অনেকে মেক-আপ করতে অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করেন। কিন্তু মেক-আপের পর দেখা যায়, মেক-আপটা কেকি (Cakey) হয়ে গেছে, যা দেখতে খুবই খারাপ লাগে। কিন্তু অল্প সময়ে কীভাবে এর সমাধান করা যায় কিংবা কেকি মেক-আপ এড়াতে কী করা উচিত, তা নিয়ে অনেকে দ্বিধায় পড়ে যান।
আসলে, মেক-আপ তখনই সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যখন কেউ মেক-আপের সঠিক পদ্ধতি না জেনে মেক-আপ করেন। অথবা গরমে ঘামের কারণে তা কেকি হয়ে যায়, কিংবা ভুল ভাবে প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে ফেটে যায়। তাই, আজ আমরা আপনাদের জানাব কীভাবে আপনার মেক-আপ ঠিক করবেন, যাতে তা কেকি না দেখায়।
কেকি মেক–আপের অর্থ
যখন ফাউন্ডেশন কিংবা পাউডার মুখের ত্বকের উপর পুরু, শুষ্ক এবং অসম ভাবে জমে যায়, যা দেখতে অস্বভাবিক ও ফাটা-ফাটা মনে হয়, সেই অবস্থাটিকে বলা হয় কেকি (Cakey) মেক-আপ। এটি সাধারণত অতিরিক্ত মেক-আপ ব্যবহার, স্কিন প্রিপারেশনের অভাব কিংবা শুষ্ক ত্বকের কারণে হয়। এটি এড়াতে প্রাইমার ব্যবহার, পাতলা লেয়ারে মেক-আপ অ্যাপ্লাই এবং ভালো করে ব্লেন্ড করা প্রয়োজন।
ত্বক আর্দ্র রাখুন
মেক-আপ জমাট বেঁধে যাওয়া এড়াতে, ব্যবহারের আগে আপনার ত্বককে ভালো ভাবে ময়েশ্চারাইজ করুন। সর্বদা এমন একটি হাইড্রেটিং ক্লিনজার ব্যবহার করুন, যা আপনার ত্বককে শুষ্ক করে না। মৃদু ক্লিনজারগুলিতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড এবং সেরামাইডের মতো হাইড্রেটিং উপাদান থাকে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ত্বক থেকে ময়লা, তেল ও মেক-আপ পরিষ্কার করতে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এটি ব্যবহার করুন, এমনকী মেক-আপ লাগানোর আগেও।
ত্বক এক্সফলিয়েট করুন
আপনার ত্বক ও লোমকূপ থেকে মৃত কোষ দূর করতে সপ্তাহে অন্তত একবার আপনার পছন্দের এক্সফলিয়েটর ব্যবহার করুন। এক্সফলিয়েট করলে ত্বকের অনুজ্জ্বল ভাব দূর হয়, সৌন্দর্য উন্নত হয়, ত্বকের গঠন মসৃণ হয় এবং নিখুঁত মেক-আপ ভিত তৈরি হয়।
ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন
মেক-আপ লাগানোর আগে সবসময় একটি ভালো ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন, যাতে অতিরিক্ত ময়লা এবং তেল দূর হয়। এটি নিশ্চিত করবে যে, আপনি মেক-আপ লাগানোর জন্য একটি সঠিক মেক-আপ ভিত পাচ্ছেন।
প্রাইমার ব্যবহার করতে ভুলবেন না।
অনেকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর প্রাইমার লাগাতে ভুলে যান এবং ফাউন্ডেশন লাগানো শুরু করে দেন, কিন্তু এই পদ্ধতিটি সঠিক নয়। কারণ প্রাইমার এমন একটি মেক-আপ পণ্য, যা মেক-আপের পর ত্বকে ভাঁজ ও বলিরেখা পড়া প্রতিরোধ করে এবং ত্বককে মসৃণ রাখে, যার ফলে মেক-আপের জন্য ত্বক মসৃণ থাকে।
ফাউন্ডেশন সঠিক ভাবে ব্যবহার করুন
অনেক সময় আমরা ফাউন্ডেশনের একটি পুরু স্তর লাগাই এবং তা ঠিকমতো ব্লেন্ড করি না, যার ফলে এটি অমসৃণ দেখায় এবং দেখতে ভালো লাগে না। এটি করার সঠিক উপায় হল— ফাউন্ডেশনটি ত্বকে পুরোপুরি শোষিত না হওয়া পর্যন্ত ভালো ভাবে ব্লেন্ড করতে থাকা। এরপরও যদি এটি কেকি বা জমাট মনে হয়, তাহলে একটি ভেজা ব্লেন্ডার দিয়ে ভালো ভাবে ব্লেন্ড করে নিন। ফাউন্ডেশন লাগানোর সময় চোখের নীচের অংশ এবং টি-শার্টের নীচের অংশ এড়িয়ে চলুন।
মেক–আপ ব্লেন্ড করার সঠিক পদ্ধতি
কেকি ফিনিশ এড়ানোর জন্য সঠিক ভাবে ব্লেন্ড করা অত্যন্ত জরুরি। সেরা ফলাফলের জন্য, একটি ব্লেন্ডিং ব্রাশ অথবা বিউটি ব্লেন্ডার ব্যবহার করুন। এটি করার জন্য, ব্লেন্ডারটি জলে ভিজিয়ে ভালো ভাবে নিংড়ে নিন। তারপর, অতিরিক্ত জল ঝরানোর জন্য এটিকে একটি টিস্যুতে মুড়ে নিন। ব্লেন্ডারে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে পুরো মুখে ভালো ভাবে ব্লেন্ড করুন। চোয়ালের রেখা থেকে শুরু করে উপরের দিকে চাপ দিয়ে ব্লেন্ড করুন।
মেক–আপের জন্য সবসময় সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন
মেক-আপ শেষ করার পর, আপনার পুরো মুখে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। এটি মেক-আপের সমস্ত স্তরকে একসঙ্গে মিশিয়ে দেয় এবং একটি স্বাভাবিক ও নিখুঁত ফিনিশ এনে দেয়। সেটিং স্প্রে ত্বককে হাইড্রেট করে, আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং মেক-আপকে সেট হতে সাহায্য করে।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী মেক–আপ পণ্য বেছে নিন
আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন এবং কনসিলার বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুষ্ক ত্বকে মেক-আপ ছড়িয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড এবং শিয়া বাটারের মতো আর্দ্রতা প্রদানকারী উপাদানযুক্ত সৌন্দর্য পণ্য ব্যবহার করা উচিত। একই ভাবে, আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তবে সেই অনুযায়ী পণ্য বেছে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাট বা পাউডার ফাউন্ডেশন এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ডিউই বা ক্রিম-ভিত্তিক ফাউন্ডেশন বেছে নিন।
কেকি মেক–আপ ঠিক করার পদ্ধতি
অনেকে খুব বেশি মেক-আপ লাগিয়ে ফেলেন এবং এটি সেট করার জন্য টিস্যু পেপার ব্যবহার করেন। এটা ঠিক নয়। পরিবর্তে, একটি পরিষ্কার স্পঞ্জ নিন। তাতে কিছুটা জল স্প্রে করুন এবং মেক-আপ হালকা না হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করতে থাকুন। যদি মুখে খুব বেশি
মেক-আপ থাকে, তাহলে একটি টিস্যু পেপার নিয়ে ব্লেন্ডারটি ঢেকে দিন। এবার এটি দিয়ে আপনার মুখ ব্লেন্ড করুন এবং মেক-আপ সেট করে নিন।
আপনার মুখে সামান্য হাইড্রেটিং ফেসিয়াল মিস্ট কিংবা সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন। এটি ফাউন্ডেশন বা পাউডারকে ত্বকের সঙ্গে মিশে যেতে এবং কেকি ভাব কমাতে সাহায্য করে। খেয়াল রাখবেন, আপনার মুখ যেন ভেজা না থাকে, শুধু সামান্য আর্দ্র থাকে। যদি আপনি বেশি পাউডার লাগিয়ে ফেলেন, তাহলে একটি ব্লটিং পেপার বা পরিষ্কার টিস্যু নিয়ে যেখানে অতিরিক্ত পাউডার দেখতে পাচ্ছেন, সেখানে আলতো করে চেপে দিন। এতে অতিরিক্ত পাউডার উঠে যাবে।
আপনার ত্বক তৈলাক্ত হলে, মেক-আপ কেকি হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে ফাউন্ডেশনের আগে একটি ম্যাটিফাইং প্রাইমার ব্যবহার করুন।
কেকি মেক–আপ হওয়ার প্রধান কারণসমূহ
O খুব বেশি ফাউন্ডেশন বা পাউডার ব্যবহার করলে তা কেকি হয়ে যায়
O রুক্ষ বা শুষ্ক ত্বকে সরাসরি মেক-আপ লাগালে তা কেকি দেখায়
O ত্বকের ধরনের সঙ্গে মানানসই পণ্য ব্যবহার না করার ফলে মেক-আপ কেকি হয়ে যায়
O অতিরিক্ত পাউডার কিংবা ভুল পাউডার ব্যবহার
কেকি মেক–আপ ঠিক করার উপায়
O খুব শুষ্ক জায়গায় সামান্য ময়শ্চারাইজার ট্যাপ করে মিশিয়ে নিন
O একটি হাইড্রেটিং ফেসিয়াল মিস্ট স্প্রে করে মেক-আপটি সেট করুন
O একটি পরিষ্কার বিউটি ব্লেন্ডার বা স্পঞ্জ দিয়ে চেপে চেপে, মেক-আপ ত্বকের সঙ্গে মিশিয়ে নিন, কিন্তু ঘষবেন না
O ব্লটিং পেপার দিয়ে আলতো চাপে বাড়তি পাউডার তুলে ফেলুন।
কেকি মেক–আপ এড়ানোর টিপস—
O মেক-আপের আগে অবশ্যই প্রাইমার ব্যবহার করুন
O ফাউন্ডেশন একবারে বেশি না লাগিয়ে পাতলা লেয়ারে প্রয়োজন অনুযায়ী লাগান
O স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ভালো ভাবে ব্লেন্ড করুন
O মেক-আপ শেষে সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন, যা কেকি ভাব কমায়
O সঠিক ভাবে স্কিন কেয়ার (ময়শ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন) এবং অল্প পরিমাণে মেক-আপের সঠিক ব্লেন্ডিংই কেকি লুক থেকে বাঁচার প্রধান চাবিকাঠি।
—শিখা জৈন





