তার চোখে যত লোকজন পড়েছে এই সময়ে সবাই মেয়ে বা মহিলা। তারা সবাই প্রায় সুন্দরী। এদের মধ্যে যেটা কমন তা হল— ঠোঁট আর বুকের যত্ন প্রায় সবাই করেছে। আইজ্যাক খুঁটিয়ে হিসেব করে দেখেছে এদের বয়স কুড়ি থেকে পঁয়তাল্লিশের ভিতর হবে। শুধু বুক আর ঠোঁট নয়, কারও কারও চোখও দেখেছে। সবার চোখই বেশ উজ্জ্বল, ঝকমকে। চল্লিশের কাছাকাছিরা চোখের কাজল ঘন করে, মানে একটু লেপটে দিতে পছন্দ করে। তাতে একটা আলাদা আকর্ষণ অ্যাড হয়।
একবার মনোনীতাকে জিজ্ঞেস করে বসেছিল সে। ‘এই তুমি তো খুব সাধারণ করে সাজগোজ করো। তোমার ড্রেস কোড আর সাজগোজের ভিতর থেকে তোমার পাসোনালিটি ঝরে পড়ে। শরীরের প্রতিটি অংশ থেকেই একটা পারফেক্ট টিউনিং প্রকাশ পায়। কিন্তু আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, তোমার চোখের সাজ যেন একটু আলাদা হয়। সেখানে যেন একটু তীব্রতা বেশি।”
—উরিব্বাস!
মনোনীতা চমকিত এবং আহ্লাদিত একটি স্বরে বলে উঠল, “তুমি নারীদ্বেষী মানুষ আমাকে এমন খুঁটিয়ে দেখেছ! আই অ্যাম অনার্ড বস।’
তো তো করে আইজ্যাক বলেছিল, ‘না খুঁটিয়ে দেখা টেখা নয়। চোখে পড়ে যায়। সবারই চোখে নিশ্চয়ই পড়ে। সবাই বলে না, আমি বলে দিয়েছি। এখন তুমি আমার গর্দান নিতে চাইলে নাও।’
—গর্দান নেব কেন! আমি তো গদগদ হয়ে পড়ছি। সেই প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময় থেকে আমি চেয়েছি তুমি আমাকে একটু দ্যাখো। আমার সঙ্গে একটু অন্য হয়ে, মানে প্রেমিক বেশে ধরা দাও। তা তো হল না। অন্য জায়গায় আমার বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু দ্যাখো বিয়ের পরেও তোমার সঙ্গ পাবার ইচ্ছে আমার গেল না। এই যে এই কফিশপে তোমার সঙ্গে বসি, তাতেই আমার প্রাণের আরাম হয়। কিন্তু ভিতরে ভিতরে একটা কথা ভাবতে থাকি, আইজ্যাক কি আমার প্রতি একটুকুও দুর্বল নয়! কেবল একটা কাঠের মানুষের মতো বসে, কফি খায়। তারপর লিফ্ট দেয় বাড়ির মোড় পর্যন্ত। বস, আজকে প্রাণে আমার বিশেষ একটু আরাম হল।”
সেদিন মনোনীতার ভুল ভাঙাতে যায়নি আইজ্যাক। একমাত্র পীরবত ছাড়া আর কোনও নারীতে আসক্তি, না আসক্তি ঠিক না, টান সে অনুভব করে না।
শপিং মলে অনেক মেয়েই কলকল করে চলে গেল চোখের উপর দিয়ে। তাদের হরেক বেশবাস। কিন্তু কোনও টান বোধ করছে না আইজ্যাক। ঘুমের ভিতর পীরবতের শরীর এসে যে আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়, তা এখানেও এল না। মুখ থেকে একটা শব্দ বেরিয়ে এল, ফালতু।
একবার মনোনীতাকে জিজ্ঞেস করে বসেছিল সে। ‘এই তুমি তো খুব সাধারণ করে সাজগোজ করো। তোমার ড্রেস কোড আর সাজগোজের ভিতর থেকে তোমার পাসোনালিটি ঝরে পড়ে। শরীরের প্রতিটি অংশ থেকেই একটা পারফেক্ট টিউনিং প্রকাশ পায়। কিন্তু আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, তোমার চোখের সাজ যেন একটু আলাদা হয়। সেখানে যেন একটু তীব্রতা বেশি।”
—উরিব্বাস!
মনোনীতা চমকিত এবং আহ্লাদিত একটি স্বরে বলে উঠল, “তুমি নারীদ্বেষী মানুষ আমাকে এমন খুঁটিয়ে দেখেছ! আই অ্যাম অনার্ড বস।’
তো তো করে আইজ্যাক বলেছিল, ‘না খুঁটিয়ে দেখা টেখা নয়। চোখে পড়ে যায়। সবারই চোখে নিশ্চয়ই পড়ে। সবাই বলে না, আমি বলে দিয়েছি। এখন তুমি আমার গর্দান নিতে চাইলে নাও।’
—গর্দান নেব কেন! আমি তো গদগদ হয়ে পড়ছি। সেই প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময় থেকে আমি চেয়েছি তুমি আমাকে একটু দ্যাখো। আমার সঙ্গে একটু অন্য হয়ে, মানে প্রেমিক বেশে ধরা দাও। তা তো হল না। অন্য জায়গায় আমার বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু দ্যাখো বিয়ের পরেও তোমার সঙ্গ পাবার ইচ্ছে আমার গেল না। এই যে এই কফিশপে তোমার সঙ্গে বসি, তাতেই আমার প্রাণের আরাম হয়। কিন্তু ভিতরে ভিতরে একটা কথা ভাবতে থাকি, আইজ্যাক কি আমার প্রতি একটুকুও দুর্বল নয়! কেবল একটা কাঠের মানুষের মতো বসে, কফি খায়। তারপর লিফ্ট দেয় বাড়ির মোড় পর্যন্ত। বস, আজকে প্রাণে আমার বিশেষ একটু আরাম হল।”
সেদিন মনোনীতার ভুল ভাঙাতে যায়নি আইজ্যাক। একমাত্র পীরবত ছাড়া আর কোনও নারীতে আসক্তি, না আসক্তি ঠিক না, টান সে অনুভব করে না।
শপিং মলে অনেক মেয়েই কলকল করে চলে গেল চোখের উপর দিয়ে। তাদের হরেক বেশবাস। কিন্তু কোনও টান বোধ করছে না আইজ্যাক। ঘুমের ভিতর পীরবতের শরীর এসে যে আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়, তা এখানেও এল না। মুখ থেকে একটা শব্দ বেরিয়ে এল, ফালতু।
উঠে পড়ল আইজ্যাক। না এখানে বসে সময় নষ্ট করলে চলবে না। রোজ রোজ তো অফিস কামাই করতে পারবে না। আজ একটা হেস্তনেস্ত করতে হবে। তার আকাঙ্ক্ষা হারিয়ে যেতে পারে না। তাকে খুঁজে আনতে হবে। কিছু একটা করতে হবে। সে ঠিক করল গড়িয়াহাটের দিকে যাবে। গড়িয়াহাটের মোড়ে নাকি প্রায় সব সময় সুন্দরীদের ভিড় থাকে। যদি সেখানেও কিছু না হয়, ডেস্পারেটলি ভাবল আজ সে যাবে সোনাগাছিতে।
(ক্রমশ…)





