সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য চাই সুচিন্তিত পরিকল্পনা

“বড়ো হয়ে তুমি কী হতে চাও?”—- এই প্রশ্নটি ছোটোবেলায় সবাই শোনে এবং উত্তর দেয়। কেউ বলে সে মহাকাশচারী হতে চায়, কেউ ডক্টর হতে চায়, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, কেউ শিক্ষক হতে চায়, কেউ আবার হতে চায় শিল্পী। তাদের কল্পনার কোনও সীমা নেই কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য অভিভাবকরা সবাই সঠিক ব্যবস্থা করতে পারেন না নানারকম কারণে কিংবা বলা যায় প্রতিবন্ধকতার জন্য। এখন প্রশ্ন, সন্তানের শিক্ষার স্বপ্নগুলি পূরণ করার জন্য অভিভাবকরা কতটা সচেতন? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বন্ধন লাইফ-এর মুখ্য পণ্য ও বিপণন অফিসার মনীশ মিশ্র।

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে শিক্ষার খরচ প্রায় প্রতি ছয় বছরে দ্বিগুন হয়ে চলেছে। ভারতের শহরাঞ্চলে সন্তানকে প্রি-স্কুল থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাদানের জন্য খরচ হতে পারে ৩৮ লক্ষ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। যদি আপনি কোচিং, গ্যাজেট এবং অন্যান্য চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করেন, তাহলে এই অর্থের পরিমাণ ৮৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। আর যদি আপনি আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে খরচ আরও বেশি।

আসলে, মা-বাবার ভালোবাসা সন্তানদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়, কিন্তু পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতিই সেই স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলে উড়তে সাহায্য করে, এমনকি যখন জীবন অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়, তখনও। কিন্তু সন্তানের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নপূরণের জন্য শক্তিশালী উপায় কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, একটি সুপরিকল্পিত জীবন বীমা পলিসির মাধ্যমে সন্তানের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

জীবন বীমা: নিরাপত্তার থেকেও বেশি কিছু

অনেকেই এখনও জীবন বীমাকে কেবল অকাল মৃত্যুতে নির্ভরশীলদের আর্থিক নিরাপত্তার উপায় হিসেবে ভাবেন। কিন্তু আজকের বীমা পরিকল্পনাগুলি বিকশিত হয়েছে। শুধু আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে, যা আপনার সন্তানের শিক্ষাগত লক্ষ্যে অর্থায়নের জন্য নিখুঁত। তা সে স্কুল ফি, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, অথবা একটি পেশাদার কোর্স যাই হোক না কেন, শিশু-কেন্দ্রীক বীমা পরিকল্পনা আপনাকে একটি নিরাপদ আর্থিক সহায়তা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে, যা নিশ্চিত করে যে, আপনার সন্তানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়ে কখনওই আপস করা হবে না।

সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা

  • নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা: আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত
  • লক্ষ্য-ভিত্তিক সঞ্চয়: পরিকল্পনাগুলি আপনাকে ভবিষ্যতের শিক্ষাগত মাইলফলকগুলির সঙ্গে ট্র্যাকে থাকতে সাহায্য করে
  • ট্যাক্স: ধারা 80C-এর (পুরাতন কর ব্যবস্থা) অধীনে প্রিমিয়ামগুলি ছাড়ের জন্য যোগ্য এবং মেয়াদপূর্তির সুবিধাগুলি সাধারণত করমুক্ত (যদি কিছু শর্ত পূরণ করা হয়)
  • জরুরি সহায়তা: অনেক পরিকল্পনা জরুরি প্রয়োজনের জন্য ঋণ নেওয়ার সুবিধা প্রদান করে।

সঠিক পরিকল্পনা

  • Endowment Plans:

যারা নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য আদর্শ, এই পরিকল্পনাগুলি মেয়াদোত্তীর্ণতার সময় নিশ্চিত রিটার্ন প্রদান করে। বাজারের ওঠানামা সম্পর্কে চিন্তা না করেই যদি আপনি একটি নিরাপদ শিক্ষা তহবিল তৈরি করতে চান, তবে এগুলি নিখুঁত।

  • ইউনিট লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স পরিকল্পনা (ULIP):

যাদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি, তাদের জন্য, ULIPগুলি আপনার প্রিমিয়ামের একটি অংশ বাজারে বিনিয়োগ করে, দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য উচ্চতর রিটার্ন প্রদান করে। আগেভাগে পরিকল্পনা করলে এগুলি সবচেয়ে ভালো কাজ করে, আপনার বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সময় দেয়।

  • সঞ্চয় পরিকল্পনা:

এগুলি লাইফ কভার এবং কাঠামোগত সঞ্চয়কে (structured savings)একত্রিত করে। স্কুল-এ ভর্তি কিংবা কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অর্থপ্রদানের সময় নির্ধারণ করা হয়, যা আপনাকে প্রয়োজনের সময় ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে।

শিক্ষা পরিকল্পনার জন্য জীবন বীমা কেন এত ভালো কাজ করে?

জীবন বীমা মানসিক প্রশান্তির চেয়েও বেশি কিছু প্রদান করে, কারণ, এটি আপনার যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন ব্যবহারিক, কাঠামোগত সহায়তা প্রদান করে। অনেক পরিকল্পনা স্কুল, কলেজ কিংবা উচ্চশিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত ক্ষেত্রে গ্যারান্টিযুক্ত অর্থ প্রদানের সঙ্গে আসে, যা আপনাকে শেষ মুহূর্তের আর্থিক চাপ এড়াতে সাহায্য করে। পিতামাতার অকাল মৃত্যুতে, বেশিরভাগ পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের প্রিমিয়াম মুক্ত হতে সাহায্য করে, যাতে আপনার সন্তানের সুবিধাগুলি কোনও বাধা ছাড়াই চলতে থাকে। আপনি বাজার-সংযুক্ত বৃদ্ধির জন্য একটি ULIP কিংবা একটি গ্যারান্টিযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নিন, আপনি সুরক্ষা এবং সম্পদ সৃষ্টির দ্বৈত সুবিধা উপভোগ করুন এবং একইসঙ্গে আপনার সন্তানের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকুন।

আপনার সন্তানের স্বপ্ন এবং আপনার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন একটি পরিকল্পনা খুঁজে পেতে একজন বিশ্বস্ত আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলুন।

সেরা উপহার

যারা তাদের সন্তানদের ভালোবাসেন এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিদিন লালন করেন, তাদের নিরাপত্তা এবং সাফল্যের জন্য উপহার দেওয়াও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে একটি সুচিন্তিত বীমা পরিকল্পনা হয়তো আপনার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে।

ফ্যাশনে শাড়ি

শাড়ি ভারতের প্রাচীনতম পরিধান। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে, বিভিন্ন ভাবে শাড়ি পরার চল আজও বর্তমান। অনেকেরই ধারণা, শাড়ি পরা মানেই ‘বহেনজি’ টাইপ, আউটডেটেড লুক। অথচ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। অন্যান্য পোশাকের তুলনায় শাড়িতেই সেক্সি ও আকর্ষণীয়া হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। আধুনিকারা হিন্দি ছবির হিরোইনদের আইডল মেনে তাদেরই ফ্যাশন ফলো করেন। আজকাল বহু হিন্দি ছবিতেই গ্ল্যামারাস হিরোইনরা শাড়ির সৌন্দর্যকে অন স্ক্রিন ফুটিয়ে তুলছেন। ফ্যাশনে শাড়ি আজও তাই স্ব- মহিমায় বিরাজমান। শুধুমাত্র শাড়ি পরার সময় কয়েকটি বিষয় যদি খেয়াল রাখেন, তাহলে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে যে আপনি থাকবেন-ই, এতে কোনও সন্দেহ নেই।

ভারতীয় ডিজাইনাররা বরাবরই শাড়িতে নিজেদের ডিজাইনের নিজস্বতা প্রমাণ করে সারা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন। শাড়ির খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মার্কেটে পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছেন। প্রয়াত সত্য পল নিজস্ব প্রিন্টেড ফাঙ্কি ডিজাইনের জন্য বিশ্ববন্দিত। মনীষ মালহোত্রা বলিউড এবং ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে সুলতান অফ শাড়ি বলে খ্যাত। সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের ডিজাইন করা শাড়ির খ্যাতি সারা বিশ্বজোড়া। তরুণ তাহিলিয়ানী তাঁর ব্রাইডাল শাড়ির জন্য বিখ্যাত।

শাড়ি এবং লহঙ্গার ফ্যাব্রিকের উপর হেভি ব্রাইডাল ডিজাইনার রেঞ্জ-এর জন্য ঋতু কুমারের প্রসিদ্ধি। গৌরাঙ্গ শাহ হায়দরাবাদের ডিজাইনার। এনার জামদানি উইভার্স-এর একটি বড়ো ক্রিয়েটিভ টিম রয়েছে। এঁরা সাধারণত হ্যান্ডমেড মাস্টার পিস বানান। এছাড়াও অনিতা ডোগরে, নীতা লুল্লা প্রমুখ ডিজাইনাররাও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন এবং বিশ্বের বাজারে শাড়িকে বিশেষ পরিচিতি দিতে এঁদের অবদানও কিছুমাত্র কম নয়।

শাড়ির ফ্যাশন আবহমানকাল ধরে চলে এলেও, এর আকর্ষণ ফুরোবার নয়। কর্মব্যস্ততার কারণে ড্রেস পরার চলটা এখন বেড়েছে, কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ রয়েছে মানুষের মনে। তাই উৎসবে, অনুষ্ঠানে আজও মেয়েদের পছন্দ শাড়ি। তবে অনভ্যাস এবং ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখে ছয় গজের শাড়ি পরা এবং ম্যানেজ করা অনেকের জন্যই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। এই কথা মাথায় রেখেই ডিজাইনাররাও পোশাক নিয়ে নানা এক্সপেরিমেন্ট করতে থাকেন এবং শাড়ি নিয়েও নানা পরীক্ষা, জল্পনা-কল্পনাও চলছে আধুনিক সময়ে।

শাড়ির ফ্যাব্রিক

নিজেকে হট ও গ্ল্যামারাস করে তুলতে প্রথাগত সিল্ক শাড়ি বা অন্য ফ্যাব্রিক না বেছে শিফন, জর্জেট বা ক্রেপ বাছুন। শিয়ার শাড়ির ফ্যাশন এখন খুব চলছে। লাইট ফ্যাব্রিক ক্যারি করা খুব সুবিধা। শাড়ির প্রিন্ট এবং প্যাটার্নও খেয়াল রাখা উচিত। প্রিন্টেড শাড়ির থেকেও প্লেন শাড়িতে গ্ল্যামারাস হয়ে ওঠার সুযোগ অনেক বেশি। আজকাল হাফ শাড়ির প্যাটার্নও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই প্যাটার্নে শাড়ির অর্ধেক প্রিন্টেড হয়, বাকি অর্ধেক প্লেন।

এখন মার্কেটে হট্‌ ফেভারিট, ‘শাড়ি গাউন’ অথবা এটাকে অনেকে লেহেঙ্গা শাড়িও বলতে পছন্দ করছেন। শাড়ি এবং গাউনের কম্বিনেশনে তৈরি শাড়ি গাউন দেখতে খুবই স্টাইলিশ এবং ম্যানেজ করাটাও খুব সোজা। যে-কোনও অনুষ্ঠানের রাত আরও রঙিন করে তুলতে বেছে নিতে পারেন এই শাড়ি গাউন, তবে বাছার আগে কয়েকটা বিষয়ে খেয়াল রাখা খুব দরকার।

শাড়ি গাউন কেন বাছবেন

এভারগ্রিন এবং সবসময় ফ্যাশনে ইন এই শাড়ি গাউন, পরা এবং পরে ম্যানেজ করাটা খুবই সোজা। শাড়ির মধ্যে প্লিটস-এর সঙ্গেই ব্লাউজ এবং আঁচল অ্যাটাচ করা থাকে। তাই ড্রেস পরার মতোই খুব সহজে মিনিটের মধ্যে এটা পরা যায়। সবকিছু অ্যাটাচ থাকার ফলে, কুঁচি বা আঁচল খুলে যাওয়ারও ভয় থাকে না এবং ফিটিংস-টাও খুব ভালো হয়।

কীভাবে বাছবেন শাড়ি গাউন

বাজারে শাড়ি গাউনের বিভিন্ন প্যাটার্ন, স্টাইল এবং ফ্যাব্রিক চোখে পড়বে। নিজের জন্য পারফেক্ট শাড়ি গাউন বাছতে হলে খেয়াল রাখতে হবে—

প্যাটার্ন: মার্কেটে শাড়ি গাউনের অনেকরকম ভ্যারাইটি পাওয়া যায়। ধুতি, প্যান্ট স্টাইল, ফিশ কাট, লেহেঙ্গা থেকে শুরু করে স্ট্রেট কাট সব ধরনের প্যাটার্ন-ই এখন ফ্যাশনে ইন। নিজের পার্সোনালিটি কীরকম, সেটা মাথায় রেখে প্যাটার্ন বাছাটা জরুরি। এমন প্যাটার্ন বাছা উচিত, যেটা নিজের বডি শেপের সঙ্গে মানাবে। যেমন, যাদের হাইট কম তাদের উচিত স্ট্রেট অথবা ফিশ কাট শাড়ি গাউন বাছা। কারণ এতে আপনাকে লম্বা দেখাবে। যাদের উচ্চতা বেশি তাদের ফ্লেয়ার্ড শাড়ি গাউন দারুণ মানাবে।

শাড়ি গাউনের ব্লাউজ: শাড়ি গাউনের ব্লাউজের নানা প্যাটার্ন হয়। যেমন— ভন শোল্ডার, অফ শোল্ডার, স্লিভলেস, হাফস্লিভ, ফুলস্লিভ, থ্রি কোয়ার্টার স্লিভ ব্লাউজ ইত্যাদি। এরই সঙ্গে নেকলাইনেও ডিফারেন্ট ভ্যারাইটি দেখতে পাওয়া যায়। যেমন রাউন্ড, স্কোয়্যার, ওভাল, বোটনেক। ব্লাউজের ক্ষেত্রেও, পার্সোনালিটির উপরই নির্ভর করবে, কী ধরনের ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ি গাউন বাছাটা বাঞ্ছনীয়।

ডিজাইন: সিম্পল এবং সোবার থেকে শুরু করে সিকোয়েন্স, জরির কাজ, এমব্রয়ডারি কাজের শাড়ি গাউন, মার্কেটে সহজেই পেয়ে যাবেন। কী অনুষ্ঠানের জন্য শাড়ি গাউন বাছবেন সেটা খেয়াল রাখাটাও খুব জরুরি। যেমন বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিতে পারেন হেভি ওয়ার্কের গর্জিয়াস লুকিং শাড়ি গাউন। কিন্তু ডে-পার্টি, গেট-টুগেদার-এর জন্য সিম্পল, সোবার ডিজাইনই মানাবে ভালো।

কালার্স: হালকা রং থেকে শুরু করে ডার্ক, ব্রাইট কালার্স অথবা ম্যাট কালার্স, সব রকমের অপশন-ই মার্কেটে অ্যাভেলেবেল। স্কিনটোন দেখে কালার বাছা উচিত। রং ফরসা হলে রেড, পিংক, গোল্ড, সিলভার শেড-এর শাড়ি গাউন কেনা যেতে পারে। কিন্তু রং যদি শ্যামলা হয়, লাইট বা প্যাস্টেল শেডের শাড়ি ট্রাই করা উচিত। কোনও কোনও শাড়ি গাউন ডুয়েল শেড, কনট্রাস্ট কালারস অথবা মাল্টি শেডেও বানানো হয়, যেগুলোও ট্রাই করে দেখা যেতে পারে মানানসই লাগছে কিনা৷

ফ্যাব্রিক: নেট, ব্রোকেড, জর্জেট থেকে শুরু করে সিল্কের ফ্যাব্রিকেও শাড়ি গাউন পাওয়া যায়। আলাদা আলাদা ফ্যাব্রিকে, শাড়ির লুক এবং ফল-ও ডিফারেন্ট হয়। কোন মরশুমে শাড়িটা পরবেন সেটা মাথায় রেখে ফ্যাব্রিক পছন্দ করা উচিত। শাড়ির লুক- টাও দেখে নেওয়া খুব জরুরি। লাইট ফ্লোয়িং ফ্যাব্রিকের শাড়ি গাউন দেখতে সবথেকে সুন্দর লাগে। এর সঙ্গে ব্লাউজের ফ্যাব্রিক যদি নেট-এর বাছা যায়, তাহলে শাড়ি গাউনের লুক আরও সেক্সি হয়ে উঠবে নিঃসন্দেহে। আর আপনার আনন্দ-উৎসবের রাতও হয়ে উঠবে স্মরণীয়।

স্মার্ট আইডিয়া

শাড়ি গাউনে কমপ্লিট লুক পেতে হলে কী করবেন তার কিছু আইডিয়া শেয়ার করা হল।

জুয়েলারি সিলেকশন: শাড়ি গাউনের সঙ্গে হেভি জুয়েলারি পরার ভুল করবেন না। কানের দুল, আংটি ব্রেসলেট পরলেই যথেষ্ট। হেয়ারস্টাইল: পারফেক্ট লুকের জন্য চুলে হাই অথবা লো ‘বান’ বাঁধতে পারেন। আবার চাইলে স্ট্রেটনিং করিয়ে চুল খোলাও রাখতে পারেন।

মেকআপ লুক: ডার্ক শেড-এর লিপস্টিক লাগান অথবা স্মোকি আই মেক-আপ। দুটোর কোনওটাকেই হাইলাইট করবেন না। ট্রেন্ডি ফুটওয়্যার: স্লিম লুকের জন্য শাড়ি গাউনের সঙ্গে হাইহিল পেনসিল ফুটওয়্যার পরুন। সিম্পল গাউনের সঙ্গে সোবার এবং হেভি গাউনের সঙ্গে স্টোন স্টাডেড ফুটওয়্যার ভালো মানাবে।

ক্লাচ ব্যাগ: শাড়ি গাউনের কালারের সঙ্গে ম্যাচ করে ক্লাচ ব্যাগ ক্যারি করতে পারলে আপনার সাজ সম্পূর্ণ হবে।

শাড়ি পরার নিয়ম

সঠিক উপায়ে শাড়ি পরাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নাভির উপর থেকে শাড়িটা গোঁজা আরম্ভ করতে হয়। এতে আপনার ফিগার বা শরীরের শেপ স্পষ্ট হবে। কোমরের অংশ খোলা রাখতে চাইলে আঁচল প্লিট করা অবস্থায় স্লিক ড্রেপ করুন। আর যদি কোমর ঢাকা রাখতে চান তাহলে আঁচলে গ্লিট্স না করে হাতের উপর দিয়ে ছড়িয়ে দিন।

ব্লাউজ

শাড়িকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্লাউজ অনেকটাই সাহায্য করে। আজকাল মিক্স এবং ম্যাচ ফ্যাশনের প্রচণ্ড ডিমান্ড। প্লেন শাড়ির সঙ্গে প্রিন্টেড ব্লাউজ এখন ট্রেন্ডিং। ব্লাউজ, শাড়ির স্টাইলকে অনেক বেশি ফুটিয়ে তোলে। নানা প্যাটার্নের আকর্ষণীয় ব্লাউজ বাজারে পাওয়া যায়।

O হল্টার নেক ব্লাউজ

O স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপ ব্লাউজ

O ফুলস্লিভ বা থ্রি কোয়ার্টার স্লিভ-এর ব্যাকলেস ব্লাউজ

O ওয়াইড নেক ব্লাউজ

O স্টাইলিশ র‍্যাপআপ শাড়ি ব্লাউজ

O এমবস্ড এমব্রয়ডারি ব্লাউজ

O মডার্ন চোলি ব্লাউজ

O শিয়ার ব্যাক শাড়ি ব্লাউজ।

শাড়ির সঙ্গে অ্যাক্সেসরিজ

খুব সামান্য অ্যাক্সেসরিজ পরেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন হট এবং গ্ল্যামারাস। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে স্টেটমেন্ট ইয়াররিংস পরলেই যথেষ্ট। স্টেটমেন্ট ক্লাচ ব্যাগটা ভুললে কিন্তু চলবে না। পেন্সিল হিল আপনার সাজ সম্পূর্ণ করবে।

হেয়ার স্টাইল

হাই বান হেয়ারস্টাইল: যদি ব্লাউজের নেকলাইন খুব ছড়ানো এবং বড়ো হয় অথবা স্ট্র্যাপলেস ব্লাউজ হয়, তাহলে এই হেয়ারস্টাইল খুব ভালো মানাবে।

স্ট্রেট হেয়ারস্টাইল: খুব তাড়াতাড়ি সাজ কমপ্লিট করতে চাইলে এই হেয়ারস্টাইল বেছে নিতে পারেন। এটি সিম্পল এবং এলিগ্যান্ট-ও বটে।

ব্যাস হেয়ারস্টাইল: যাদের চুল লম্বা তাদের জন্য এই স্টাইল এখন ফ্যাশনে ইন। ওয়েস্টার্ন ড্রেসেজ এবং শাড়ি উভয়ক্ষেত্রেই এই স্টাইল খুব মানানসই।

সিম্পল শর্ট কাট হেয়ারস্টাইল: হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি-তে মন্দিরা বেদী খুব সুন্দর ভাবে এই হেয়ারস্টাইল ক্যারি করেন এবং তাঁর দৌলতেই এই স্টাইলটি ইয়ং জেনারেশনের মধ্যে এতটা পপুলার হয়ে উঠেছে। এই স্টাইলের সঙ্গে বড়ো ইয়াররিংস এবং নেকপিস খুব ভালো মানাবে।

সিম্পল পনিটেল: পনিটেলের সঙ্গে ডিজাইনার ব্লাউজ ম্যাচ করিয়ে নিজেকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলতে পারেন। এই হেয়ারস্টাইল আপনাকে দেবে ক্লাসিক লুক। শাড়ির সঙ্গে এই স্টাইলটি খুবই ভালো লাগে এবং ইয়ং জেনারেশনের কাছে এই স্টাইলটি খুবই পছন্দের।

দীপাবলি স্পেশাল হোম-ডেকর

কীরকম অন্দরসজ্জা চান আপনি, তা ঠিক করে নিন প্রথমে। গুরুত্ব দিন আপনার পরিবারের বাকি সদস্যদের পছন্দকেও। এবার ঠিক করুন, সবাই ট্র্যাডিশনাল লুক চান নাকি ফিউশন। এরপর গুরুত্ব দিন আলোর বিকল্প, আসবাব, ফ্লোরিং, বাড়ির বাইরের এবং ভিতরের রং অথবা ওয়ালপেপার। এই সবকিছুরই দাম জেনে নিয়ে কিছুটা দরদাম করে, বাজেটের মধ্যে যেটা নিতে পারবেন, সেই পছন্দের জিনিস দিয়ে সাজিয়ে তুলুন নিজের একান্ত আপন বাড়িটিকে। অবশ্য বাড়ি সাজাবার আগে, যারা ওই বাড়িতে থাকবেন, তাদের রুচি এবং প্রয়োজন প্রাধান্য পাওয়া উচিত এক্ষেত্রে।

অন্দরসজ্জায় পরিবর্তন আনতে হবে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী। সবরকম আর্থিক সামর্থ্যের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে, বিপণিগুলি নিত্যনতুন পণ্যসম্ভারে বাজার ভরিয়ে তুলেছে। বাজেট অনুযায়ী, পছন্দসই ফার্নিশিংস আর আসবাবের কোনও অভাব নেই বাজারে। শুধু বাছাই করে নিতে পারলেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে। নতুনরূপে সহজে সাজাবার কিছু পরামর্শ দেওয়া হল এখানে, যা আপনাকে সাহায্য করবে।

কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং

প্রত্যেকটি শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, বারান্দা প্রভৃতি কতটা স্পেস রয়েছে, তা দেখে নিয়ে সাজে বদল আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং। এতে ব্যক্তির প্রয়োজন, ঘরের রং, আসবাবের শেপ, ফ্যাব্রিক, মেটিরিয়াল, ডিজাইনিং প্রভৃতি একের সঙ্গে অপরের সামঞ্জস্য বজায় রেখে সোফা, কুশন, দেয়াল, সিলিং, পর্দা সবকিছুরই বিশেষ খেয়াল রাখা হয়।

বাজারে গিয়ে কিছু পছন্দসই জিনিস কিনলেন অথচ বাড়িতে নিয়ে এসে দেখলেন ঘরের আকার অনুযায়ী ঠিকমতো আঁটানো যাচ্ছে না, এমন ঝামেলায় পড়তে হয় অনেক সময়। যেটাই বাড়িতে নতুন তৈরি করা হবে, তা যেন বাড়ির পুরো ডেকরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে করানো হয় এবং বাজেটও আয়ত্বে থাকে। লিভিং রুমটি হয়তো আকারে ছোটো অথচ দোকানে গিয়ে পছন্দ হল বড়োসড়ো একটি সোফা। কখনওই সেটা মানানসই হবে না, উপরন্তু জায়গাতেও কম পড়বে। তার চেয়ে ভালো, ঘরের আকার অনুযায়ী কাস্টমাইজড সোফা বানিয়ে নেওয়া এবং সেইসঙ্গে, ঘরের অন্যান্য আসবাবও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র হল বিভিন্নরকমের ডিজাইন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যম। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, জায়গা ইত্যাদি দেখে বানানো হয়। এতে গ্রাহকের নিজস্ব পছন্দের বিষয়টিও ঠিক থাকে। সারা বাড়ির ডেকর বদলে ফেলা সম্ভব এই পদ্ধতিতে। লেদারের সঙ্গে সলিড কাঠের আসবাব মানানসই হলেও একটু বেশি গরমের অনুভূতি হয়। কিন্তু যদি কাঠ এবং মোটা তারের জাল ব্যবহার করে সোফা কিংবা খাট তৈরি করা হয়, তাহলে হাওয়া চলাচল সঠিক থাকবে এবং গরম হবে না। এরকম ডিজাইনার ফার্নিচারের প্রচুর বিকল্পও রয়েছে আজকাল। এগুলিকে মডার্ন লুকও দেওয়া যায়, আবার ক্রেতা চাইলে ট্র্যাডিশনাল লুক দিয়ে তৈরি করে দেন ফার্নিচার বিপণির কর্মীরা।

পছন্দসই ডেকর

আমরা যে-রঙের পর্দা ব্যবহার করি, সেই রঙের কুশন কভার, বেড কভার ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজাবার চেষ্টা করি, যাতে রং ও স্টাইল-এ একটা মিলমিশ থাকে। পর্দায় ঝালর লাগাতে চাইলে, দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লাগানো যেতে পারে। ঘর আকারে ছোটো হলে, বড়ো যাতে লাগে, সেইজন্য দেয়ালে ওয়ালপেপার লাগানো যেতে পারে অথবা ওয়ালপেপারে পেইন্ট করানো যেতে পারে। ওয়ালপেপার পছন্দ করার প্রথম কারণ হচ্ছে, ঘর দেখতে সুন্দর লাগে। তারপর রং করাবার হলে, ভালো রঙের মিস্ত্রি খুঁজে বার করা এবং হাতে সময় থাকাটাও জরুরি। সময় বাঁচাতে চটজলদি ওয়ালপেপার লাগিয়ে ঘরের অন্দরসজ্জা সেরে ফেলতে ক্ষতি কী? বাড়ির সকলের আলাদা আলাদা পছন্দে এবং ওয়ালপেপারের বৈচিত্র্যে প্রত্যেকের ঘর সেজে উঠতে পারে সম্পূর্ণ ডিফারেন্ট লুক নিয়ে।

অনেকের মনেই এই ধারণা রয়েছে যে, নিজের পছন্দমতো বাড়ি সাজাতে গেলেই অর্থব্যয় অনেক বেশি হবে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত হয়তো এই ধারণাটা সত্যি ছিল কিন্তু এখন সময় বদলেছে। কারণ আর কিছুই নয়, এখন বাজারে ভ্যারাইটি এবং বিভিন্ন রকমের মেটিরিয়ালের প্রাচুর্য রয়েছে। কাঠের আসবাব কিনতে গেলে, কাঠের মধ্যেই নানা ভ্যারাইটি পাবেন। তাছাড়া, দামি, কমদামি সবই পেয়ে যাবেন একই ছাদের তলায়। এরকমই ফ্র্যাব্রিক, কিচেন অ্যাকসেসরিজ, ডেকোরেশনের জিনিস, সবই ফ্ল্যাট অথবা অ্যাপার্টমেন্ট অনুযায়ী এবং বাজেটের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। প্রয়োজন শুধু সঠিক খোঁজখবর নেওয়ার। সুতরাং অন্যের কথায় কান না দিয়ে, নিজের প্রয়োজন জানুন এবং বাড়িতে বসবাসের দিনগুলিকে আনন্দময় করে তুলুন।

পর্দায় বাড়ান আকর্ষণ

ঘরের পর্দা আমরা চট করে বদলাই না। টাঙানো থাকতে থাকতে পর্দায় একটা ম্যাড়মেড়ে ভাব চলে আসে, যা ভীষণ ভাবে ঘরের মেজাজে একটা প্রভাব ফেলে। তাই পর্দা মাঝেমধ্যেই বদলান। পর্দায় উজ্জ্বল ফ্লাওয়ার প্রিন্ট বা একরঙা উজ্জ্বল যে-কোনও রং-ই এই বসন্ত ঋতুর পক্ষে আদর্শ সাজ। আপনার ঘরের দেয়ালে যদি ডিজাইন পেইন্ট করা থাকে, চেষ্টা করুন পর্দার ক্ষেত্রে একই ধরনের ডিজাইন প্যাটার্ন ফলো করতে। ফ্লোরাল প্রিন্ট পছন্দ না হলে মডার্ন কার্টন ডিজাইনগুলি দেখুন। মার্কেটে বোল্ড প্যাটার্ন-এর প্রচুর পর্দা পাবেন। কিন্তু যেটাই ব্যবহার করুন, সেটার যেন ঘরের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকে।

দেয়ালের রূপ খোলে পেইন্টিং

আপনি যদি ক্রিয়েটিভ হন, নিজের সৃষ্টি করা কোনও পেইন্টিং সুন্দর করে বাঁধিয়ে দেয়ালে ঝোলাতে পারেন। চাইলে অ্যামব্রোস পেইন্টিং কিনে নিতে পারেন থ্রিডি এফেক্ট-এর জন্য। এছাড়া নিজেও এমবস করে বানাতে পারেন। এমবস করার জন্য রং ও ছাপ কিনতে পাওয়া যায়। যদি ফোটোগ্রাফির শখ থাকে, তাহলে ছবি তুলে ওয়াশ করে বাঁধিয়ে নিতে পারেন। দেয়ালের রূপ নিমেষে খুলে যাবে।

কুশন কভারে পরিবর্তন

আপনার কুশন কভারগুলো কি বহু ব্যবহারে মলিন হয়ে গেছে? তাহলে এখনই ওগুলো বদলাবার সময় এসেছে। আপনি পুরোনো কভারগুলির উপর ব্লক প্রিন্ট বা অ্যাপ্লিক করে অন্য লুক নিয়ে আসতে পারেন। পুরোনো সিল্কের শাড়ি থেকে নিজেই প্যাচওয়ার্ক করে কুশন বানাতে পারেন। প্লেন একরঙা কুশন হলে এতে ফেব্রিক পেইন্ট করতে পারেন। সব মিলিয়ে আপনার চিরচেনা ঘরটা নতুনত্বের ছোঁয়া পাবে।

ইন্ডোর প্ল্যান্টসএর সবুজ সংসার

গাছপালা শুধু বাড়ির বাইরেটাকেই নয়, অন্দরমহলকেও নিমেষে সতেজ সুন্দর করে তুলতে পারে। তাই ঘরটাকে শ্যামলিমায় ভরে দিতে ইন্ডোর প্ল্যান্টস লাগান। মানি প্ল্যান্ট, এয়ার পিউরিফায়ার, অ্যালোভেরা, ব্যাম্বু প্রভৃতি ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। গাছ থাকার ফলে আপনার ঘরের পরিবেশটাও বিশুদ্ধ হাওয়ায় ভরে উঠবে। যে-কোনও অতিথি আপনার রুচির প্রশংসা করবেন।

ওয়ালপেপার রূপ বদল

আজকাল নানারকম ওয়ালপেপার পাওয়া যায় মার্কেটে। পেইন্ট করা ব্যয়সাপেক্ষ, সেই সঙ্গে একটু ঝামেলাও। তারই সুবিধাজনক বিকল্প ওয়ালপেপার আটকানো। এটুকু বদল করলেই আপনার চেনা ঘরটা একেবারে ঝকমকে নতুন হয়ে উঠবে। তাই স্টিকার বা ওয়ালপেপার এখন বিপুল ভাবে জনপ্রিয়।

ফার্নিচার সেটিং

আপনি হয়তো ঘরের যাবতীয় আসবাব বহুদিন ধরে একই পজিশনে দেখছেন। সেটাও একঘেয়েমির একটা কারণ হতে পারে। একটু জায়গা অদলবদল করে দেখুন, চেনা ঘরটাই নতুন লাগবে। আলমারি, খাট, চেয়ার সবই একটু স্থান পরিবর্তন করলে ঘরের ধুলোও ঝাড়া হবে, আর আলো হাওয়াতেও পরিবর্তন হবে।

লাইটিং আনে উজ্জ্বলতা

দীর্ঘদিন একই ধরনের লাইট সেটিং ঘরটাকে ম্লান করে তোলে। পুরোনো টিউব বদলে এলইডি নিয়ে আসুন। ঘরের আলো উজ্জ্বল করলে ঘরটা দেখতেও ভালো লাগবে। সুন্দর ল্যাম্পশেড, দেয়ালে লাগানোর ল্যাম্প শেড সবই সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা আনে। ঘর এবং বারান্দা— দুই-ই সুন্দর আলো দিয়ে সাজাতে পারেন।

ঘর সাজাতে ফুলের ব্যবহার

আজকাল বহু রকমের আর্টিফিশিয়াল ফ্লাওয়ার কিনতে পাওয়া যায়। ঘরের কোনায় বড়ো ফ্লাওয়ার ভাস-এ সাজান কিংবা টেবিলের উপর, ফুল কিন্তু ঘরের সৌন্দর্যে দারুণ পরিবর্তন আনতে পারে। যদি ফ্রেশ ফ্লাওয়ার পছন্দ হয় আপনার, তাহলে জারবেরা বা ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ— এসব তো আছেই। সেন্টেড, ফ্লোটিং ক্যান্ডল্স আর ফুল, নিমেষে একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করবে আপনার ঘরে।

টুকিটাকি রদবদল

কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং-এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন জিনিসের সামান্য রদবদলেও, আপনার ফ্ল্যাটটি উৎসবের রঙে সেজে উঠতে পারে। হাতে সময় কম থাকলে অর্ডার প্লেস করা, জিনিস তৈরি হওয়ার সময় দেওয়া, কোনওটাই সম্ভব নয়। তাই বলে কি অন্দরসজ্জায় পরিবর্তন আনবেন না মাঝেমধ্যে? মন খারাপের কিছু নেই।

আসবাবপত্রের অবস্থান পরিবর্তন করেও ঘরের সাজ বদলে দেওয়া যায়। বারান্দায় অবহেলায় পড়ে থাকা ফুলের টবগুলিকে রঙিন করে ঘরের প্রতিটি কোনায় রাখুন ফুলের গাছ সহযোগে। ঘরের দেয়ালের রং এবং পর্দার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কুশন কভার, বেড কভার, বালিশ এবং পাশবালিশের কভার বদলে ফেলুন। আজকাল মেঝেতে পাতার জন্য খুব সুন্দর ডিজাইনের হালকা, সিন্থেটিক কার্পেট কিনতে পাওয়া যায়। বসার ঘরে যদি একটা কার্পেট বিছিয়ে নেন, তাহলে ঘরের সৌন্দর্যও বাড়বে এবং শীতকালে মেঝে থেকে ওঠা ঠান্ডাও আপনার পায়ে লেগে সমস্যায় পড়তে হবে না। আর বাড়িতে থাকা ফুলদানিতে টাটকা ফুল রেখেও ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানো যেতে পারে এবং ঘরকে সুগন্ধময় করে রাখা যেতে পারে।

আলোকিত করুন জীবনকে

এসে গেল আলোর উৎসব দীপাবলি। ভিতর-বাইরের সমস্ত অন্ধকার দূর করে আলোর বন্যা বইয়ে দেওয়ার এ-ও এক সুবর্ণ সুযোগ। তবে এই সুযোগকে হাতের মুঠোয় পেতে হলে, ভাবতে হবে একটু অন্য ভাবে। কেনাকাটা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, উপহার আদান- প্রদান, বাজি পোড়ানো, ভুরিভোজ প্রভৃতি গতানুগতিকতার পাশাপাশি, একটু অন্যরকম ভাবে উৎসব উদ্যাপন করতে পারলে, পাওয়া যাবে নির্ভেজাল আনন্দ, চরম মানসিক তৃপ্তি। আর এই পজিটিভ ভাইস আপনার নিজের থেকে ছড়িয়ে যাবে পারিবারিক জীবনে।

আসলে আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে অন্যের কথা ভাবা, অন্যের জন্য কিছু করার মাধ্যমেই পাওয়া যায় অসীম আনন্দ। মোটকথা আরও উদার, আরও দয়ালু হতে হবে। কারণ আপনজনের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে তবেই নিজের অন্তরকে আলোকিত করা যায় প্রকৃতপক্ষে। তাই একার আনন্দে নয়, সমবেত আনন্দেই পরিবারে বজায় থাকবে পজিটিভ ভাইস বা খুশির আবহ। মনে রাখবেন, যে-যার মতো আনন্দে থাকতে চায়। তবে ভালোলাগার বিষয় যাই হোক, উপলক্ষ্য কিন্তু একটাই— আনন্দলাভ। কারণ আমরা মনে মনেই বাঁচি বেশি। অতএব জীবনের সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে, মানসিক শাস্তি এবং আনন্দলাভের সংকল্প করতে হবে। আর সংকল্পের সঠিক সময় হোক আলোর উৎসব দীপাবলি।

আত্মবিশ্লেষণ

আয়নার সামনে দাঁড়ান। দেখুন নিজেকে। কী কী দোষগুণ আছে তা বিশ্লেষণ করুন। দোষগুলিকে কাটানোর চেষ্টা করুন এবং গুণগুলির কথা ভেবে আত্মবিশ্বাস বাড়ান। প্রয়োজনে অন্যদের (শুভাকাঙ্ক্ষী) থেকে জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন আপনার কী কী দোষগুণ আছে। কারণ, নেগেটিভ পয়েন্টস না কাটালে, পজিটিভ ভাইস আসবে না। অতএব নিজেই নিজের সমালোচনা করুন এবং অন্যের থেকে সমালোচনা শুনে নিজেকে শুধরে নিন।

সামাজিকতা

টেলিভিশন কিংবা কম্পিউটারের সামনে অহেতুক দীর্ঘ সময় ব্যয় না করে, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন। যত মানুষের সঙ্গে মিশবেন, ততই আপনি জ্ঞানবুদ্ধিতে সমৃদ্ধ হবেন, উপকার পাবেন। শুধু তাই নয়, অন্যের গুণগুলি নিতে পারলে আপনি আরও গুণী এবং স্মার্ট হয়ে উঠবেন। মনে রাখবেন, কূপমণ্ডুকরা কল্পনার জগতে বাস করে, কিন্তু সামাজিকতা বাস্তবের মুখোমুখি করে। আর এই সামাজিকতা বজায় রাখার জন্য ভালোবাসার মানুষের হাতে তুলে দিতে পারেন উপহার সামগ্রী। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, প্রত্যেক মানুষই ভিন্ন স্বভাব এবং ভাবধারা নিয়ে বেড়ে ওঠেন। তাই সবাইকে একইরকম উপহার দিয়ে সমান ভাবে খুশি করতে পারবেন না। অতএব কে কেমন স্বভাবের এবং কী উপলক্ষ্যে উপহার দিচ্ছেন তা জেনেবুঝে নিয়ে তবেই উপহার দিন। নয়তো উপহার দেওয়ার পর অন্যের মুখে হাসি না ফুটলে আপনি মর্মাহত হতে পারেন।

যেমন কেউ চায় ব্যবহার্য সামগ্রী, কেউ চায় শৌখিন জিনিস, কেউ চায় দামি কিছু, কেউ-বা আবার হয়তো আবেগমিশ্রিত ব্যক্তিগত কিছু ইচ্ছের বাস্তবায়ন চায় উৎসবকে উপলক্ষ্য করে। আর এই আবেগমিশ্রিত উপহারগুলির মধ্যে হয়তো মনের মানুষের দেশ-দেশান্তরে বেড়ানোর ইচ্ছেপূরণ করতে হতে পারে। তাড়াতাড়ি সন্তান চাইলে তাও দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে কিংবা ভাড়াবাড়ি ছেড়ে স্থায়ী ঠিকানার বন্দোবস্তও করতে হতে পারে। শুধু তাই নয়, ধূমপান, মদ্যপানের মতো কুঅভ্যাস ত্যাগ করানোকেও অনেকে সেরা উপহার মনে করেন।

অবশ্য শুধু উপহার আদানপ্রদানের মধ্যেই আনন্দ সীমাবদ্ধ থাকে না। আত্মীয়, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে হইহুল্লোড়ে মেতে থাকার মধ্যেও আনন্দলাভ ঘটে, হৃদয় আলোকিত হয়। কিংবা পরিবারে পজিটিভ ভাইস বা খুশির আবহকে তীব্র রূপ দিতে হলে, পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমাজসেবার মাধ্যমে আরও বৃহত্তর অর্থে পজিটিভ ভাইস আনা যায়। যেমন ধরুন, কারওর জন্য সময়দান কিংবা শিক্ষাদান। এই দুটি বিষয় ছাড়াও রয়েছে অন্নদান, বস্ত্রদান এবং আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি।

অর্থাৎ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুশি রাখার উদ্যোগ। আপনার সামর্থ্য মতো কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দিতে পারেন গরিব মানুষের হাতে। কিংবা অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়া অথবা নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সঙ্গে গল্প- আড্ডা, খাওয়াদাওয়ার মাধ্যমেও খুশির আবহ তৈরি করা যায়। অর্থাৎ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে না থেকে, সর্বজনীন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে নিজের পরিবারে পজিটিভ ভাইস নিয়ে আসুন।

গুরুত্বের বিচার

গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের তালিকা তৈরি করুন। কারণ, সঠিক গুরুত্ব মানেই সঠিক সাফল্য। এতে বাজে কাজে সময় নষ্ট হবে না। আপনার জীবনের উপযোগী এবং লাভজনক কাজগুলিকে তালিকার শীর্ষে রাখুন। ঠান্ডা মাথায় নিজের কাজের গুরুত্ব নিজেই বিচার করুন। এর ফলে সাফল্য এবং আনন্দ দুই-ই বজায় থাকবে। আর আনন্দ বজায় থাকলেই পজিটিভ ভাইসও থাকবে পরিবারে। স্বাস্থ্য সচেতনতা

মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যই সম্পদ। শরীর স্বাস্থ্যের যত্ন না নিলে, একসময় সব আনন্দ এবং ধনসম্পদ নষ্ট হবে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে পরিবারের প্রত্যেকে শরীরচর্চা করুন। খাদ্যতালিকায় রাখুন শাকসবজি এবং ফল। পান করুন পর্যাপ্ত জল। আর উৎসবে কিংবা অন্য সময় যতটা সম্ভব ফাস্ট ফুড থেকে সরিয়ে রাখুন নিজেকে।

কর্ম প্রাধান্য

ভাগ্য নয়, কর্ম পাক প্রাধান্য। মনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন না, কর্মময় জীবনযাপন করেন। তাই, কোনও কাজে সাময়িক বাধা কিংবা প্রতিকূলতা এলে, ভাগ্যকে দোষারোপ করে বসে থাকবেন না। প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। কারণ, মনের জোর-ই পারে অসাধ্য সাধন করতে। অতএব সাময়িক বাধা এলে নিরাশ না হয়ে বুদ্ধি এবং পরিশ্রম দিয়ে বাধা কাটিয়ে উঠুন।

মনে রাখবেন, ঝড় ওঠে, আবার থেমেও যায়। সমস্যা থাকলে তার সমাধানও আছে। আর যে-সমস্যার সমাধান নেই, সেটা কোনও সমস্যাই নয়। তাই, বীর সৈনিকের মতো যুদ্ধ করুন সমস্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে এবং খুশির আবহ ফিরিয়ে আনুন পরিবারে। বাহ্যিক সৌন্দর্য

পরিবারের সবার অন্তর আলোকিত হলে যেমন পরিবারে পজিটিভ ভাইস বজায় থাকে, ঠিক তেমনই অন্তরকে আলোকিত করতে হলে বাহ্যিক সৌন্দর্যও বজায় রাখতে হবে। কারণ পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্য দর্শনেও সুখ আছে। অতএব দীপাবলি উপলক্ষ্যে ঘরবাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং আলোকিত রাখুন। কোথাও যেমন অন্ধকার রাখবেন না, ঠিক তেমনই কোথাও অগোছালো কিংবা নোংরা রাখবেন না৷

একটা কথা মনে রাখবেন, আপনার চারপাশের সৌন্দর্য যেমন আপনার এবং আপনার পরিবারের সবার মন ভালো রাখবে, ঠিক তেমনই অন্যকেও আকর্ষণ করবে। এর ফলে আপনার সুস্থ রুচির পরিচয় বহন করবে এবং খুশির পরিবেশ বজায় থাকবে।

উৎসবের আবহে জীবনে আনুন নতুন ছন্দ

জীবন হয়তো কবিতার মতো নয়, বরং অনেকটাই গদ্যময়। তবুও জীবনকে ছন্দে বেঁধে রাখতে পারলেই অনেকটা হাসিখুশিতে থাকা যায়। কারণ জীবন কোন খাতে কখন বয়ে চলে, তা আমরা কেউই জানি না। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না, সে এগিয়ে চলে তার নিজস্ব ছন্দে। অতএব সময় এবং নদীর মতো জীবনও বহমান। তাই প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই আসবে সাফল্য। কিন্তু কীভাবে, কোন পথে, কোন কৌশলে এগোলে সাফল্যলাভ সম্ভব— তা হয়তো সবার জানা নেই।

সম্পর্ক অটুট রাখুন

জীবনকে সুন্দর করে তুলতে, বড়ো ভূমিকায় থাকে সম্পর্ক। যার সম্পর্কের বাঁধন যত মজবুত, সে জীবনে ততই সফল। মনে রাখবেন, যার যতই অর্থবল থাকুক না কেন, বিপদে পড়লে বোঝা যায় অর্থের পাশাপাশি লোকবলও কতটা প্রয়োজন। আসলে একা মানেই বেশিরভাগ সময় আমরা বোকা হয়ে যাই, বিশেষত বিপদের সময়। তখন সবকিছু জেনেও যেন কেমন অসহায় ভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। অর্থাৎ, একা থাকলে ঘাবড়ে গিয়ে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না অনেকসময়। শুধু তাই নয়, অসুখ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আন্তরিক সেবাদান নিজের পরিবারের লোকজন ছাড়া প্রায় সম্ভব নয় বললেই চলে। টাকা দিয়ে লোক রেখে চব্বিশ ঘণ্টা সঠিক ভাবে সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

অবশ্য শুধু এই বিষয়টিই নয়, আর্থিক কষ্টের দিনে কিংবা কোনও জটিল পরিস্থিতির সময় মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষের সাহায্য লাগে। তবে মনে রাখবেন, একতরফা ভালোবাসা পাওয়া যায় না। অন্যের থেকে ভালোবাসা পেতে হলে আপনাকেও আন্তরিক ভাবে ভালোবাসতে হবে অন্যকে। অন্যের বিপদের দিনে অর্থ এবং শ্রম দিয়ে নির্দ্বিধায় সাহায্য করতে হবে আপনাকেও। মনে রাখবেন, সম্পর্ক-ই সবচেয়ে বড়ো সম্পদ জীবনে। সম্পর্কের ভিত যত মজবুত হবে, জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাও তত সহজেই দূর হয়ে যাবে।

কোনও অসাধু লোক আপনার ক্ষতি করার আগে দু’বার ভাববে এবং ভয় করবে। কারণ সে জানে, আপনার লোকবল আছে। শুধু তাই নয়, ভালোবাসার লোকজন থাকলে আপনার মনের জোরও অনেক বেড়ে যাবে, কোনও অসহায়তাই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাছাড়া, সবাই মিলে কাজ করলে সব কাজই অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এই সম্পর্কের ভিত শক্ত করার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন সবার সঙ্গে এবং মাঝেমধ্যে দেখা করে উপহার সামগ্রীও দিন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন কোনওরকম দূরত্ব না রেখে। সাধ্যমতো পরস্পরকে সময় দিন, ভালোমন্দ ভাগ করে নিন, মেতে থাকুন হইহুল্লোড়ে।

সঞ্চয় করুন

জীবনে সুসম্পর্কের পর সবচেয়ে বড়ো ভূমিকায় থাকে সঞ্চয়ের বিষয়টি। সম্পূর্ণ না হলেও, অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অর্থ। তাই টাকা জমান সাধ্যমতো। কর্মজীবনের পর থেকে মাথায় রাখুন অর্থ সঞ্চয়ের বিষয়টি। প্রথমে দেখে নিন আপনার মাসিক আয় কত, তারপর সেইমতো ব্যয় করুন। কোন খাতে কত খরচ করতেই হবে তা প্রথমে লিখুন। এরপর মোট খরচের সঙ্গে মিসলেনিয়াস খাতে আরও কিছু টাকা ধরে নিয়ে আয়ের পরিমাণ থেকে সেই টাকা বাদ দিয়ে দেখুন কত টাকা বাঁচাতে পারছেন। যতটুকু টাকা বাঁচাতে পারবেন, সেই টাকা বাড়িতে না রেখে ব্যাংক-এ রাখুন। কারণ, ব্যাংক-এ টাকা রাখলে তা যেমন সুরক্ষিত থাকবে অনেকটাই, ঠিক তেমনই মাসে মাসে সুদের টাকাও হবে বাড়তি পাওনা।

অবশ্য শুধু ব্যাংক-এ টাকা জমানোই নয়, সোনার গয়নাও কিনে রাখতে পারেন। বিপদের দিনে এই স্বর্ণালঙ্কার খুব কাজে লাগবে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, কিছুদিন টাকা জমিয়ে জমি কিংবা বাড়িও কিনে রাখতে পারেন। কারণ, জমি-বাড়িও একরকম সঞ্চয়। শুধু তাই নয়, পিএফ বা পিপিএফ-ও বড়ো সঞ্চয়ের মাধ্যম। যারা চাকরি করেন, তারা এই সুবিধা নিতে পারেন। তবে শেয়ারবাজার কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে ভালো ভাবে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।

একটু বিচক্ষণতার সঙ্গে চলতে পারলেই দেখবেন সুস্থ-সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এই যেমন আমাদের এখন অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনই অনেকটা সাশ্রয়ীও হওয়া উচিত।

সন্তানের জন্য সঞ্চয়

যে যত বিচক্ষণ, সে ততই আগাম পরিকল্পনার পথ বেছে নেয়। এই যেমন সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রথমেই প্রতি মাসে কিছু টাকা রেখে দিন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য। এখন অনেক ব্যাংক এমন বিশেষ কিছু যোজনা যুক্ত করেছে, যা খুবই লাভদায়ক। প্রতি মাসে যদি ৫০০ টাকা করেও জমাতে পারেন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য, তাহলে আপনিও যেমন ভবিষ্যতে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন, ঠিক তেমনই আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ-ও অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। অবশ্য শুধু ব্যাংক-ই নয়, পোস্ট অফিসেও এমন অনেক যোজনা রয়েছে, যা আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ করবে আপনাকে।

সুরক্ষা বিমা

এই জীবন সুরক্ষা বিমার দুটি ভাগ আছে। প্রথমটি স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যটি জীবনবিমা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট টাকা জমা দিতে হবে বিমা কোম্পানিতে। জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ নির্ভর করবে বয়স এবং বিমারাশির পরিমাণের উপর। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে যেমন আপনার জীবন বাঁচবে, ঠিক তেমনই হঠাৎ যদি পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু ঘটে তাহলে জীবিত সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে যাবেন বিমা কোম্পানির থেকে। তাই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর জীবনবিমা করিয়ে রাখা উচিত। এতে তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিপদে পড়বেন না উপার্জনকারীর মৃত্যু ঘটলেও।

আর মনে রাখবেন, প্রতিদিন যেভাবে চিকিৎসার খরচ বেড়ে চলছে, তাতে মেডিকেল ইনশিয়োরেন্স করিয়ে রাখা জরুরি। অনেক দেশ আছে যেখানে চিকিৎসাবিমা বাধ্যতামূলক। এই বিমা না থাকলে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায় না। তাই মেডিকেল ইমারজেন্সির সময় যাতে বিপদে না পড়েন, তার জন্য স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে রাখা-ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এছাড়া, আপনার গাড়ি-বাড়ির বিমাও করিয়ে রাখুন। এই সুরক্ষা বিমার মধ্যে এখন ট্রাভেলিং ইনশিয়োরেন্স এবং ওয়েডিং ইনশিয়োরেন্সও যুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিলে আরও বিশদে জানতে পারবেন।

সাশ্রয়

মনে রাখবেন, সঞ্চয় বাড়াতে হলে সাশ্রয়ী হতে হবে। সচেতন থেকে যত বেশি খরচ কমাতে পারবেন, তত বেশি সঞ্চয় করতে পারবেন। এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনে আলো, পাখা, গিজার, এগজস্ট ফ্যান কিংবা এয়ারকন্ডিশনার বন্ধ রাখতে হবে। কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট-এর খরচ ইত্যাদিও কমাতে হবে। এছাড়া ঘনঘন রেস্তোরাঁয় খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় শপিং।

প্রতিদিন পাঁচরকম রান্নার আয়োজন না করে মাঝেমধ্যে ভালো কিছু খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলেও রান্নার গ্যাস এবং রান্নার সামগ্রীর খরচ বাঁচানো যাবে। সেইসঙ্গে, খুব প্রয়োজন না হলে যাতাযাতের জন্য ক্যাব ভাড়া না করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলেও প্রতি মাসে অনেক টাকা বাঁচাতে পারবেন। আর কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য সাইকেল ব্যবহার করলে তাও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য

সবাই জানেন যে, স্বাস্থ্য-ই অন্যতম সম্পদ। শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে জীবনের অনেক সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় সহজে। তাই, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো পুষ্টিকর খাবার খান। শাকসবজি এবং অন্যান্য ফলমূল ইত্যাদি ফাইবারজাতীয় খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যরক্ষা করুন। প্রতিদিন পরিমাণ মতো (তিন থেকে চার লিটার) জল পান করুন এবং রাতে অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।

একটানা মোবাইল ফোন-এ চোখ রাখবেন না কিংবা একটানা ল্যাপটপ-এ বসে কাজ করবেন না, মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন। রাতে মশারি টাঙিয়ে শোবেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন। বাড়ির আশেপাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না কিংবা ময়লা জমিয়ে রাখবেন না।

মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান এবং মাঝেমধ্যে বাইরে কোথাও সুন্দর জায়গায় বেড়িয়ে আসুন। কোনও কাজ জমিয়ে রাখবেন না। কারণ, কাজ জমিয়ে রাখলে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বদা পজিটিভ ভাবুন। কোনও সমস্যায় পড়লে শুভাকাঙ্ক্ষীর সাহায্য এবং পরামর্শ নিন।

২০২৫-এ ওয়ার্ডরোব মেকওভার

বয়স অল্প হলে যে-কোনও পোশাক পরলে যেমন মানিয়ে যায়, কখনও আবার তাদের সেই নতুন পোশাকই ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু বয়স ৩০-৩৫-এ পৌঁছালেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, নিজেকে আর ফ্যাশনেবল রাখা সম্ভব নয়— এমন ধারণা করে নেওয়াটা ঠিক নয়।

ফ্যাশন ডিজাইনারদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলারা যদি সঠিক পোশাক নির্বাচন করেন, তাহলে তারাও সৌন্দর্যে নতুন প্রজন্মকে ভালোমতো টেক্কা দিতে পারবেন।

অল্প বয়সে ম্যাচিওর লুক পাওয়ার জন্য কখনও মায়ের শাড়ি কিংবা সালোয়ার নিয়ে কিশোরীরা পরেই থাকে। কিন্তু শরীর, মন যত ম্যাচিওর করবে, ততই খুব কম প্রয়াসে নিজের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সহজ হয়ে যাবে। দরকার শুধু ওয়ার্ডরোব মেকওভার।

বাহারি সব ডিজাইনের কুর্তি, কামিজ শুধু ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবেই নয়, সান্ধ্য পার্টিতেও প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যাপক ভাবে। পরিধেয় পোশাকের ধরনে নতুনত্ব আনলে যেমনটি ভালো লাগবে নিজের, তেমনই অন্যদের চোখেও হয়ে ওঠা যায় আকর্ষণীয়। ভদ্র-নম্র পোশাক হিসাবে গোটা উত্তর ভারতে লম্বা ঝুলের কামিজ ও সালোয়ার বা পালাজো স্যুটের জয়জয়কার। কাপড়ের ধরন ও প্যাটার্নভেদে বিভিন্ন দাম পড়ে এইসব পোশাকের। ডিজাইনাররা নিজস্ব পছন্দ এবং তরুণীদের কথা মাথায় রেখে, নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন মনমাতানো ডিজাইনের কুর্তি আর কামিজ।

সালোয়ার স্যুটের সুন্দর মার্জিত শৈলী চিরকালই ফ্যাশনেবল। নরম আরামদায়ক ফ্যাব্রিক, সুন্দর কাট দ্বারা আকর্ষণীয় করা হয়েছে এইসব পোশাককে। কখনও মাল্টিকালার ফ্লাওয়ার মোটিফ, কখনও প্রিন্টেড বা ফাইন এমব্রয়ডারি করা ইয়োক বা হেমলাইন। স্টোন ফিটিং-সহ থ্রি-কোয়ার্টার হাতা। যেন হাজারো রঙের সংযোজন ঘটেছে এইসব পোশাকে।

বিয়েবাড়িতেও সালোয়ার স্যুট খুবই মানানসই। এই পোশাক পরতে চাইলে, সবচেয়ে ভালো মানাবে সিল্কের কুর্তা আর বেনারসি দুপাট্টার কম্বিনেশন। সিল্ক কুর্তার সঙ্গে মানিয়ে যায় যে-কোনও উজ্জ্বল রঙের দুর্দান্ত একটি বেনারসি দুপাট্টা। সুবিধে হচ্ছে, বাঙালিদের বাড়িতে বেনারসি এক-আধটা পাওয়া যাবেই। অনেক সময় মা-দিদিমাদের পুরোনো বেনারসিও অযত্নে পড়ে থাকে আলমারির এক কোণে। সেই শাড়িগুলিকে কাজে লাগানোর একটা চেষ্টা করে দেখাই যায়।

এমন অনেক ডিজাইনার আছেন, যাঁরা পুরোনো বেনারসির পাড় বা আঁচলটুকু দারুণ ভাবে কাজে লাগিয়ে আপনার জন্য তাক লাগানো পোশাক বানিয়ে দিতে পারেন। বেনারসি শাড়ির ভালো অংশটুকু কেটে নিয়ে খুব ভালো মানের লাইনিং লাগিয়ে আস্ত কুর্তা তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। কারুকাজ করা আঁচল দিয়ে বানানো যায় স্কার্ফ। স্রেফ পাড়টুকু খুলে নিয়ে অন্য কোনও সলিড কালারের শাড়িতে লাগিয়ে নিন, চমৎকার দেখাবে!

যেহেতু আজকাল কামিজের কারিগরি তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই সুন্দর, তাই এর সঙ্গে একগাদা গয়না পরে পোশাকের সৌন্দর্যটা নষ্ট করার মানেই হয় না! যে-কোনও একটি তাক লাগানো গয়না বেছে নিন। তা ঢোকার হতে পারে, হতে পারে কানের ভারী দুল বা হাতের ব্রেসলেট। মেক-আপ করুন পোশাকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। লিপস্টিক, আইশ্যাডো বা ব্লাশ অন-এ অতি উচ্চকিত রঙের ব্যবহার কিংবা দারুণ হেয়ারস্টাইল ছাড়াও আপনি ঝলমলিয়ে উঠবেন অনুষ্ঠানবাড়িতে!

সঠিক মাপ ও শেপ-এর পোশাক

সব বয়সেই ফিগার মেনটেইন করতে পারবেন অর্থাৎ ৩৪-২২-৩৬ ফিগার হবে- এটা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভবপর নাও হয়ে উঠতে পারে। তার মানে এই নয় যে, সঠিক শেপ- এর ফিটিংস ড্রেস পরা ছেড়ে দিতে হবে। ফিগার যদি সুন্দর হয়, যে-কোনও বয়সেই মাপ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করতে পারেন, ফলে নিজের পারফেক্ট বডিশেপ অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই এবং নিজের পছন্দের পোশাকেই হয়ে উঠতে পারবেন অনন্যা।

বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে পেটে যদি সামান্য মেদ-ও জমা হয়, , চিন্তার কিছু নেই। বডি হাগিং ড্রেস যেমন টামি হাইড করবে, ঠিক তেমনই পাবেন পারফেক্ট লুক।

যদি ব্রেস্ট লাইন সামান্য ঝুঁকে গেছে বলে মনে হয়, তাহলে সাপোর্টিভ ব্রা পরে সঠিক লুক আনতে পারেন। বডি শেপার শেপওয়্যার, সাপোর্টিভ ব্রা-এর নানা ভ্যারাইটি এখন মার্কেট এবং অনলাইনেও সহজে অ্যাভেলেবল।

ব্ল্যাক শেডস পোশাক

ওয়ার্ডরোব-এ ব্ল্যাক শেডস-এর কালেকশন অবশ্যই রাখুন। যেমন ব্ল্যাক ড্রেস, টপ, কুর্তি, শাড়ি, জিন্‌স ইত্যাদি। এভারগ্রিন ব্ল্যাক শেড কখনওই আউট অফ ফ্যাশন হবে না। যে-কোনও সিজন-এ, নিজের খুশিমতো পার্টিতে, ফর্মাল মিটিং-এ অথবা অনুষ্ঠান বা ফেস্টিভ্যালে ব্ল্যাক ড্রেস, শাড়ি— সবকিছুই পরা যেতে পারে। কালো রঙের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং হ্যান্ডব্যাগ, হাতঘড়ি, ফুটওয়্যার সবকিছুই আজও ফ্যাশনে ইন।

নি-লেংথ ড্রেস

আগে পার্টিতে ড্রেস পরে অনায়াসেই যখন নিজেকে ক্যারি করতে পেরেছেন, তাহলে এখন করতে কীসের লজ্জা? ৩০ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়া মানে আপনি ড্রেস পরে আর পার্টি এনজয় করতে পারবেন না— এমন নয়। ফ্যাশন এবং কমফর্ট দুটোরই খেয়াল রেখে শর্ট ড্রেস-এর বদলে হাঁটু পর্যন্ত ড্রেস পরুন, আপনার সৌন্দর্য বা ফ্যাশনে এতটুকু ঘাটতি হবে না।

স্ট্র্যাপি টপস

কলেজে থাকাকালীন স্ট্র্যাপি টপস পরতে যখন দ্বিধা করেননি, তখন একটু বেশি বয়সে এসে কেন এটা অ্যাভয়েড করবেন? এখনও নিজের ওয়ার্ডরোব-এ স্ট্র্যাপি টপস রাখতেই পারেন। কিন্তু যখন কিনবেন, তখন একটু চওড়া স্ট্র্যাপ-এর ড্রেস বা টপ হলেই ভালো হয়। এতে আপনার কমফর্ট লেভেল-ও বজায় থাকবে আর দেখতেও স্টাইলিশ লাগবে।

ওয়ান পিস ড্রেস

ওয়ান পিস, গাউন, ম্যাক্সি, বিচ ড্রেস ইত্যাদি ৩০ বছর বয়সের পরেও অনায়াসে পরতে পারেন। এই ধরনের আউটফিট-এ যথেষ্ট ফ্যাশনেবল হয়ে উঠতে পারবেন। পার্টি, অনুষ্ঠানে ওয়ানপিস বা গাউন পরতে পারেন, আবার হলিডে সেলিব্রেশনের সময় বিচ ড্রেস আপনার পার্সোনালিটির সঙ্গে মানানসই হতে পারে। রেগুলার ওয়্যার-এর জন্য ম্যাক্সি ড্রেসও ট্রাই করতে পারেন।

জিন্‌স

টিনএজারস থেকে শুরু করে, সব বয়সের মহিলারাই জিন্স পরতে পছন্দ করেন। তবে একটু বেশি বয়সে জিন্স-এর  সঙ্গে টাইট ফিট স্কিনি টি-শার্ট একটু বিসদৃশ লাগতে পারে। ফর্মাল শার্ট, লুজ কুর্তার সঙ্গে স্মার্ট দেখতে লাগবে। লং ওয়েট-এর বদলে হাই ওয়েট জিন্‌স আপনাকে বেশি মানাবে।

শাড়ি

রেগুলার ড্রেস বা প্যান্টস, টপ, জিন্স ইত্যাদির লুকে যদি বোর ফিল করতে আরম্ভ করেন, তাহলে শাড়ি ট্রাই করে দেখতে পারেন। চেহারায় ভালো একটা পরিবর্তন আসবে। শরীরের খামতিগুলো শাড়ির সাহায্যে অনায়াসেই লুকিয়ে ফেলা সম্ভব আকষর্ণীয় লুক বজায় রেখেই। শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস, ব্যাকলেস, হল্টার অথবা টি-নেক ব্লাউজ পরুন, আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট অনেকেরই ঈর্ষার কারণ হতে পারে। বিশেষ কোনও জায়গায় রয়্যাল লুক ক্যারি করতে হলে বেছে নিন ডিজাইনার শাড়ি।

মিডিয়াম-সাইজ স্কার্ট

শর্ট স্কার্ট বা খুব লম্বা স্কার্ট নয়, হাঁটু অবধি বা হাঁটুর একটু নীচে অবধি স্কার্ট পরতেই পারেন। টি-শার্ট বা টপ-এর পরিবর্তে শর্ট, কুর্তির সঙ্গে পেয়ার করুন। এটি যথেষ্ট স্মার্ট ড্রেস। ডার্ক বা ব্রাইট শেড লং স্কার্টের সঙ্গে ম্যাট কালার এবং লাইট কালারের কুর্তি আপনাকে দেবে ব্যালেন্সড লুক।

জ্যাকেট অথবা কোট

জিন্স অথবা স্কার্টের সঙ্গে টাইট ফিটিং টপ, টি-শার্ট যদি পরেন, উপরে পরে নিন জ্যাকেট বা কোট, যাতে নিজেকে সফেস্টিকেটেড লুক দেওয়া যায়। যদি আপনার পোশাক ফুলস্লিভস হয়, তাহলে স্লিভলেস জ্যাকেট বা কোট আপনার সাজকে পারফেক্ট করে তুলবে।

ব্যক্তিগত যত্নের A to Z

মানুষের জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই কেটে যায় দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে। তাই অনেকের ব্যক্তিজীবন থাকে অবহেলিত। আর যারা ব্যক্তিগত যত্নের বিষয়ে সঠিক সময়ে ভাবেননি, তারা জীবন সায়াহ্নে এসে আক্ষেপ করেন। কিন্তু পরে ভেবে লাভ কী! মনুষ্য- জীবনকে সার্থক করে তুলতে হলে সঠিক সময়ে নিজের যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ, রোগভোগ কিংবা অসুখী মন নিয়ে গুমরে থাকার কোনও মানে হয় না। তার চেয়ে বরং নিজের জন্যও ভাবুন, সময় দিন নিজেকে। যত্ন নিন নিজের স্বাস্থ্যের এবং সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যের। সবার প্রথমে শরীরে গড়ে তুলুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তারপর, মন ভালো রাখার কৌশল রপ্ত করুন। এই বিষয়ে আপনাকে সাহায্য করার জন্য কলকাতা-র দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং একজন মনোবিদের পরামর্শ তুলে ধরা হচ্ছে।

ডা. পার্থজিৎ দাস
(ডিরেক্টর- এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি অ্যান্ড রিউম্যাটোলজি)

সুস্থ-স্বাভাবিক থাকতে হলে, প্রথমে আপনার শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে ঠিক রাখতে হবে, অর্থাৎ ইমিউনিটি পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়াতে হবে। নয়তো, অটোইমিউন-এর সমস্যায় পড়তে পারেন। মনে রাখবেন, অটোইমিউন এমন একটি রোগ, যা শরীরের স্বাভাবিক কোষের উপর আঘাত হানে। বর্তমানে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি অটোইমিউন ডিজিজ-এর শিকার হচ্ছেন। আর এখন ধীরে ধীরে অটোইমিউন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এটি সম্ভবত হরমোনের পরিবর্তন, পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ, খাদ্য, মানসিক চাপ, আঘাত, ব্যায়ামের অভাব, সংক্রমণ এবং অন্যান্য কারণে হতে পারে। রিউম্যাটিক ওষুধ ছাড়াও, জীবনধারার পরিবর্তনের ফলে স্বাভাবিক সুস্থতায় ফিরে আসা সম্ভব। এর জন্য যে-সব বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে, তা হল–

স্বাস্থ্যকর খাবার

পুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পর্কযুক্ত। যেহেতু আপনার ইমিউন সিস্টেমের ৮০ শতাংশ অস্ত্রের আস্তরণের মধ্যে রয়েছে, তাই প্রতিদিন আপনি কী খাচ্ছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি পুষ্টির ভারসাম্যই না থাকে, তাহলে অটোইমিউন রোগের শিকার হতে পারেন। সেইসঙ্গে, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন বজায় রাখুন। আপনাকে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক এবং প্রিবায়োটিক খাবার খেতে হবে। বিশেষকরে ফল এবং সবজি অর্থাৎ ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া আবশ্যক। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত খাবার, কৃত্রিম রং-যুক্ত মিষ্টি, সাধারণ কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লুটেন এড়িয়ে চলতে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

যাদের ওজন বেশি বা স্থূল চেহারা, তাদের রোগের ঝুঁকি বেশি। মনে রাখবেন, পেটে চর্বি হলে কোষগুলি যৌগ তৈরি করে এবং নিঃসরণ করে, যা ক্ষতিকারক। তাই আপনি যদি স্থূল চেহারার হয়ে থাকেন, তাহলে শরীরের ওজন অন্তত দশ শতাংশ কমাতে হবে সুস্থ থাকার জন্য।

মানসিক চাপমুক্ত থাকুন

স্ট্রেস কর্টিসলের বৃদ্ধি ঘটায়, যা পরে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, স্ট্রেস অটোইমিউন রিউম্যাটিক রোগের উৎস হতে পারে। তাই, মানসিক চাপ কমাতে হবে। অতএব, জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখুন। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলুন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন, যেমন— প্রাণায়াম, ধ্যান, যোগব্যায়াম ইত্যাদি। সেইসঙ্গে, এড়িয়ে চলুন ধূমপান এবং মদ্যপান।

পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন

অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমোন প্রতি রাতে। যদি আপনি কম ঘুমোন, তাহলে আপনার ইমিউন সিস্টেম সুফল দেবে না। ঘুম শরীরের টিস্যুগুলিকে যথাযথ ভাবে নিরাময় করতে সাহায্য করে এবং অটোইমিউন রোগ আটকাতে সাহায্য করে, শরীরকে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়। ঘুমোনোর সঠিক সময় রাত ৯-টা থেকে ভোর ৫-টা৷

উপযুক্ত ব্যায়াম করুন

দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে সুফল দেয় শারীরিক ব্যায়াম। নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম (যেমন— হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো, সাঁতার প্রভৃতি) পেশীকে শক্তিশালী করে, টিস্যুকে সুস্থ রাখে, হাড় মজবুত করে এবং মানসিক চাপ কমায়।

ডা. এম এস পুরকাইত
(মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট- টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল)

সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন-যাপনের জন্য কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রতিদিন আমাদের শরীরকে কী সরবরাহ করছি, সেই বিষয়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। প্রতিদিন কিছু সুঅভ্যাস গড়ে তুলতে হবে প্রত্যেককে। স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য কী কী করা উচিত, সেই বিষয়ে জেনে নিন বিশদে।

O প্রোটিন, ফাইবার এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়। যেমন— প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া ফল, সবুজ শাক-সবজি প্রভৃতি। রান্নার মাধ্যমও হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর। যেমন— অলিভ অয়েল, ক্যানোলা তেল, সরষের তেল কিংবা সূর্যমুখী তেল অল্প পরিমাণ দিয়ে রান্না করতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ, চর্বিহীন মাংস এবং ডিম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন নির্দিষ্ট মাত্রায়। লবণ ও চিনি খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

O সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন ২০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে ৫ দিন ১০,০০০ ধাপ হাঁটা আবশ্যক।

O প্রতিদিনের রুটিনে মেডিটেশন এবং যোগাসন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে সর্বদা। এর জন্য খাওয়ার আগে-পরে জীবাণুনাশক সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে কিংবা ভালো স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখতে হবে। রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন। শুধুমাত্র পরিষ্কার এবং ফিল্টার করা জল পান করুন।

O শরীরে কোনওরকম অস্বস্তি অনুভব করলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যত দ্রুত সম্ভব। মানসিক চাপমুক্ত থাকার জন্য নিজেকে নানারকম ভাবে ব্যস্ত রাখুন সর্বদা। হাতে কাজ না থাকলে ভালো বই পড়ুন কিংবা কমেডি ছবি দেখুন।

অপরূপা ওঝা
(ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট-মনোশিজ, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ)

O মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে হলে, কিছু সময়ের জন্য মুঠোফোনের স্ক্রিন থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং অফলাইন কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করুন।

O অনেক সময় আমরা শরীর এবং মনের উপর চাপ পড়লেও অক্লান্ত পরিশ্রম করি। কিন্তু দীর্ঘদিন শরীর এবং মনের উপর চাপ পড়লে এবং সেইসঙ্গে উপযুক্ত বিশ্রাম না হলে, রোগের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই, কর্মক্ষেত্রে আপনার ক্ষমতার বাইরে কাজের বোঝা চাপলে ‘না’ বলতে শিখুন। কারণ, সবকিছু মেনে নিলে তা ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় দেয়।

O এমন জিনিস বা ক্রিয়াকলাপের জন্য সময় বের করুন, যা আপনাকে আনন্দ দেবে এবং আপনাকে মানসিক চাপমুক্ত রাখবে। এর জন্য গান, বাজনা, আঁকা, লেখা, ঘর সাজানো, বেড়ানো প্রভৃতি যে-কোনও শখ পূরণ করতে পারেন। অবসর সময়ে বই পড়াও একটা ভালো অভ্যাস হতে পারে।

O মুঠোফোনের মতো আপনার মনকেও রিচার্জ করুন। এর জন্য ভালো খাবার খান, ঘুরে বেড়ান, গান-বাজনা করুন, নাচুন, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, পার্টি করুন, বাগানে গাছের যত্ন নিন কিংবা যে-কোনও ক্রিয়েটিভ কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আর যদি কোনও কাজ না থাকে, তাহলে একটু বেশি সময় নিয়ে ঘুমোন।

O নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে স্ট্রেস লেভেলও কমাতে পারে।

O যে-সব বিষয় মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে, সেইরকম বিষয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। যেমন, পরনিন্দা কিংবা অসাধু কোনও কাজ থেকে সর্বদা দূরে থাকুন। সবার সঙ্গে যতটা সম্ভব সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

O স্টাইলিশ জামাকাপড় পরুন, মন চাইলে সাজুন, শপিং করুন এবং অবসর সময়ে নিজের ত্বক এবং চুলের যত্ন নিন।

স্ট্রেস কমানোর ‘বেস্ট মেডিসিন’

বিনা খরচে জীবন থেকে স্ট্রেস তাড়ানোর একটি মাত্র উপায় আছে, আর সেটা হচ্ছে জমিয়ে হাসা। নির্দ্বিধায় বলা চলে, ‘দ্য ওনলি বেস্ট মেডিসিন’। মন খুলে, প্রাণ ভরে যে হাসতে পারে, তার মতো সুখী আর কেউ নয়। হাসি, মানুষকে মুহূর্তে দৈহিক, মানসিক শান্তি দিয়ে রিল্যাক্স করে দিতে সাহায্য করে। প্রাণখোলা হাসি মানুষের স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে প্রাণচঞ্চল রাখে।

হাসতে পারার সহজ প্রবণতা মানুষকে একে অপরের সঙ্গে বেঁধে রাখতে সাহায্য করে। সকলেই মনে করে ‘হাসি’ হচ্ছে খানিকটা ছোঁয়াচে অসুখের মতো। একজনের মুখের হাসি অন্যের মুখেও হাসি ফোটায়। একজন মানুষ যদি সত্যিকারের প্রাণখোলা হাসি হাসেন, তাহলে তিনি তো উপকার পাবেনই, সঙ্গে আরও যারা আশেপাশে রয়েছেন, তারাও তার সংস্পর্শে মুড হালকা করে নিতে পারবেন। এমনই হাসির মাহাত্ম্য।

আজ প্রতিটি মানুষের কাঁধে দায়িত্ব। সংসারের দায়িত্ব, স্কুল-কলেজে পড়াশোনা এবং সর্বশেষে চাকরির সুবিশাল জগৎ এবং পেশার সম্মান রক্ষার্থে কাজের চাপ। বহু মানুষই আছেন, যারা অফিসের স্ট্রেস সহ্য করতে পারেন না। মনের মধ্যে নানা ধরনের নেগেটিভ চিন্তাধারায় তারা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। কিন্তু এভাবে তো জীবন চলতে পারে না। মানসিক বিপর্যস্ততা কাজের গতিকেও হ্রাস করে ফেলে। নিজের কাজ করতে অসুবিধা হয়, উপরন্তু কাজের নিস্তেজতা অপরের কাজের ইচ্ছেকেও প্রশমিত করে।

সুতরাং কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে কাজের চাপকে ‘স্ট্রেস’ হিসেবে নিলে চলবে না। তার উপযুক্ত মোকাবিলা করার জন্য মনকে যেমন সজাগ ও শক্ত করার প্রয়োজন আছে, তেমনই পরিবেশকে ফ্রেন্ডলি এবং লাইট রাখাটাও বাঞ্ছনীয়। হাসতে হাসতে প্রবলেম সলভ করতে পারলে মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশনও থাকে। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত সর্বদা হাসিখুশি থাকার পদ্ধতি রপ্ত করা।

অফিসে প্রথম পদার্পণ ইন্টারভিউ-এর মাধ্যমে। জীবনে প্রথম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ। মনের মধ্যে নানা দোলাচল, বুক ঢিপঢিপ, টেনশনে মনে হয় বুঝি হাত-পা-এর পেশি অবশ হয়ে আসছে। তবু মুখে রাখুন হাসি, দেখবেন অনেক কম নার্ভাস লাগছে। আর ইন্টারভিউ নিতে যারা বসে আছেন তারা মুখের হাসিটিই প্রথম লক্ষ্য করবেন। আপনার সেই মুহূর্তের ওই প্লেজেন্ট পার্সোনালিটি-ই হয়তো বাজিমাত করে দিতে পারে। প্রশ্ন-উত্তর পালার ভারী পরিবেশ কিছুটা হলেও সহজ হবে।

চাকরিটা আপনার হয়ে গেল। প্রোবেশনে রয়েছেন আপনি। অফিসে নতুন সহকর্মীদের মনে জায়গা করে নিতে পারলেই কাজের সুবিধা। নিশ্চিন্তে সকলের সহযোগিতাই কাম্য আপনার। সুতরাং নম্র স্বভাবের সঙ্গে মুখের হাসিটি বজায় রাখা একান্ত দরকার। দফতরে যদি কারও মনে আপনার প্রতি বিদ্বেষও থাকে, আপনার হাসিমুখ তাকে তার মনোভাব বদলাতে বাধ্য করবে।

কাজে মন আছে বুঝতে পারলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আপনাকে কাজে বহাল রেখে দেবে। কাজের দায়িত্বর সঙ্গে ওয়ার্ক প্রেশারও বাড়বে। আর ওয়ার্ক প্রেশার বাড়া মানে আরও বেশি স্ট্রেস। তাই কাজের ফাঁকে খানিকটা মানসিক চাপ কমাতে সহকর্মীদের সঙ্গে আড্ডার ছলে কিছুটা ঠাট্টাতামাশা, হাসি-মশকরা করুন। এই হালকা মুডেই সহকর্মীদের সঙ্গে দফতরের জরুরি কোনও আলোচনাও কিন্তু অনায়াসে সেরে ফেলা যায়। এতে নিজের কাজের স্ট্রেসও কিছুটা কমবে এবং অপরের কাছেও এটি ‘চাপ দেওয়া হচ্ছে’ বলে বিবেচিত হবে না। অফিসে বন্ধুত্বের পরিবেশ বজায় থাকবে।

মানুষ নিজের ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলার ভয় পায়। অনেক পরিবারে বাচ্চাদের হাসার প্রবণতাকে দোষ বলে মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু সময়, জায়গা এবং মানুষ বিবেচ্যে, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী এবং পরিচিত জনের সঙ্গে প্রাণখুলে হাসাটা কিন্তু মোটেই দোষের নয়। অনেক সময় কেউ কেউ ভেবে নেন অফিসে কোনওরকম হাসাহাসি করলেই বুঝি তার সম্মান যাবে, তাকে কেউ আর মানবে না। এরকম ধারণা থাকাটা ঠিক নয়। অফিসের পুরো সময়টা যদি গাম্ভীর্যের মধ্যে কেটে যায়, তাহলে ভুল বোঝাবুঝির একটা জায়গা আপনা থেকেই তৈরি হয়ে যায়। অফিস পলিটিক্স থাকবে না— এরকম অফিস বোধহয় নেই। তাই শত্রু-মিত্র মিলিয়ে সকলের সঙ্গেই ব্যবহার ভালো রাখতে হবে, যাতে আপনার হাসিমুখ এবং মিষ্টি ব্যবহার শত্রুভাবাপন্ন মানসিকতাকেও আপনার প্রতি আকর্ষিত হতে বাধ্য করে।

অফিসে অনেকেই হয়তো আপনাকে নিয়ে ‘জোক’ করতে পারে যাতে আপনি হার্ট হন। হেসে জোকটিকে গ্রহণ করতে চেষ্টা করুন৷ দুঃখটাকে হাসির পিছনে লুকিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে নিজেই নিজেকে নিয়ে মজা করুন যাতে অফিসের সেই সাময়িক টেনশন মিটে যেতে পারে। সকলেই টেনশন রিলিজ্ড হতে পারবেন।

ভুলত্রুটি সকলেরই হয়৷ অফিসেও যে আমরা কোনও ভুল করি না, জোর দিয়ে সেটা বলা যায় না। অনেক সময় সকলের অলক্ষ্যে নিজেরাই নিজেদের ভুলগুলো বুঝতে পারি। যারা হেসে নিজেদের দোষ স্বীকার করতে পারে, তাদের মন পরিষ্কার জলের মতো স্বচ্ছ থাকে। অপরাধ করে ফেলার স্ট্রেসও থাকে না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই সচেতন ভাবে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়। তাই অপরাধবোধ তাদের মনের মধ্যেই চেপে বসে থাকে, ফলত স্ট্রেস বাড়তে থাকে।

সুতরাং বাইরের পরিবেশের মতোই অফিসেও স্ট্রেস কাটাবার এবং মন ভালো রাখার মূল মাধ্যম হল হাসি। হাসি যেমন আপনার মনের আয়না, তেমনি অন্যকেও তৃপ্ত করার সহজ সরল মাধ্যম। তবে কয়েকটি কথা মাথায় রাখা দরকার।

কী করা উচিত

  • হাসি মুছে যেতে দেবেন না। সবসময় হাসিমুখে থাকুন
  • সুযোগ খুঁজুন প্রাণখুলে হাসার
  • হাসিমুখে অসুবিধাগুলি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন
  • সকলে যেখানে হাসিমুখে রয়েছে সেখানে মুখ গোমড়া রাখবেন না, হাসিতে যোগ দিন।

কী করা উচিত নয়

  • অপরকে দেখে হাসবেন না
  • অপরকে ছোটো করে, বাহবা পেতে হাসার চেষ্টা করবেন না
  • ইচ্ছে না করলে বোকার মতো হাসবেন না
  • অযথা, অসময়ে হাসবেন না।

মন ভালো রাখার সহজ কিছু উপায়

সর্বদা একই ছন্দে চলে না জীবন। আনন্দ, দুঃখ, বেদনা সব মিলিয়েই আমাদের জীবন। তাই মন খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু মন কেন খারাপ হয় জানেন? ভেবে দেখবেন, প্রতিটি ঘটনার পিছনে কোনও না কোনও অন্তর্নিহিত কারণ থাকে। কারণটা যদি একবার চিহ্নিত করতে পারেন, সমাধান খোঁজাটা আপনার পক্ষে সহজ হবে। তবে বেশিক্ষণ মন খারাপকে টিকিয়ে রাখা ঠিক নয়। কারণ এতে হতাশা তৈরি হয়। নিজের উপর রাগ হয়, কোনও কিছুই করতে ইচ্ছা করে না। এমনকী সেই সময় অন্যের সঙ্গে কথা বলা তো দূরের, সামনে আসতেও ইচ্ছে করে না। এর পাশাপাশি, মন খারাপ শরীরের উপরেও কুপ্রভাব ফেলে। অতএব, জেনে নিন মন ভালো করার সহজ কিছু উপায়।

মেলামেশার পরিধি বাড়াতে চেষ্টা করুন

সব সময় মন ভালো না লাগার সমস্যা তাদের মধ্যে বেশি দেখা যেতে পারে, যারা বেশিরভাগ সময় একা থাকেন। তাই, যতটুকু সম্ভব সমাজে সবার সঙ্গে মিশতে এবং বন্ধুত্ব করতে শিখুন। এতে আপনি তাদের মাধ্যমে নতুন নতুন বিষয় ও ভালো ভাবে জীবনযাপনের কৌশল জানতে এবং শিখতে পারবেন। এছাড়া, নিজের মনের কথা কোনও বিশেষ বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে শেয়ার করে মন হালকা করুন।

যদি লাগাতার আপনার এই মনখারাপের পর্যায়টা চলতে থাকে, তাহলে জোর করে হলেও কারও সঙ্গে কথা বলে দেখুন, অনেকটা হালকা লাগবে। সে আপনার পরিবারের কিংবা পাড়ার কেউ হলেও অসুবিধা নেই। দেখবেন, কিছুক্ষণ কথা বলার পর আপনার মন অনেকটাই ভালো লাগতে শুরু করবে। মনে রাখবেন, ‘Talk therapy’-র মাধ্যমে অনেক জটিল মানসিক সমস্যাগুলোর সমাধান সহজেই করা যায়। তাই, সাধারণ মন ভালো না লাগার সমস্যা এর মাধ্যমে সহজেই দূর করতে পারবেন।

বই পড়ে মন ভালো রাখুন

বর্তমান সময়ে বই পড়ার ট্রেন্ড অনেক কমে গিয়েছে এবং এই জেনারেশন মোবাইল, কম্পিউটার ছাড়া কিছুই জানে না। কিন্তু বই পড়ে মন ভালো রাখার এই প্রক্রিয়া এক সময়ে খুব জনপ্রিয় ছিল। যখন আপনি কোনও ভালো বই পড়েন, তখন আপনার মন সম্পূর্ণ ভাবে সেই বই-এর তথ্যের উপরে ফোকাস করে থাকে। যার ফলে, বই এর মধ্যে থাকা তথ্য, রহস্য, গল্প, কাহিনি, চরিত্র ইত্যাদি আপনাকে আপনার চিন্তা, দুঃখ এবং ভয় থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ভাবে নিজের ফাঁকা সময়ে বই পড়ার অভ্যেস করতে পারলে দেখবেন, আপনার মন আগের থেকে অনেক ফুরফুরে এবং খুশি থাকবে। অনেকেই বই পড়ার অভ্যেসের মাধ্যমে নিজের মন মেজাজ ভালো করতে সফল হয়েছেন। ভালো ভালো বই পড়ে আপনি নিজের মুড সম্পূর্ণ চেঞ্জ করে ফেলতে পারবেন।

জীবনের উদ্দেশ্যের প্রতি ফোকাস করুন

যদি আপনার জীবনে কোনও উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে এখনই নিজের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করুন। কারণ উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার জীবনে কোনও মানে থাকবে না, আর তাই মন ভালো রাখতে সমস্যা হবে। যদি আপনি নিজেই না জানেন যে, জীবনে আপনি কোথায় যাচ্ছেন, তাহলে খুশি থাকবেন কীভাবে! যখন আপনার জীবনের একটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করবেন, তখন দেখবেন আপনার মন সেই উদ্দেশ্যের প্রতি ফোকাসড হয়ে থাকবে। যখনই আপনার মন খারাপ লাগবে, আপনি নিজের উদ্দেশ্য, জীবনে কী করতে চান, জীবনে কী পেতে চান— সেগুলোর বিষয়ে ভাবতে থাকুন। যখনই আপনি এটা করবেন, তখন মনের ফোকাস আবার উদ্দেশ্যের প্রতি চলে আসবে এবং মনে উৎসাহ ভাব তৈরি করবে।

আরও উদার করুন মনকে

সবাই কিন্তু অন্যকে সাহায্য করার মতো মানসিকতা রাখতে পারেন না এবং এটা স্বাভাবিক। তবে, জীবনে একদিন হলেও আর্তের পাশে দাঁড়িয়ে দেখবেন, মনটা শান্তিতে ভরে গেছে। মানুষ কেন শুধু, রাস্তায় কত রকমের নিরীহ প্রাণী রয়েছে যারা কষ্ট পাচ্ছে, একদিন তাদের জন্যও কিছু করে দেখুন, সুফল পাবেনই।

যখন আমরা মন থেকে অন্যকে সাহায্য করি, তখন আমাদের মধ্যে একটি পজিটিভ ফিলিং এবং এনার্জি তৈরি হয়ে থাকে। আর এই ইতিবাচক শক্তি আমাদের মনে প্রচুর শান্তি এবং সন্তুষ্টির ভাব এনে দেয়। তাই, যদি আপনার মন ভালো না লাগে, তাহলে কোনও অসহায় ব্যক্তির জন্য কিছু করুন।

মন ভালো করা গান শুনুন

যদি আপনার মন খারাপ থাকে তাহলে দ্রুত মন ভালো করতে হলে আপনার ভালো লাগা গানগুলো শুনুন। গান শুনলে আমাদের মনে হঠাৎ খুশির অনুভব সৃষ্টি হবে এবং মনের দুশ্চিন্তাগুলোর থেকে আপনার মনযোগ সরে যাবে। গবেষণা বলছে যে, যখন আমরা আমাদের পছন্দের গান শুনি, তখন আমাদের ব্রেন-এর মধ্যে ডোপামাইন (dopamine) নামের একটি কেমিক্যাল নিঃসৃত হয়। আর এই ডোপামাইন কেমিক্যাল মূলত আমাদের মন মেজাজ ভালো রাখার কিংবা খুশিতে ভরে রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই, যদিও বা আপনার গান শোনার প্রতি তেমন আগ্রহ না-ও থাকে, আপনি হেডফোনস কানে লাগিয়ে একবার একটি গান শুনে দেখুন। দেখবেন, আপনার খারাপ হয়ে থাকা মন ভালোলাগায় ভরে যাবে।

পজিটিভ ভাবুন

আমাদের মন খারাপ তখন লাগে, যখন আমাদের মনে বিভিন্ন ধরনের নেগেটিভ ভাব বা কথার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। কেউ খারাপ ব্যবহার করল, কেন কাজ সঠিক ভাবে হল না কিংবা জীবনে যেটা চাইছি সেটা পাচ্ছি না— এরকম অনেক কারণ থাকতে পারে মন ভালো না লাগার। কিন্তু যদি আপনি এই সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতেই থাকেন, তাহলে মন ভালো হবে না এবং জীবনে এগিয়ে যেতে অসমর্থ থাকবেন। তাই, যে-কোনও সমস্যা হোক না কেন, নিজের মনকে একটাই প্রশ্ন করুন, এই সমস্যার উচিত সমাধান কী হতে পারে? যখন আপনি নিজেকে এই প্রশ্ন করবেন, তখন আপনার মন কেবল সমাধানের উপরে ফোকাস করতে শুরু করবে, যার ফলে আপনি একটি উদ্দেশ্য পাবেন এবং মন হালকা হবে। মনে রাখবেন, সমস্যা প্রত্যেকের জীবনেই রয়েছে কিন্তু সফল এবং খুশি সেই ব্যক্তি হতে পেরেছেন, যিনি সমস্যার সমাধান পাওয়া নিয়ে উদ্যোগী হন।

কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন

মন খারাপ লাগলে তাড়াতাড়ি মন ভালো করার উপায় হল, বাইরের থেকে একটু হেঁটে আসা। অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট বাইরে হেঁটে আসতে পারলে আপনার এনার্জি লেভেল এবং মুড বুস্ট হবে। এছাড়া, কিছুক্ষণ হেঁটে আসার ফলে মন পরিষ্কার হবে এবং মন ফুরফুরে হয়ে যাবে। হাঁটা এবং দৌড়ানোয় প্রচুর হেল্থ বেনিফিট রয়েছে যার জন্যে প্রত্যেকদিন ১৫ মিনিট করে হলেও হাঁটুন।

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন কাজে

সকাল থেকে বিকেল কোনও কাজ ছাড়া বসে-শুয়ে থাকলে, বেশি মন খারাপ করে। মনে রাগ রাগ ভাব, চিন্তা, অলস বা কুঁড়ে ভাব, কথা বলতে ইচ্ছে না করা— এই সমস্ত সমস্যা দেখা দেবে। প্রচুর দুশ্চিন্তা এবং নেগেটিভ থটস উঁকি দিয়ে যাবে। তাই, প্রত্যেকদিন নিজেকে কাজ দিন, নতুন কিছু শিখুন বা নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করুন। যখন আপনি ব্যস্ত হয়ে থাকবেন, তখন মাথায় নেগেটিভ থটস আসার সুযোগ পাবে না, যার ফলে আপনার মন ভালো থাকবে। এছাড়া, যখন আপনি ছোটো-বড়ো কাজগুলোকে সঠিক ভাবে সম্পূর্ণ করে ফেলবেন, তখন মনে একটি সন্তুষ্টির ভাব তৈরি হবে। আর এই সন্তুষ্টির ভাব কিছু ফিল গুড কেমিক্যাল রিলিজ করবে, যার ফলে দিনের শেষে মন ভালো হয়ে উঠবে।

মেডিটেশন করুন 

দ্রুত মন ভালো রাখার দারুণ উপায় হল— নিয়মিত ভাবে ধ্যান বা মেডিটেশন করা। এতে নিজের মধ্যে প্রচুর ভালো পরবর্তন নিয়ে আসতে পারবেন। সকালে তাড়াতাড়ি উঠে কিছু সময় মেডিটেশন করে দেখবেন, প্রথম দিন থেকেই নিজের মধ্যে এক ধরনের পজিটিভ পরিবর্তন অনুভব করতে পারবেন। তবে ধ্যান-এর সঙ্গে ব্যায়াম অভ্যেস করতে পারলে, আরও ভালো ফল পাবেন। ধ্যান এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনি আপনার মন সতেজ এবং চিন্তামুক্ত করে রাখতে পারবেন।

জোরে জোরে হাসুন

বিভিন্ন গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে, জোরে জোরে হাসির অভিনয় (act of smiling) করলেও আমাদের মুড ভালো হয়ে যায় এবং আমরা খুশি অনুভব করতে শুরু করি। এর মধ্যে কারণ অবশ্যই রয়েছে। হাসির ফলে জরুরি কিছু ব্রেইন কেমিক্যাল নিসৃত হয়ে থাকে, যেগুলো আমাদের মন মেজাজ ভালো করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনার হাসার মুড না থাকলেও, জোর করে হাসুন, ভালো কাজ হবে এবং আপনার মন ভালো লাগবে। এছাড়া, মন ভালো করার জন্য আপনি কোনও হাসির সিনেমা দেখতে পারেন বা এমন কোনও বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন, যে আপনাকে হাসাতে পারবে বলে আপনি জানেন। আসল কথা হল, যদি আপনি সব সময় খুশি থাকতে চান, তাহলে নিজের মানসিকতা পজিটিভ রাখতে চেষ্টা করুন। কারণ, সব সময় নেগেটিভ কথা ভাবলে, আপনার জীবন থেকে আনন্দ উধাও হয়ে যেতে পারে।

শিশুর জীবনে অনিশ্চয়তার প্রভাব

শিশুরা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং নরম মনের। যে-কোনও রকমের মানসিক চাপ, Uncertainty, আতঙ্ক তাদের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে শিশু মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হতে পারে। বিগত এই মহামারি শিশু থেকে শুরু করে বড়োদেরও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বাচ্চাদের বহুদিন স্কুল বন্ধ থেকেছে, অনলাইনে ক্লাস করতে হয়েছে এবং কাছের বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করার সুযোগটাও খুব কমে গেছে। এর পাশাপাশি কেউ কেউ বাবা-মায়ের মধ্যে একজন অথবা দু’জনকেই হারিয়েছে। এইসব বিষয়গুলি শিশুদের মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে। যে-পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠা উচিত ছিল, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিশুরা সেই অবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

শিশুর জীবনে প্রথম ৫ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপের কারণে শিশুদের প্রতিক্রিয়া, প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো এক হয় না। কেউ হয়তো নির্দিষ্ট কোনও জিনিসকে আঁকড়ে ধরে, কেউ কেউ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কেউ আবার আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, কেউ কেউ আবার অবসন্নও হয়ে পড়ে। তাই শিশুর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করাটা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যদি আমরা বুঝতে পারি আশেপাশের পরিবেশের কারণে শিশুর মনে প্রভাব পড়ছে তখন আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারি। শিশুরা অনেক সময় একটি ঘটনাকে তাদের নিজেদের মতো করে নেয়। Uncertainty, আতঙ্ক, অসুস্থ হওয়া অথবা নিকটজনদের মৃত্যু তাদের মনে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে। কখনও আবার শিশুরা তাদের ভয়, উদ্বেগ বা আতঙ্কের কথা বড়োদের ঠিক করে বোঝাতে পারে না।

তাই শিশুদের আচার-আচরণের ওপর নজর রাখা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয়ে শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভাবনা প্রকাশ করানোর জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের সাহায্য একান্ত দরকার। শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিজস্ব ভাবনা এবং মতামত প্রকাশ করাতে উৎসাহ দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের মনের মতো পরিবেশে তাদের কথা জানাতে পারে। তারা যদি কথায় না বোঝাতে পারে তাহলে আঁকা, রং করা-সহ অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্যে তাদের মনের ভাব জানাতে উৎসাহিত করতে হবে। অভিভাবক, শিক্ষক, প্রাপ্তবয়স্কদের — শিশুদের সঙ্গে নম্রভাবে মতবিনিময় করতে হবে। শিশুদের বোঝার জন্য সৃজনশীল পন্থা-পদ্ধতি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

মহামারি কিন্তু বড়ো ছেলেমেয়েদের মনেও অনিশ্চয়তার বীজ বপন করতে সফল হয়েছে। তাদের লেখাপড়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকার ভূমিকা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগোতে সাহায্য করতে হবে এবং বোঝাতে হবে মহামারির কারণে পৃথিবী জুড়ে তাদের মতোই অনেক শিশু একই পরিস্থিতির সম্মুখীন। বাবা-মায়ের ভূমিকাও এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব জীবনে যাতে শিশু মানিয়ে নিতে পারে তার জন্য অভিভাবকদের এগিয়ে এসে ধীরে ধীরে শিশুকে বাস্তবের সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে। কাজের জায়গা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে যে- পার্থক্য ছিল, সেটা এখন নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক মা-বাবাই তাঁদের সন্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে সমস্যায় পড়ছেন। বিভিন্ন বয়সি শিশুদের চাহিদা একে অপরের থেকে আলাদা। তাদের প্রয়োজন, সময়, বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকার ধরনও আলাদা। বাড়িতে যদি উত্তেজনার পরিবেশ থাকে তাহলে শিশুর মানসিক বিকাশে সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যে- সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা রোধ করতে নিরাপদ পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুরা যাতে ব্যস্ত থাকে বাবা-মা’দের সেদিকটি খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। বাবা-মা’দের দৈনন্দিন কাজকর্মের ফাঁকে বাচ্চাদের জন্য সময় বার করতে হবে।

যে-শিশু মানসিক চাপ থেকে বার হতে পারছে না তাকে সাহায্য করতে পারে তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব অথবা কোনও পেশাদার ব্যক্তি।

ছোটো থেকেই বাচ্চাদের এই অভ্যাসগুলি রপ্ত করালে ভবিষ্যতে কমবে রোগভোগের আশঙ্কা!

প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে। সেই সঙ্গে রোগ এড়াতেও সাহায্য করবে। শিশুদের মধ্যে ভালো অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে শেখান

ছোটোবেলা থেকেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উৎসাহিত করুন। স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি বাচ্চার আগ্রহ বাড়াতে বাচ্চাকে বাজারে নিয়ে যান। তাকে ফল, শাকসবজি বাছতে শেখান, খাবারের লেবেল পড়তে দিন। নানারকম রঙিন শাকসবজি, গ্রিন ভেজিটেবল বাচ্চার খাবার তালিকায় রাখুন। খাবার তৈরিতে তাদের সাহায্য নিন। জুস-এর বদলে আস্ত ফল খেতে দিন। কোল্ড ড্রিংকস-এর চেয়ে জল যে উপকারী তৃষ্ণা নিবারক, ছোটো থেকেই বাচ্চাকে সেটা শেখান।

খেলাধুলোয় উৎসাহ দিন

বাচ্চাদের সব সময় চুপ করে বসে থাকতে বলবেন না। বরং বাচ্চাকে দৌড়াদৌড়ি করতে উৎসাহ দিন। শিশুদের ঘরের বাইরে খেলাধুলো করার সুযোগ করে দিন। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, একজন শিশুকে দিনে অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকতে হবে। যে-কোনও খেলাধুলোয় অংশ নিতে উৎসাহিত করুন। যেসব শিশু শারীরিক ভাবে নিষ্ক্রিয়, তাদের উচ্চরক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

বাচ্চাকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যান

বাচ্চাদের সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়েও আলোচনা করা প্রয়োজন, যা তাদের ভবিষ্যতে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করতে পারে। বাচ্চাকে ছোটো ছোটো জিনিস কিনতে দিন। যখনই আপনি কেনাকাটা করতে যাবেন, বাচ্চাকেও সঙ্গে নিয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, মনোপলির মতো গেম খেললেও উপকার পাওয়া যায়। এর সাহায্যে শিশু অর্থ-সম্পর্কিত প্রাথমিক নিয়মগুলি বুঝতে পারে।

পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

শিক্ষা দক্ষতা উন্নত করার সর্বোত্তম উপায় হল বই পড়া। যখন বাচ্চারা পড়াশোনা করে, তখন এটি তাদের শব্দভাণ্ডার, ভাষার দক্ষতা, একাগ্রতা এবং কল্পনার বিকাশে সহায়তা করে। নানা ধরনের বই পড়লে শিশুদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যদের অনুভূতি বুঝতে সুবিধা হবে। শিশুর আগ্রহ অনুযায়ী তার জন্য বই কিনে আনুন।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব