জোর কদমে শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসবের জন্য শপিং।রাতের জন্য জমকালো পোশাক যেমন বাছতে হবে, দিনের সাজ হবে ততটাই স্নিগ্ধ। তাই কেনাকাটার শুরুতেই ভেবে রাখুন পোশাকটা কখন পরবেন। দিনে নাকি রাতে।

পুজোর সকালে অনেক মেয়েই শাড়ি পরা পছন্দ করেন।এমন কোনও বাঙালি মহিলা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যাঁর আলমারিতে ভালো শাড়ি নেই! নিজের কেনার অভ্যেস না থাকলেও মা-মাসি-শাশুড়ির থেকে কিছু না কিছু শাড়ি উপহার পেয়ে তুলে রেখেছেন নিশ্চয়ই?  পুজোই কিন্তু উপযুক্ত সময়, শাড়িটি বের করে পরার জন্য।

যারা মনে করেন যে পোশাক হিসেবে শাড়ি ততটা স্মার্ট নয়, তারা কিন্তু ভুল ভাবছেন। আজকাল নানাভাবে শাড়ি ড্রেপ করার রেওয়াজ চালু হয়ে গিয়েছে – তা পুজোর অনুষ্ঠানে দিব্যি মানানসই!

সাধারণভাবে শাড়ি পরার পর যদি সোনালি রঙের সরু বেল্ট বেছে নেন, সেটি দেখতে বেশ ভালো লাগে। খুব ট্র্যাডিশনাল শাড়ির সঙ্গে সনাতন নকশার বেল্ট দারুণ দেখতে লাগে। আধুনিক প্রিন্টে জর্জেট বা শিফন শাড়ির সঙ্গে পরতে পারেন চামড়ার বেল্ট। শাড়ির কুঁচিটা সামনে না রেখে ধুতির মতো ঘুরিয়ে মহারাষ্ট্রীয়দের মতো কোমরে গুঁজে নিলেও ভালো দেখায় কিন্তু! আঁচলটা কাঁধের উপর দিয়ে নিয়ে গিয়ে গলা পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দিন। বলিউড তারকা মুমতাজ় যেমন পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে শাড়ি পরতেন এক কালে, ফিরে এসেছে সেই স্টাইলও। সায়ার বদলে প্যান্টের সঙ্গেও শাড়ি পরা হচ্ছে – সেক্ষেত্রে প্যান্টটি যেন দেখা যায় সে বিষয়টা নিশ্চিত করুন।

শাড়ি পরার আরেকটি স্টাইল হল, সামনে কুঁচি দিয়ে খুব সাধারণভাবেই কাঁধের কাছে আঁচলটা গুছিয়ে নেওয়া।এটাই আলাদা করে দেবে আপনার পুরো লুকটাকে। অবশ্য অফিসে পরে যাওয়ার থাকলে ফরমালি আঁচলটা গুছিয়ে নিয়ে কাঁধের উপর পিন করে আটকে রাখলেই সবচেয়ে সুবিধে হবে।

সাদা শাড়ি, সালোয়ার কুর্তা বা লেহেঙ্গা-চোলির বাহারটা যেন উৎসবের দিনেই বেশি খোলে! আর অষ্টমির সকালে, সাদা-সোনালির কম্বিনেশন তো বরাবরই অসামান্য। সেই সঙ্গে আপনি পছন্দসই গয়না পরতে পারেন প্রাণ খুলে।তবে স্মার্ট লুকের জন্য কোনও একটা ভারী গয়না পরুন। কানের দুল জমকালো হলে আর কোনও গয়না পরার দরকার নেই। আবার যদি ভারী নেকলেস বেছে নেন, তা হলে অন্য কোনও গয়না নিষ্প্রয়োজন। সাদা-লাল বা সাদা-রুপোলির কম্বিনেশনও খুব ভালো দেখায়।

Fashionable skirt

স্কার্টও কিন্তু উৎসবের সকালে চমৎকার মানায়।তবে স্কার্ট পরার আগে কিন্তু ফিটিং সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হয়ে নেবেন। সেই সঙ্গে দেখে নিন, তা আপনার চেহারায় মানাচ্ছে তো?

যাঁদের গড়ন একটু ভারীর দিকে, তাঁরা বেছে নিন ফ্লেয়ারড স্কার্ট – পেনসিল বা এ লাইন স্কার্ট ছিপছিপে, লম্বাদের ভালো মানায়। স্কার্টে খুব ঘন, গাঢ় প্রিন্ট থাকলে একেবারে সাদামাঠা টপ পরুন সঙ্গে। তবে স্কার্টে সাজেশন আছে, এমন রঙের টপ বাছাই সবচেয়ে ভালো। যেহেতু ফ্লোরাল স্কার্টে একাধিক রং থাকে, তাই বেশ কয়েক ধরনের টপের সঙ্গেই পরতে পারবেন। ঢিলেঢালার সঙ্গে স্কিন ফিট টপ বেছে নিলেই দেখতে সবচেয়ে ভালো লাগবে।

লম্বা ফ্লোরাল স্কার্ট পরলে কিন্তু চমৎকার বোহেমিয়ান লুক তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে খুব সতর্ক হয়ে অ্যাকসেসরিজ় বাছাই করতে হবে। সাধারণত স্যান্ডাল, বিশেষ করে থং স্যান্ডাল, ফ্লিপ-ফ্লপ, ব্যালেরিনা, ওয়েজ হিল দেখতে ভালো লাগে স্কার্টের সঙ্গে। নিতে পারেন ক্রস বডি ব্যাগ। কানে পরুন হুপ বা ছোট ছোট মুক্তোর ড্রপ দেওয়া দুল। ম্যাচিং স্কার্ফ সুন্দর করে নিলেও দারুণ স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি হতে পারে।

Tags:
COMMENT