প্রতি ১০-১৫ মিনিট হাঁটার পরেই একটু বিশ্রামের জন্য আশ্রিত হলাম হিমালয়ের কোলে। এক সময় মনে হল আর হবে না, হেরে গেলাম। ভাবতে না ভাবতেই দূরে ডানদিকে চোখ মেলে তাকাতেই তার দেখা। হোক না অনেক দূরে, হোক না সরু, ছোটো। তবু তো দেখা মিলল। দেখা যখন মিলল তাহলে বাকি পথটাও পেরিয়ে যাব। সেই ছোট্ট বসুধারা আমাদের হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বড়ো হতে লাগল। বুঝলাম ধীরে ধীরে গন্তব্যের আরও কাছে পৌঁছে যাচ্ছি। শেষ দু কিলোমিটার রাস্তার চড়াই আরও ভয়ানক। প্রতি ছ'সাত মিনিট ছাড়া না বসে উপায় ছিল না। শরীর যত নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিল মন তত বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছিল।

অন্তরের অন্তঃস্থলে খুঁজে পাচ্ছিলাম আমার পরমকে। প্রার্থনা করতে করতে প্রায় সাড়ে তিনঘণ্টা পর গিয়ে দাঁড়ালাম তারই ছোট্ট মন্দিরের সামনে। সামনে তখন বসুধারার বিহ্বল স্রোত। যে গুটিকয়েক মানুষ সেই বসুধারার নীচে গিয়ে পৌঁছেছেন, তাদের উল্লাস আর উন্মাদনা আমাদের যেন আরও সাহস জাগাল। সুতরাং আবার চলা শুরু। এবার গিয়ে থামলাম বাসুদেবের পদতলে। পেরেছি আমরা, পেরেছি। বসুধারার স্রোত-মিশ্রিত ঠান্ডা হাওয়া যেন ভিজিয়ে দিচ্ছিল আমাদের।

৪০০ ফুট উচ্চতা থেকে এই জল নেমে এসে নীচে বরফের শিবলিঙ্গ তৈরি করছে। ঠিক যেন মা গঙ্গা মহাদেবের জটায় আশ্রয় নিচ্ছেন। তার দুধসাদা জল উপর দিকে ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যাচ্ছে আকাশে, বাতাসে, আশপাশের পাহাড়ের গায়ে। বাসুদেবের পথ বা শ্রীবিষ্ণুর পথ হল এই বসুধারা। সমুদ্রতল থেকে প্রায় বারো হাজার ফিট উচ্চতায় এমন জলপ্রপাতটি বিরল হলেও অত্যন্ত লোভনীয়। আমরা বসুধারার জল ভরে নিলাম আমাদের বোতলে। বিশুদ্ধতায় ভরপুর এই খনিজ জল ওখানকার অধিবাসীদের কাছে পরম ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ওই তো সামনে মুখোমুখি বীর বিক্রমী বালাকুন শিখর। তার ঠিক পিছনে আমার দৃষ্টির ডানদিকে জানহুকুট আর স্বচ্ছন্দ শৃঙ্গ। বাঁদিকে কুনালিং। কুনালিং-এর পাশে আরেকটু বাঁদিকে চৌখাম্বার মাথা তখন মেঘের কোলে অবচেতন। সামনে প্রবল বালকুনের ডানদিকের ভাগীরথী খড়ক গ্লেসিয়ার আর বাঁদিকের সতোপন্থ গ্লেসিয়ার এসে মিলে গেছে বালাকুনের সামনের অলকাপুরীতে। তার আরেকটু আগে লক্ষ্মীবন। হাওয়ায় ভেসে আসা বসুধারার জলবিন্দুতে যেন বাসুদেবের আশীর্বাদ রয়েছে ছড়িয়ে। কথার কণ্ঠরোধ করছে আনন্দের কান্না। হয়তো প্রকৃতির এই নৈসর্গিক টানেই পাড়ি দিয়েছিলেন পঞ্চপাণ্ডব এই মহাপ্রস্থানের পথে। বসুধারার সামনে প্রাণত্যাগ করেন পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম সহদেব। শুধুমাত্র যুধিষ্ঠির এই যাত্রাপথ সম্পূর্ণ করে স্বর্গারোহণ করেছিলেন। সঙ্গে কুকুরের বেশে এই পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ধর্মরাজ।

आगे की कहानी पढ़ने के लिए सब्सक्राइब करें

ডিজিটাল

(1 साल)
USD10
 
সাবস্ক্রাইব করুন

ডিজিটাল + 12 প্রিন্ট ম্যাগাজিন

(1 साल)
USD79
 
সাবস্ক্রাইব করুন
আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুন...