান্ত। বিয়ের পরেও, আমি আমার অভিনয় কেরিয়ারকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছিলাম। কারণ অভিনয় আমার নেশা। বিয়ের পর যখন একজন মহিলা মা হন, তখন তিনি অনেক কিছু পিছনে ফেলে আসেন। কারণ বিবাহের সঙ্গে পরিবার, সন্তান এবং স্বামীর যত্ন নেওয়ার বিষয়টি এসে যায়। কিন্তু যদি আমি নিজের কথা বলি, তাহলে আমার স্বামী আদিত্যের কারণে, আমি কখনই বুঝতে পারিনি যে, আমি বিবাহিত এবং একটি সন্তানের মা হয়েছি।

এর পিছনে বিশেষ কারণ হল, আদিত্যের পরিবার, আমার মা এবং আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে পূর্ণ সমর্থন করে চলেছেন অভিনয়ের বিষয়ে। শ্যুটিংয়ে যাওয়ার সময় অথবা বাচ্চাটিকে বাড়িতে একা রেখে যাওয়ার সময়, বাচ্চার যত্নের বিষয়ে আমার কোনও টেনশন ছিল না। কারণ আমার মা সবসময় আমার ছেলের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করেছেন। আদিত্য এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আন্তরিক সাহায্য করেছেন। তাই আমার ছেলে কখন বড়ো হয়ে গেল, তা আমি বুঝতেও পারিনি।

ছেলে বেদবিদ-এর জন্মের পর পরিবারের সদস্যদের আন্তরিক সাহায্যের কারণে আমার কোনও টেনশন ছিল না। তাই, আমি আমার কাজ এবং মাতৃত্বের কর্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছি। আর মা হওয়ার পরেও আমি সিনেমায় অভিনয় করছি এবং পরিবার ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমার একশো শতাংশ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...