আমরা সাধারণত ব্লাড ক্যান্সার, লাং ক্যান্সার, ব্রেন ক্যান্সার কিংবা ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে বেশি আলোচনা করি কিংবা গুরুত্ব দিই। কিন্তু এইসবের বাইরেও নানারকম ক্যান্সার হয়। যেমন– গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ক্যান্সার। এই ধরনের ক্যান্সার নিয়েও সতর্কতা জরুরি এবং সঠিক চিকিৎসারও প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে মাধ্যম করে কীভাবে এই রোগ-নিরাময়ের ব্যবস্থা করা হয়, সেই বিষয়েই বিস্তারিত ভাবে জানালেন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল।

গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ক্যান্সার বলতে শরীরের কোন কোন অংশের ক্যান্সার বোঝানো হয়?

খাদ্যনালি, যকৃৎ, গলব্লাডার, পাকস্থলি, পিত্তনালি, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্রের (কোলন) ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ক্যান্সার-এর তালিকায় পড়ে।

এইরকম ক্যান্সার-এর ক্ষেত্রে কী ধরনের অপারেশন পদ্ধতিকে মাধ্যম করা হয়?

কোলন ক্যান্সার-এর অপারেশন-এর ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিটি হল ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি। এই পদ্ধতিকে মিনিমালি ইন্ভেসিভ কোলেকটমি-ও বলা হয়।

কীভাবে করা হয় এই সার্জারি?

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি করতে হলে সাধারণত ল্যাপারোস্কোপি সার্জারির মতোই পেটে একটি ছোট্ট ফুটো করা হয় এবং ওইপথে ক্যান্সার আক্রান্ত কোলনের অংশের জায়গা ও আকার বুঝে, কিছু অংশ শরীর থেকে বের করে আনা হয়। টোটাল কোলেকটমির ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ কোলন শরীর থেকে বাদ দেওয়া হয়, রাইট হেমিকোলেকটমি কিংবা লেফ্ট হেমিকোলেকটমির ক্ষেত্রে কোলনের ক্যান্সার আক্রান্ত ডান কিংবা বাঁদিকের অংশ সার্জারির মাধ্যমে বের করা হয়।

ওপেন কোলেকটমি সার্জারির থেকে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি কতটা সুবিধেজনক এবং নিরাপদ?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওপেন কোলেকটমি সার্জারির থেকে, ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি অনেক বেশি নিরাপদ। ল্যাপারোস্কোপি পদ্ধতিতে কোলন সার্জারি করলে রোগীর পোস্ট অপারেটিভ ব্যথা অনেক কম হয়। এছাড়া, হার্নিয়া কিংবা অন্য কোনও রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় থাকেই না। ওপেন কোলেকটমির তুলনায় রোগী বেশি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং স্বাভাবিক ভাবে খাদ্যগ্রহণ করতে পারেন।

এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার নিরাময় কতটা সম্ভব?

গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ল্যাপারোস্কোপির ক্ষেত্রে যেহেতু ক্যান্সার আক্রান্ত সমস্ত গ্যাস্ট্রো অর্গান বাদ দেওয়া হয়, সুতরাং ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি-র সময়ও ক্যান্সার আক্র়ান্ত কোলনের অংশ শরীর থেকে বের করে আনা হয়। ফলে, ওই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে শরীরের অন্য কোনও অংশে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না।

এই সার্জারি হওয়ার পরে রোগীকে কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়?

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমির পরে রোগীকে কোনও বিশেষ কড়া নিয়ম মানতে হয় না। মোটামুটি সাত থেকে দশ দিন ভালো ভাবে বিশ্রাম নিয়ে আবার স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া এবং চলাফেরা করা যায়।

ল্যাপরোস্কোপিক কোলেকটমি সার্জারির খরচ কত?

ল্যাপরোস্কোপিক কোলেকটমির খরচ সাধারণত ওপেন কোলেকটমি সার্জারির থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হয়। সার্জারির জায়গা অনুযায়ী মোটামুটি দেড় লক্ষ টাকা থেকে তিন লক্ষ টাকার মতো খরচ হয় এই পদ্ধতিতে।

পূর্বভারতে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি পদ্ধতিতে চিকিৎসার হার কীরকম?

বর্তমানে ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি পদ্ধতিতে কোলন ক্যান্সার সার্জারি করিয়ে থাকেন। আশা করা যায়, প্রযুক্তিগত ভাবে উচ্চমানের চিকিৎসা ক্ষেত্রের সুলভ্যতার সঙ্গে এই সার্জারিও অদূর ভবিষ্যতে এক অনবদ্য চিকিৎসার মান লাভ করবে।

Tags:
COMMENT