স্বপ্নের শেষ দৃশ্য (পঞ্চম পর্ব)

সন্তোষবাবু মিচকি হেসে মন্তব্য করলেন— আপত্তি কিছু নেই। তবে দেবব্রতবাবু, জীবনের অপরাহ্নবেলায় পুরোনো কাসুন্দি ঘেঁটে কী লাভ?

দেবব্রতবাবু উৎসাহিত হয়ে পঞ্চমুখে বন্ধুর গুণকীর্তন করতে লাগলেন। আজ থেকে বিশ বছর আগে স্বয়ং ডিএজি-র সাথে বাজি ধরে জলবিহীন আশিটা বাসি বালুসাই গলাদ্ধকরণ করা কি সোজা কথা? এখানেই শেষ নয়, তারপর এক খিলি সুগন্ধিত জর্দা দেওয়া পান, তাও ডিএজি-র পয়সায়। ইনি হলেন সেই মহাজন, যার সাথে তুলনীয় রাজা রামমোহন রায়। একটা গোটা পাঁঠার মাংস খাওয়া তাঁর কাছে এমন কিছু কঠিন কাজ ছিল না। আর দ্বিতীয়জন হলেন আধ মনই কৈলাস। আধ মন চিঁড়ে সহযোগে যিনি প্রাতরাশ করতেন। আমাদের সন্তোষবাবু হলেন তাঁদের সমগোত্রীয়। বিদেশের মাটিতে জন্ম নিলে এতদিনে তাঁর নামে স্মারক তৈরি হতো।

এরপর অর্পণের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেছিলেন— বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসে তুমি নিরামিষ খাচ্ছ? তাও আবার ইতিহাসস্রষ্টা এই মহান ব্যক্তির সামনে দাঁড়িয়ে? তোমার শরীর টিকবে কী করে? প্লেটে তো কিছুই নেই দেখছি!

দেবব্রতবাবু সেখান থেকে বিদায় নিতেই সন্তোষবাবুর কৌতূহলী প্রশ্ন— তোমার খাওয়া নিয়ে পরিহাস করার ব্যাপারে দু’জনকে চিনলাম৷ কিন্তু তৃতীয়জন কে?

অর্পণ বলে— সে আর কেউ নয় আপনি স্বয়ং। আমাকে পরিহাস করার প্রথম ব্যক্তি। মনে নেই আপনিই তো হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ছোঁয়া খাও তো? নাকি তাও খাও না? এরই মধ্যে বেমালুম ভুলে গেলেন কথাটা?

সন্তোষবাবু লজ্জিত হয়ে বলেন— ছিঃ আমার কথায় তুমি কিছু মনে কোরো না। আমি না জেনে তোমায় ব্যথা দিয়েছি। যা বলেছি তা পরিহাস ছিল না। বলেছি নিছক কথাচ্ছলে। এই ব্যাপারে আমি ভীষণ লজ্জিত।

অর্পণ তাঁকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বলে— মনে করব কেন? এগুলো তো আজকের দিনে আমার প্রাপ্য।

সন্তোষবাবু অধৈর্য হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন— যাক্ তোমার কথায় আমি মনে শান্তি পেলাম। তুমি তোমার স্বপ্ন প্রসঙ্গে এযাবৎ যা কিছু বলেছ প্রত্যেকটি কথা সবই অক্ষরে অক্ষরে ফলেছে। তবে আমি তোমার স্বপ্নের শেষটুকু জানতে না পারা পর্যন্ত স্বস্তি পাব না। বিষয়টা ভীষণ অদ্ভুত লাগছে আমার কাছে। আশা করি শেষটা আরও বেশি রোমাঞ্চকর হওয়া উচিত।

একটু থেমে তিনি মন্তব্য করেন— কথায় বলে ‘যার শেষ ভালো তার সব ভালো’, আবার ‘শেষের সেদিন ভয়ংকর’ নামেও একটি কথা আছে! এদিকে সংগীত জগতের ক্ষেত্রেও সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে’। এমন কি কবিগুরুর রচিত একখানি উপন্যাস আছে যার নাম ‘শেষের কবিতা”। তাই আমার শেষটুকু জানার ইচ্ছে হচ্ছে। স্বপ্ন যে কখনও সত্যি হতে পারে তা কল্পনাতীত। কবিরা অবশ্য কাব্য করে বলেন ‘স্বপ্ন শুধু সত্য আর সত্য কিছু নয়। কিন্তু মানুষের জীবনে এর কোনও মূল্য আছে বলে আমি মনে করি না। তুমি ভালো করে একাগ্রচিত্তে মনঃসংযোগ করে একবার ভেবে দ্যাখো তো যে-স্বপ্নের শেষটা কী ছিল?

সন্তোষবাবু যতই শেষটুকু জানার জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন, উত্তেজিত ও কৌতূহলী হয়ে উঠছিলেন, অর্পণকে ততই ম্লান ও বিষণ্ণ লাগছিল দেখতে। ভারাক্রান্ত মনে পলকহীন দৃষ্টিতে অস্ফুট স্বরে অর্পণ একসময় বলে ওঠে— শেষটুকু আর নাই-বা শুনলেন। ক্ষতি কি? শেষটুকু না হয় আমার মধ্যেই চাপা থাক। আমি না হয় এখন থেকে আপনার পরামর্শ অনুযায়ী বাংলার কথাশিল্পীর মতো নিজের কথা দিয়েই গল্প লিখতে আরম্ভ করব। যেদিন শেষ করতে পারব সেদিন সর্বপ্রথম আমি নিজে এসে আপনাকে শোনাব সেই গল্প। ধারাবাহিক উপন্যাসের শেষে যেমন লেখা থাকে ক্রমশ প্রকাশ্য। ধরে নিন এটাও অনেকটা সেইরকম। তবে এইটুকু বলতে দ্বিধা নেই, স্বপ্ন যে কখনও কখনও সত্যি প্রমাণিত হয় তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

(ক্রমশ…)

সাফল্য আসুক সেলফ গ্রুমিং-এ

আনকোরা একটা বছর শুরু হতে চলেছে আর কিছুদিন পরেই৷ ফেলে আসা বছরটায় করা ভুলগুলির পুনরাবৃত্তি করতে চান না কেউই৷ বরং সেগুলি থেকে শিক্ষা নিন৷ জীবনকে মসৃণ করতে আগাম কিছু পরিকল্পনা করে নিন৷

ছোটো ছোটো গোল সেট করুন

দায়িত্বের কথা ভেবে বা সংসারে নিজের ভূমিকার কথা ভেবে অতিরিক্ত ভারাক্রান্ত হবেন না। পরিবর্তে ছোটো ছোটো গোল্স সেট করুন। এগুলি বছরের শেষে অ্যাচিভ করতে পেরেছেন দেখলে কিন্তু সত্যিই আনন্দ হবে। টার্গেট-এর কাছে পৌঁছোনোর জন্য পরিশ্রম করুন। লক্ষ্যপূরণ হবে না ভেবে অযথা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন না।

আত্মবিশ্বাস বাড়ান

সবার আগে ভয় দূর করুন। কী হবে না হবে আশঙ্কা ঝেড়ে ফেলে নেগেটিভ ভাবা বন্ধ করুন। আগে থেকেই সব কিছুর প্রিপারেশন নিয়ে রাখুন।আমরা কোনো চাকরির ইন্টারভিউতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়ি। এর পিছনের কিছু কারণ হলো, আমাদের প্রিপারেশন ভালো মতো নেওয়া হয় না আর নয়তো আমরা আগে থেকেই নেগেটিভ ভেবে রাখি।কাজের ফলাফল সম্পর্কে আগে থেকে না ভাবাই ভালো।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সব বিষয়ে কম বেশি জ্ঞান বাড়াতে হবে।কারেন্ট অ্যাফেয়ারস-এর  জ্ঞান ও বিজ্ঞান সম্পর্কে যথেষ্ট স্কিল মজবুত করতে হবে। মানুষের সাইকোলজি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে। পরিচিত অপরিচিত মানুষের সাথে মেশার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কথা বলার ক্ষেত্রে অন্যরকম কোয়ালিটি যোগ করতে হবে। যাতে মানুষ সহজেই গ্রহন করতে পারে। সব বিষয়ে যখন স্বাভাবিক ধারণা অর্জন করবেন, তখন ভেতর থেকেই নিজেকে আত্ববিশ্বাসী অনুভব হবে।

গুছিয়ে কাজ করার অভ্যাস

গুছিয়ে কাজ করা একটি অভ্যাস। নিজের ভেতর এই অভ্যাসটি গড়ে তুলুন। গুছিয়ে কাজ করার জন্য পরিকল্পনা থাকা চাই। এতে কাজ অনুসারে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে। প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত পরিকল্পনা করেই এগোতে হবে। নইলে হোঁচট। আশানুরূপ ফল পাওয়ার জন্য সঠিক ও প্র্যাকটিকাল পরিকল্পনার কোনও বিকল্প নেই। অফিসে নিজের কার্যক্রম আরও গোছালো ও সমন্বিত করার জন্য প্রতিদিনের ওয়ার্কপ্ল্যান করে নিন।সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে আগ্রহ হারাবেন না। পরবর্তী কাজ থেকে সময় বাঁচিয়ে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখবেন, একটি ব্যর্থতা পর পর অনেক কাজের ওপর আপনার আগ্রহ ও একাগ্রতাকে নষ্ট করে দিতে পারে।

ডায়ারি মেনটেইন করুন

আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ডায়ারি মেনটেইন করুন। টিক দিয়ে দিয়ে অসম্পূর্ণ কাজগুলো এক এক করে শেষ করুন চলতি বছরে। কাজ সমাপ্ত হলে আপনার দুশ্চিন্তার বোঝাও খানিক কমবে। দুশ্চিন্তা থেকে আপনিও রেহাই পাবেন। জীবন বিন্দাস করতে একটু নিজেকে গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন সবচেয়ে আগে। কাজে মন দিলে, অযথা খারাপ চিন্তা আপনাকে গ্রাস করবে না। অতিরিক্ত ভাবার অভ্যাস থেকেও আপনি সহজেই বেরিয়ে আসতে পারবেন, উপযুক্ত প্ল্যানিং আর একটি ডায়ারির সাহায্যে। এক বছরের বা এক মাসের প্ল্যান করার বদলে, পরের দিনের প্ল্যান করা দিয়ে শুরু করুন কাজ।

শখগুলি বাঁচিয়ে রাখুন

নিজের প্রিয় শখগুলিকে লালন করুন, যাতে মনে আনন্দ লাভ করেন সেটাই করুন। কোনও বয়সই নতুন কিছু শুরু করার পথে অন্তরায় নয়। লোকে কী বলবে এই ভয়ে পিছিয়ে যাবেন না। মনে রাখবেন আপনার উদ্যোগে আরও অনেকে অনুপ্রাণিত হবেন। পছন্দের কাজে মেতে থাকুন। বাজে চিন্তা আপনাকে গ্রাস করবে না।

জীবন হোক আনন্দের

মন খুলে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করুন। মনের গুমোট ভাবটা এতে অনেকটাই কেটে যাবে। ‘রেসপনসিবিলিটি’ একটা বোঝা ঠিকই কিন্তু সেটা কাধে নিতে হচ্ছে বলেই মুখভার করে থাকবেন না। প্রয়োজনে দায়িত্বটা পরিবারের সকলের মধ্যে অল্প অল্প করে ভাগ করে দিন। আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠুন নিজের ক্ষমতার উপর। এতে আগামী পদক্ষেপ সহজে করতে পারবেন। বছরভর ভালোমন্দ লেগেই থাকবে। আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি রাখুন যে, যাই ঘটুক ভেঙে পড়লে চলবে না।

ফান উইথ চকোলেটস

ছোটো বড়ো সকলেই চকোলেট খেতে ভালোবাসে৷ রোজের মেনুতে যদি চকোলেট রেসিপি থাকে তাহলে সকলেরই মন ভালো হয়ে যায়৷   বলা হয়, চকোলেট নাকি হৃদরোগের আশঙ্কা এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে৷ দিনে যদি দু’ টুকরো ডার্ক চকোলেট খাওয়ার অভ্যেস থাকে, তা হলে কমতে পারে রক্তচাপ৷ এর মধ্যে উপস্থিত ফ্ল্যাভোনয়েডস খুব শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট৷ ডার্ক চকোলেটের একটি বারে যে পরিমাণ ফ্ল্যাভোনয়েডস থাকে, তা নাকি পাঁচটি আপেলের সমান৷ এর উপস্থিতিতে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে, তবে অতিরিক্ত চিনি মেশানো চকোলেটে এই গুণগুলি পাবেন না৷

কোকো মস্তিষ্কে রক্ত সংবাহনের পরিমাণ বাড়ায়, তাতে বাড়ে মানুষের বুদ্ধি৷ মুড ভালো করতেও এর জুড়ি নেই৷ দক্ষিণ আমেরিকায় প্রাচীনকালে তো ডায়ারিয়া বা পেটের কোনও সমস্যায় ওষুধ হিসেবে চকোলেটের ব্যবহার হত, কারণ ক্ষুদ্রান্ত্রের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণেও নাকি চকোলেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে৷

আপনাদের জন্য কিছু চকোলেট রেসিপি রইল, আজই ট্রাই করুন৷

চকোলেট ফাজ

উপকরণ:  ২ বড়ো চামচ মেল্টেড চকোলেট, ২ বড়ো চামচ ক্রিম, ৩ বড়ো চামচ দুধ, ৩-৪ ফোঁটা ভ্যানিলা এসেন্স, সাজানোর জন্য চকো চিপ্‌স, ফেটানো ক্রিম চকোলেট কেকের উপর লেয়ার করার জন্য।

প্রণালী: চকোলেট, ক্রিম, দুধ ও ভ্যানিলা এসেন্স একসঙ্গে মিশিয়ে সস তৈরি করুন। এবার পুডিং গ্লাসে ঢেলে দিন। চকোলেট কেক রেখে এর উপর একটা সসের লেয়ার তৈরি করুন। এবার ফেটানো ক্রিম ও চকো চিপ্‌স দিয়ে সাজিয়ে পরিবশেন করুন।

 

চকোলেট জুস

Chocolate Juice recipe

উপকরণ:  ১ কাপ দুধ, ১ বড়ো চামচ চিনি, ১ টুকরো কুকিং চকোলেট, ২ বড়ো চামচ কর্নস্টার্চ, ২ বড়ো চামচ ক্রিম, ১ বড়ো চামচ চকোলেট পাউডার, ১/২ ছোটো চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, সাজানোর জন্য চকোলেট, এক চিমটে নুন।

প্রণালী: কর্ন স্টার্চ, চিনি, চকোলেট পাউডার আর দুধ একসঙ্গে মেশান। ঢিমে আঁচে রান্না হতে দিন। এতে কুকিং চকোলেট মেশান, ঘন হতে দিন। আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন।

ভ্যানিলা এসেন্স ও ক্রিম দিয়ে মেশান। সার্ভিং বোল-এ দিয়ে চকোলেট ছড়িয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা সার্ভ করুন।

 

হট চকোলেট ফাজ

Hot Chocolate Fudge recipe

উপকরণ:  ১ কাপ হট ফাজ সস, ১ কাপ ভ্যানিলা আইসক্রিম, ১ কাপ চকোলেট আইসক্রিম, ১ বড়ো চামচ রোস্টেড নাটস।

প্রণালী : একটা লম্বা গ্লাসে হট ফাজ সস ঢালুন। এক স্তুপ ভ্যানিলা আইসক্রিম দিন। তার উপর দিন চকোলেট আইসক্রিম। এবার উপরে ছড়িয়ে দিন ফাজ সসের লেয়ার। নাটস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

স্বপ্নের শেষ দৃশ্য (চতুর্থ পর্ব)

সন্তোষবাবু উত্তেজিত স্বরে বলেন— তোমার স্বপ্নের শেষ দৃশ্যটা কী ছিল আমি সেটাই বিশেষ ভাবে জানতে চাই। ওটার উপরেই নির্ভর করছে সবকিছু।

অর্পণ প্রত্যুত্তরে জিজ্ঞাসা করে- — কেন আপনি গল্প লিখবেন নাকি? শুনেছি গল্পকারেরা কোনও ঘটনার পরিণতির কথা ভেবেই গল্প রচনা করেন। আপনিও কি তাই ভাবছেন নাকি?

—কী যে বলো এই সত্তর বছর বয়সে আমি লিখব গল্প? এই বয়সে ভীমরতি হয় তা স্বীকার করি কিন্তু নতুন করে গল্প লেখক কবি বা সাহিত্যিক হওয়া যায় না। যারা হতে চান তাঁরা বামন হয়ে সুদূরের চাঁদ ধরার বৃথা আশা করেন। তাঁদের কপালে ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছু জোটে না এটুকু বলতে পারি। লেখার অভ্যাস একটা বদ অভ্যাস। আমি বাপু কোনও অভ্যাসের দাস নই। তবে তুমি যাই বলো গল্প লেখার মতোই প্লট বটে। তুমি তো এখনও গল্প লেখো। তুমি একদিন নিজের মুখেই বলেছিলে গল্প লেখার অভ্যাসটা তোমার ছেলেবেলার। তোমার লেখা গল্প আমি মাঝেমধ্যে লিটিল ম্যাগাজিনে দেখি। তুমি লিখছ না কেন?

—কী যে বলেন কাকাবাবু আমি লিখব নিজের গল্প? অর্পণের সংক্ষিপ্ত জবাব।

—কেন ক্ষতি কী? শ্রীকান্ত উপন্যাসে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজের কথাই লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি ছাড়াও এরকম আরও অনেকেই করেছেন।

—আপনি উপহাস করছেন না তো? উনি হলেন বাংলার মনীষী। যা উনি পেরেছেন তা কি অন্য সকলের দ্বারা সম্ভব? অন্তত আমার দ্বারা অসম্ভব। তার চেয়ে আমার কথা অন্য কেউ লিখলে বেশি উপভোগ্য হবে লেখাটা।

—একদিক থেকে তুমি ঠিকই বলেছ। এই কারণেই গল্পকারেরা নিজের অভিজ্ঞতার কথা এবং অন্তর্নিহিত ভাবগুলো সব অন্যের মুখ দিয়ে ব্যক্ত করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন বেশি। নিজেকে আড়াল করে রাখার মধ্যেই তাঁরা বেশি তৃপ্তি ও আনন্দ পান।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সন্তোষবাবু বলেন— আর দেরি কেন? চলো, খাবারটা খেয়ে নেওয়া যাক। ন’টা বেজে গিয়েছে।

দু’জনেই এগিয়ে যান খাবার রাখা টেবিলের দিকে। প্লেটে খাবার সাজিয়ে নিয়ে একটি ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে দু’জনেই যখন রাতের আহার করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে একসময়ের স্কুলের সহপাঠী অনুপের সঙ্গে হঠাৎ দৃষ্টি বিনিময় হয়ে যায়।

সে কাছে এগিয়ে এসে অর্পণের প্লেটের উপর নজর দিতেই অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে বলে ওঠে— সে কী রে! বিয়েবাড়িতে এসেও কৃচ্ছসাধন! বাঙালি হয়েছিস কিন্তু মানুষ হলি নে। বাঙালির পরিচয় ভোজনরসিক হিসেবে। সেই সম্মানটাকে তোর হাতে খুন হতে দেখে আমি খুবই দুঃখিত। অন্যদের দেখেও তো শেখা যায়। আর কোথাও না যাস অন্তত আমাকে অনুসরণ কর। দেখ তো আমার প্লেটখানা কি সুন্দর সাজানো!

এমন সময় অতিথিসেবায় ব্যস্ত স্বয়ং ছেলের বাবা এসে হাজির হলেন। অনুপের মুখনিঃসৃত উপদেশাবলী তিনি হয়তো শুনে ফেলেছিলেন। তাই ওর মুখের কথাটা শেষ হতেই তার সঙ্গে নিজের অভিমত যোগ করে বললেন— শেখার জন্যে আর কারও কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্মুখেই সশরীরে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং গুরুদেব বালুসাই মুখার্জী ওরফে শ্রী সন্তোষ মুখার্জী। এনার কীর্তিকলাপের কথা তোমাদের কারওরই জানা নেই। এনাকে আর কেউ চিনুক না চিনুক আমি চিনি। ইনি একজন মহান গুপ্তযোগী। এনাকে সকাল-সন্ধ্যায় প্রণাম করা উচিত। তারপর একটু কী ভেবে নিয়ে সন্তোষবাবুর অনুমতি ভিক্ষে করে জিজ্ঞাসা করলেন, সন্তোষবাবু পোল খুলব নাকি? এই প্রজন্মের অনেকেই আপনাকে চেনে না। আপনার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। তাতে কোনও আপত্তি আছে আপনার?

(ক্রমশ…)

স্বপ্নের শেষ দৃশ্য (তৃতীয় পর্ব)

অর্পণ প্রশ্ন করতেই সন্তোষবাবুকে চমকে দিয়ে মেয়েটি অর্পণের বলা মুখের কথাটাই যেন জুড়ে দেয়। সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি। সন্তোষবাবু হতবাক দৃষ্টিতে মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন! তিনি এক কথায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কী বলবেন ভেবে পান না। কথাটা উচ্চারণ করা মাত্র তাঁর শ্বাসরোধ হয়ে গিয়েছিল। তারপর অর্পণ আর সন্তোষবাবু দু’জনেই দু’জনার মুখের দিকে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। কারওর মুখে কোন কথা ছিল না। কিছুক্ষণের জন্যে দু’জনেই নির্বাক।

সন্তোষবাবু এক সময় নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে বলেন— খুব আশ্চর্য ব্যাপার তো! একটু কী যেন চিন্তা করে তিনি অর্পণকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসা করেন— এরপর কী ঘটেছিল বলতে পারো?

অর্পণ সেই সময় অন্যমনস্ক হয়ে আপন মনে নিজের কথা ভাবছিল। তারপর সন্তোষবাবুর অপার কৌতূহল মেটানোর উদ্দেশ্যে তার জীবনে আগাম ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা বিবৃত করছিল— আজকের দিনের মতো সেই দিনটিও ছিল শনিবার। শনিবারে আমি আমিষ আহার করি না। সেদিন বিয়ে বাড়ির নিমন্ত্রিতদের মধ্যে তিনজন আমিষ না-খাওয়ার ব্যাপারে আমাকে উপহাস করেছিলেন। খানা-পিনার ব্যাপারে আমার সেকেলের মতো আচার-বিচার আছে জেনে তাঁরা রীতিমতো বিস্মিত বোধ করে ধিক্কার দিয়েছিলেন।

সন্তোষবাবু উৎসুক হয়ে অর্পণের কথাগুলো শুনছিলেন। আর মনে মনে ভাবছিলেন— এই জন্যই কি শেকসপিয়র-সাহেব বলেছিলেন, পৃথিবীতে অনেক অজানা রহস্য গা ঢাকা দিয়ে আছে যা দর্শনশাস্ত্রের ব্যাখ্যার অতীত। দুনিয়ায় এর চেয়ে বড়ো আর কী আশ্চর্যের ঘটনা থাকতে পারে? অর্পণের কথা তিনি যতই শুনছিলেন ততই রোমাঞ্চিত হচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল তিনি যেন সিনেমা দেখছেন। পরের দৃশ্যটা দেখার জন্যে তাঁর মনের ভেতর অবদমিত উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছিল।

সন্তোষবাবু ভেতরে এগিয়ে যাওয়ার অবসরে হঠাৎ বলে ওঠেন— বয়স হল সত্তরের ঘরে। রাত্রিবেলায় আজকাল বড়ো একটা চোখে দেখি না। আমার আসাটা শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার জন্যে। নইলে ছেলের বাপ আমায় গালাগাল দিতে ছাড়বে না। এক কালে অফিসে দু’জনে একসঙ্গে আমরা কাজ করেছি। সে আমার বন্ধু। সে যাই হোক, তোমায় আমি আগে থেকে বলে রাখছি আমায় একা ফেলে তুমি যেন কোথাও চলে যেও না। আমাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব তোমাকে দিলাম। পরক্ষণে একটু রসিকতা করে বললেন, অর্থাৎ হাতে তুলে আমাকে খাওয়াতে হবে না। খাবারগুলো আমার প্লেটে তুলে দিলেই হবে। কোনটা খাই না খাই, তা চিনতে পারব না। আজকের দিনে তুমি তো আবার আমিষ খাও না। তাই আমার প্লেটে তুলে দিতে তোমার কোন আপত্তি নেই তো? ছোঁয়া খাও তো? নাকি তাও খাও না? এই ব্যাপারে তোমার কোনও অসুবিধে থাকলে তাহলে আমি তোমায় জোর করব না।

অর্পণ তাঁকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে বলে— আপনি চিন্তা করবেন না। আপনার ডিশে খাবার তুলে দিয়ে হাত ধুয়ে নেব। তাছাড়া আজকের রাতটা আমি আপনার কাছাকাছিই থাকব। তারপর খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকে গেলে এমনিতেই আমরা ছাড়াছাড়ি হয়ে যাব। তখন কে কার? সব একাকার।

সন্তোষবাবুর কৌতূহলাদ্দীপক প্রশ্ন— আচ্ছা, সেদিন স্বপ্নে তুমি আর কী কী দেখেছিলে? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে।

অর্পণ উত্তরে জানায়— ধারাবাহিক ভাবে বলা সম্ভব নয়। একটু থেমে সে বলে তবে টুকরো দুই-একটা ছবি যেগুলো এখনও ধুলোর আস্তরণে ঢাকা না পড়ে মনের আঙ্গিনায় জীবন্ত হয়ে আছে সেগুলো ইতিমধ্যে সবই প্রায় বলা হয়ে গিয়েছে। নতুন করে আমার আর কিছু বলার অবশিষ্ট আছে কিনা ভেবে পাচ্ছি না!

(ক্রমশ…)

স্বপ্নের শেষ দৃশ্য (দ্বিতীয় পর্ব)

আপনাকে আসতেই হবে যে করেই হোক। জানি না এরই নাম টেলিপ্যাথি কিনা! আপনি যে হঠাৎ আমার মুখোমুখি হবেন এটা কিন্তু আমি প্রতি মুহূর্তে আশা করছিলাম। আশ্চর্যের বিষয়, মনে মনে যা ভাবছিলাম সেটাই হয়েছে। আপনার কাছে আমার উপস্থিতি অপ্রত্যাশিত হলেও, আমার কাছে কিন্তু আপনার উপস্থিতি খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। আপনার আসার অপেক্ষায় আমি উন্মুখ হয়ে ছিলাম। আমি ছোটোবেলা থেকেই হই-হট্টগোলের চরম বিরোধী সেই কারণে লোকে আমাকে অসামাজিক বলতে দ্বিধা করে না।

কথাটা একবার ভেবে দেখুন, মেয়ে আমার পাশের বাড়ির প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও ওর বিয়েতে আমি যাইনি। অথচ মজার কথা এই যে, আজ মেয়েটির শ্বশুরমশাই আমার বাবাকে বউভাতে আসার নিমন্ত্রণ করতেই আমি এককথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। আমি কিন্তু সচরাচর কোনও অনুষ্ঠান বাড়ি যাই না। আরও মজার কথা এই যে, মেয়ের বাড়ির লোকেরা বউভাতে নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদের যোগদান করার জন্যে বাসের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমাকে ওরা দলের সঙ্গে বাসে করে আসতে অনুরোধ করেছিলেন। আমি তাদের সঙ্গে দল বেঁধে আসতে অস্বীকার করেছিলাম।

ওদের বলেছিলাম, নাসিরপুর খুব দূরে নয় আমি হেঁটেই চলে যেতে পারব। আমার জন্যে চিন্তা করবেন না। তারপর আমি একাই হেঁটে চলে এসেছি এতটা পথ। এখন আমার নিজের কাছেই ব্যাপারটা কী রকম যেন অদ্ভুত লাগছে! এখন ভাবছি কেন এলাম? না এলেই হতো। আসার আগে একবারের জন্যেও কিন্তু মনে হয়নি যাব না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কেউ হয়তো আমাকে জোর করে এখানে টেনে এনেছে। নইলে এরকম হওয়ার তো কথা নয়।

সন্তোষবাবু অর্পণের কথায় সায় দিয়ে বলেন— এরকম হয় কখনও কখনও। ইচ্ছের বিরুদ্ধে এবং মনের তাগিদ না থাকলেও অনেক সময় কাজটা আমাদের করতে হয়।

—আমি স্বীকার করছি আপনার কথা। কিন্তু আমার জীবনে আজকের দিনের ঘটনাগুলো সব অন্যরকম। এর পেছনে আমি সঠিক কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না। একটু থেমে অর্পণ আরও বলে, আমি প্রমাণ করে দেব যে আমার সেদিনের দেখা স্বপ্নের সাথে আজকের ঘটনাগুলোর কতটা সাযুজ্য। ভেতরে ঢুকলেই দেখবেন টেন্টহাউসের ভাড়া করা তিন-চারটি একুশ- বাইশ বছরের তরুণী সকলকে স্ন্যাক্স পরিবেশন করছে। তাদের পরনে কালো রঙের শাড়ি। তাদের মাঝ পিঠ অবধি সাবানে ফাঁপানো খোলা চুল। কপালে গাঢ় লাল রঙের টিপ। দেখবেন আমরা ভেতরে প্রবেশ করে একটু এগিয়ে যাওয়া মাত্র একটি মেয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে আমাদের স্ন্যাক্স খাওয়ার জন্যে অনুরোধ জানাবে।

আমি তার দিকে তাকিয়ে যেই প্রশ্ন করব— আজকের এই শুভ সন্ধ্যায় তোমার অঙ্গে কালো পোশাক কেন? আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন, মেয়েটি একগাল হেসে আমার প্রশ্নের জবাবদিহি করবে এই বলে— অশুভ রঙের বিপরীত হল লাল সেই কারণে কপালে লাল টিপ এঁকেছি।

সন্তোষবাবু অতিশয় উত্তেজিত হয়ে বলেন— এবার ভেতরে চলো। তোমার কথার সত্যতা যাচাই করা যাক। গিয়ে পরখ করা যাক তোমার দেখা স্বপ্নের সাথে বাস্তবের কতটা মিল?

সিংহ দরজা দিয়ে প্রবেশ করে একটু এগিয়ে যেতেই অর্পণের কথা অনুযায়ী ত্রস্তপায়ে একটি মেয়ে কাছে এগিয়ে আসে। শামিয়ানার বাইরে দাঁড়িয়ে অর্পণ মেয়েটির সম্বন্ধে যা কিছু ভবিষ্যৎ বাণী করেছিল তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়ে যায়। অমাবশ্যার অন্ধকারের চেয়েও ঘন কালো রঙের শাড়ি পরা মেয়েটির কপালে জ্বলজ্বল করছিল সিঁদুর রাঙা লাল টিপ।

(ক্রমশ…)

‘ম্যাক্সিমাম সিটি’নিয়ে আশাহত অনুরাগের বলিউডকে বিদায়?

আজকাল বলিউডে মতাদর্শগত বিবাদ তুঙ্গে। অনুরাগ কাশ্যপ এবং ওয়াশিংটন পোস্ট অফ আমেরিকায় প্রকাশিত নিবন্ধটি যদি বিশ্বাস করা হয়, তবে বুঝতে হবে আজকাল কেন্দ্রীয় সরকার ‘নেটফ্লিক্স’ এবং ‘অ্যামাজন প্রাইম’-এর মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ করে তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। সরকারের আদর্শ অনুযায়ী ওয়েব সিরিজ বা চলচ্চিত্রগুলি স্ট্রিম করছে। তারা পরিচালকদের উপর জোর প্রয়োগ করছে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এখন কিছু অ্যাডভোকেট নিয়োগ করেছে, যারা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দেওয়া স্ক্রিপ্টটি পড়ে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করার পরামর্শ দেয়, যাতে ভারত সরকার সেটা নিয়ে বিচলিত না হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য কোনও প্রচেষ্টা ছাড়েনি। বলিউডে এখন এটাই চর্চার বিষয় যে, এই নিবন্ধটি লিখেছেন অনুরাগ কাশ্যপ।

প্রসঙ্গত, Anurag Kasyap ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘নেটফ্লিক্স’-এর জন্য সুকেতু মেহতার ‘ম্যাক্সিমাম সিটি’-র রূপান্তরের কাজ করছিলেন, যার জন্য তিনি ২০২০ সালে নেটফ্লিক্সের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছিলেন। অনুরাগ কাশ্যপ এটি নিয়ে কাজ করেছিলেন এবং প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে এটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ২০২১ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের চাপে নেটফ্লিক্স হাত তুলে নেয় এই ওয়েব সিরিজ-টি স্ট্রিম করা থেকে।

অনুরাগ কাশ্যপ একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে নেটফ্লিক্সের এই পদক্ষেপ তাঁর উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলেছিল। এই কারণে, তিনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন, অতিরিক্ত মদ্যপান শুরু করেছিলেন এবং সেই সময়ে তাঁর দুটি হার্ট অ্যাটাকও হয়েছিল। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ অনুরাগ কাশ্যপের এই সাক্ষাৎকারের পরেই এই ঘটনা ঘটেছিল। অনুরাগ আরও বলেছিলেন যে, নেটফ্লিক্সের ‘ম্যাক্সিমাম সিটি’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বৈধ যুক্তির অভাব রয়েছে। তাঁর মনে হয়েছিল যে, হয় তাঁর তৈরি সিরিজটির বিষয়বস্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল অথবা তিনি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বেশি সংবেদনশীল মানুষ হয়ে পড়েছেন।

২০২১ সালের পরে Anurag Kasyap, রাহুল ভাট এবং সানি লিওনের সাথে থ্রিলার ছবি ‘কেনেডি’ পরিচালনা করেছিলেন, যা জি ৫-এ স্ট্রিমিং হচ্ছে। সোর্স মারফৎ জানা যাচ্ছে এখন তিনি বলিউডকে চিরতরে বিদায় জানানোর কথাও নাকি বলছেন। এমনটাই চাউর, তিনি শীঘ্রই শিক্ষক হিসাবে কাজ করবেন কারণ, কেরালার একটি কলেজে শিক্ষকতার নাকি চাকরি পেয়েছেন অনুরাগ।

কিন্তু অনুরাগ কাশ্যপকে যতটা আমরা জানি, তিনি নিজেকে বলিউড থেকে দূরে রাখতে পারবেন বলে মনে হয় না।

স্বপ্নের শেষ দৃশ্য (প্রথম পর্ব)

বিয়ে বাড়ির শামিয়ানা। হ্যালোজেন আর টুনিবাল্বের আলোয় ঝলমল করছে চারিদিক যেন দিনের সূর্যকেও হার মানিয়ে দিচ্ছে। শামিয়ানার ঠিক দোরগোড়ায় বর্শা হাতে দুই সান্ত্রি দুর্গ পাহারা দেওয়ার কায়দায় দণ্ডায়মান। তারা পূর্ব শর্ত অনুযায়ী নিয়মমাফিক কাজ করে চলেছে। সামনে গিয়ে দাঁড়ালেই দু’জনে একসঙ্গে বর্শা দুটো সরিয়ে নিয়ে নিমন্ত্রিতদের ভেতরে প্রবেশ করার পথ করে দিচ্ছে। ওদের দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকলে মনে হয় যেন কলের পুতুল।

চোখ ধাঁধানো বাতিটা হাতের তালুর সাহায্যে আড়াল করে সন্তোষবাবু ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে আসছিলেন। শামিয়ানার কাছাকাছি পৌঁছতেই হঠাৎ অপ্রত্যাশিত ভাবে দেখা অর্পণের সঙ্গে। বহুদিন পরে দেখা দু’জনার। মুখোমুখি হতেই একে অন্যের দিকে হতবাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর সন্তোষবাবু আনন্দের আতিশয্যে চিৎকার করে বলে ওঠেন— আরে অর্পণ যে! কী খবর? কোথায় থাকো আজকাল? তোমাকে আজকাল কোথাও দেখাই যায় না! এখানে তোমার সাথে যে আমার দেখা হবে তা ভাবতেই পারিনি।

একটু নীরবতা পালনের পর তিনি জানতে চাইলেন— তারপর বলো তুমি কন্যাপক্ষ না বরপক্ষ?

অর্পণ হেসে জবাবদিহি করে বলে— নিঃসন্দেহে আমি কন্যাপক্ষ। আমার পাড়ার মেয়ে। বউভাতের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসেছি।

সন্তোষবাবু রসিকতা করে বলেন— তুমি হলে কন্যাপক্ষ আর আমি হলাম বরপক্ষ। সুতরাং বুঝতেই পারছ আমি তোমার চেয়ে উচ্চ পদস্থ ব্যক্তি। তুমি যখন কন্যাপক্ষ তাহলে বাইরে না দাঁড়িয়ে চলো ভেতরে ঢোকা যাক। আজকের দিনে তুমি আমাদের অতিথি। ভীষণ ঠান্ডা বাইরে। এখানে একাকী ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে থেকে অন্যমনস্ক হয়ে কী দেখছিলে এতক্ষণ ধরে?

কথাটা মিথ্যে নয়। অর্পণ অনেকক্ষণ যাবৎ অবাক বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে কী যেন নিরীক্ষণ করছিল। দু’চোখ ভরে যা কিছু দেখছিল তাতেই ঘোর লেগে যাচ্ছিল তার। বারংবার অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছিল। কেবলই মনে হচ্ছিল ঠিক একইরকম পরিবেশে সে এর আগে অন্য কোথাও উপস্থিত ছিল। সেদিনের পরিবেশটা তার কাছে বহু পরিচিত বলে মনে হচ্ছিল। সে অবাক হচ্ছিল এই ভেবে যে, হঠাৎ কীভাবে সে জাতিস্মর হয়ে উঠল? কিন্তু জাতিস্মরেরা তো পূর্বজন্মের স্মৃতি নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। এতদিন পরে মানস পটে কি তাহলে পূর্বজন্মের কথা ভেসে উঠছে? সেই মুহূর্তে তার আর অন্য কিছু মনে পড়ছিল না। মনে মনে ভাবে তাহলে কি স্বপ্নে কখনও দেখেছিল এই দৃশ্য! একসময় নিজেকেই সে সান্ত্বনা দিয়ে বলে— বোধহয় তাই হবে! স্বপ্নেই দেখে থাকবে হয়তো।

সন্তোষবাবু তাকে পুনর্বার তাড়া দিয়ে বলেন— কী দেখছ তখন থেকে? আমি তো দেখার মতো কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। চলো ভেতরে চলো। দিল্লি শহরে এরকম লাখ টাকার প্যান্ডেল তুমি অনেক দেখেছ এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এখানে না দাঁড়িয়ে ভেতরে গিয়ে দাঁড়াই চলো।

অর্পণ প্রত্যুত্তরে জিজ্ঞাসা করে— আমি কী দেখছি? দেখছি আমার স্বপ্নে দেখা এক চলমান দৃশ্যপটের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অর্পণ আগের মতোই অবাক দৃষ্টিতে প্যান্ডেলের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে— আপনি বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, এখানে দাঁড়িয়ে আমি কিন্তু একমাত্র আপনার কথাই চিন্তা করছিলাম। আমার মন বলছিল আপনি আসবেন।

(ক্রমশ…)

 

শৈশবে আবশ্যক সঠিক পুষ্টি

সারা বিশ্বের বেশিরভাগ মা-বাবারা তাদের সন্তানদের উচ্চতা এবং ওজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নজরে রাখেন। কিন্তু সন্তানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ যখন ব্যহত হয়, তখন পিতামাতার মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তোলে। আর এই পিছিয়ে থাকার ব্যবধানটি খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপ সহ বিভিন্ন জীবনযাত্রাজনিত কারণের সঙ্গে যুক্ত। বয়স অনুযায়ী কম উচ্চতা, বয়স অনুযায়ী কম কিংবা বেশি ওজন এবং উচ্চতা অনুযায়ী কম ওজন সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুসারে, সারা পৃথিবীতে ৫ বছরের কম বয়সি ১৪৯ মিলিয়ন শিশুদের বয়স অনুযায়ী উচ্চতা কম ছিল।  বিশ্বব্যাপী শৈশবের খর্বাকৃতি শিশুর মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে ভারতে, যেখানে পাঁচ বছরের কম বয়সি খর্বাকৃতির শিশুও রয়েছে।

খর্বাকৃতি বা বেঁটে মানুষের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে। এই প্রভাবের মধ্যে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য। এটি শিশুদের জীবনে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে বাধা হতে পারে। শরীরে পুষ্টির জোগান সঠিক না হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি, বুদ্ধির ঘাটতি, আচরণগত সমস্যা, হাড়ের স্বাস্থ্য হ্রাস এবং পেশীর ভর হ্রাসের ঝুঁকির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Health article
Dr. Ganesh Kadhe, Prof. Pedro Alarcon & Dr. Subhasis Roy

সঠিক পুষ্টি বাচ্চাদের বেড়ে উঠতে, শিখতে, উন্নতি করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলি পূরণ করতে সাহায্য করে। শিশুদের সঠিক পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাটের মতো ম্যাক্রো-নিউট্রিয়েন্টসের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে এবং আরজিনিনের মতো মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টসের প্রয়োজন। অ্যাবটস নিউট্রিশনএর (বিজনেস) মেডিকেল অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডা. গণেশ কাধে এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বৃদ্ধি এবং বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পুষ্টি। তাই সমস্ত ম্যাক্রো-নিউট্রিয়েন্ট এবং মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্ট সমন্বিত সুষম পুষ্টি গ্রহণের দিকে অভিভাবকদের মনোনিবেশ করা উচিত।’ অপুষ্টি সমাধানের জন্য অ্যাবট সেন্টার ফর নিউট্রিশন সমস্যার সমাধান সহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টি কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বহিরাগত বিশেষজ্ঞ এবং অংশীদারদের সহযোগিতায়, সেন্টারটি শিশুদের জন্য অপুষ্টি সনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে চলেছে।

এই বিষয়ে পেডিয়াট্রিক গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট প্রফেসর পেড্রো অ্যালারকন জানিয়েছেন, ‘খর্বাকৃতি (স্টান্টিং) এমন একটি অবস্থা, যার প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। পুষ্টির ফাঁক পূরণ করতে পারে বা খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজগুলির শোষণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এমন খাবার খাওয়াতে হবে বাচ্চাদের। প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজগুলি একটি শিশুর বৃদ্ধির প্রধান চাবিকাঠি। তাই কখনও কখনও ৫০% পর্যন্ত ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং জিঙ্কের মতো পুষ্টি যেসব খাবার থেকে পাওয়া যায়, সেই খাবার খাওয়াতে হবে শিশুদের।’

কলম্বিয়া এশিয়া হসপিটালএর কনসালটেন্ট পেডিয়াট্রিক ডা. শুভাশিস রায় জানিয়েছেন, ‘রাজ্য স্তরের এনএফএইচএস রিপোর্ট ২০১৯-২০২০ অনুসারে, যেখানে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের ৩৩.৮ শতাংশ খর্বকৃতির শিশু। এরমধ্যে অনেক  শিশু রক্তাল্পতায় ভুগছে। সঠিক বৃদ্ধির জন্য, শিশুদের ম্যাক্রো এবং মাইক্রো পুষ্টির একটি ভালো  মিশ্রণ প্রয়োজন যা পাঁচটি খাদ্য গ্রুপ থেকে আসে। যেমন– শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন, দুধ এবং খাদ্যশস্য। তাই, অভিভাবকদের উচিত সুষম খাদ্যের মিশ্রণ প্রদান করা, যা নিশ্চিত করে যে, স্বাস্থ্যকর সামগ্রিক বৃদ্ধির জন্য শিশুরা প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজগুলি পাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অভিভাবকদের জেনে রাখা প্রয়োজন, যারা দামী ফল খাওয়াতে পারবেন না তাদের সন্তানদের, তারা কলা এবং পেয়ারা-র মতো ফল অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায় এমন ফল এবং শাক-সবজি খাওয়াতে পারেন।’

বিন্দাস কাটান জীবনটা

অনেকেরই অতিরিক্ত প্যানিকড হওয়ার বদভ্যাস থাকে। খুব সহজেই তারা বিচলিত হয়ে পড়েন। অজানা সমস্যায় জর্জরিত হতে হবে, এই আশঙ্কা আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটান। ভবিষ্যতে কী বিপদ হতে পারে, এটা ভেবে বর্তমান সময়টার মজা উপভোগ করতে পারেন না এঁরা। এই সমস্ত মানুষদের জন্য আমাদের পরামর্শ এই অভ্যাস আমূল ত্যাগ করুন । সিদ্ধান্ত নিন, অমূলক চিন্তা করবেন না।

সমস্যা কতটা গভীরে?

সংসারে থাকতে গেলে ছোটো-বড়ো ঝগড়া অশান্তি হতেই পারে। কিন্তু অনেকের অভ্যাস হল কথার পিঠে হওয়া কথা নিয়ে ভাবতে থাকা। কোনও একটি পরিস্থিতি তৈরি হলে তিক্ত কথার আদানপ্রদান হয়। কিন্তু সেগুলির মর্মার্থ বা ফলাফল খুব সুদূরপ্রসারী হয় না। আপনি যদি সেই ঘটনার চর্বিতচর্বন করেন মনে মনে, তাহলে ক্ষণিকের জন্যও শান্তি পাবেন না। তাই যখনকার ঝগড়া তখনই মিটিয়ে ফেলুন। ঝগড়া যদি কাছের মানুষদের সঙ্গে হয় এবং ভুল যদি আপনার তরফে হয়ে থাকে— তাহলে ক্ষমা চাইতে দ্বিধা করবেন না।

অতি ভাবনার ফলাফল

অতিরিক্ত ভাবনাচিন্তা করলে আপনি নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনবেন। বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চিন্তা ভুল দিশায় ধাবিত হয়— যার ফলাফল নিয়ে ভাবনা আমাদের উৎকণ্ঠায় ফেলে দেয়। টেনশন বাড়ে। সেই সঙ্গে সমস্যা হয় ব্লাড প্রেশারের, সুগার-সহ এমন নানা রোগের উৎপত্তি হয় এই পরিস্থিতি থেকেই। তাই সিদ্ধান্ত নিন, ভাবনাচিন্তা করে সঠিক পদক্ষেপ ফেলবেন। ভুল কাজ করে বা বিরূপ পরিস্থিতির চাপে পড়ে অমূলক চিন্তাকে মাথায় ঠাঁই দেবেন না।

বর্তমানে বাঁচুন

অদেখা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা কোনও কাজের কথা নয়। বিধিলিপিতে যা রয়েছে, তা হবেই। সেটা খণ্ডানো মানুষের কাজ নয়। তাই সুদূর ভবিষ্যতে কী সমস্যা হবে তার ভাবনায়, বর্তমানের সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না। সংসারে সুখের মুহূর্তগুলো এনজয় করুন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মাফিক বিনিয়োগ বা পরিবারের স্বার্থে মেডিকেল সিকিউরিটির বিষয়গুলো নিশ্চয়ই বিচক্ষণতার সঙ্গে বিচার করুন। কিন্তু তার অতিরিক্ত কোনও অযৌক্তিক ভাবনাকে মনে প্রশ্রয় দেবেন না।

মনের ঘোড়ায় লাগাম দিন

মনে রাখবেন আমাদের মনে নানারকম অভিলাষের জন্ম হয় কিন্তু এক জীবনে সব সাধপূরণ হয় না। তাই অসম্ভবের পিছনে ছুটে লাভ নেই। ততটাই ইচ্ছাকে প্রশ্রয় দিন, যতটা আপনি অর্জন করতে পারবেন, বাস্তবের জমিতে দাঁড়িয়ে।

হাসিখুশি জীবন কাটান

কী হল না, কী পেলাম না, এই ভেবে আনন্দটা মাটি করবেন না। ছোটো ছোটো প্রাপ্তিতে খুশি থাকুন। পরিবারের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠুন। জীবনের সব ঘটনাই যে আনন্দঘন হবে, এমন কোনও কথা নেই। কিন্তু খারাপটা না ভেবে তার মধ্যে থেকে ভালোটুকু উপলব্ধি করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ। সেটা বুঝতে শিখুন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব