আলোর ঠিকানা (শেষ পর্ব)

এতকিছুর পরেও রেশমা কিন্তু প্রাণে বেঁচে যায়। ও-ই যে বলে না মেয়েমানুষের জান কইমাছের প্রাণ! মরেও মরে না। আর এখানেই শুরু হয় নতুন কাহিনি।তবে মরে গেলেই বোধহয় ভালো হতো। তার বাপ-মা-ও মনে মনে তেমনটাই চেয়েছিল। নাহলে এমন নষ্ট মেয়েকে কে আর ঘরে তোলে! এমনিতেই গরিব ঘরের মেয়েকে তারা কলেজে পড়ানোর সাহস দেখিয়েছে। আর তাতেই নাকি উপরওয়ালা খেপেছে! রেশমা প্রাণে বাঁচলেও সে তার শেষ সম্বল, বাপ-মায়ের আশ্রয় হারায়। এমন মেয়ের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার সবচেয়ে আপনার জনেরা। সেই অর্ধমৃত মেয়েটি মানবাধিকার কর্মীর হাত ধরে পৌঁছে গেছে দয়িতার ঠিকানায়।

দয়িতা মেয়েটির যন্ত্রণাময় অতীতের কাহিনি শুনতে শুনতে কখন যেন এক ছুটে ঢুকে পড়ে যৌবনের সেই পরিচিত পথটায়। তার বয়স তখন কতই বা! এই বয়সে যেমন হয়, দয়িতার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রেমে পড়েছিল পাড়ার এক দাদার। পরিচিত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এগোতে সময় নেয়নি। দ্রুত তা মন ছাড়িয়ে শরীরে পৌঁছোয়। সে তার সবকিছু দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল। তার সোহাগ ধারণ করেছিল দেহে। ক্রমে খবর তার পরিবার থেকে পাড়াগাঁ ছাড়িয়ে রাষ্ট্র হতে সময় নেয়নি। তখন সে দৌড়ে গিয়েছিল তার আশ্রয়ের কাছে, চলো দূরে কোথাও চলে যাই দু’জনে মিলে….

কথা শেষ হয়নি তার। ছুটে আসে প্রত্যাখানের বাণ, তা কী করে সম্ভব! সে সব পরে ভাবা যাবে। এখন তুমি…!

এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে সে ফিরে আসে বাবা-মায়ের কাছে। কিন্তু সেখানেও যে কঠিন ঠাঁই, পেটের বীজটিকে শেষ করো। না হলে…!

কেমন করে শেষ করবে সে নিজের শরীরে আশ্রয় নেওয়া ভালোবাসাকে! প্রতিটি মুহূর্তে যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল সে। পরিবার সমাজের চোখ রাঙানি শাসানি মেনে নিতে শরীরে মনে শেষ হয়ে যাচ্ছিল কুমারী মা। শেষমেশ সে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেদিন। সে বেরিয়ে পড়েছিল মাথা উঁচু করে বাঁচার জন্য। কিন্তু একাকী যুবতি, তার উপর গর্ভবতী। কোথায় যাবে সে? কে আশ্রয় দেবে? সিদ্ধান্ত নেওয়া অতি সহজ কিন্তু তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া বড়োই কঠিন। ক্লান্ত বিদ্ধস্ত মেয়েটি শরীরের বোঝা টানতে টানতে নিকট আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধু বান্ধব সকলের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছিল সেদিন। আশ্রয় জোটেনি কোথাও! এমন নষ্ট মেয়েকে সমাজ ঘরে তোলে না। শেষমেশ দয়িতা আশ্রয় নেয় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে।

দিনের স্টেশন তবুও তো শাসন মানে। কিন্তু রাতের? সে তো বারো ভূতের আড্ডাখানা। সেখানে যুবতি শরীরের দিকে এগিয়ে আসে বহু হাত। কোন হাতকে সামাল দেবে সে? কোন হাতের থেকে নিজেকে বাঁচাবে? নিজেকে বাঁচানো বড়ো কঠিন ঠেকে, বাড়ি ফিরে যাই, সেই ভালো। কিন্তু…

পরমুহূর্তে মত বদলায়। থেকে যায়। এক পাগলি বুড়ির সঙ্গে ঠাঁই নেয় প্ল্যাটফর্মের এক কোণায়। রাত বাড়তে থাকে। ক্রমে স্টেশন নির্জন হতে থাকে। ধীরে ধীরে ভবঘুরেরা আশ্রয় খোঁজে স্টেশনের ইতিউতি। দেয়ালে ঠেস দিয়ে ঝিমোচ্ছিল সে। হঠাৎ ঘুমের মাঝে সে আঁতকে ওঠে! অপরিচিত হাত শরীরে খেলা করছে। প্রাণপণ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে সে। কিন্তু তাকে পেড়ে ফেলতে চায় আসুরিক শক্তি। পাগলি বুড়ি বুঝতে পেরে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুষ্কৃতির উপর। দয়িতা কোনওক্রমে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে প্রাণপণ দৌড়োতে থাকে স্টেশন মাস্টারের ঘরের দিকে। সেখানে পৌঁছনোর আগেই সে পড়ে যায়! স্টেশনের আলো আঁধারিতে প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকে শরীরটা। রক্তের স্রোত বয়ে যায় শরীরের গভীর থেকে। প্ল্যাটফর্ম ভেসে যায় কুমারী মায়ের রক্তে।

সেই পাগলি বুড়িই হাঁউমাউ করতে করতে ডেকে আনে স্টেশন মাস্টারকে। দয়িতার যখন জ্ঞান ফেরে দেখে সে রেল হাসপাতালের বিছানায়। বাড়ির লোককে খবর দিতে চেয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে জানিয়ে ছিল, ‘কেউ নেই আমার, অনাথ!” হাসপাতাল থেকে স্টেশন মাস্টারের উদ্যোগে তার ঠাঁই হয়েছিল একটি হোমে।

তারপর দীর্ঘ কুড়ি বছরের লড়াইয়ে তিল তিল করে সে নিজেকে গড়ে তুলেছে। আর তার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার এই ঠিকানা। যেখানে রেশমা, সুরমা, টুম্পা, শেফালীরা… মাথা উঁচু করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। মৃতপ্রায় দেহগুলোতে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার তারা প্রাণ খুলে হাসতে পারে, কাজের মাঝে বাঁচতে পারে। ও-ই যে ওরা হাতের কাজ করতে করতে আবার খিলখিলিয়ে হেসে উঠল- হাহাহা, হিহিহি…। সেই হাসি আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চতুর্দিকে।

দয়িতা ধীরে ধীরে জানলায় এসে দাঁড়ায়। শুক্ল পক্ষের চাঁদ তখন দূরের শাল পিয়ালের জঙ্গলের মাথার উপর। চাঁদের আলতো আলোয় চারিপাশে আলো-আঁধারির এক মায়াময় জগৎ। সে তাকিয়ে থাকে চাঁদটার দিকে, কত কলঙ্ক বুকে নিয়ে সেও রাতের আঁধার দূর করে!

আলোর ঠিকানা (পর্ব ১)

আকাবাঁকা লাল মেঠো পথ, পথের দু’ধারে শাল-পিয়ালের ঘন জঙ্গল। বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মের খাঁ খাঁ দুপুর। কালো ছাতার কালো কাপড় ভেদ করে খরতাপ পুড়িয়ে দিচ্ছে গা। এ অসহনীয় গরম! আলগোছে আঁচলটা গায়ে টেনে নেয় দয়িতা। সঙ্গের যুবতিটি নিঃশব্দে হেঁটে চলেছে। যার অপেক্ষায় সে সকাল থেকে স্টেশনে বসে ছিল।

এগারোটা পাঁচের ট্রেন ফেল করায় দয়িতা চোখেমুখে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে পরের ট্রেনের অপেক্ষায় ছিল। শেষমেশ সময়ের বারোটা বাজিয়ে বারোটা পাঁচের ট্রেনে মেয়েটিকে স্টেশনে পৌঁছে দেয় মানবাধিকার কর্মী রানুদি। বেলা বয়ে যাওয়ায় দয়িতা কোনও কথা বলে না। তাকে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আস্তানায় পৌঁছানো যায় ততই মঙ্গল। দূর্বিষহ গরমে চাঁদি ফাটার উপক্রম! দ্রুত পা চালায় সে।

শাল-পিয়ালের জঙ্গল পেরিয়ে উন্মুক্ত প্রান্তরের একেবারে শেষ প্রান্তে সবুজে ঘেরা ইটের গাঁথনি ও টালির ছাউনি দেওয়া চার কামরার আস্তানাটিই হল দয়িতার মাথা উঁচু করে বাঁচার ঠিকানা।

পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট একটা নদী কমলিনী। এঁকেবেঁকে গিয়ে এই জঙ্গলের বুকে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সে। কোথায় শেষ হয়েছে কমলিনীর যাত্রা দয়িতার তা জানা নেই। যেমন তার জানা নেই এখানে আসা মেয়ের দলের যাত্রা কোথায় শেষ হবে ! নাকি অজানা অন্ধকারে হারিয়ে যাবে তারা! আনমনে তাকিয়ে থাকে সে জানলার গরাদে ধরা এক ফালি আকাশটার দিকে। সম্বিৎ ফেরে “দিদি” ডাক শুনে। ঘাড় না ঘুরিয়ে জানতে চায়, ‘কী হল? কিছু কি বলবি?”

—ওকে কি এখনই নিয়ে আসব ?

—এখন? নিয়ে আয়…।

এখানে সে সকলের দিদি। যার কাছে মেয়েরা মনের ঘরের আগল খুলে দেয় অকপটে। যাকে ভরসা করা যায় নির্দ্বিধায়, যার কাছ থেকে বাঁচার মন্ত্র পাওয়া যায়— সে-ই দিদি।

দিনের আলো ফুরিয়ে এলে তার ঘরে নবাগত যুবতিকে নিয়ে আসে। মেয়েটির সম্পর্কে বিশেষ কিছু আগাম জানা হয়নি তার। মানবাধিকার কর্মীরা মেয়েটিকে উদ্ধার করার সঙ্গে সঙ্গেই কোনওরকমে তার কাছে পৌঁছে দিয়ে যায়।

যাইহোক, মেয়েটি ঘরে ঢোকার পর সে গলা উঁচিয়ে বলে, “ও রে দরজাটা ভেজিয়ে দে।’ অতীতে ফেরার জন্য সামান্য আচ্ছাদন মাত্র !

মেয়েটি মরা মাছের চাহনিতে তাকিয়ে থাকে জানলার গরাদে জমাট বাঁধা সন্ধের আঁধারের দিকে। তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে খানিক, তারপর ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কি কিছু বলতে চাও আমায়?’

কোনও উত্তর দেয় না সে। দয়িতা আর কোনও প্রশ্ন করে না। চেয়ার ছেড়ে উঠে আসে, তার হাতটা নিজের দু’হাতের মুঠোয় নিয়ে আলতো চাপে ভরসার আশ্বাস দেয়— এখানে তুমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারো, কেউ কোনও ক্ষতি করবে না। আর তোমার যখন কিছু বলতে ইচ্ছা করবে সোজা চলে আসবে আমার কাছে।

কঠিন বরফ গলে তরল হতে থাকে, এতদিনের শুষ্কপ্রায় পাথুরে নদীতে সহানুভূতির পরশে কলকল ধারা বইতে থাকে। দয়িতা জানে এ ধারাকে থামাতে নেই, বইতে দিতে হয়…। একসময় মেয়েটি নিজেকে সামলাতে না পেরে ছুটে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। দয়িতা বাধা দেয় না। কী জানি তার এতদিনের অভিজ্ঞতায় হয়তো বা অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা! তাই সে উদ্বিগ্ন না হয়ে আত্মমগ্ন হয়ে থাকে। কানে ভেসে আসে সুরমা, টুম্পা, সুহানি, শেফালিদের হাসি মশকরার কলকল শব্দ….

কাহিনিগুলো ভিন্ন হলেও চরিত্রগুলোর মধ্যে কোথাও মিল রয়েছে। একই কন্ঠমালাতে আরেক কাহিনির সংযোজন মাত্র। পরদিন সকালেই দিদির ঘরে নবাগত মেয়েটি হাজির।

মাত্র মাস তিনেক আগের ঘটনা। বছর আঠারোর ফুটফুটে যুবতি রেশমা সুলতানা। কলেজ করে টিউশন সেরে গাঁয়ের আলপথ ধরে ফিরছিল সে। সবেমাত্র সন্ধে পেরিয়েছিল। নাহ, বাড়ি ফেরা হয়নি তার। সকালে ধানক্ষেতে মেলে তার রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত দেহ। তারপর সরকারি হাসপাতালের বিছানায় চলে মেয়েটির মৃত্যুর সঙ্গে যমে মানুষে টানাটানি। পুলিশ প্রশাসন, রাজনীতি, সমাজ পাড়া- গাঁ খানিক উত্তাল হয়ে উঠে। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়ে রাজনীতির মেছুয়ারা। আর অপরাধী? তার সাজা?

সে সব প্রশ্ন না করাই শ্রেয়। অপরাধীদের তো মাস মাইনে দিয়ে পোষা হয়। তারা কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের আশ্রিত। তাদের বাঁচানোর লোকের অভাব হয় না। তার থেকে অনেক সস্তা এইসব মেয়েদের প্রাণ। একেবারে মুড়ি মুড়কির মতো। দু-চারটি গরিব ঘরের প্রাণ অকালে চলে গেলে কীই বা এসে যায়! দু’চারদিন মানুষজন একটু আধটু হায় হায় করে। তারপর জনগণের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে নতুন উত্তেজনা পেলে এসব ভুলে যায়। আর সরকারও ছোটো ঘটনা, সাজানো ঘটনা বলে ঘাড় থেকে বিষয়টিকে টুক করে নামিয়ে ফেলে। বেশি কিছু হলে অভাগার পরিবারকে উপঢৌকন দিয়ে মুখ বন্ধ করে দাও। ব্যস, ওখানেই মেয়েটির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হয় আর কী!

(চলবে)

শিশুর শীতকালীন যত্ন (শেষ পর্ব)

শীতকালে শিশুর কীভাবে যত্ন নিতে পারবেন তারই কিছু টিপ্‌স এখানে দেওয়া হল –

বাচ্চাকে স্ট্রং করতে মালিশ দরকার

মালিশের জন্য দরকার সঠিক তেলের চয়ন। সাধারণত শীতকালে সরষের তেল দিয়ে বাচ্চার মালিশ করা হয়। কিন্তু অলিভ অয়েলও বাচ্চার মাসাজের জন্য উপকারী কারণ এতে আছে ভিটামিন ই-এর সমস্ত গুণ, যা শরীরকে মজবুত করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকও রাখে হেলদি। ডায়াপার ব্যবহারের ফলে বাচ্চার ত্বকে জ্বালা এবং ফুসকুড়ি কম করতেও এই তেল সাহায্য করে কারণ এতে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান মজুত আছে।

এশিয়ান জার্নাল দ্বারা একটি সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে মাসাজ করলে বাচ্চার পেরেন্টদের সঙ্গে একটা বন্ডিং তৈরি হয় এবং তাদের স্পর্শের সঙ্গেও বাচ্চা পরিচিত হয়।

টিপ্‌স: খেয়াল রাখতে হবে মাসাজ করার সময় বাচ্চার ঘর যাতে ওয়ার্ম থাকে। এর ফলে কমফর্ট জোন-এ আরাম করে শিশুকে মাসাজ করা যাবে। বাচ্চাকে স্নান করানোর আগে মাসাজ করলে বডি ওয়ার্ম থাকে। হালকা ভাবে বাচ্চার মালিশ করা উচিত। দুধ খাওয়ানোর ঠিক পরেই মাসাজ করাটা বাঞ্ছনীয় নয়, এতে বাচ্চার বমি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নবজাতকের ময়েশ্চারাইজার

কসমেটোলজিস্ট-এর মতে শিশুর ত্বক অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শিশুর ত্বকে কোনওরকম প্রোডাক্ট লাগানো উচিত নয় কারণ তাতে জ্বালা, ফুসকুড়ি, চুলকানি ইত্যাদির সমস্যা হতে পারে। স্পর্শকাতর ত্বকের সঙ্গে ঠান্ডা হাওয়া শিশুর ত্বককে ড্রাই করে তোলে। এইসময় বাচ্চার ত্বকে আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন ত্বক ময়েশ্চারাইজ করতে। এতে থাকা ভিটামিন ই-এর গুণাগুণ বাচ্চার ত্বক মোলায়েম এবং কোমল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও কোকো বাটার, শিয়া বাটার যুক্ত ময়েশ্চারাইজারও বাছতে পারেন। কারণ এগুলি বাচ্চার ত্বকের জন্য খুবই কোমল হয়।

শিশুর ময়েশ্চারাইজার হওয়া উচিত সুগন্ধী, রং এবং কোনওরকম রাসায়নিক ছাড়া। বাচ্চার ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চরাইজার বাছা উচিত।

ব্রেস্টফিডিং

বাচ্চা জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে তার ইমিউন সিস্টেম বিকশিত হওয়া শুরু হয়ে যায়, যার ফলে নিঃশ্বাস সংক্রান্ত অসুস্থতার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই সমস্যা শীতকালে বৃদ্ধি পায়। এইসময় বাচ্চাকে ওয়ার্ম রাখতে এবং অসুখ থেকে সুরক্ষিত রাখতে বাচ্চার প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে তোলাটা একান্ত দরকার হয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রে ব্রেস্টফিড করানোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের দুধে সবরকম নিউট্রিয়েন্টস থাকার সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবডিজ-ও থাকে, যা বাচ্চার Immune System বাড়িয়ে বাচ্চাকে অসুস্থতা থেকে সুরক্ষিত রাখতেও সাহায্য করে।

রোজ স্নানের প্রয়োজন নেই

শীতকালে বাচ্চার দেখাশোনা করাটা একটা চ্যালেঞ্জ। নতুন যারা মা হয়েছেন তারা ভেবে পান না বাচ্চাকে রোজ স্নান করানো উচিত হবে কিনা বিশেষ করে শীতকালে। খুব ঠান্ডায় বাচ্চাকে রোজ স্নান করানোর দরকার পড়ে না। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার স্নান করালেই যথেষ্ট এবং সেটাও করা উচিত যখন বাইরে ভালো রোদের তেজ রয়েছে। কারণ স্নানের পরেই বাইরের স্বাভাবিক গরমে বাচ্চাকে ওয়ার্ম রাখা জরুরি।

রোজ স্নান করার বদলে হালকা গরমজলে বাচ্চার হাত-পা, ঘাড়, গলা, মুখ এবং শরীরের পিছনের নীচের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করে দিন। এতে বাচ্চাকে পরিষ্কার রাখাও হবে আবার ঠান্ডা থেকেও তাকে সুরক্ষিত রাখা যাবে।

ভিটামিন ‘ডি’-এর প্রয়োজনীয়তা

আলাদা করে ভিটামিন ‘ডি’ খাওয়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই। সূর্যের রশ্মিতে থাকা ভিটামিন ডি বাচ্চার হাড় স্ট্রং করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। বাচ্চাকে স্নান করিয়ে রোদে অবশ্যই তাকে কিছুক্ষণ রাখুন। এতে সূর্যের তাপ যেমন বাচ্চার শরীরে লাগবে তেমনি বাচ্চা জীবাণুমুক্ত হতে পারবে।

 

শিশুর শীতকালীন যত্ন (১-পর্ব)

নতুন মাতৃত্বের স্বাদ যেমন মিঠে তার সঙ্গে থাকে তেমনি দায়িত্ব। সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নানাজনের নানা পরামর্শ নতুন মায়েদের দেওয়া হয়। এভাবে মালিশ করবে, এই প্রোডাক্ট ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করবে না, এই তেল বাচ্চার মালিশের জন্য সবথেকে ভালো, বাচ্চাকে এইভাবে ধরা উচিত— এমনই আরও নানা পরামর্শ। এতে নতুন মা ধন্দে পড়ে গেলেও চেষ্টা করেন নিজের সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে সকলের নির্দেশই মেনে চলার। কিন্তু একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, মায়ের থেকে নিজের Child Care-এর অন্য আর কেউ বেশি করতে পারে না। শীতকালে শিশুর কীভাবে যত্ন নিতে পারবেন তারই কিছু টিপ্‌স এখানে দেওয়া হল –

শিশুর জামাকাপড় হওয়া উচিত আরামদায়ক

নবজাতককে অভ্যর্থনা জানাতে বাড়ির প্রতিটি সদস্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। শিশুকে আরামে রাখতে সম্ভাব্য সবরকম প্রচেষ্টা তারা করে থাকেন। শীতের ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশুর যাতে কোনওরকম কষ্ট না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় জামাকাপড় কিনে আগে থেকেই বাড়িতে মজুত রাখা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই ভুল করে বসে, বাচ্চাকে ঠান্ডায় ওয়ার্ম রাখতে গিয়ে কমফর্ট-এর ব্যাপারটা খেয়াল করতে ভুলে যান। বাচ্চা যদি আন-কমফর্টেবল ফিল করে, তাহলে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে না এবং বাচ্চাকে দেখেই বুঝতে পারবেন, কোনও কারণে বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করছে।

সেজন্য শীতের জন্য বাচ্চার পোশাক বাছার সময় মোটা উলের পোশাক কেনা বাঞ্ছনীয় নয়, বরং সফট ফেব্রিক-এর তৈরি পোশাক বাছুন। হাতে-পায়ে সবসময় মোজা বা মোটা গ্লাভস পরিয়ে রাখবেন না। হালকা ফ্যাব্রিক-এর তৈরি পোশাকই বাছুন নয়তো ডিসকমফর্ট-এর সঙ্গে বাচ্চার মুভমেন্টও বাধাপ্রাপ্ত হবে।

ভারী উলের পোশাক তখনই বাছুন যখন বাড়ির বাইরে বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যেতে হবে। রুম টেম্পারেচার-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাচ্চাকে জামাকাপড় পরান।

বাচ্চার অসুবিধা বুঝবেন কী করে?

যদি খেয়াল করেন বাচ্চার মুখ লাল হয়ে উঠছে এবং শরীরের তাপমাত্রা প্রয়োজনের থেকে বেশি মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চা অসুবিধায় আছে। এছাড়াও প্রিয়জনের স্পর্শেও যখন বাচ্চা কান্না থামাতে চায় না, তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চাকে অতিরিক্ত পোশাকে ঢেকে রাখা হয়েছে, যেটার জন্য বাচ্চা অস্বস্তি বোধ করছে।

হালকা কম্বলই বাচ্চাকে আরাম দেবে

একেই শীতকাল তার উপর বাচ্চার জন্য তার জীবনের প্রথম শীতের মরশুম, সুতরাং সাবধান হওয়াটা খুবই দরকার। বড়োদের কাছে প্রথম প্রায়োরিটি হল বাচ্চাকে ঠান্ডা থেকে প্রোটেক্ট করা এবং যাতে সে নিশ্চিন্তে নিদ্রা যেতে পারে তার সুব্যবস্থা রাখা। কাজেই শিশুকে ভারী কম্বলে ঢেকে রাখতে চেষ্টা করেন বেশিরভাগ অভিভাবকেরাই।

অথচ এটা খেয়াল করা উচিত, নবজাতক শিশুটির ভারী কম্বল বহন করার শক্তি নেই বললেই চলে। এতে বাচ্চা আরাম তো পাবেই না, উলটে সুরক্ষার দিক থেকেও এটা উচিত সমাধান নয়। এত ছোটো বাচ্চা বেশি হাত-পা ছুড়তেও অসমর্থ সুতরাং ভুলবশত ভারী কম্বলে বাচ্চার মুখ যদি ঢাকা পড়ে যায় তাহলে অবস্থা সঙ্গীন হয়ে ওঠারও একটা ভয় থেকে যাবে।

মালিশ দরকার বাচ্চাকে স্ট্রং করতে

নবজাতকের শরীর খুবই স্পর্শকাতর হয় তাই তার দরকার বিশেষ দেখভালের। শীতকালে বাচ্চাকে ওয়ার্ম রাখার সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্ট্রং করে তোলাটাও দরকার। বাচ্চাকে শক্তপোক্ত করে তুলতে মাসাজের একটা বড়ো ভূমিকা রয়েছে। এতে বাচ্চার হাড় শক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার শারীরিক কাঠামোরও উন্নতি হয়। মাসাজ বাচ্চার ব্লাড সার্কুলেশন উন্নত করে গ্যাস, অ্যাসিডিটির কারণে হওয়া ডিসকমফর্ট-ও দূর করতে সাহায্য করে।\

 

 

৭-টি উইন্টার স্কিন কেয়ার টিপ্‌স

বয়স যত বাড়ে, ততই আমাদের ত্বকের পরত পাতলা হতে থাকে। ফলে শীত কিংবা অতিরিক্ত গরমে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘসময় ধরে চড়া রোদে এক্সপোজড হন, তাদের ক্ষতির পরিমাণ তো আরওই বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীর থেকে তেল নির্গত হয় কম মাত্রায়। সুতরাং শীতের রুক্ষতা এড়াতে এই স্টেপসগুলো মেনে চলুন।

() ক্লিনজার ব্যবহার করুন

প্রতিদিন ত্বকে সাবান দেওয়া জরুরি নয় কিন্তু ত্বক পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুললে চলবে না ত্বকের আর্দ্রভাবও যেন বজায় থাকে। ফলে আন্ডার আর্মস, শরীরের নানা ভাঁজ এবং মুখ পরিষ্কার করতে হলে সাবানের বিকল্প খোঁজা প্রয়োজন। সাবানে ত্বক শুষ্ক করে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাড়িতে কাঁচা দুধে তুলো ভিজিয়ে ঘরোয়া ভাবে ত্বক পরিষ্কার করার রীতি বহু প্রাচীন। এখন বাজারে বহু নামি ক্লিনজার পাওয়া যায়।

শীতে এমন ক্লিনজার ব্যবহার করুন যাতে বেবি অয়েল মজুত রয়েছে। এটি ব্যবহারের ফলে আপনি ত্বক পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি, ত্বকের ময়েশ্চারও ধরে রাখতে পারবেন।

() স্নান করুন সাধারণ তাপমাত্রার জলে

শীতকালে আমরা গরম জলে স্নান করতেই বেশি পছন্দ করি। কিন্তু মনে রাখবেন বেশি গরম জল কিন্তু শরীরে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। এটি ত্বকের উপরের অংশে থাকা ন্যাচারাল ব্যারিয়ার হিসাবে যে কোশগুলি থাকে, তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই কোশগুলিই কিন্তু ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সহায়ক।

টেম্পারেচর কমফর্ট-এর বিষয়টি মাথায় রাখুন। একদম ছোটো শিশুদের স্নান করানোর আগে মায়েরা যেমন দেখে নেন, জলে তাপমাত্রা সহনশীল কিনা— তেমনই প্রাপ্ত বয়স্কদের বেলাতেও করা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয়, জলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা রাখা এবং সেই জলই স্নানের সময়ে ব্যবহার করা।

প্রতিদিন স্নান করবেন শীতকালে। এটা ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করবে। ১০-১৫ মিনিট অবশ্যই স্নানের জন্য বরাদ্দ রাখুন। এতেই আপনার ত্বক নরম ও কোমল থাকবে।

() স্নানের আগে যা করণীয়

স্নানের আগে বডি অয়েল বা লোশন ব্যবহার করুন। ত্বকে এটা ভালো ভাবে প্রবেশ করার পর, তবে স্নান করুন। ফলাফলটা নিজেই টের পাবেন, স্নান সেরে বেরোনোর পর দেখবেন— আপনার ত্বক খুবই নরম ও হাইড্রেটেড লাগছে। কিন্তু শুধু লোশন বা তেল লাগানো যথেষ্ট নয়। স্নান করতেই হবে।

ত্বক নরম করতে দুধের সর খুব ভালো উপকরণ, স্নানের আগে দুধের সর ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। স্নানের পর ত্বকে নরম অনুভূতি হবে।

যারা চড়া গন্ধের লোশন পছন্দ করেন না, শীতে তারা স্মেললেস ফর্মুলায় তৈরি লোশন বা তেল ব্যবহার করুন। বেবি প্রোডাক্ট এক্ষেত্রে সঠিক হবে।

() তেল মাখা জরুরি

বডি অয়েল কিন্তু শীতে বিশেষ উপকারী। যদি আপনার ধারণা হয় যে, তৈলাক্ত ত্বক যাদের, তাদের তেল মাখার প্রয়োজন নেই— তাহলে বলতে হবে আপনি ভুল জানেন। শীতে সমস্ত ধরনের ত্বকের পরিচর্যা করতে হলে বডি অয়েল ব্যবহার করুন।

স্নানের পর ময়েশ্চারাইজার লাগানোও সমান জরুরি। যারা ব্রণর সমস্যায় ভোগেন, তারা তেলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে ডার্মাটোলজিস্ট- -এর পরামর্শ নিয়ে এই ময়েশ্চার বেসড প্রোডাক্ট-এর নির্বাচন করুন।

() সানস্ক্রিনই বাঁচাবে ত্বককে

বড়োসড়ো ক্ষতির হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে পারে সানস্ক্রিন লোশন। শীতে তো বিশেষ করে ইউ ভি রশ্মির দ্বারা ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই কিরণ ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে এবং ড্যামেজ করে আপনার ত্বকের জৌলুশ। যদি ঘরের ভেতরেই থাকেন সারাদিন, তাহলে ময়েশ্চারাইজার এবং এসপিএফ ৩০-যুক্ত সানস্ক্রিনই যথেষ্ট। কিন্তু যদি বাইরে বেরোনোর প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই আপনার সানস্ক্রিন হওয়া উচিত অন্ততপক্ষে এসপিএফ ৪0।

কাজ থেকে বাড়ি ফিরে মুখ ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে, বেবি ক্রিম লাগান। এই ক্রিমে রাসায়নিকের মাত্রা কম থাকে। ফলে স্কিন ড্যামেজ কম হয়।

() লাইফস্টাইল বদলান

শীতে কম জল খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এটা কখনওই করবেন না। শীতেও প্রচুর জল পান করার প্রয়োজন। এটাই ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে। অবশ্যই সিট্রাস ফ্রুট— যেমন কমলালেবু, মুসম্বি প্রভৃতি ফলের রস খান। প্রচুর পরিমাণে স্যালাড ও শীতের সবজি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। সুপ বা স্টু অবশ্যই রাখুন ডিনারে।

() স্কিন অ্যালার্জি ও র‍্যাশ

শীতে অ্যালার্জি বা র‍্যাশের প্রবণতা থাকে অনেকের ত্বকে। একজিমার সমস্যা হয় অনেকের পায়ের মোজা থেকে। সিন্থেটিক মোজা অ্যাভয়েড করুন। শীতের মোজা পরুন কিন্তু পায়ের আঙুলের ফাঁকে জল যেন না থাকে। রাতে গরম জলে একটু নুন ফেলে প্রতিদিন ফুট ওয়াশ করুন। শীত পড়ার আগে থেকেই যে-খাবারে অ্যালার্জি হয়, সেগুলো অ্যাভয়েড করবেন। মাথায় খুশকির সমস্যা হয় শীতকালে। ডার্মাটোলজিস্ট-এর পরামর্শ মতো খুশকি সারানোর ব্যবস্থা করুন।

বিবাহবিচ্ছেদই সমাধান নয়

বিবাহ এমন একটি বন্ধন যা স্বামী ও স্ত্রীকে পরস্পরের সুরক্ষা, একসঙ্গে পথ চলা ও সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্বে অঙ্গীকারবদ্ধ করে। একটা নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছে যুবক-যুবতি পরস্পরের সঙ্গে এই বন্ধনে যুক্ত হন। সব যুবকরাই বিয়ের আগে নিজের একটি পৃথক বাসস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন না। ভারতে তাই মা-বাবার সঙ্গেই বেশিরভাগ সন্তান থাকেন। বিয়ের পর সেখানেই নববধূকেও নিয়ে আসা হয়। একসঙ্গে থাকার দরুন পারিবারিক বন্ধন গড়ে উঠবে এটাই প্রত্যাশিত এবং সদ্য ঘরে আসা বধূটিও শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করবে এটাই প্রত্যাশা থাকে সমাজের।

কিন্তু বিবাহের অন্যতম শর্ত কি হতে পারে, স্বামীর মা-বাবার দেখাশোনা করা? আজকাল তো একক কন্যা হওয়ার সুবাদে বধূটির মা-বাবারাও দাবি জানাচ্ছে জামাই যেন তাদের বৃদ্ধ বয়সে দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। কিন্তু বিয়ের শর্তে কি এই দায়িত্বও শামিল করা উচিত ?

পুত্রের নৈতিক কর্তব্য বাবা-মায়ের দেখাশোনা করা ও আশ্রয় দেওয়া। কর্তব্য পালনের পথে যদি তার স্ত্রী বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে স্বামীর পূর্ণ অধিকার রয়েছে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার। বিয়ের পর প্রতিটি পুত্রবধূর কর্তব্য শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা। না হলে সেটি বৈবাহিক অপরাধ ও বধূটির ক্রূরতা হিসাবে গণ্য হবে।

বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার স্ত্রী বা স্বামী উভয়েরই রয়েছে। দু’জনের মধ্যে কোনও কারণবশত যদি বনিবনা না হয়, তাহলে দেশের কোনও আইন, সমাজ, সংস্কার কখনওই স্বামী-স্ত্রীকে এক শয্যায় শোওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারে না। একবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া মানেই সেই সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে সাতটি জন্ম অতিবাহিত করতে হবে এসব ভ্রান্তিমূলক ধারণা। সুতরাং মা-বাবারা তাদের দায়িত্ব যদি বলপূর্বক সন্তানের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন এবং তার জন্য তার বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত হওয়ার পরিস্থিতি হয়— তাহলে আদালতের প্রথম দিনের রায়েতেই এই ব্যবস্থা নাকচ হয়ে যাওয়া উচিত।

এদেশের বধূরা দীর্ঘকাল ধরেই নির্যাতনের শিকার। মহাকাব্য থেকে লোকগাথা— সবেতেই তাদের সহ্য করার পরামর্শই দেওয়া হয়। আজীবন ব্রতকথা পড়ে, উপবাস করে স্বামীর জন্য প্রার্থনা করা মেয়েদেরও, এদেশে যন্ত্রণামূলক পরিণতিই সইতে হয়। এবার আর ভারতীয় সংস্কৃতি রক্ষার জিগির তুলে স্বামীর মা-বাবা তাদের দেখাশোনার দায় পুত্রের ঘাড়ে চাপিয়ে, বধূটিকে এই নির্যাতনের মধ্যে না-ই বা ফেললেন। সন্তানের যদি নিজস্ব বাসস্থান না থাকার ফলে সে একই পরিবারে থাকে তাহলে অন্য কথা। কিন্তু অন্যত্র থাকলে মা-বাবার দায়িত্ব নেওয়ার বাধ্যবাধকতায় তাকে এবং বধূটিকে না ফেলাই মঙ্গলজনক।

‘স্পেশাল ওপস’-এ অভিনয় করছেন টোটা

বছর শেষে বেশ একটা বড়োসড়ো খবর দিলেন বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা  Tota Roy Choudhury ৷ শোনা যাচ্ছে বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক নীরজ পাণ্ডের বহুল পরিচিত ওয়েবসিরিজ, ‘স্পেশাল ওপস’-এ অভিনয় করছেন টোটা।এ বিষয়ে কোনও গোপনীয়তা রাখার প্রয়োজন বোধ করেননি টোটা৷  অভিনেতা নিজেই শুটিংয়ের সেট থেকে নিজের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই সুখবর অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। ক্ল্যাপস্টিক হাতে নিয়ে দাঁড়ানো সেই ছবিতে টোটাকে লাগছেও বেশ আকর্ষণীয়। একদম মেদহীন সুঠাম সুপুরুষ বলতে যা বোঝায়, তা-ই আর কী৷

বেশ কিছুদিন ধরেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল বলিউডে ফের নতুন সুযোগ পেয়েছেন এই বাঙালি অভিনেতা৷ যদিও না পাওয়ার কোনও কারণ নেই৷বলিউডে নিজের যোগ্যতায় ইতিমধ্যেই বেশ একটা জায়গা তৈরি করেছেন টোটা। করণ জোহরের সঙ্গে কাজ, সেই থেকে জাতীয় স্তরে তাঁর পরিচিতি। এবারও একটা বড়োসড়ো লাফ অভিনেতার।করণ জোহরের ছবিতে চন্দন চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় দেখে,তাঁর বেশ প্রশংসা করেছেন সকলে। এবার, নতুন সিরিজ, নতুন সুযোগ। অভিনেতা যথেষ্টই আপ্লুত।

একটা সময় নিজের টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতেই প্রায় ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন টোটা। সেখান থেকে হঠাৎই আলোচনায় ফিরে এলেন করণ জোহরের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ ছবির মাধ্যমে। আর তারপর থেকেই  হাত ভর্তি কাজ টোটা রায়চৌধুরীর। ইতিমধ্যে বাংলার বেশ কিছু বড়ো প্রোজেক্টে নাম জুড়েছে অভিনেতার।তার মধ্যেই এই সুখবর৷

একটি ফ্যামেলি ফিল্মি ড্রামার পর এবার আরও বড়ো দায়িত্ব। অভিনেতা নিজেই জানিয়েছেন, এবার বাবা কাকার চরিত্র নয় বরং একদম অন্যরকম একটি চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। একদম স্মার্ট অ্যান্ড ড্যাশিং লুক-এ চিরাচরিত টোটা।

উল্লেখ্য, এর আগে ‘স্পেশাল ওপস’ প্রথম সিজন বানিয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন পরিচালক নীরজ পাণ্ডে। এবার তিনি দ্বিতীয় সিজনের কাজ শুরু করতে চলেছেন। তাই সিরিজটি নিয়ে বেশ উৎসাহিত সিনেমাপ্রেমীরাও। সিরিজে অভিনয় করবেন বলিউডের  কেকে মেনন, করণ ঠক্কর, বিনয় শুক্লার মতো অভিনেতারা। আর সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন টোটা রায়চৌধুরী।

উত্তেজিত অভিনেতা জানান,  “A Wednesday ছবিটা দেখার পর থেকেই আমি নীরজজির ফ্যান। তাই উনি যখন নিজে ফোন করে আমায়  একটি আন্তর্জাতিক মানের সিরিজে (Special Ops 2) কাস্ট করলেন , তখন আমার আপ্লুত, অভিভূত হওয়াটাই স্বাভাবিক। ধন্যবাদ স্যার, শ্রী নীরজ পান্ডে।”

একজন খ্যাতনামা পরিচালকের সঙ্গে কাজ শুধু নয়, কেকে মেননের মতো অভিনয়-সঙ্গী পাওয়া! তাই নীরজ পাণ্ডের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারলেন না অভিনেতা৷তবে শুধু ‘স্পেশাল ওপস’-এর দ্বিতীয় সিজন নয়,  জানা গেছে ম্যাডক ফিল্মসের প্রযোজনায় পরিচালক কুণাল দেশমুখের ‘দিলার’-এ অভিনয় করেছেন টোটা। সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর  এক অফিসারের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সূত্রের খবর, সেই ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন ইব্রাহিম আলি খান। টোটা যে এখন বলিউডে বেশ ব্যস্ত, তা একের পর এক ছবির সংখ্যাতেই পরিষ্কার।বলিউডে পরপর কাজের মধ্যে দিয়ে টিকে থাকা, সহজ কাজ নয়। হয়তো, সেভাবেই নিজেকে তৈরি করেছেন অভিনেতা।তিনি এবার তৈরি হচ্ছেন বড়োসড়ো চ্যালেঞ্জের জন্য।

উইক এন্ড-এ মাথেরান (শেষ পর্ব)

মাথেরান পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় অবস্থিত ছোট্ট একটি শৈল শহর। সমগ্র ভারতে এটাই সবচেয়ে ছোটো হিল স্টেশন। পুরো মাথেরান জুড়েই জঙ্গল, মাঝে মাঝে ব্রিটিশ স্থাপত্য-রীতিতে তৈরি বাংলো এবং হোটেল। গাড়ি প্রবেশের অনুমতি নেই মাথেরানে, গাড়ি রাখতে হয় ছোট্ট শহরের বাইরে। ভারত তথা সমগ্র এশিয়া মহাদেশে মাথেরানের তুলনা নেই গাড়ি পার্কিং-এর ব্যাপারে। তাই আজও প্রায় দূষণমুক্ত, অনুপম এই শৈলশহর।

এবার ফেরার পালা। দেড়টা নাগাদ লাঞ্চ শেষ করে বিল মিটিয়ে আমরা বিদায় নিলাম। অপেক্ষারত মালবাহক মাথায় লাগেজ তুলে নিল। আমরা চারজন মালবাহকের সঙ্গে গল্প করতে করতে উতরাই পথে চলতে লাগলাম। নাম জিজ্ঞেস করায় সে জানাল, তার নাম আনন্দ। গল্প করতে করতেই পৌঁছে গেলাম ন্যারোগেজ লাইনের ছোট্ট স্টেশন ‘আমন লজ’-এ। সেখান থেকে আর একটু এগিয়ে ট্যাক্সি স্ট্যান্ড।

খানের মাজিওয়াড়া যাবার জন্য ২৩০০ টাকায় রফা হল একটি নতুন হুন্ডাই অরা। দুপুর সোয়া ৩টে নাগাদ গাড়ি চলতে শুরু করল। গরম যথেষ্ট। সদ্য পরিচিত পশ্চিমঘাটের উতরাই পথে গাড়ি নামতে শুরু করল। মাত্র ২০ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম নেরাল-এ। পশ্চিমঘাট থেকে নেমে এসে মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। পথে আর কোথাও না থেমে সোজা মাজিওয়াড়ায় রুস্তমজির অ্যাজিয়ানো টাওয়ার-এর নীচে গাড়ি এসে থামল বিকেল ৫টা নাগাদ।

গল্পটা এখানেই শেষ হবার কথা ছিল, কিন্তু আমরা তা হতে দিলাম না। কারণ কারুরই ঘরে থাকার ইচ্ছে নেই। ফ্ল্যাটে এসে লাগেজ রেখে নীচে নেমে আবার একটি গাড়ি বুক করা হল। আমরা এবার যাব ভারসোভা বিচ। গাড়ি ছুটতে লাগল ইস্টার্ন এক্সপ্রেস হাইওয়ে ধরে। ভারসোভার অবস্থান উত্তর মুম্বইয়ে। থানে থেকে ভারসোভা বিচের দূরত্ব ২৯ কিমি। সেখানে পৌঁছোলাম সন্ধে নাগাদ। ফলে ওই বিচ থেকে অপরূপ সূর্যাস্ত দেখা হল না!

Varsova beach Maharashtra

বিশাল ভারসোভা বিচ নিঃসন্দেহে মুম্বইয়ের সেরা বিচ। আরব সাগরের জলে পা ভিজালাম। বিচে জোরে হাওয়া বইছিল। ভারসোভা জেলেদের একটি ছোটো গ্রাম। বিচের পিছন দিকে একটি ছোটো অস্থায়ী দোকানে বসে চা-কফি খেতে খেতে দেখছিলাম – পর্যটক, ফেরিওয়ালা ও স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে বিচে ঘটতে থাকা নৈমিত্তিক ঘটনাগুলো। ৯টায় উঠে পড়লাম বিচ ছেড়ে। গাড়ি বুক করা হল থানে ফেরার জন্য। ভারসোভা বিচ পড়ে রইল পিছনে। গত দেড় দিনে পাহাড়, জঙ্গল ছাড়াও দেখে নিলাম সমুদ্র।

কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

কীভাবে যাবেন: মুম্বই থেকে ট্রেনে নেরাল এসে সেখান থেকে টয় ট্রেনে চেপে আসতে পারেন মাথেরান। অথবা, মুম্বই থেকে নিজের গাড়ি বা ট্যাক্সিতে চেপে চলে আসুন মাথেরানে। সময় লাগবে দুই ঘণ্টা।

কখন যাবেন : সারা বছরই যাওয়া যায় মাথেরানে, যদিও সেরা সময় অক্টোবর থেকে মার্চ। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বর্ষায় না যাওয়াই ঠিকা

কোথায় থাকবেন : বিভিন্ন বাজেটের (২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত) হোটেল রয়েছে মাথেরানে। অনলাইনে অগ্রিম বুকিং বাঞ্ছনীয়।

কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন (শেষ পর্ব)

এই প্রবন্ধটি কিন্তু কোনও ভাবেই কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের কাজকর্মকে খাটো করে দেখিয়ে, মহিলা সহকর্মীদের প্রতি কতটা অসংবেদনশীল তা প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে লেখা নয়। সব পুরুষরাই মহিলাদের এভাবে হয়রান করেন না। তা সত্ত্বেও মহিলারা পুরুষদের নানা রকম আচরণের শিকার হন, যা প্রকারান্তরে যৌন- নির্যাতনই। মজার কথা এসব ক্ষেত্রে নির্যাতনের যৌন দিকটি খুবই সামান্য, মূল বিষয়টি ক্ষমতার খেলা। এমনকী যে-সব সমাজে মহিলাদের যৌন বস্তু বা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয় না, সেখানেও কিন্তু যৌন নির্যাতনের সঙ্গে ক্ষমতার ব্যবহার অবিচ্ছেদ্য ভাবে যুক্ত।

নির্যাতিতা মহিলা এবং সেখানে উপস্থিত অন্যান্য মহিলা সহকর্মীদের ক্ষেত্রে যৌন-নির্যাতনের ফল খুবই মারাত্মক আকার ধারণ করে। প্রমোশনের সুযোগ বা চাকরি হারানোর ক্রমাগত চাপের মুখে, নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেও তিনি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারেন। এছাড়াও অনেক সময় অন্যান্য সহকর্মীদের চোখে একজন ওপরওয়ালা ব্যক্তির দ্বারা যৌন নির্যাতিত মহিলা সহজলভ্য বলে পরিগণিত হতে পারে। এই ধরনের ক্রমাগত মানসিক চাপ ও মনোবেদনা থেকে কতগুলো মানসিক ও শারীরিক অসুবিধা দেখা দিতে পারে, যেমন প্রবল শারীরিক ও মানসিক চাপজনিত, উদ্বেগজনিত, অবসাদজনিত, নিদ্রাজনিত অসুখ এবং মাথা যন্ত্রণা, ওজনের হ্রাস বা বৃদ্ধি, বমি ভাব, আত্মসম্মানবোধ হ্রাস এমনকী যৌনক্ষমতার গোলযোগ।

সমস্যা সামলানোর টিপ্স

  • সূক্ষ্ম, চতুর ধরনের যৌন নির্যাতনের রূপগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং নিজে সহকর্মীদের সাথে কোনও রকম প্রচ্ছন্ন যৌন আচরণে লিপ্ত হবেন না।
  • আরও সংবেদনশীল হোন। অকারণে পুরুষ-সহকর্মীদের আঘাত করে বসবেন না। আপনার বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণাত্মক মনোভাব জমা হতে সাহায্য করবেন না। সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে বাধা দিন ও নির্যাতকের সম্মুখীন হোন। তাকে জানান আপনি কাজটিকে অপ্রীতিকর, বিরক্তিকর মনে করছেন এবং কেন।
  • এই ধরনের অবস্থা মোকাবিলা করার ব্যক্তিগত পদ্ধতি নির্ধারণ করার জন্য নিজের স্থিরবুদ্ধি ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের সাহায্য নিন।
  • যৌন নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার খুঁটিনাটি সহ, স্থান, সময়, তারিখ, জড়িত ব্যক্তিদের নাম সব লিপিবদ্ধ করে রাখুন। প্রয়োজনে নির্যাতকের বিরুদ্ধে চিঠি লিখে তা ম্যানেজমেন্ট-কে জানান এবং তার একটা প্রতিলিপি আপনার কাছে রেখে দিন।
  • যৌন হয়রানির কোনও ঘটনাকে হালকা ভাবে নেবেন না। মজা করা বা পেছনে লাগা বলে মেনে নেবেন না।
  • অন্য কোনও মহিলা সহকর্মী নির্যাতিত হলে দয়া করে তার পাশে থাকবেন। তাকে সমর্থন করবেন, তাকে রক্ষা করবেন। নিজের পদ বজায় রাখতে চুপ করে বসে তাকে নির্যাতিত হতে দেখবেন না। অথবা তিনি আপনার পরম- প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিযোগী বলে পরোক্ষে তার নির্যাতন উপভোগ করবেন না। মনে রাখবেন কাল আপনারও এরকম হতে পারে।

উইক এন্ড-এ মাথেরান (পর্ব ২)

বহু গাছপালায় সজ্জিত, অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়ানো এই হোটেলের গঠন অনেকটাই বাংলো স্টাইলের। দুপুরের লাঞ্চ সেরে খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টে নাগাদ ঘোড়ায় চড়ে ১২ পয়েন্ট দেখার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। ঘোড়া পিছু ৯০০ টাকায়। চড়াই উতরাই পথে আমাদের ঘোড়া চারটি এগোতে লাগল।

প্রথমে, লুইসা পয়েন্ট থেকে পশ্চিমঘাটের অসাধারণ রূপ প্রত্যক্ষ করলাম। প্রায় ৪০ মিনিট ঘোড়সওয়ারির পর একটি জায়গায় থেমে সহিস আমাদের জানাল, একটু এগোলেই দেখতে পাব হনিমুন পয়েন্ট। পূর্বে সেখানে বিভিন্ন গাছ থেকে আদিবাসীরা হনি (মধু) সংগ্রহ করত। সময় পেরিয়ে হনি কালেকশন পয়েন্ট কীভাবে যেন ‘হনি মুন পয়েন্ট’-এ নামান্তরিত হয়!

এরপর সহিস জানাল, একটু এগোলেই পর পর দেখতে পাব পিসরনাথ মন্দির, লেক পয়েন্ট, কিং জর্জ পয়েন্ট, ইকো পয়েন্ট ইত্যাদি। লেক পয়েন্ট থেকে সুন্দর চারলোট লেকটি দেখে সেতু পেরিয়ে চললাম সান সেট পয়েন্টে সূর্যাস্ত দেখতে। জানিয়ে রাখি, মাথেরানে জল সরবরাহের প্রধান উৎস ওই শান্ত, সুন্দর লেকটি।

Travel Matheran

মাথেরান থেকে অপরূপ সূর্যাস্ত দেখা মনে থাকবে বহু দিন। সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ আমরা এসে পৌঁছোলাম সান সেট পয়েন্টে। ফটো তোলার জুতসই জায়গা বেছে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম। পরবর্তী সাত মিনিটে লাল সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত গেল পাহাড়ের পিছনে। চরাচরে রঙের বন্যা থেকে গেল আরও কিছুক্ষণ। ক্যামেরায় তোলা থাকল অস্তমান দিবাকরের ছবিগুলো। সবারই মনে ভারি আনন্দ। ফিরে এসে আবার চড়ে বসলাম ঘোড়ার পিঠে।

সন্ধেবেলা, আলো কমে আসছে দ্রুত। ঘোড়ার লাগাম ধরে সাবধানে ফিরে চললাম। পথের ধারে সোলার লাইটগুলো জ্বলে উঠেছে। দু’পাশের জঙ্গলকে আরও বেশি ঘন ও অন্ধকারময় মনে হচ্ছে। আধ ঘন্টার মধ্যে মাথেরানের মার্কেটে এসে পৌঁছোলাম। আমরা ঘোড়া থেকে না নেমে এগিয়ে চললাম হোটেলের পথে। আরও ১০-১২ মিনিট পরে এসে পৌঁছোলাম আমাদের হোটেলে। ঘোড়াওয়ালাদের টাকা মিটিয়ে দিলাম।

পরদিন সকালে মুখ-হাত ধুয়ে এসে বসেছি একটা চেয়ারে। গাছপালার ফাঁক দিয়ে নবীন সূর্যের নরম আলো এসে পড়েছে লবিতে। হালকা, মধুর বাতাসে মন ভালোলাগায় অসাড় হয়ে পড়ছিল। পাখিদের কলরব প্রকৃতির মাঝে সুরেলা সংগীত হয়ে ফিরে আসছিল। হোটেলের পিছন দিক থেকে কিছুটা নীচে নেমে এবার প্রবেশ করলাম জঙ্গলে। প্রকৃতপক্ষে হোটেলের চারদিকেই জঙ্গল, কোথাও হালকা, কোথাও ঘন। জঙ্গলের উত্তর দিক বরাবর হাঁটতে লাগলাম পায়ে চলা সরু পথ ধরে।

এদিকে জঙ্গল বেশ ঘন। হঠাৎই দুটি বুনো মুরগি ভয় পেয়ে ছুটে পালাল। এদিক ওদিক সাপের গর্ত দেখে সাবধান হলাম। হোটেল কর্মচারী বৈভব সাপের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিল গতকালই। ফিরে চললাম এবার দক্ষিণ দিক বরাবর। এদিকে জঙ্গল কিছুটা হালকা। পথের বাঁ দিকে নজরে পড়ল একটি সুন্দর রেস্ট হাউস। এবার জঙ্গল পথেই ধীরে ধীরে ফিরে এলাম হোটেলে।

রবিবারের সকালটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছি মাথেরানে। আমাদের চারপাশেই সবুজ গাছের স্নিগ্ধ আলিঙ্গন। মাঝে মাঝেই ঘোড়ার খুড়ের শব্দে চমকে তাকিয়ে দেখছি সহিসরা তাদের ঘোড়াগুলো ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট কোনও জায়গায়। মাথেরান মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় কারজাট তালুকাস্থিত একটি পাহাড়ি শহর এবং নগরপালিকা পরিষদ। পশ্চিমঘাট পর্বতে অবস্থিত মাথেরান সমুদ্রতল থেকে ২৬২৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এশিয়ার একমাত্র অটোমোবাইল-মুক্ত হিল স্টেশন। এই হিল স্টেশনের আয়তন মাত্র ৭ বর্গ কিমি। মারাঠি ভাষায় ‘মাথেরান’ শব্দের অর্থ পাহাড়ের উপর জঙ্গল।

ব্রেকফাস্ট করে আমরা চারজনেই হাঁটতে বার হলাম। লাল ল্যাটেরাইট মাটি দিয়ে তৈরি রাস্তা। মাথেরানে দেখছি, আধুনিক হোটেলের পাশাপাশি বহু পারসি বাংলোর অবস্থান। এখানকার বাস্তুকলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার ছাপ স্পষ্ট। হোটেল বা বাংলো, প্রতিটাই গাছপালায় ঘেরা। হাঁটার সময় পথের পাশে কয়েকটি গাছের গুঁড়িতে সাপের গর্ত চোখে পড়ল, যদিও সাপ দেখিনি একবারও। প্রায় এক ঘণ্টা হাঁটাহাটি করে হোটেলে ফিরে এলাম।

(চলবে)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব