রাশিয়া ও চিনের আধিপত্য
দাবা খেলার এই অপ্রত্যাশিত সাফল্য আংশিক ভাবে কোভিড-১৯ মহামারির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ যখন গৃহবন্দি ছিল এবং বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, তখন তারা অনলাইন দাবা খেলায় সান্ত্বনা এবং মানসিক স্বস্তি খুঁজে পেয়েছিল। 2020 সালের অক্টোবরে, নেটফ্লিক্স ‘দ্য কুইন্স গ্যাম্বিট’ সম্প্রচার করে, যা একজন প্রতিভাবান মহিলা দাবা খেলোয়াড়ের অস্থির যাত্রার উপর ভিত্তি করে একটি সিরিজ ছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, এক মাসের মধ্যে সিরিজটি ৬২ মিলিয়ন “ভিউজ’ অতিক্রম করেছিল। তারপর থেকে, বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন দাবা সম্প্রদায়, Chess.com-এর মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২২ সালের এপ্রিলের মধ্যে ৮০ লক্ষ থেকে বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষে পৌঁছেছে।
‘আমার সময়ের তুলনায়, এখন ১৪-১৫ বছর বয়স যে-কোনও খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। ১২-১৩ বছর বয়সের মধ্যে যদি তুমি গ্র্যান্ডমাস্টার না হও, তাহলে তুমি এটাকে কেরিয়ার হিসেবে এগিয়ে নিতে পারবে না।” জানিয়েছেন হাম্পি।
ফলস্বরূপ, টিন-এজ খেলোয়াড়রা আরও তীক্ষ্ণ এবং আরও ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের অনুশীলনের সুযোগ আগের চেয়ে বেশি, তা সে অফলাইন টুর্নামেন্ট হোক কিংবা অনলাইন প্রতিযোগিতা।
‘অবশ্যই টিন-এজ খেলোয়াড়দের জ্ঞান এবং প্রস্তুতি বেশি থাকে। কারণ তারা দাবায় বেশি সময় ব্যয় করে। তারা আমার চেয়ে বেশি খেলছে, তাই তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’ প্রসঙ্গত জানিয়েছেন হাম্পি।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, তাঁর অভিজ্ঞতাই তাঁর সবচেয়ে বড়ো শক্তি। বছরের পর বছর ধরে খেলার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি আরও সমৃদ্ধ হয়েছেন।
হাম্পি জানিয়েছেন যে, তিনি এখন ‘চুজি’ হয়ে উঠেছেন এবং আগের তুলনায় কম টুর্নামেন্ট খেলেন। তাঁর অগ্রাধিকার এখন এমন প্রতিযোগিতা, যা তাঁকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করবে। তাই তিনি অনলাইন টুর্নামেন্টগুলিও এড়িয়ে চলেন।
অবস্থার পরিবর্তন
হাম্পি ২০২৪ সালে প্রায় ৮টি টুর্নামেন্ট খেলেছেন। এই বছর এখনও পর্যন্ত তিনি ৫টি টুর্নামেন্ট খেলেছেন এবং আরও কয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। যদিও তরুণ খেলোয়াড়রা সাধারণত এক পিরিয়ডে এক ডজন টুর্নামেন্ট খেলেন। তারা এখন ওপেন সার্কিট থেকেও বাদ পড়েছে, যার মধ্যে পুরুষ এবং মহিলা উভয় খেলোয়াড়ই অন্তর্ভুক্ত।
যদিও হাম্পি পুরুষ এবং মহিলাদের খেলার ধরনে কিছু পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছিলেন, তবুও তিনি এই পার্থক্যগুলিকে শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন।
‘মহিলারা যা খেলে, বিশেষকরে ওপেনিং-এ, খুব বেছে বেছে। কিন্তু তারা যাই খেলুক না কেন, তারা এর জন্য খুব গভীর ভাবে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে প্রস্তুতি নেয়। হাম্পি প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, “পুরুষ খেলোয়াড়দের ওপেনিং ম্যাচ-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ অনেক বেশি হলেও, তারা আরও বেশি ঝুঁকি নেয় পরবর্তী ক্ষেত্রে।
মহিলাদের দাবা আজ আগের যে-কোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং এর দর্শকও আগের যে-কোনও সময়ের তুলনায় বেশি।
ইতিহাস সৃষ্টিকারী পাঁচটি উইমেন চেস ম্যাচের মধ্যে চারটি গত দুই বছরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এখনও খুব কম টুর্নামেন্টই আছে, যেখানে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পুরস্কারের অর্থ সমান। উদাহরণস্বরূপ, আন্তর্জাতিক চেস ফেডারেশন জর্জিয়ায় অনুষ্ঠিত মহিলা বিশ্বকাপের বিজয়ীর জন্য ৫০,০০০ ডলার পুরস্কার নির্ধারণ করেছিল। যেখানে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই খেলেন এমন উন্মুক্ত বিভাগের বিজয়ীর জন্য পুরস্কারের অর্থ ১,২০,০০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
“আগের তুলনা বাদ দিলে, পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। আগে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট ছিল না এবং পুরস্কারের টাকাও বেশি ছিল না। ৫,০০০ কিংবা ৬,০০০ ইউরো ভালো বলে বিবেচিত হতো। কিন্তু এখন আমন্ত্রিত মহিলাদের টুর্নামেন্টে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ ইউরো পেলেও খুশি হন না অনেকে। তাই, বলা যায়, এই ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু পুরুষদের আয়ের তুলনায় এটি এখনও অনেক কম। জানিয়েছেন হাম্পি।
—-ভাব্যা ডোৱে
(ক্রমশ…)





