মডেল, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, ব্যবসায়ী এবং “মিস এশিয়া ট্যুরিজম ২০১৮’-এর বিজয়ী তানিয়া মিত্তল কালার্স-এর রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১৯’-এ অংশগ্রহণ করেও খ্যাতি লাভ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ৪০ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার এবং ইউটিউবে ৭০ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।

তানিয়া মিত্তল, যিনি একসময় ঠিকমতো ইংরেজি বলতেও পারতেন না এবং মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন, তিনি আজ দেশের অন্যতম সফল ব্যবসায়ী এবং একজন অত্যন্ত বিখ্যাত মডেল। ২০১৭ সালে মাত্র ৫০০ টাকা পুঁজি নিয়ে হ্যান্ডমেড ক্রাফট-এর ব্যাবসা শুরু করেন তানিয়া মিত্তল এবং ধীরে ধীরে ব্যাবসার ভিত মজবুত করেন। এর পাশাপাশি, তানিয়া আরও অনেকরকম ব্যাবসা করেন এবং এতটাই উন্নতি করেন যে, এখন তিনি মিলিয়ন ডলারের সফল ব্যবসায়ী। তাঁর নিজের কারখানাও আছে। ৪০০ জনেরও বেশি কর্মী রয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠানে।

২০১৮ সালে তানিয়া ফ্যাশন জগতে প্রবেশ করেন এবং ‘মিস ট্যুরিজম এশিয়া’ খেতাব জয় করেন। লেবাননে অনুষ্ঠিত ১২ দিন ব্যাপী প্রতিযোগিতার ১৬টি রাউন্ডে তিনি ৩১টি দেশের মডেলদের পরাজিত করে ‘মিস ট্যুরিজম এশিয়া’ খেতাবটি জিতে নেন। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন তিনি একজন স্থপতি হন, কিন্তু তানিয়ার আগ্রহ ছিল ব্যবসায়। বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তানিয়া মিত্তল নীরবে কঠোর সংগ্রাম করে সাফল্য অর্জন করেন।

‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র বিচারে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের তালিকায় তানিয়া মিত্তল দশম স্থানে রয়েছেন। এই তালিকায় নরেন্দ্র মোদী, সলমান খান, শাহ রুখ খান, বিরাট কোহলি এবং প্রভাসের মতো অনেক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

‘বিগ বস ১৯’ চলাকালীন তানিয়া মিত্তল তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি অবিচল ছিলেন। তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন, যা তাঁকে আরও বেশি মনোযোগ এনে দিয়েছিল।

বিগ বসে থাকাকালীন তিনি এতটাই মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন যে, “টিভি কুইন’ একতা কপূর বিগ বসে এসে তানিয়া মিত্তল-কে তাঁর শো-এ অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তানিয়া মিত্তল ‘গৃহশোভা’-র কাছে তাঁর সংগ্রাম, বিপুল সাফল্য, সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া এবং নতুন গ্ল্যামারাস কেরিয়ার নিয়ে অনেক আকর্ষণীয় গল্প সানন্দে ভাগ করে নিয়েছেন। নারীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি, তিনি এও জানিয়েছেন যে, ‘আমি যদি ছোটো শহরের একজন স্বল্পশিক্ষিত নারী হয়েও এবং ভালো ভাবে ইংরেজি না জেনেও সাফল্য অর্জন করতে পারি, তাহলে আমার মতো

যে-কোনও মেয়ে, যার কোনও কিছু করার প্রবল ইচ্ছা আছে, সেও আমার মতো সফল হতে পারে। যদিও এই পথচলা সহজ ছিল না এবং অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল, কিন্তু আমি আমার লক্ষ্যে অবিচল থেকেছি, আর সেই কারণেই আজ আমি সফল।’ এখানে রইল তানিয়া মিত্তলের গল্প, তাঁর নিজের ভাষায়—

ছোটোবেলা থেকেই আমি নিজেকে বিশেষ মনে করতাম। আমি স্বপ্ন দেখতাম, আমাকে শুধু এক ঝলক দেখার জন্য লোকেরা আমার পিছু নেবে। আমি ভীষণ বিখ্যাত হব এবং জাতীয় তারকা হব এমনটা ভেবেছি দিনের পর দিন। কিন্তু এই অনুভূতিগুলো আমি কখনও কারও-র সঙ্গে ভাগ করিনি এই ভয়ে যে, আমাকে লোকেরা পাগল ভাববে।

যদিও আমাদের পরিবারের রীতি ছিল, হয় ইঞ্জিনিয়ার হও অথবা সরকারি চাকরির চেষ্টা করো, তারপর পঁচিশ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে চলে যাও। বিশেষকরে মেয়েদের সন্ধের পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতি ছিল না। আমার বাবা আসলে খুব কড়া প্রকৃতির মানুষ, আর আমি ও আমার ভাই তাঁকে খুব ভয় পেতাম। যাইহোক, আমি কোনওমতে বিদ্যা পাবলিক স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাগ্রহণ শেষ করেছিলাম। এরপর বাবা আমাকে চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্ট কলেজে ভর্তি করে দেন। যদিও স্থাপত্যবিদ্যার মতো একটা কোর্সে আরও পাঁচ বছর নষ্ট করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার ছিল না। কারণ আমি যদি তা করতাম, তাহলে কোর্স শেষ করতে করতেই আমার বিয়ে হয়ে যেত, আর বাবা তো নিশ্চিতভাবেই আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলতেন।

এর ফলে আমার ধনী ও বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যেত। তাই আমি আর্কিটেক্ট কলেজটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য পরিবারকে মরিয়া হয়ে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায়, আমি পালিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। তারপর বাবার কাছ থেকে কষে একটা থাপ্পড় খেলাম, সঙ্গে এই সতর্কবাণীও পেলাম যে, ছয় মাসের মধ্যে আমাকে রান্না শিখতে হবে, তারপর আমার বিয়ে হয়ে যাবে।

(ক্রমশ…)

আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...