ময়েশ্চারাইজারে ৩ ধরনের উপাদান থাকে এবং তাদের আলাদা আলাদা কাজ। সেগুলি জেনে রাখা আবশ্যক।
- হুমেকট্যান্টস ত্বকের ভিতরের পরত থেকে এবং বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে, ত্বকের উপরের পরত যাকে এপিডার্মিস বলা হয়, তাতে ময়েশ্চার বজায় রাখতে সাহায্য করে। হুমেকট্যান্টস-এ, গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (Hyaluronic Acid) এবং প্রোপাইলিন গ্লুকোজ উপস্থিত থাকে
- শিয়া বাটার, কোকো বাটার-এর মতো এমোলিয়েট্স ত্বকের উপরি পরত এপিডার্মিস-এ ক্র্যাকস সারিয়ে তুলতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে
- এক্সক্লুসিভ এজেন্টস-এর মধ্যে জেলি, ল্যানোলিন প্রভৃতি থাকার ফলে ত্বকের উপরের পরতে সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে, ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে।
গ্লিসারিন: ময়েশ্চারাইজারে গ্লিসারিন হল একটি উপকারী উপাদান। এটি বাতাস এবং ত্বকের নীচের পরত থেকে আর্দ্রতা শুষে নিয়ে ত্বককে হাইড্রেটেড রাখার কাজ করে।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড (Hyaluronic Acid): হুমেকট্যান্টস উপাদানে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড একটি বিশেষ তত্ত্ব, যেটি অধিকাংশ ভালো এবং ব্র্যান্ডেড ময়েশ্চারাইজারে পাওয়া যায়। এছাড়াও স্বাভাবিক নিয়মে এটি ত্বকেও থাকে, যার ফলে ত্বকে জলের মাত্রা এই অ্যাসিডই মেনটেইন করে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মাত্রা কমতে শুরু করে এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে বেশি আসার কারণে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুতরাং যদি আপনি বয়স্ক হন কিংবা বাড়ির বাইরে যাওয়া- আসা বেশি করতে হয়, তাহলে এমন ময়েশ্চারাইজার বাছুন, যেটি হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। কারণ বয়স বাড়লেও এটি ত্বক কোমল এবং মসৃণ রাখে।
শিয়া বাটার: এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান। শিয়া গাছের মধ্যে এটি পাওয়া যায়। এটি এক ধরনের এমোলিয়েট্স, যেটি ত্বককে সফ্ট ও স্মুদ করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ময়েশ্চার বজায় রাখতেও সাহায্য করে। শিয়া বাটার ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক সারিয়ে তুলে স্কিন টোন ইমপ্রুভ করে এবং ইয়ং লুক ধরে রাখতেও সহায়তা করে। এছাড়াও মুখে র্যাশ, লালচে ভাব অথবা ফোলা ও জ্বালা ভাব দূর করতেও সাহায্য করে।
পেট্রোলিয়াম জেলি: এটি একটি বিশেষ উপাদান যেটি ত্বকে সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। যার ফলে ত্বকের আর্দ্রতা বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না। ত্বকের আর্দ্র ভাব ধরে রাখতে স্নানের পর পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানো আবশ্যক৷
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রিচ: অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার বাছুন, কারণ এটি ত্বকের মৃত কোশ সরিয়ে ত্বক করে কোমল এবং বলিরেখা থেকেও ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সময়
- স্নানের পর ত্বক একটু ভিজে থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান, তাতে রেজাল্ট আরও ভালো হবে
- ত্বক যদি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়, তাহলে অ্যাসিডহীন এবং গন্ধছাড়া ময়েশ্চারাইজার বাছুন
- সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের ময়েশ্চারাইজার এবং প্রসাধনী ব্যবহার করবেন
- ত্বকে খুব গরমজল ব্যবহার করবেন না। কারণ, তাতে ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের ঘাটতি দেখা যায়
- শরীর হাইড্রেট রাখার জন্য সারাদিনে ১০-১২ গেলাস জল অবশ্যই পান করবেন, সঙ্গে পুষ্টিকর ডায়েট মেনে চলাটাও জরুরি সারাদিনে অন্তত দু-বার ময়েশ্চারাইজার লাগানো বাঞ্ছনীয়
- যদি মনে হয় ত্বক বেশি ড্রাই হয়ে পড়ছে, তাহলে আমন্ড অয়েল কিংবা জোজোবা অয়েল ত্বকে লাগান।
তৈলাক্ত ত্বকেও প্রয়োজন ময়েশ্চারাইজার
অনেকেই মনে করেন, তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োগের কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু শুষ্ক ত্বকের জন্য যেমন প্রয়োজন হাইড্রেশন-এর, তেমনই অয়েলি স্কিন-এর জন্যও ময়েশ্চারাইজার-এর প্রয়োজন আছে। কারণ, ধুলোমাটি, দূষণ, সূর্যের আল্ট্রাভায়োলেট রে-এর কারণে ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং ত্বকে তেলের উৎপাদন বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে এমন ময়েশ্চারাইজার ত্বকের জন্য বাছা উচিত, যেটি সিলিকন বেড। কারণ এটি ত্বককে গ্রিজি না করেই হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করবে।





