শৈশবে আবশ্যক সঠিক পুষ্টি

সারা বিশ্বের বেশিরভাগ মা-বাবারা তাদের সন্তানদের উচ্চতা এবং ওজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নজরে রাখেন। কিন্তু সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ যখন ব্যহত হয়, তখন পিতামাতার মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তোলে। আর এই পিছিয়ে থাকার ব্যবধানটি খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপ সহ বিভিন্ন জীবনযাত্রাজনিত কারণের সঙ্গে যুক্ত। বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা, বয়স অনুযায়ী কম কিংবা বেশি ওজন এবং উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুসারে, সারা পৃথিবীতে ৫ বছরের কম বয়সি ১৪৯ মিলিয়ন শিশুদের বয়স অনুযায়ী উচ্চতা কম ছিল।  বিশ্বব্যাপী শৈশবের খর্বাকৃতি শিশুর মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে ভারতে, যেখানে পাঁচ বছরের কম বয়সি খর্বাকৃতির শিশুও রয়েছে।

খর্বাকৃতি বা বেঁটে মানুষের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে। এই প্রভাবের মধ্যে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য। এটি শিশুদের জীবনে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে বাধা হতে পারে। শরীরে পুষ্টির জোগান সঠিক না হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি, বুদ্ধির ঘাটতি, আচরণগত সমস্যা, হাড়ের স্বাস্থ্য হ্রাস এবং পেশীর ভর হ্রাসের ঝুঁকির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Health article
Dr. Ganesh Kadhe, Prof. Pedro Alarcon & Dr. Subhasis Roy

সঠিক পুষ্টি বাচ্চাদের বেড়ে উঠতে, শিখতে, উন্নতি করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলি পূরণ করতে সাহায্য করে। শিশুদের সঠিক পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের মতো ম্যাক্রো-নিউট্রিয়েন্টসের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে এবং আরজিনিনের মতো মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টসের প্রয়োজন। অ্যাবটস নিউট্রিশনএর (বিজনেস) মেডিকেল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. গণেশ কাধে এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বৃদ্ধি এবং বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুষ্টি। তাই সমস্ত ম্যাক্রো-নিউট্রিয়েন্ট এবং মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট সমন্বিত সুষম পুষ্টি গ্রহণের দিকে অভিভাবকদের মনোনিবেশ করা উচিত।’ অপুষ্টি সমাধানের জন্য অ্যাবট সেন্টার ফর নিউট্রিশন সমস্যার সমাধান সহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টি কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বহিরাগত বিশেষজ্ঞ এবং অংশীদারদের সহযোগিতায়, সেন্টারটি শিশুদের জন্য অপুষ্টি সনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে চলেছে।

এই বিষয়ে পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট প্রফেসর পেড্রো অ্যালারকন জানিয়েছেন, ‘খর্বাকৃতি (স্টান্টিং) এমন একটি অবস্থা, যার প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পুষ্টির ফাঁক পূরণ করতে পারে বা খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজগুলির শোষণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এমন খাবার খাওয়াতে হবে বাচ্চাদের। প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজগুলি একটি শিশুর বৃদ্ধির প্রধান চাবিকাঠি। তাই কখনও কখনও ৫০% পর্যন্ত ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো পুষ্টি যেসব খাবার থেকে পাওয়া যায়, সেই খাবার খাওয়াতে হবে শিশুদের।’

কলম্বিয়া এশিয়া হসপিটালএর কনসালটেন্ট পেডিয়াট্রিক ডা. শুভাশিস রায় জানিয়েছেন, ‘রাজ্য স্তরের এনএফএইচএস রিপোর্ট ২০১৯-২০২০ অনুসারে, যেখানে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের ৩৩.৮ শতাংশ খর্বকৃতির শিশু। এরমধ্যে অনেক  শিশু রক্তাল্পতায় ভুগছে। সঠিক বৃদ্ধির জন্য, শিশুদের ম্যাক্রো এবং মাইক্রো পুষ্টির একটি ভালো  মিশ্রণ প্রয়োজন যা পাঁচটি খাদ্য গ্রুপ থেকে আসে। যেমন– শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন, দুধ এবং খাদ্যশস্য। তাই, অভিভাবকদের উচিত সুষম খাদ্যের মিশ্রণ প্রদান করা, যা নিশ্চিত করে যে, স্বাস্থ্যকর সামগ্রিক বৃদ্ধির জন্য শিশুরা প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজগুলি পাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অভিভাবকদের জেনে রাখা প্রয়োজন, যারা দামী ফল খাওয়াতে পারবেন না তাদের সন্তানদের, তারা কলা এবং পেয়ারা-র মতো ফল অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায় এমন ফল এবং শাক-সবজি খাওয়াতে পারেন।’

বিন্দাস কাটান জীবনটা

অনেকেরই অতিরিক্ত প্যানিকড হওয়ার বদভ্যাস থাকে। খুব সহজেই তারা বিচলিত হয়ে পড়েন। অজানা সমস্যায় জর্জরিত হতে হবে, এই আশঙ্কা আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটান। ভবিষ্যতে কী বিপদ হতে পারে, এটা ভেবে বর্তমান সময়টার মজা উপভোগ করতে পারেন না এঁরা। এই সমস্ত মানুষদের জন্য আমাদের পরামর্শ এই অভ্যাস আমূল ত্যাগ করুন । সিদ্ধান্ত নিন, অমূলক চিন্তা করবেন না।

সমস্যা কতটা গভীরে?

সংসারে থাকতে গেলে ছোটো-বড়ো ঝগড়া অশান্তি হতেই পারে। কিন্তু অনেকের অভ্যাস হল কথার পিঠে হওয়া কথা নিয়ে ভাবতে থাকা। কোনও একটি পরিস্থিতি তৈরি হলে তিক্ত কথার আদানপ্রদান হয়। কিন্তু সেগুলির মর্মার্থ বা ফলাফল খুব সুদূরপ্রসারী হয় না। আপনি যদি সেই ঘটনার চর্বিতচর্বন করেন মনে মনে, তাহলে ক্ষণিকের জন্যও শান্তি পাবেন না। তাই যখনকার ঝগড়া তখনই মিটিয়ে ফেলুন। ঝগড়া যদি কাছের মানুষদের সঙ্গে হয় এবং ভুল যদি আপনার তরফে হয়ে থাকে— তাহলে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করবেন না।

অতি ভাবনার ফলাফল

অতিরিক্ত ভাবনাচিন্তা করলে আপনি নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবেন। বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চিন্তা ভুল দিশায় ধাবিত হয়— যার ফলাফল নিয়ে ভাবনা আমাদের উৎকণ্ঠায় ফেলে দেয়। টেনশন বাড়ে। সেই সঙ্গে সমস্যা হয় ব্লাড প্রেশারের, সুগার-সহ এমন নানা রোগের উৎপত্তি হয় এই পরিস্থিতি থেকেই। তাই সিদ্ধান্ত নিন, ভাবনাচিন্তা করে সঠিক পদক্ষেপ ফেলবেন। ভুল কাজ করে বা বিরূপ পরিস্থিতির চাপে পড়ে অমূলক চিন্তাকে মাথায় ঠাঁই দেবেন না।

বর্তমানে বাঁচুন

অদেখা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা কোনও কাজের কথা নয়। বিধিলিপিতে যা রয়েছে, তা হবেই। সেটা খণ্ডানো মানুষের কাজ নয়। তাই সুদূর ভবিষ্যতে কী সমস্যা হবে তার ভাবনায়, বর্তমানের সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। সংসারে সুখের মুহূর্তগুলো এনজয় করুন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাফিক বিনিয়োগ বা পরিবারের স্বার্থে মেডিকেল সিকিউরিটির বিষয়গুলো নিশ্চয়ই বিচক্ষণতার সঙ্গে বিচার করুন। কিন্তু তার অতিরিক্ত কোনও অযৌক্তিক ভাবনাকে মনে প্রশ্রয় দেবেন না।

মনের ঘোড়ায় লাগাম দিন

মনে রাখবেন আমাদের মনে নানারকম অভিলাষের জন্ম হয় কিন্তু এক জীবনে সব সাধপূরণ হয় না। তাই অসম্ভবের পিছনে ছুটে লাভ নেই। ততটাই ইচ্ছাকে প্রশ্রয় দিন, যতটা আপনি অর্জন করতে পারবেন, বাস্তবের জমিতে দাঁড়িয়ে।

হাসিখুশি জীবন কাটান

কী হল না, কী পেলাম না, এই ভেবে আনন্দটা মাটি করবেন না। ছোটো ছোটো প্রাপ্তিতে খুশি থাকুন। পরিবারের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠুন। জীবনের সব ঘটনাই যে আনন্দঘন হবে, এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু খারাপটা না ভেবে তার মধ্যে থেকে ভালোটুকু উপলব্ধি করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ। সেটা বুঝতে শিখুন।

ভুলের মাশুল (শেষ পর্ব)

শেষ পর্ব

নেগেটিভিটিতে ভরপুর জীবন তারক সিং-এর। ভালো চিন্তা কিছু নেই, সর্বক্ষণ দুঃখী ভাব। তার শরীরের কলকবজা বিকলের কাহিনি, প্রায় প্রত্যহ এদের শুনতে হয়। কেষ্ট দাস ঠিক তার উলটো। সর্বসময় প্রাণচঞ্চল তেজি ঘোড়া। একেবারে টগবগ করে ফুটছে। তবে মুখে কোনও লাগাম নেই। ‘অমিতসাব, পাক্কা দো’দিন মেরা টয়লেট নেহি হুয়া।’ বললেন তারক সিং। অমিতবাবু কিছু বললেন না, তিনি নিজেই বেশ ক’দিন ধরে নড়বড়ে। মুখ খুললেন কেষ্ট দাস।

—কোনটা বন্ধ, হিসি না হাগু?

—নেহি, ও তো কর রাহা, লেকিন হা…

—পিছনে বাতি দিন, সেরেফ বাতি।

—দূর মশাই, কী যে বলেন! হেসে ফেলেছেন অমিত সেন।

—কেন, লজ্জার কী আছে দাদা! ছেলেবেলায় আমরা সবাই তো…, হো হো করে হাসছেন দু’জনে। তারক সিং-ও গাঁদাল পাতা গেলা মুখ করে হাসতে বাধ্য হলেন। এইসব করে যখন অমিতবাবু ফ্ল্যাটে ফিরলেন নীচের পাম্পের ঘরের সামনে বেশ কয়েকজন আবাসিকের জটলা। আষাঢ়ে মেঘের ইঙ্গিত পেলেন অমিতবাবু। চারতলার গঙ্গাগোবিন্দবাবু, তিনতলার ভিনেশ জোশি, দোতালার অটল সাঁপুই, ডাঃ নিতিশ মিত্র— সবাই আছেন। কেমন যেন ভিলেন ভিলেন গন্ধ খুঁজছে সবাই তাঁর শরীর থেকে।

অটল সাঁপুই কিছুদিন আগে ছানি কাটিয়ে এসেছেন। চোখের দৃষ্টি বেড়ে গেছে, তিনি কাছে এসে খুব একেবারে গোয়েন্দা কায়দায় মাপতে লাগলেন অমিতবাবুকে। অমিতবাবু বুঝতে পারলেন না, কী খুঁজছেন রিভলবার না রক্তমাখা ছোরা! আসরে প্রথম এগিয়ে এলেন ভিনেশজি।

—আপনি কী করলেন মিঃ সেন? ওয়াটার পাম্প একদম খারাপ করিয়ে দিলেন। অমিতবাবু কিছু বুঝতে পারলেন না, শুধু সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

গঙ্গাগোবিন্দ মণ্ডল সংক্ষেপে যা বললেন তার সারমর্ম হল, ‘সকালে অমিতবাবু পাম্প চালিয়ে চলে গেসলেন। আবাসিকরা কেউ তা জানতেন না। দীর্ঘক্ষণ চলায় পাম্পের মোটর পুড়ে গেছে। সারাই করতে অনেক টাকার ধাক্কা।’

নিতিশ মিত্র প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, “তিনি এই বাবাদ এক কানাকড়িও দেবেন না।’ অমিতবাবুর মনে হল অন্য সকলে নির্বাক থেকে নিতিশবাবুর মতেই মত দিলেন। আর এখানে দাঁড়ালেন না তিনি। তিনতলায় তাঁর নিজের ফ্ল্যাটের বেল বাজালেন। কাজের লোক বুলি দরজা খুলল। এখানেও সন্দেহের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। এক গেলাস জল খেয়ে খবরের কাগজটা হাতে নিলেন। হঠাৎ হাত থেকে কে যেন টেনে নিল কাগজটা। স্ত্রী, বিমলা পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। হাতে চেক বই।

স্ত্রীর দিকে মুখ তুলে তাকালেন তিনি। চোখ দুটো জবা ফুলের মতো লাল। থমথমে মুখ। ভয় পেলেন অমিতবাবু, কিছু না বলাই শ্রেয় মনে করলেন। মুখ খুললেন বিমলা। পাম্পটা ঠিক করতে প্রায় বারো হাজার টাকা লাগবে। আমি কল মিস্ত্রী রাজু-কে খবর দিয়েছি। ও একটু বাদে এসে চেক নিয়ে যাবে। কোনওরকম ভূমিকা না করে চেকবইটা সামনে রেখে চলে গেল বিমলা।

আমিতবাবু বুঝতে পারলেন এই বাড়ির বারোটা ফ্ল্যাটেই তিনি এখন খলনায়ক! শুধু জানতে পারলেন না, খবরটা চেন্নাই-তে ছেলে অত্রি অবধি পৌঁছেছে কিনা! যাই হোক, নিজের ভুলের মাশুল চোকাতে বারো হাজার টাকার একটা চেক লিখে টেবিলের উপর কলম চাপা দিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। বিমলাদেবী দেখলেন কিন্তু বাধা দিলেন না। লোকটার মনেপ্রাণে আজ একটু মুক্ত হাওয়ার দরকার।

 

ভুলের মাশুল (২-পর্ব)

(পর্ব-২)

টেকো ওসি রামদাস টুথপিক দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে কথোপকথন শুরু করলেন।

—কী মশাই একেবারে রসের ভাণ্ডার হয়ে বসে রয়েছেন যে!

—হে, হে, তা যা বলেছেন, রস ছাড়া তো জীবন অচল। পৃথিবী তো রসেরই ভাণ্ডার। ফলের রস, তালের রস, আখের রস, খেজুর রস, রসগোল্লার রস…।

—থামুন, এইবার আমি আপনার দুটো রসগোল্লার রস বার করব!

ঘাড় নাড়লেন মোহিত দাস। অমিত সেন এবং আশেপাশের বাড়ির দু-চারজন মুখ চাওয়া চাওয়ি করল।

—মনিকা কে? একেবারে বাজখাঁই গলায় খেঁকিয়ে উঠলেন পাঁচতলা থানার ওসি। নামটা শোনার পর মোহিত দাসের চেহারায় কোনও ভাবগতিক লক্ষ্য করা গেল না। সেটা দেখে আরও সুর চড়ালেন ওসি।

—স্পিক আউট, স্পিক আউট, টেল মি হু ইজ মনিকা। কিন্তু যাঁকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলা, সে ফ্যালফ্যাল করে শুধু সবার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এইবার রামদাসবাবু পুলিশি বিক্রম দেখাতে তার হাতের লাঠিটা মোহিতবাবুর চিবুকে ঠেকিয়ে বললেন, ‘মনিকা, মাই ডার্লিং, শালা আপনার পিছনে এই লাঠি …!’ মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, “স্যরি, ভেরি স্যরি, আসলে…।’ অন্য ছন্দে ফিরলেন তিনি।

মোহিতবাবুর আয়াকে আলাদা করে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে, অয়ন দাসের বাড়ির পজিশন ইত্যাদি দেখে ফিরে গেলেন ওসি রামদাস মণ্ডল। যাওয়ার সময় তার সনাক্তকরণ রিপোর্টও প্রকাশ করে গেলেন। এটা বয়সজনিত মানসিক দুর্বলতা। জীবনের চলার পথে এসব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

অমিতবাবু কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, তাকে থামিয়ে দিয়ে হেসে উত্তর করলেন ওসি, ‘ভুল তো মানুষ মাত্রই করে, মিঃ সেন, না কি?’ বাদী পক্ষের অয়ন দাস নীচে দাঁড়িয়েছিলেন, তাকে এ ব্যাপারে আর বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়ে আসল নাটকের মঞ্চ ছেড়ে জিপে উঠলেন ওসি।

মোহিতবাবুর সেই ঘটনা অনেক রজনী অতিক্রান্ত করেছে। কিন্তু আমিতবাবুর এইরকম ভুল মাঝে মাঝেই কেন হয়, তা তিনি নিজেই বুঝতে পারেন না। ওসি রামদাসের কথা মতো মোহিতবাবুর সঙ্গে তুলনা করতে থকেন তিনি। কিন্তু অমিতবাবুর তো করোনা হয়নি। তাহলে? অমিতবাবুর স্ত্রী বিমলাও স্বামীর নানাবিধ অস্বাভাবিক ব্যবহারে নাজেহাল হয়ে যান। কিন্তু তার কিছুই করার নেই। তিনি নিরুপায়।

আজকের ঘটনাটাই ধরা যাক। বাড়ি থেকে মিনিট দশেক হাঁটাপথে ভগবানদাস পার্কে প্রত্যেকদিন সকালে একেবারে নিয়ম করে প্রাতভ্রমণে বেরোন অমিত সেন। সকালে টয়লেটে গিয়ে দেখেন জল নেই। তার মানে, মিউনিসিপালিটির কলের জল গতকাল রাতে আসেনি। এখন একমাত্র ভরসা ভূগর্ভস্থ জল। অমিতবাবু চাবি নিয়ে একতলায় পাম্প ঘরে সুইচটা অন করে হাঁটতে বেরিয়ে গেলেন। তাঁদের পেল্লাই ট্যাঙ্ক ভরতে প্রায় এক ঘন্টারও বেশি সময় লাগে। ততক্ষণে তিনি বাড়ি ফিরে আসবেন। কিন্তু ঘটনাটা যে এরকম ঘেঁটে বর্ণপরিচয়ের সব অক্ষর ধারণ করবে তা তিনি বুঝতে পারেননি। তাহলে কি তার মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতা দিন দিন লোপ পাচ্ছে। তিনি কি অ্যালজাইমার রোগের শিকার! আজকাল কিছুই বুঝতে পারেন না অমিতবাবু। সেদিন মোহিবাবুর বাড়িতে এসে কেমন যেন একটা উপলব্ধি হল।

ভগবানদাস পার্কে দু-পাক চক্কর মেরে নিত্যদিনের মতো পার্কের বাঁধানো পাথরের বেঞ্চে বসে কপালভাতি প্রাণায়ম করছিলেন অমিত। কেষ্ট দাস আর তারক সিং এসে পাশে বসে পড়ল। কপালভাতি চটকে গেল। বিহারের ছাপরা থেকে কলকাতায় এসে একটা ওষুধের দোকানে কাজ করে তারক সিং।

ক্রমশ…

ভুলের মাশুল (১-পর্ব)

এখন সকাল। রোদ্দুরের তেজটা সেরকম বোধ হচ্ছে না। প্রিন্সেপ ঘাটের উন্মুক্ত আকাশের নীচে বসে আছেন অমিত সেন। ফোর্ট উইলিয়ামে কাজ করার সুবাদে আগে এখানে কতবার এসেছেন। এখন আর সেরকম ভাবে আসা হয় না। ঘাটের চারপাশজুড়ে আকাশ কমলা হওয়ার দৃশ্যটা কতদিন দেখেননি তিনি! চার দিকের ভিড় কমে যাচ্ছে দেখতে দেখতে। এটাই স্বাভাবিক। বাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে প্রায় সবাইকে নিজের কাজে বেরুতে হবে। সে তাড়া অমিত সেনের নেই। আজ তাঁর একটু নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করবার দরকার ছিল। তাই সটান চক্র রেলে চেপে এখানে এসেছেন।

আজ আবার ঘটনাটা ঘটল। এই নিয়ে কতবার যে হল আর মনে করতে পারছেন না অমিত সেন। কিছুদিন আগে বাসে উঠে মনে পড়ল দরজাটা লক করা হয়নি। মাঝরাস্তায় বাস থেকে নেমে রিকশা করে বাড়ির সামনে এসে দেখেন তার ধারণা ভুল। দরজা বন্ধ। ব্যাংক-এ পাশবই আপ ডেট করতে গিয়ে দেখেন পাশবইটা সঙ্গে আনা হয়নি। এসব তো ঠিক আছে। কিন্তু আজকেরটা একেবারে সাংঘাতিক ভুল। কথায় বলে ভুলের মাশুল। কড়ায় গণ্ডায় একেবারে বারো হাজার টাকা বেরিয়ে গেল। এরপর চলবে জলকষ্ট। তাঁদের চার-পাঁচটা বাড়ির পরে থাকেন মোহিত দাস। তিনি কিছুদিন করোনা রোগের শিকার হয়েছিলেন। যমে-মানুষে টানাটানি করে বাড়ি এলেন কিন্তু ব্রেন-এর অবস্থা খুব খারাপ। কিছুই মনে রাখতে পারেন না। উলটোপালটা বকেন। মোহিতবাবু-র একমাত্র মেয়ে বিদেশে। আয়া-নির্ভর জীবন। আয়ার চড়-চাপট খেয়ে জীবন কাটে। সেই মোহিত দাসের বাড়িতে কিছুদিন আগে পুলিশ এল। দীর্ঘদিন একই পাড়ায় থাকার সুবাদে মোহিত দাসের সঙ্গে অমিত সেনের ভালোই সখ্যতা আছে। আজকাল অবশ্য দেখা সাক্ষাৎ হয় না বললেই চলে। অভিযোগ মারাত্মক। মহিলার শ্লীলতাহানি।

আশেপাশের বাড়ি থেকে গুঞ্জন উঠল, তাহলে কি আয়ার সঙ্গে! এই বয়েসে! ছিঃ ছিঃ ইত্যাদি। পরের ঘরের কুৎসা পেয়ে যে যত পারে বেলুন ফোলাতে শুরু করল। কেউ কেউ আবার এইসব ঘটনাকে মোহিতবাবুর সাময়িক যৌন উত্তেজনা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে আখ্যায়িত করল। অমিতবাবুর এইসব ন্যাস্টি কথাবার্তা মোটেই ভালো লাগল না। তিনি নিজে মোহিতবাবুর বাড়ি উপস্থিত হলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলেন ব্যাপারটা অন্য। এক্কেবারে রোমান্টিক।

অয়ন দাস তাঁর স্ত্রী মনিকাকে নিয়ে মোহিতবাবুর পাশের বাড়িতেই থাকেন। উত্তর কলকাতার বাড়িগুলো সব গায়ে গায়ে লাগানো। এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে ঝপাং ঝপাং করে লাফিয়ে চুরি করতে চোরেদের এখানে খুব মজা। এখন অবশ্য এসব ঘটনা শোনা যায় না। তবে উঁকি ঝুঁকি মারলে প্রতিবেশীর বেডরুমে চোখ পৌঁছে যায়। সেই চোখই হয়েছে ভিলেন।

মোহিতবাবু নাকি প্রায়শই অয়নবাবুর বাড়িতে উকিঝুঁকি মারেন। মনিকাকে নাম ধরে ডাকেন। বয়সে বড়ো, তাছাড়া ভুলো মনের মানুষ এইসব ভেবে অয়ন বা মনিকা খুব একটা পাত্তা দেননি। কিন্তু শেষ কয়দিন মোহিবাবুর মাথার ব্যামো একেবারে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে গেছে। প্রায়ই কলতলায় যাওয়ার সময় জানলার ফাঁক দিয়ে ‘মনিকা, মনিকা’ বলে হাঁক পেড়ে চলে যান। এতেও ঠিক ছিল। তিন দিন আগে দু’তিনবার, ‘মনিকা, ও মাই ডার্লিং’ সুর ভেঁজেছেন। ব্যস আর যায় কোথায়! রাহুল দেব বর্মনের এই কীর্তিকে একেবারে খাটো করে দেখতে রাজি নন তারা। একটা এসপার ওসপার করে ছাড়বেন। তাই সহ্য করতে না পেরে অবশেষে অয়ন-রা পুলিশের দারস্থ হয়েছেন। পুলিশ যদি বুড়োকে একটু আচ্ছা করে কড়কে দেয়।

পাঁচতলা থানার ওসি রামদাস মণ্ডল একজন রসিক এবং সমপরিমাণ বদমেজাজি ব্যক্তি। নিজে মাঝেমধ্যে পাড়ার গজিয়ে ওঠা শখের থিয়েটারে ছোটোখাটো পার্ট করে প্রচুর হাততালি কুড়িয়েছেন। খুব সহজেই সমস্যার সমাধান করেন বলে পুলিশমহলে বেশ ওজনদার। রামদাস ওসি যখন মোহিত বাবুর কাঁটাপুকুরের বাড়িতে এলেন, তখন অমিতবাবু একটু অবাকই হলেন। সিনেমার শুটিং-এর মতো ক্যামেরার পরিবর্তে হাতের আঙুলগুলো ভাঁজ করে চোখের সামনে এনে বিভিন্নরকম অঙ্গভঙ্গি করে মোহিত বাবুকে মাপতে লাগলেন। হি ইজ পারফেক্টলি অল রাইট। তার কথা শুনে মোহিতবাবু দেঁতো হাসি হাসলেন। অমিতবাবু হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন।

ক্রমশ…

 

 

সম্পর্কে অতিরিক্ত অধিকারবোধ

সম্পর্ক গড়তে যতটা না সময় লাগে, তার চেয়ে বেশি সময়  দিতে হয় ও যত্ন নিতে হয় সেই সম্পর্ককে সুন্দর করে তুলতে আর বাঁচিয়ে রাখতে। সম্পর্ক যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন অনেক সময়ই তা একঘেয়ে হয়ে ওঠে। আর এই একঘেয়েমি থেকেই দূরত্ব বাড়তে থাকে সম্পর্কে।

কিন্তু এছাড়াও থাকে কিছু মারাত্মক কারণ৷ যেমন মাত্রাছাড়া অধিকারবোধ৷ প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের কাছে মূল্যবান ঠিকই, পরস্পরের তাকে আগলে রাখার দায়ও আছে বটে– কিন্তু তাই বলে শ্বাসরোধ করা অধিকারবোধ কায়েম করা কিন্তু ক্রমশ তিক্ত হতে থাকা সম্পর্কের কবরে শেষ পেরেক হতে পারে৷

আসলে সব মানুষেরই আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, ভাবনা ও জীবনদর্শন রয়েছে। তাই তাকে নিজের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। জোর করে কাউকে বদলানোর চেষ্টা করা অথবা তাকে একদম পারফেক্ট বানানোর চেষ্টা করা চূড়ান্ত ভুল। প্রেমের সম্পর্কে এটাই ফিরে আসে বার বার। সঙ্গীকে নিজেদের মতো করে বদলানোর চেষ্টা করি আমরা, ফলে কম সময়েই সম্পর্কে বিরক্তি ও তিক্ততা চলে আসে।

আমরা অনেক সময়ই চাই সঙ্গী শুধু আমার সঙ্গেই তার গোটা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটাবে৷ তার নিজস্ব কোনও সত্তা কিংবা বৃত্ত থাকবে না৷ তার বন্ধুবান্ধব বা একান্ত ব্যক্তিগত কোনও স্পেস থাকবে না৷এই অন্যায্য ইচ্ছের আমরা একটা ভালোবাসার নাম দিই ‘অধিকারবোধ’৷ কিন্তু ভুললে চলবে না অধিকারবোধ মানে সঙ্গীকে আমার ইচ্ছে অনুযায়ী নিয়ত্র্রণ করা নয়৷ তাই সমস্ত মুভমেন্ট মনিটার করে তাকে আপাতভাবে বন্দি করা কোনও সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক হতে পারে না৷ অতিরিক্ত অধিকারবোধ অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের অন্যতম কারণ। সঙ্গীর সব বিষয়ে নিজের মালিকানা ফলানো বা তার ইচ্ছে-অনিচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা আখেরে লাভের থেকে ক্ষতিই বেশি করে।

এই অতিরিক্ত মনিটরিং পার্টনারকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে৷ জবাবদিহি এড়াতে সে তার গতিবিধি গোপন করতে শুরু করে৷ এর থেকে তার স্বামী বা স্ত্রীর আবার শুরু হয় সন্দেহ৷ অর্থাৎ সমস্যা ক্রমাগত নানা পথ বিস্তার করতে থাকে৷পরিসংখ্যান বলছে, ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সন্দেহপ্রবণতা বেশি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সন্দেহপ্রবণতার জন্ম হয় অধিকারবোধ থেকে। মনোবিদরা মনে করছেন, অতিরিক্ত অধিকারবোধ আসলে সন্দেহপ্রবণতারই প্রথম ধাপ।

নিজের ভাবনা, মতামতের প্রকাশ না হলে দূরত্ব বাড়বেই। সম্পর্কে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করতে পারে কিন্তু পারস্পরিক কথোপকথন। রাগ, দুঃখ, অভিমান, ভালোবাসার প্রকাশে পরিবর্তন আনুন। অধিকারবোধ ফলিয়ে পরস্পরের সহজে কথা বলার পথটা বন্ধ করবেন না৷সঙ্গী আপনার সাধের ময়না নয় যে তাকে খাঁচায় ভরে রাখবেন৷

শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কই সুস্থ প্রেম টিকিয়ে রাখার চাবিকাঠি নয়। অনেকেই ভাবেন সঙ্গী শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহ হারাচ্ছে মানে সে অন্যের প্রতি আসক্ত। তখনই কমে যায় কমিউনিকেশন, পরস্পরকে জানা-বোঝার পালাতেও ছেদ পড়ে যায়। ফলে সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে থাকে। মনোবিদরা বলছেন, সবক্ষেত্রেই কমিউনিকেশন জরুরি। পরস্পরের সঙ্গে কথা বলাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। আপনার সঙ্গী আপনারই থাকবে৷ অযথা তাকে সম্পত্তি ভেবে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করবেন না৷ বরং সে কী চায়, সেটাও বোঝার চেষ্টা করুন৷ আপনার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলেই তার পুরোনো বৃত্তগুলো থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে বাধ্য, এমনটা ভাবাও ঠিক নয়৷

১৫টি পুষ্টিতে ভরপুর খাদ্য উপাদান Almond

উত্তরকাশী-র সিল্কিয়ারা টানেলে আটকে পড়া নির্মাণ-কর্মীদের সফলভাবে উদ্ধার করা হলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। টানেল থেকে বের করার পর উদ্ধারকৃত কর্মীদের উল্লাস ও করতালির ছবি মুগ্ধ করেছে সবাইকে। যদিও এটি ১৭ দিন ধরে চলতে থাকা সবচেয়ে কঠিন উদ্ধার অভিযানগুলির মধ্যে অন্যতম অভিযান ছিল। কিন্তু জানেন কি, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা অবস্থায় শ্রমিকদের অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি আর কী কী খাবার পাঠানো হচ্ছিল? যারা জানেন না, তারা জেনে নিন, পাফ করা চাল এবং ছোলা ছাড়াও যে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান পাঠান হচ্ছিল, তা হল—Almond এবং এই পুষ্টিকর বাদাম সরবরাহ করা হচ্ছিল চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো। কারণ চিকিৎসকরা জানেন যে, যখন এই ধরনের অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে মানুষ আটকে থাকে, তখন শুধুমাত্র কয়েকটি জিনিসই তাদের বাঁচাতে পারে। আর এই বেঁচে থাকার উপকরণগুলির মধ্যে বাদাম অন্যতম।

এই প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের বক্তব্য, ভিটামিন ই, প্রোটিন, রিবোফ্লাভিন, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম সহ ১৫টি প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর খাদ্য উপাদান হল— Almond। বাদামের মধ্যে থাকা প্রোটিন শুধুমাত্র শক্তিই জোগায় না বরং পেশীর বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণও করে। বাদাম সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো জিনিস হল যে, দিনের যে-কোনও সময় খাওয়া যেতে পারে। বাদামে রিবোফ্লাভিনও থাকে, যা স্বাভাবিক শক্তি-উৎপাদনকারী হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এই বাদাম ভিটামিন B2 এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ, যা খাদ্য থেকে শক্তি সংগ্রহ করে শরীরকে পুষ্টি জোগায়। এই প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, শরীরকে সচল রাখতে যে সমস্ত উপাদানগুলিকে বিশেষ  পুষ্টিকর উৎস হিসাবে বিবেচনা করা হয়, Almond সেসবের মধ্যে অন্যতম।

সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, খাবার খাওয়ার ৩০মিনিট আগে ২০ গ্রাম বাদাম খেলে, শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা উন্নত করতে পারে। প্রমাণিত হয়েছে যে, ২৩.৩ শতাংশ (৩০ জনের মধ্যে ৭ জন) প্রি-ডায়াবেটিস রোগীরা খাবারের আগে বাদাম (২০ গ্রাম) খাওয়ার পরে রক্তে স্বাভাবিক  শর্করার মাত্রায় ফিরে আসেন। অন্য একটি সমীক্ষায় প্রকাশিত হয়েছে যে, ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার ফলে ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা উন্নত হয়। এছাড়া, প্রতিদিন বাদাম খাওয়ার ফলে উল্লেখযোগ্য ওজন হ্রাস, BMI (বডি মাস ইনডেক্স), কোমরের পরিধি হ্রাস এবং মোট কোলেস্টেরল হ্রাস পায়।

এই বাদামের একটি কম গ্লাইসেমিক সূচক রয়েছে এবং এতে প্রোটিন, খাদ্যতালিকাগত ফাইবার, ভালো ফ্যাট, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামের মতো পুষ্টি রয়েছে। ফলস্বরূপ, এগুলি প্রি-ডায়াবেটিস ব্যক্তিদের জন্য একটি আদর্শ খাবার।  মাদ্রাজ ডায়াবেটিস রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ দ্বারা পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা প্রমাণ করে যে, দেশের জনসংখ্যার এক মিলিয়নেরও বেশি ডায়াবেটিসের সঙ্গে  লড়াই করছেন। সমীক্ষায় আরও অনুমান করা হয়েছে যে, ভারতের আরও বহু মানুষের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড়ো উদ্বেগের বিষয় হল যে, প্রায় অর্ধেকই নির্ণয় করা হয়নি।

বিয়ের পরেও বয়ফ্রেন্ড আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়

প্রশ্ন – আমার বয়ফ্রেন্ড আমাকে খুব ভালোবাসত কিন্তু পারিবারিক চাপের কারণে তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে করতে হয়েছিল। আমি এখনও তার ভালোবাসা ভুলতে পারি না। এখন বিয়ের পরে, সে আবার আমার কাছে আসতে শুরু করেছে। সে বলে, ‘আমরা ভালো বন্ধু হতে পারি, তাই না? সে তার বিবাহিত জীবনের সমস্যাগুলি আমার সাথে ভাগ করে নিতে শুরু করেছে। একদিন আমার বাড়িতেও এসেছিল। আমি একা ছিলাম। ছেলেটি আমার সঙ্গে শারীরিক ভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে। আমিও দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম কিন্তু হঠাৎ বাড়ির বেল বেজে ওঠাতে আমি নিজেকে সামলে নিই। আমি এখনও তাকে ভুলতে পারছি না ঠিকই, তবে এখন আমি তার সাথে সম্পর্ক রেখে তার স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করতে পারি না। বয়ফ্রেন্ড-এর বক্তব্য, বিয়ে করে সে খুব বড়ো ভুল করেছে। পুরনো সব কিছু নাকি তার মনে পড়ে সবসময়। স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়া নিয়ে কিছু কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করে। আমি জানি না আমার কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। খুবই বিভ্রান্ত বোধ করছি। আমি কোনো ঝামেলায় পড়তে চাই না। আমাকে একটা উপায় দেখান দয়া করে । 

আপনার বয়ফ্রেন্ডের যদি সাহস থাকত, তাহলে সে আগে থেকেই অন্য জায়গায় বিয়ে করত না, তার কথায় অটল থেকে আপনাকেই বিয়ে করত। যদি তার পরিবার আপনাদের দুজনের বিয়ের বিপক্ষে থাকত, তাহলে সে অন্য জায়গায় বিয়ে করে আপনার সামনে অশ্রু ঝরানোর পরিবর্তে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিত। আসলে সে এখন আপনাকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। সে আপনার শরীর নিয়ে খেলতে চায়।

আপনি কেন আপনার নিজের জীবনকে বিভ্রান্ত করছেন? আপনার বয়ফ্রেন্ডকে পরিষ্কারভাবে বলুন যে আপনি আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না। তাকে তার পরিবারের প্রতি মনোযোগ দিতে বলুন। আপনার সামনে এসে মিথ্যা অভিনয় করে কাঁদতে বারণ করুন। সে যখন পরিবারের কথায় বিয়ে করেছে তখন সেই সম্পর্ক তার নেভানো উচিত। এখন আপনার প্রতি মনোযোগ ছেড়ে ছেলেটির উচিত স্ত্রীয়ের উপর মনোযোগ দেওয়া। আপনাকে আরও কঠোর হতে হবে। তার সাথে কথা বলা পুরোপুরি বন্ধ করুন। মোবাইল নম্বর ব্লক করুন। শক্ত ভাবে বলে দিন, যাতে সে আর আপনার বাড়িতে আসার সাহস না পায়।

আমরা আপনাকে পরামর্শ দেব যে এখন আপনার জীবনকে নতুন করে দেখার চেষ্টা করুন। নিজের বিয়ের কথা ভাবুন। আপনি যদি একজন ভালো জীবনসঙ্গী খুঁজে পান তবে ভবিষ্যৎ জীবনে আপনি নিজেই সুখী হবেন।

শীতকালীন হজমের সমস্যা এড়ানোর উপায়

শীতের মৌসুম ফিরে এসেছে!  ভারতের মতো গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তনেও নানারকম শারীরিক সমস্যা হয়। আর এই সমস্যাগুলির মধ্যে হজমের সমস্যা অন্যতম। কিন্তু কীভাবে হজমের সমস্যা এড়াবেন শীতকালে? এই বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোকপাত করেছেন কলকাতার এএমআরআই হাসপাতালের অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপি এবং কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জন ডা. সঞ্জয় মন্ডল।

হঠাৎ তাপমাত্রার হেরফের কখনও কখনও শরীরের বিপাকের সমস্যা তৈরি করে। আসলে ভালো খাবার মানেই তা খেতে মন চায় অথবা বলা যায়, বেশ কিছু খাবার আছে যা আমাদের লোভ তৈরি করে। কিন্তু সব খাবার কি সব সময় সকলের খাওয়া উচিত? চিকিৎসকদের মতে অবশ্যই ‘না’। কারণ, মুখোরোচক খাবার মানেই হল বেশি তেলমশলা যুক্ত খাবার। আর এই ধরনের খাবার যদি আমরা বেশি মাত্রায় খাই কিংবা খাওয়ার পর সঠিক শারীরিক পরিশ্রম না করি, তাহলে হজমের সমস্যা হবেই। এই ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, নিয়মিত খাবার হজম না হলে এবং এই হজমের সমস্যা যদি দীর্ঘ দিন চলে, তাহলে লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হবেই। আর লিভারের ক্ষতি মানেই শরীরে বাসা বাঁধবে আরও নানারকম রোগব্যাধি। বিশেষকরে শীতকালে আমরা যদি আমাদের খাদ্যাভ্যাসের প্রতি যত্নবান না হই, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য গভীর সমস্যায় পড়তে পারে।

Health
Dr. Sanjoy Mandal

দেখা যায়, শীতকালে আমাদের খাওয়ার ইচ্ছে বেশি হয় এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য হাঁটাচলাও কমে যায়। ফলে, শীতকালে বেশি হজমের সমস্যা হয়।  তাছাড়া, ধীরেধীরে দূষণও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শীতকালে পরিবেশ দূষণ আরও বেড়ে যায়। সেইসঙ্গে, পর্যাপ্ত সূর্যালোকের অভাব এবং সূর্যালোকের পর্যাপ্ত এক্সপোজারের অভাবের ফলে আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর সংশ্লেষণ হ্রাস পায়, যা শেষ পর্যন্ত হাড়কে দুর্বল করে তোলে। আর হাড় দুর্বল হলে পরিশ্রম করার ইচ্ছে কমে যায় এবং এর ফলে হজমের সমস্যা তৈরি হয়। ঠান্ডা আবহাওয়া, সূর্যালোকের এক্সপোজার-এর অভাব প্রভৃতি কারণে হজম ছাড়াও আমরা নানারকম শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হই।  ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে চা এবং কফি পানের ইচ্ছে বেড়ে যায় এবং এর ফলে পেট গরম হতে থাকে। এই বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদী হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক।

প্রসঙ্গত আরও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার যে, যে পরিমান ক্যালরি আমরা শরীরকে দিচ্ছি, তা যদি সঠিক পরিমাণে ক্ষয় না হয় পরিশ্রমের অভাবে, তাহলে ওজন বেড়ে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত ওজন শরীরের পক্ষে মোটেই যে ভালো নয়, তা আমরা প্রায় প্রত্যেকেই জানি। আরেকটি পানীয় যা কিছু লোক ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেশি পান করার প্রবণতা রাখেন, তা হল অ্যালকোহল এবং এটি অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদে নয়, দীর্ঘমেয়াদেও ক্ষতিকারক। অতিরিক্ত অ্যালকোহল স্বল্পমেয়াদে রিফ্লাক্স এসোফ্যাগাইটিস এবং গ্যাস্ট্রাইটিস এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের সিরোসিস, হৃদরোগ, প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং স্থূলতার দিকে নিয়ে যায়।শীতের ঋতুতে আমাদের তরল বিশেষত জল কম পান করার প্রবণতা থাকে এবং এর ফলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে, যা কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষকরে যাদের কিডনিতে পাথর রয়েছে, তাদের আরও বেশি সাবধান হওয়া উচিত। মনে রাখবেন, ডিহাইড্রেশনের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা এবং পাইলস ও ফিসারের সমস্যাও বেড়ে যায়। তাছাড়া, শীতকালও এমন একটি সময় যখন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই, আমাদের সঠিক যত্ন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, লিভার আমাদের শরীরের একটি প্রধান অঙ্গ। আমাদের সুস্থ রাখার জন্য সবসময় কাজ করে চলেছে লিভার। তাই, লিভারের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। অন্যথায়, যে-সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি লিভার করে চলেছে, সেগুলি সঠিক ভাবে হবে না এবং আমরা নানারকম শারীরিক সমস্যায় ভুগবো।

আসলে, আমরা যে-ধরনেরই খাবার খাই না কেন, তা মেটাবোলিজম-এ সাহায্য করে লিভার। তাই লিভার সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলে, খাবার ঠিক করে হজম হয় না। অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজম সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

আমরা যে-খাবার খাই, তার থেকে পাওয়া পুষ্টি শরীরে সঠিক ভাবে শোষণ ও জমা হতে সাহায্য করে লিভার। তাই লিভারের সমস্যা হলে এই ধরনের খাদ্য উপাদান যেমন বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেলস-এর ঘাটতিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত আয়রন, ফেরাটিন, ভিটামিন এ, ডি, ই, প্রভৃতির ঘাটতি দেখা যায় শরীরে। তাই, লিভার ঠিক না থাকলে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এছাড়া, লিভার শরীরের অতিরিক্ত টক্সিন বের করে ডি-টক্সিফিকেশন-এ সাহায্য করে। তাই লিভার ঠিক কাজ না করলে, এই টক্সিন শরীর থেকে ঠিক ভাবে বেরোতে পারবে না এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেবে।

লিভার-এর যে-সমস্যায় এখন ভীষণ ভাবে ভুগছেন অসংখ্য মানুষ, তা হল—ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার-এর সমস্যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে। কিন্তু যদি আমরা ফ্যাটি লিভার-কে প্রাথমিক স্টেজ-এ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তাহলে লিভার-এর বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। যেমন— লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস, এমনকী ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার-এর প্রাথমিক স্টেজ সাধারণ ভাবে উপসর্গহীন। তাই আমাদের সচেতন থাকতে হবে। ফ্যাটি লিভার-এর দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্টেজ থেকে যে-উপসর্গগুলি বোঝা যায়, তা হল–পেট বেশি বেড়ে যায় শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে, অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া, হাঁপিয়ে যাওয়া, পেটে ব্যথা, বমি, হালকা জন্ডিস, ঘনঘন সর্দি কাশি। ২য় স্টেজ থেকে ওষুধের প্রয়োজন হয়। সেইসঙ্গে, নিয়ন্ত্রণ করতে হয় খাওয়া-দাওয়া এবং নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভারকে সুস্থ রাখতে হয়। তাই, সতর্ক থাকুন এবং সঠিক মাত্রায় ভালো খাবার খান। সেইসঙ্গে, প্রতিদিন তিন থেকে চার লিটার জল পান করুন। আর শীতের আলস্য কাটিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে বাড়তি ক্যালরি ক্ষয় করুন। এরজন্য নিয়মিত হাঁটাচলা এবং ব্যায়ামের প্রয়োজন।

29th KIFF সূচনায় সলমন সমাপ্তিতে অদিতি রাও হায়দরি

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা! তারপরই শুরু হবে ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। বুধবার সন্ধ্যায় ররীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হল, আগামী ৫ ডিসেম্বর বিকেল চারটের সময় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম-এ ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সূচনা করবেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উদবোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলিউড এবং টলিউডের তারকারা। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছেন অভিনেতা সলমন খান, অনিল কপুর, শত্রুঘ্ন সিনহা, কমল হাসান, অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা, পরিচালক মহেশ ভট্ট, ক্রিকেট তারকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং টলিউডের অনেকেই। উদবোধনী অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকবেন চূর্ণি গঙ্গোপাধ্যায়। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম-এ প্রায় পনেরো হাজার দর্শক একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারবেন উদবোধনী অনুষ্ঠান এবং উদবোধনী সিনেমা। এবছর থালি গার্ল হিসাবে উদবোধনী মঞ্চে থাকবেন টলিউড অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়।

৫ ডিসেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম-এ উদবোধনী সিনেমা হিসাবে প্রদর্শিত হবে ১৯৬৩ সালে নির্মিত, সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত জনপ্রিয় রোমান্টিক কমেডি এবং সংগীত মুখরিত বাংলা সিনেমা ‘দেয়া নেয়া’। এই সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন উত্তম কুমার, তনুজা, পাহাড়ি সান্যাল, ছায়া দেবী, তরুণ কুমার, লিলি চক্রবর্তী, কমল মিত্র, নৃপতি প্রমুখ। সুরকার ছিলেন শ্যামল মিত্র।

এবার ৬ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলকাতা-র ২৩টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ৩৯টি দেশের ২১৯টি ছবি। মোট ১৫৯০টি ছবির মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই ছবিগুলি। এই ২১৯টি ছবির মধ্যে কম্পিটিশন বিভাগে রয়েছে ৭২টি বড়ো ছবি, নন-কম্পিটিশন বিভাগে রয়েছে ৯৭টি বড়ো ছবি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য ও তথ্যচিত্র বিভাগে থাকবে মোট ৫০টি ছবি।

ফোকাস কান্ট্রি হিসাবে এবার থাকছে স্পেন এবং স্পেশাল ফোকাস কান্ট্রি হিসাবে থাকছে অস্ট্রেলিয়া-র ছবি। নন্দন এক, দুই, তিন ছাড়াও রবীন্দ্র সদন, শিশির মঞ্চ, রবীন্দ্র ওকাকুরা ভবন, সিনেমা সেন্টেনারি বিল্ডিং, নজরুল তীর্থ এক ও দুই, নবীনা, সাউথ সিটি-র মাল্টিপ্লেক্স, স্টার থিয়েটার, প্রাচী, বিজলী, মেনকা, অশোকা, অজন্তা, মানি স্কোয়ার, মেট্রো, কোয়েস্ট মল, নিউ এম্পায়ার প্রভৃতি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে ২১৯টি ছবি।

২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের থিম সং-টির ভাবনা ও পরিকল্পনায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রচনায় শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। সুরারোপ করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। আর গানটিতে কন্ঠদান করেছেন অরিজিৎ সিং। এই প্রথম অরিজিৎ গাইলেন কোনও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের থিম-সং।

পরিচালক সুধীর মিশ্র ছাড়াও, শিশির মঞ্চে চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনায় (মাস্টার ক্লাস) অংশ নেবেন অভিনেতা সৌরভ শুক্লা, মনোজ বাজপেয়ী প্রমুখ। এছাড়া, নিজের থ্রিলার ছবি ‘কেনেডি’-র প্রদর্শন উপলক্ষ্যে উপস্থিত থেকে সিনেমা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখবেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। তাঁর এই ছবিটি মে মাসে প্রিমিয়ার হয়েছিল কান ফেস্টিভ্যাল-এ।

২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ক্যাচ লাইন–বিশ্ব সিনেমার বঙ্গ ভ্রমণ। এবার ‘বেঙ্গলি প্যানোরামা’ বিভাগে বিজয়ী ছবির জন্য থাকছে সাড়ে সাত লক্ষ টাকার পুরস্কার এবং সেইসঙ্গে থাকছে গোল্ডেন রয়্যাল বেঙ্গল ট্রফি। উৎসবের শতবর্ষ বিভাগে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা  হবে লিন্ডসে অ্যান্ডারসন, রিচার্ড অ্যাটেনবোরো, চার্লটন হেস্টন, কোসমানে সেমবেনে, মৃণাল সেন, দেব আনন্দ, মুকেশ এবং শৈলেন্দ্র-কে। এছাড়া ‘হোমেজ’ বিভাগে প্রদর্শিত হবে গিনা লোল্লোব্রিগিদা, চার্লস সাওরা, ডেরেক ম্যালকম, সৌমেন্দু রায় এবং দারিউস মেহেরজুই-র ছবি।  ৯ ডিসেম্বর বিকেল চারটের সময় শিশির মঞ্চে ‘সত্যজিৎ রায় স্মারক বক্তৃতা’ দেবেন লরেন্স কার্দিশ । ‘ইন সার্চ অফ আইডেন্টিটি’ এবং পরিবেশ বিষয়ক ছবি নিয়ে দু’টি বিশেষ বিভাগে সমৃদ্ধ হবে এবারের উৎসব।

এবারের উৎসবে ফোকাস কান্ট্রি স্পেন-এর ৬টি ছবি প্রদর্শিত হবে এবং স্পেশাল ফোকাস কান্ট্রি অস্ট্রেলিয়া-র ১৫টি ছবি দেখানো হবে তিনটি বিভাগে। রেট্রোস্পেক্টিভ বিভাগে প্রদর্শিত হবে রাশিয়ান মায়েস্ত্রো পাভেল লুংগিন-এর সাতটি ছবি। সাঁওতালি, হরিয়ানভি, টুলু, পাখে, গোলায়বি এবং রাভা এই ৬টি বিশেষ ভারতীয় ভাষার ছবিও প্রদর্শিত হবে এবারের উৎসবে।

প্রতিযোগিতা বিভাগে এবারও সেরা ছবি এবং সেরা পরিচালকের জন্য বরাদ্দ আছে রয়্যাল বেঙ্গল ট্রফি এবং যথাক্রমে ৫১ লক্ষ ও ২১ লক্ষ টাকা-র পুরস্কার। হীরালাল সেন মেমোরিয়াল ট্রফি ও অর্থমূল্যও রয়েছে প্রতিবারের মতো। প্রসঙ্গত জানানো হয়েছে, এবারের উৎসবের সমাপ্তি পর্বে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নজর কাড়বেন বলিউড অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরি।

‘দ্য ম্যাভেরিক’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে নন্দন ফয়ার-এ  এবং ‘এভার গ্রিন দেব আনন্দ’ শীর্ষক প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হবে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায়। বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্বে ২৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের থিম-সং এবং লোগো লঞ্চ করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, বিরবাহা হাঁসদা, উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান রাজ চক্রবর্তী, অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, সোহম চক্রবর্তী, অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী, জুন মালিয়া, পরিচালক  গৌতম ঘোষ,  পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, সুদেষ্ণা রায় প্রমুখ।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব