গীতা কপূরের জন্মদিন ৫ জুলাই। তিনি জানিয়েছেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে আমি জন্মদিনে সেরা উপহারটি পাইনি। তবে তার আগে, প্রতি বছর জন্মদিনে মা আমাকে চিঠি লিখতেন এবং সেই চিঠিগুলো আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওগুলোই ছিল সেরা উপহার। আমি সেসব চিঠি থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এমনকী এখনও, যখনই তাঁর কথা খুব মনে পড়ে কিংবা আমার জন্মদিনে, আমি সেই সংগ্রহ থেকে কোনও একটি চিঠি বের করে পড়ি। ২০২১ সালে আমার মা মারা যান। তারপর থেকে কেবল স্মৃতিই অবশিষ্ট আছে। সেগুলো সুন্দর স্মৃতি— অমূল্য সব স্মৃতি। সেই চিঠিগুলোতে জীবনদর্শন ছিল। মা লিখতেন— আমার কী করা উচিত, কীভাবে জীবনযাপন করা উচিত, আমি কেমন মেয়ে, কোন মূল্যবোধগুলো আমার ধারণ করা প্রয়োজন, জীবনে কী কী বর্জন করা উচিত এবং কীভাবে আমার আচরণ করা উচিত।’
মা ও মেয়ের সম্পর্ক
গীতা জানিয়েছেন, ‘আজকাল পরিবারের প্রয়োজনে বা সংসার সামলাতে গিয়ে কর্মজীবী তরুণীরা কাজের চাপে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েন যে, বাবা-মাকে সময় দেওয়ার গুরুত্বের কথা ভুলে যান। তাঁদের প্রতি আমার পরামর্শ হল— অবশ্যই কাজ করুন, সংসারও সামলান। তবে, পরিবার ও বাবা-মায়ের জন্য কিছুটা সময় আলাদা করে রাখতে ভুলবেন না। কারণ, কাজের ব্যস্ততার পর যখন প্রিয়জনদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ আসে, তখন হয়তো সেই বাবা-মা-ই আর থাকেন না। অথচ তাঁদের খুশি করার জন্য আমরা একসময় কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম। তাই নিজের ও পরিবারের জন্য কিছুটা সময় বের করা অত্যন্ত জরুরি।’

নৃত্যশিল্পী থেকে নৃত্য–পরিচালক হয়ে ওঠার সফর
আসলে, একজন গ্রুপ ড্যান্সার থেকে কোরিওগ্রাফার হয়ে ওঠার সফরটা কঠিন হলেও সম্ভব বলেই মনে করেন গীতা। তাঁর মতে, “একবার প্রস্তুত হয়ে গেলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে, সেই দায়িত্বটি পালন করার মতো সক্ষমতা আপনার আছে। এটি শেখারই একটি প্রক্রিয়া, আর যদি আপনি কাজটি উপভোগ করেন, তবে তা আর কঠিন মনে হয় না। সমস্যাটা তখনই দেখা দেয়, যখন আপনি কোরিওগ্রাফার হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, কিন্তু কোনও সুযোগই পাচ্ছেন না। তবে কাজের সুযোগ যখন আসার, তখন তা ঠিকই আসে। অবশ্য বর্তমান সময়ে কাজ পাওয়াটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কারণ এখন প্রচুর কোরিওগ্রাফার রয়েছেন।’
গীতা আরও জানিয়েছেন, “বিষয়টা আগে এতটা কঠিন ছিল না। আমি যেখানে কাজ করতাম, সেখানে আমাকে জানিয়ে দেওয়া হতো ঠিক কখন আমি প্রস্তুত। আমার পরামর্শদাতা ছিলেন ফারহা খান। তিনিই বলেছিলেন যে, আমি প্রস্তুত এবং আমার নিজের কাজ শুরু করা উচিত। যখনই তাঁর হাতে সময় থাকত না, তিনি কোরিওগ্রাফির দায়িত্ব আমাকেই দিতেন। এমন একজন বস্ ও পরামর্শদাতা পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ, যিনি সবসময় আমার উপর আস্থা রেখেছেন— এটি সত্যিই এক চমৎকার অভিজ্ঞতা ছিল আমার কেরিয়ারে।’
তাঁর মতে, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে নিজের স্বতন্ত্র শৈলী তৈরি করতে হবে। পাশ্চাত্য নাচের ধারা (যেমন হিপ-হপ বা সমসাময়িক নাচ) গ্রহণ করলেও, ভারতীয় নাচের মৌলিকত্ব ও আবেগ হারিয়ে যেতে দেওয়া উচিত নয়। আর আমার বিশ্বাস, একজন প্রকৃত গুরুর কাজ শুধু ভুল ধরা নয়, শিষ্যের প্রতিভা চিনে তাকে সঠিক দিশা দেখানো।’
(ক্রমশ…)





