অনুষ্ঠানের মেক-আপ সম্পর্কে জানুন

করোনার অতি-সংক্রমণের কারণে, আমরা উৎসব অনুষ্ঠানের আনন্দ থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হয়েছি। যদি সত্যিই সেভাবে কোথাও গিয়ে মানে বিয়ে, পার্টি, অন্নপ্রাশন, পৈতে ইত্যাদিতে যোগদান করে আনন্দ উপভোগের সুযোগ আসে, তাহলে সেজেগুজে সবার সামনে নিজেকে মেলে ধরার ইচ্ছে হবেই। কিন্তু কীভাবে এবং কতটা কী Makeup নিলে আপনি সবার নজর কাড়তে পারবেন, সেই বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এই লেখায় রইল কিছু স্পেশাল মেক-আপ টিপস।

ফাউন্ডেশন : ত্বকের সঙ্গে মানানসই ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন মেক-আপ-এর বেস ঠিক থাকলে অর্ধেক সাফল্য পেয়ে গেলেন। মেক-আপ যত ন্যাচারাল দেখাবে, ততই পারফেক্ট লাগবে আপনাকেও। কেক, লিকুইড আর পাউডার, তিন রকমের ফাউন্ডেশন বাজারে মেলে। অনুষ্ঠানে বা উৎসবে অংশ নেওয়ার আগে, ব্যবহার করুন হাইড্রেটিং বা স্টেন ফিনিশ লিকুইড ফাউন্ডেশন।

পাউডার টাচ : ক্রিম আইশ্যাডো আর ক্রিম ব্লাশ অন লাগানোর ফলে কিছুক্ষণ পর থেকেই আপনার স্কিন টোন প্যাচি লাগতে পারে। মুখে বলিরেখা থাকলে সেটাও প্রকট হবে। তাই চটজলদি মেক-আপ করতে হলে লাইট পাউডার আইশ্যাডো আর পাউডার ব্লাশ অন ব্যবহার করুন।

আই পেনসিল : কম বয়সি মহিলারা লাইনার লাগাতে চান না। তাই এর ভালো বিকল্প হতে পারে কালারফুল পেনসিল। ব্লু ও গ্রিন এই দুটো বেসিক কালারের সঙ্গে ব্রাউন পেনসিলও কিনে রাখুন।

লিপ কালার : ঠোঁটে ইনস্ট্যান্ট গ্লো আনতে ন্যাচারাল ক্রেয়নের বদলে ভাইব্র‌্যান্ট রেড বা চেরি কালার লিপস্টিক লাগান। ফেসটিভ লুক-এ রেড খুব হট লাগে।

পিওর ব্রাউন শেডস : আপনি ব্রাউনের ভক্ত হলেও, প্লিজ অনুষ্ঠানের জন্য ম্যাটি ব্রাউন আইশ্যাডো বাছবেন না। এই রঙে হলদে ও লালের কিছু পরিমাণ থাকে, যা ব্রাউন আইশ্যাডো লাগানোর পরে আপনার চোখের ক্লান্ত ভাব প্রকট করে। এর বদলে পিওর ব্রাউন লাগান বা খয়েরি। এতে ন্যাচারাল লাগবে।

ব্রাইট লুক : চোখ যদি আকারে ছোটো হয়, তাহলে পেনসিল হোয়াইট আইলাইনার দিয়ে মেক-আপ শুরু করা উচিত। চোখের নীচের আইলিড-এ হোয়াইট আইলাইনারের সিংগল কোট লাগান। এরপর (এর উপর নয়, এর ঠিক পরে) কাজল, ব্ল্যাক বা অন্য রঙের আইলাইনার লাগান। এর ফলে ছোটো চোখ হলেও দেখতে অনেক বড়ো লাগবে।

ভিনটেজ লুক : যদি নিজের আই মেক-আপ কে ভিনটেজ লুক দিতে হয়, তাহলে লিকুইড হোয়াইট আইলাইনারকে প্রায়োরিটি দেওয়াটা যুক্তিসঙ্গত হবে। চোখের পাতায় প্রথমে ব্ল্যাক আইলাইনারের ডবল কোট লাগান। শুকিয়ে গেলে ব্ল্যাক আইলাইনারের গা-ঘেঁষে হোয়াইট আইলাইনারের ডবল কোট লাগান। ব্ল্যাক এবং হোয়াইট আইলাইনারের কম্বিনেশন আপনাকে ভিনটেজ লুক দেবে ।

ক্যাট লুক : ক্যাট আই লুক-এর জন্য চোখের উপর লিকুইড ব্ল্যাক আইলাইনারের ডবল কোট লাগান। আইলাইনার চোখের শেষের দিকে এনে রেখার শেষের অংশটা একটা তেরছা করে উপর দিকে টেনে দিন। এবার নীচের আইলিডের শুধু কর্নারে লিকুইড হোয়াইট আইলাইনার লাগিয়ে দিন।

ভি-লুক : ভি-লুকের জন্য চোখের কোণে পেনসিল হোয়াইট আইলাইনার দিয়ে ভি-শেপ আঁকুন। তারপর ব্ল্যাক, ব্রাউন যে-রং চান সেই রঙের আইলাইনার লাগান। চোখের কোণায় হোয়াইট আইলাইনার যতটা সম্ভব পযে্নটেড করুন।এতে চোখ আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

কুল লুক : কুল লুক যদি পেতে চান তাহলে প্রথমে চোখের উপর পাতায় ব্ল্যাক কালারের লিকুইড আইলাইনার লাগান। এরপর পেনসিল শিমারি হোয়াইট আইলাইনার লাগিয়ে হালকা স্মাজ করুন। এতে মেক-আপে একটা আইসি (বরফের মতো) এফেক্ট আসবে এবং কুল লুক আনতে সফল হবেন।

ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট লুক : যদি পোশাক হয় ব্ল্যাক ও হোয়াইটের কম্বিনেশন, তাহলে একই রঙের অ্যাক্সেসরিজ-এর সঙ্গে সঙ্গে মেক-আপকেও দিন ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট লুক। এর জন্য চোখের উপর ব্ল্যাক লিকুইড আইলাইনার ও নীচের পাতায় হোয়াইট আইলাইনার লাগান। আবার উলটো-টাও করতে পারেন। উপরে সাদা রেখে নীচে ব্ল্যাক-ও ব্যবহার করতে পারেন।

ড্রামাটিক লুক : রাতের অনুষ্ঠানে গ্ল্যামারাস লুক পেতে হলে চোখের পাতায় ব্ল্যাক বা ব্রাউন কালারের সিংগল কোট আইলাইনার লাগান। এর উপর হোয়াইট আইলাইনার লাগান। এর গা ঘেঁষে ব্লু, গ্রিন বা পার্পল শেডের আইলাইনার লাগিয়ে গ্লিটার আইলাইনার দিয়ে ফিনিশ করুন। সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আপনি সফল হবেন-ই।

হোয়াইট আইলাইনার যেমন ডিফারেন্ট আই লুক দিতে সক্ষম, তেমনি ফেসিয়াল খামতিগুলোও পূরণ করতে পারে অনায়াসে। সুতরাং সৌন্দর্য বিকশিত করতে কীভাবে সাহায্য করতে পারে হোয়াইট আইলাইনার আসুন জানি

আইশ্যাডোরও কাজ করবে আইলাইনার : পেনসিল হোয়াইট আইলাইনার আপনি আইশ্যাডোর বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। যদি হোয়াইট আইলাইনার, অ্যাইশ্যাডোর মতো লাগিয়ে তার উপর যে-কোনও রঙের আইশ্যাডো লাগান তাহলে ওই রঙের শেড-টি আরও ডার্ক মনে হবে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আইশ্যাডো টিকে থাকবে।

পিওর শেড : যখনই ব্লু, গ্রিন, পার্পল-এর মতো কালারফুল শেড লাগাবার ইচ্ছে হবে, তার আগে লিকুইড হোয়াইট আইলাইনার লাগিয়ে নেবেন। তার উপর ইচ্ছেমতন রং অ্যাপ্লাই করলে, হোয়াইট বেস থাকার ফলে আপনার কালার্ড আইলাইনারের পিওর শেড-টা সকলে বুঝতে পারবে।

হাইড ডার্ক সার্কলস : যদি আপনার চোখের নীচে ডার্ক সার্কলস থাকে এবং সেটা যাতে সকলের দৃষ্টিগোচর না হয় তার জন্য, হোয়াইট পেনসিল আইলাইনার লাগিয়ে সেটা হালকা স্মাজ করে আশেপাশে ছড়িয়ে দিন। আইলাইনার দিয়ে যখন ডার্ক সার্কলস পুরোপুরি ঢেকে যাবে এবং সেট হয়ে যাবে তারপর মেক-আপ করা শুরু করুন।

হাইলাইট আইব্রোজ : আইব্রোজ-কে হাইলাইট করতে হলে, আইব্রো বোন-এর উপর পেনসিল হোয়াইট আইলাইনার লাগান এবং ভালো করে সেটি স্মাজ করুন। এর ফলে চোখ এবং আইব্রোজ-এর মধ্যেকার গ্যাপ বাড়বে এবং আইব্রোজ আরও স্পষ্ট এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

কারেক্ট আইব্রোজ : আইব্রোজ যদি খুব পাতলা হয় অথবা যদি ভ্রূর কোনও শেপ না থাকে, তাহলে পেনসিল হোয়াইট আইলাইনার ব্যবহার করে ভ্রূকে সঠিক শেপ দিন। ভ্রূর ভিতরে ব্ল্যাক বা ব্রাউন শেডের আইশ্যাডো লাগিয়ে আইব্রোজকে পারফেক্ট শেপ ও লুক দিন।

ফুলার লিপস : ঠোঁট যদি খুব পাতলা হয় তাহলে পেনসিল হোয়াইট আইলাইনারের ব্যবহার লিপলাইনার হিসেবেও করতে পারেন। হোয়াইট আইলাইনার দিয়ে প্রথমে ঠোঁটকে পারফেক্ট শেপ দিন। এর পর ভিতরের অংশে লিপস্টিক দিয়ে রং ভরে নিন। এতে ফুলার লিপস এফেক্ট পাবেন।

রেগুলার হেয়ারস্টাইল থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু ট্রাই করুন। সিঁথি বদলে কোনও স্টাইল করুন বা খোলা চুলে লাগান স্টাইলিশ অ্যাক্সেসরি।

কম খরচে বদলে ফেলুন রান্নাঘরের সাজ

বাঙালি মাত্রেই ভোজনরসিক। সুতরাং রান্নাঘরের গুরুত্ব কমবেশি সব বাঙালি বাড়িতেই রয়েছে। এখনকার প্রজন্ম আবার রসনাতৃপ্তির সঙ্গে সঙ্গে শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত সচেতন।

এছাড়াও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজন এবং রুচিরও পরিবর্তন হতে থাকে। মা-ঠাকুমাদের সময়ে Kitchen এখনকার সময়ের তুলনায় বড়ো হতো। খালি জায়গা থাকত প্রচুর। যৌথ পরিবারের প্রয়োজনমতো তখনকার রান্নাঘর আজকের প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অর্থহীন কারণ, থাকার জায়গার পরিসর কমেছে। ছোটো পরিবার সমেত এখন মানুষ স্বতন্ত্র ভাবে থাকতে ভালোবাসে। ফলে বাড়ির কনসেপ্ট বদলে ফ্ল্যাট-এ থাকতে পছন্দ অধিকাংশ মানুষের।

মানুষের প্রয়োজনও বদলেছে। কারও কাছে সময় নেই উনুন ধরিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করার। পরিচারিকাও এখন অনেকেই রাখেন না কারণ স্বামী-স্ত্রী উভয়ে বেশির ভাগ কর্মরত। সুতরাং ছোট্ট রান্নাঘরেই গ্যাস, কুকিং রেঞ্জ, মাইক্রোআভেন, কফি মেকার, চিমনি, ডিশওয়াশার ইত্যাদি সরঞ্জামের ঠাসাঠাসি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চটজলদি অথচ স্বাস্থ্যবর্ধক রান্না করতে এবং রান্নাঘর পরিষ্কার রাখতে এই সব কিছুরই এখন প্রয়োজন আছে। নতুন যারা ফ্ল্যাট কিনছেন তারা মডিউলার কিচেন সামর্থ্য অনুযায়ী করিয়ে নেন। তবে ফ্ল্যাট পুরোনো হলে, রান্নাঘরের একঘেয়েমি কাটাতে কম বাজেটেই কিছু পরিবর্তন করিয়ে নিয়ে রান্নাঘরকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন।

পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা : প্রথমেই রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা দরকার। ন্যাচারাল বা ইনডাইরেক্ট এই দুরকমই আলোর ব্যবস্থা থাকা উচিত। বাইরের আলো আসার জন্য বড়ো কাচের জানলা যেমন দরকার তেমনি সিলিং-এর আলো আপনার রান্নাঘরকে পর্যাপ্ত আলোয় ভরিয়ে তুলতে পারবে। সাধারণত মিস হয়ে যায় রান্নাঘরে ক্যাবিনেটের নীচে আলোর ব্যবস্থা রাখা। ক্যাবিনেটের নীচের আলোকসজ্জা আপনার কিচেনে আধুনিকতার ছোঁয়া এনে দিতে পারে। ঠিকমতো আলোর অভাবে ক্যাবিনেটের নীচের কাউন্টার টপটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। সুতরাং এখানে আলোর ব্যবস্থা করলে কাউন্টার টপ-এর উপর কোনও কাজ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

ঝুলবাতির (পেইনডেন্ট লাইট) ব্যবহার : রান্নাঘরের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, বিশেষ করে ওপেন কিচেন-এ পেইনডেন্ট লাইট (রডের সাহায্যে ঝোলানো লাইট) ব্যবহার করতে পারেন। আলো নিয়ন্ত্রণের যদি ব্যবস্থা রাখেন তাহলে রোমান্টিক ডিনার থেকে শুরু করে ঘরোয়া গেট টুগেদার, যে-কোনও সময়ে মুড অনুযায়ী আলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

ক্যাবিনেটের দরজা বদলে ফেলুন : ক্যাবিনেট যেখানে আছে সেখানেই রেখে শুধু ক্যাবিনেটের দরজা এবং সামনের ফ্রেমটা সরিয়ে নতুন লাগান। এতেই দেখবেন Kitchen প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। ক্যাবিনেটের উড পলিশও করাতে পারেন আবার পছন্দের কোনও রঙে রাঙিয়ে তুলতে পারেন।

রান্নাঘরের দেয়াল সাজিয়ে তুলুন : রান্নাঘরকে নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে খালি দেয়াল সাজিয়ে তুলুন নিজস্ব সৃজনশীলতার সাহায্য নিয়ে। বাঁশ বা বেতের তৈরি সাজাবার জিনিস দোকান থেকে কিনে এনে দেয়ালে টাঙাতে পারেন। বাড়ির পুরোনো প্লেট রং করে বা নিজের শিল্পকাজের সহায়তা নিয়ে সেটাকে নতুন লুক দিন এবং দেয়াল সাজিয়ে তুলুন তাই দিয়ে।

পূর্ণাঙ্গ স্টোরেজ-এর ব্যবস্থা করুন : স্ন্যাক্স বা জলখাবারের জন্য আলাদা ড্রয়ার রাখুন যাতে তাড়াহুড়োতে খুঁজতে অসুবিধা না হয়। গ্যাস স্টোভ যেখানে সেখানে না রেখে, একেবারে হাতের কাছে রাখার ব্যবস্থা রাখুন। মুভমেন্ট-এর সুবিধার কথা ভেবে স্লাইডিং ডোর-এর ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। পুরোনো কন্টেনার জমিয়ে না রেখে সব ফেলে দিন।

খোলা তাক বা ওপেন শেল্ফ রাখুন : খোলা তাক নোংরা বেশি হবে এবং অগোছালো অবস্থা অতিথির নজরে আসবে, এই ভয়ে অনেকেই খোলা তাক করাতে চান না। অথচ কিচেনে খোলা কাঠের তাকে একটা দুটো ইনডোর প্লান্ট এবং একটা ফুলদানি কিন্তু আপনার আভিজাত্যেরই পরিচয় বহন করবে। এছাড়াও খোলা তাকে রাখুন থালা, বাটি। আকর্ষণীয় রঙিন কাচের জার, কোস্টার্স, টুথপিক হোল্ডার, আর্টিফিশিয়াল ফ্রুটস ভেজিটেবলস, নানা রঙের বাস্কেটসও খোলা তাকে সাজিয়ে রাখতে পারেন।

গ্যাজেটস রাখুন প্রয়োজন অনুসারে : রোজের প্রয়োজনীয় গ্যাজেটস যেমন ইলেকট্রিক কেটল, কফি মেকার, মিক্সারগ্রাইন্ডার, চপার, মাইক্রোআভেন ইত্যাদি কাউন্টারে সাজিয়ে রাখুন। বাকি গ্যাজেটস যেমন টোস্টার, এয়ারফ্রায়ার, রাইসমেকার ইত্যাদির জন্য ক্যাবিনেটে জায়গা রাখুন।

রং বাছুন : রান্নাঘরের জন্য হালকা রং বাছুন। খুব গাঢ় রং রান্নাঘরকে অন্ধকার করে তুলবে এবং এতে রান্নাঘর ছোটো মনে হবে। সৌন্দর্য বাড়াতে কন্ট্রাস্ট রঙের টাইলস, বর্ডার এবং নানা ডিজাইন আঁকা টাইলস লাগাতে পারেন। ফ্লোর-এর জন্য ভিনায়েল ফ্লোরিং, সিরামিক টাইলস, ল্যামিনেটেড টাইলস বাছতে পারেন।

 

সন্তানের সুরক্ষাবলয়

করোনা অতিমারির Omicron ভয়াবহতা থেকে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বাচ্চাকে রাখুন সুরক্ষিত বলয়ে। ২০২০ থেকে আমাদের জীবনশৈলীর অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটেছে। কোথাও ঘোরফেরা বন্ধ, বন্ধু-আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ। আজ প্রায় দু’বছর যখন আমরা পেরোতে চললাম, ২০২২-এও আমাদের এই একই অবস্থায় যখন থাকতে হচ্ছে এবং মানুষ সবরকম আশা-ভরসা প্রায় হারিয়ে ফেলছে, তখন প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির নানা উপায় অবলম্বন করার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের পজিটিভিটি অক্ষুণ্ণ রাখা। বাচ্চাদের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া এখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে কারণ দীর্ঘ সময় বাড়িতে কাটাবার ফলে স্কুল, বন্ধু বানানো, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে ইনটার‍্যাকট করা ইত্যাদি আজ তাদের কাছে স্বপ্ন, যে স্বপ্ন আশা দেখায় না, বরং অবসাদের অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই প্রথম প্রয়োজন সন্তানের মানসিক স্থিরতা যাতে বজায় থাকে তার প্রচেষ্টা চালানো।

ইমিউনিটি বাড়ান

নানা সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, এক্সারসাইজ করলে ইমিউনিটি বাড়ে। সময়ের অভাবে অনেকসময় দীর্ঘক্ষণ এক্সারসাইজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে বাচ্চাদের পড়াশোনার চাপে শরীরের জন্য আলাদা করে পরিশ্রম করা হয় না। এই পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দিন যখন তারা জগিং, ব্রিস্ক ওয়াক, সাইক্লিং ইত্যাদি করতে পারে। তবে অবশ্যই ফাঁকা কোনও জায়গায় যেখানে অপরের সঙ্গে শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে সুবিধা হবে। যদিও করোনার কারণে পাবলিক সুইমিংপুল বন্ধ রাখা হয়েছে তবুও যদি বিশেষ সুবিধাযুক্ত কোনও জলাশয় কাছাকাছি থাকে এবং বাচ্চার যদি সাঁতারে ইন্টারেস্ট থাকে তাহলে সাঁতার শেখানো হল শরীরের জন্য একটি ভালো এক্সারসাইজ। অবশ্য এটি শীতকালীন সময়ে করা সম্ভব হয় না। সমীক্ষায় দেখা গেছে সারা সপ্তাহে যদি ১৫০ মিনিট মডারেট এক্সারসাইজ করা যায়, তাহলে নতুন করে ইমিউন সেল্স-এর গ্রোথ হয়।

মস্তিষ্ককে আরাম দিন

আমাদের মস্তিষ্ক তখনই কাজ করা বন্ধ করে দেয় যখন ব্রেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজে মন লাগাতে পারি না, ভাবনা চিন্তা করার শক্তি হারিয়ে ফেলি। আমাদের ঘুম যদি ঠিকমতো না হয় কিংবা শোওয়ার সময়, টিভি বা মোবাইল দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তখনও এই একই সমস্যায় পড়তে হয়। এতে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং Omicron সংক্রমণের বিপদ আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

অথচ আমরা অনেকেই জানি না এই কারণগুলিই মানুষের শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে তুলতে পারে। ঘুমের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতার গূঢ় সংযোগ রয়েছে। আমরা যখন ঘুমোই তখন আমাদের ইমিউন সিস্টেম বিশেষ ধরনের সাইটোকিন্স উৎপন্ন করে শরীরে, যা কিনা সংক্রমণ, প্রদাহ, অবসাদ এবং ফোলা ভাব কম করতে সহায়তা করে।

ঘুম ঠিকমতো না হলে টক্সিন যেটা আমাদের সুরক্ষা দেয় এবং সংক্রমণ রোধ করতে যে-অ্যান্টিবডিজ-এর দরকার সেটা তৈরি হওয়া কমে যায়। এর ফলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। সন্তানকেও বলুন যে, রোজ ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম দরকার এবং রাতের ঘুমের সঙ্গে কোনও আপস করা চলবে না।

 

 

স্ট্রেসজনিত সমস্যা থেকে বাচ্চারাও আজ মুক্ত নয়

সাধারণ জীবনযাপন করার কথা আজ প্রায় প্রতিটা মানুষ ভুলতে বসেছে। অথচ আগে এই ধরনের জীবনেই মানুষ অনেক বেশি খুশি থাকত কারণ মানুষের চাহিদা ছিল কম। মানসিক আনন্দ মানুষকে শরীর ও মনের দিক থেকেও সুস্থ থাকতে সাহায্য করত। কিন্তু এখন তিনটি শব্দ মানুষকে নিজের বশে করে নিয়েছে যার থেকে বাচ্চাদেরও নিস্তার নেই। শব্দ তিনটি হল – Stress, অবসাদ ও টেনশন। বড়োদের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চারাও সর্বত্র, বিশেষ করে পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে এতটাই প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে যে যখন তখন তারা ডিপ্রেশনের শিকার হয়ে পড়ছে।

এই সব কারণে বড়োদের সঙ্গে বাচ্চাদেরও মেন্টাল এবং ফিজিক্যাল হেলথ-এর উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া দরকার, যাতে সকলে শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ভাবেও শক্তসমর্থ থাকতে পারে। এখানে আলোচনার বিষয় হল কীভাবে জীবনশৈলীতে পরিবর্তন এনে বাচ্চাদের Stress কম করানো যেতে পারে।

 হেলদি ওয়েট মেইনটেন করা জরুরি করে

বিভিন্ন ধরনের কোশ দ্বারা ইমিউন সিস্টেম গঠিত হয়। এগুলি শরীরকে ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ইত্যাদি থেকে সুরক্ষিত রাখে। শরীরে এগুলির ব্যালেন্স ঠিক রাখাটা খুব দরকার, যাতে শরীর ফিট থাকতে পারে। কিন্তু শরীরে যখন ফ্যাট-এর মাত্রা বেড়ে যায় তখন ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হয়ে যায় এবং শরীর রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং সঠিক ওয়েট মেইনটেন করে ইমিউন সিস্টেম-এর কার্যক্ষমতা বহাল রাখা খুব জরুরি।

স্ট্রেস দূরে রাখুন

আমাদের জীবনে পরিস্থিতি কখন বদলে যায় আগে থেকে কিছু বলা যায় না। সুতরাং stress এমনিতেই আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। স্ট্রেসের কারণে শরীর জ্বালা করা বা ফুলে ওঠার সমস্যা দেখা দিলেই বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাচ্চাদেরও এই একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাচ্চা বলে তার জীবনেও স্ট্রেস কিছু কম নয়। পড়াশোনার চাপের সঙ্গে সঙ্গে আনুষঙ্গিক অন্যান্য চাহিদা পূরণ করার প্রেশার থাকে তাদের উপর। সুতরাং সে যখন অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখন ইমিউন সিস্টেম-এর অ্যান্টিজেন্স-এর সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা কমে যায়। যে-কারণে সংক্রমণ হওয়ার ভয় বেড়ে যায়।

সুতরাং বাচ্চাদের স্ট্রেসমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। পজিটিভ ভাবতে তাদের সাহায্য করুন। হেলদি ইটিং হ্যাবিটস, নিয়মিত এক্সারসাইজ, মস্তিষ্ক-কে আরাম দেওয়ার সঙ্গে জীবনশৈলীতেও পরিবর্তন এনে ইমিউনিটি বাড়ান সন্তানের।

 

 

ইন্টিরিয়র ও Health connection

হাত ধোয়া, দূরত্ব বজায় রাখা, মুখে মাস্ক পরিধান করা, বাড়ির দরজা থেকে শুরু করে মেঝে, রান্নাঘরের পরচ্ছন্নতা আমরা সকলেই মেনে চলি।  করোনাকালীন সময়ে দরজার হ্যান্ডেল আমরা বারে বারে পরিষ্কার করি স্যানিটাইজার ব্যবহার করে। নিজেদের শারীরিক যত্ন নিতেও ভুল হয় না, বাইরে থেকে এসেই বাইরের জামাকাপড় কাচার জন্য ছেড়ে পরিষ্কার বাড়ির পোশাক পরি। তবে কিছু কিছু ব্যাপার আমরা সঠিক না জানা থাকার ফলে করি না অথবা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। যেমন বাড়ির কার্পেট, শু-র‍্যাক, বাথরুম এর খুঁটিনাটি, কম্পিউটার-এর কিবোর্ড এবং মাউজ, ফার্নিচার ইত্যাদি। আজ জেনে নিই এগুলো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে কতটা সহায়তা করে।

 ১)  কার্পেট-এও ভাইরাস লুকিয়ে থাকে কার্পেটে ই-কোলি, নেরো, সালমোনেলা-র মতো ভাইরাস লুকিয়ে থাকে। দেখে পরিষ্কার মনে হলেও চলাফেরা করার সময় ভাইরাসগুলি হাওয়ায় মিশে যায় ফলে পেটের নানা সমস্যা হতে পারে। তাই রোজ ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করা উচিত। কার্পেট ওয়াশ করার সময় প্রফেশনাল কার্পেট ক্লিনিং সার্ভিস-এর সাহায্য নিন অথবা অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন, ফলে ধুলোমাটি, ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্জির মতো সমস্যা হওয়ার ভয় থাকবে না।

২)  টয়লেট-এ রোটা ভাইরাস – টয়লেট সব থেকে ভিজে থাকার ফলে ব্যাক্টেরিয়া জন্মাবার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। সেজন্য বাথরুম ব্যবহারের পর জল, ঝাড়ু দিয়ে পুরো বার করে সেটা শুকিয়ে নিন। প্রত্যেকবার টয়লেট ফ্লাশ করার পর জীবাণুনাশক লিকুইড ব্যবহার করে হাত ধুয়ে নিন, কারণ রোটা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল এখানেই। এই ভাইরাসের কারণে ডায়ারিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ এটি পাচন তন্ত্রকে প্রভাবিত করার কাজ করে। টুথব্রাশ হোল্ডার রোজ জল দিয়ে পরিষ্কার করুন। টুথব্রাশ ব্যবহারের পর এটি ক্যাপ লাগিয়ে ঢেকে রাখতে ভুলবেন না।

৩)  বেডরুম পরিষ্কার রাখুন – বেডরুম হল রিল্যাক্স করারা জায়গা যেখানে ইচ্ছেমতন শোওয়া-ওঠা যায়, শুয়ে গান শোনা যায়, পার্সোনাল মোমেন্টস নিজের মতো করে এনজয় করা যায়। অথচ যে-বালিশে মাথা রেখে আমরা আরামের নিদ্রা যাই সেখান থেকে অসুস্থ হওয়াটা কোনও আশ্চর্যের ঘটনা নয়। কারণ এতে ডাস্ট মাইটস জীবাণু থাকে যার থেকে অ্যালার্জি, ফাংগাল ইনফেকশন এবং ফুসফুসের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সুতরাং তোশক, গদি, বালিশ সব রোদে দিন মাঝেমধ্যেই। বালিশের কভার তিন-চারদিন অন্তর অন্তর বদলান। এতে বেডরুম থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে আসবে।

৪)  শু-র‌্যাক পরিষ্কার রাখুন – সাধারণত প্রত্যেক বাড়িতেই জুতো এক জায়গায় রাখার জন্য শু- র‌্যাক থাকে। এটা রোজ পরিষ্কার করা উচিত, নয়তো এটাই হয়ে উঠতে পারে আপনার বাড়ির জীবাণুর আঁতুড়ঘর। বাইরের যত নোংরা, ধুলো, ব্যাক্টেরিয়া সব জুতোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ভিতরেও চলে আসে। এতে এসচেরিশিয়া কোলি নামক এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থাকে যা পেটের সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে ইউরিন ইনফেকশন-এরও কারণ। এছাড়াও চেষ্টা করবেন খুব নোংরা অথবা ভিজে জুতো শু- র‌্যাকে না রাখতে।

৫)  ফার্নিচার-এর ক্লিনিং – ফার্নিচারে প্রায় 80 শতাংশ ব্যাক্টেরিয়া থাকে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। পোশাক অথবা হাতের মাধ্যমে আসবাবপত্রের জীবাণু মানবশরীরে প্রবেশ করে। 15-20 দিন অন্তর অন্তর কুশন কভার, সোফা কভার সব ধুয়ে ফেলা বাঞ্ছনীয়। এছাড়াও ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ফার্নিচার পরিষ্কার করুন।

৬)  কম্পিউটার-এর কিবোর্ড এবং মাউজ – কিবোর্ডেও জীবাণুরা বাসা বাঁধে যেটাকে কিনা আমরা শরীরের অত্যন্ত কাছে নিয়ে বসি ও ব্যবহার করি। মোবাইলও নানা অসুখের জীবাণু বয়ে আনে যা ব্যবহারের সময় হাতের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢোকে। সুতরাং কাপড় অথবা তুলোর সাহায্যে রেগুলার গেজেটস পরিষ্কার করুন।

 

পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাই সুস্বাস্থ্যের সিক্রেট

ঘর-গেরস্থালি, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তো বতেই, সুস্থ শরীরের জন্য নিজের শরীর এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা আগে জরুরি। অপরিচ্ছন্ন জায়গা মানে বাসা বাঁধবে মারণ জীবাণুরা। মাত্র কিছু ঘণ্টার মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে জীবাণু থেকে নানা সংক্রমণ, বিশেষ করে করোনা অতিমারি চলাকালীন বিশেষ সাবধানতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশেপাশে সবকিছু clean রাখার সঙ্গে বিশেষ খেয়াল রাখুন বাইরের ঘরের দরজার হ্যান্ডেল, মেঝে, বাইরের জামাকাপড় এবং রান্নাঘরের Cleanliness-এর উপর। কীভাবে আসুন জেনে নিই।

১)  দরজার হ্যান্ডেল পরিষ্কার রাখুন – বাইরে থেকে ফিরে অথবা ঘরের ভিতরে থেকেও আমরা বারবার দরজার হ্যান্ডেল-এ হাত দিই। করোনাকালীন সময়ে আমাদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। দরজার হ্যান্ডেল-এ সাধারণত স্টেপ নামক ব্যাক্টেরিয়া খুব বেশি সক্রিয় অবস্থায় থাকে যেটা কিনা মুখে নাকে চলে গেলে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং হ্যান্ডেল রোজ অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ক্লিনারের সাহায্যে পরিষ্কার করুন এবং তারপর নিজেরা হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

২)  মেঝে পরিষ্কার রুখুন – বাড়ির বাইরে এবং ভিতরে আসা-যাওয়া চলতেই থাকে। বাইরের জুতো-চপ্পলের ধুলো-ময়লায় সব থেকে বেশি প্রভাবিত হয় বাড়ির মেঝে। সেজন্য রোজ মেঝে ঠিকমতো পরিষ্কার করা খুব জরুরি। বিশেষ করে বাড়িতে যদি ছোটো বাচ্চা থাকে। কারণ বাচ্চার উপর নজর রাখলেও কখন মেঝেতে পড়ে থাকা কিছু উঠিয়ে বাচ্চা মুখে দিয়ে দেবে সেটা বলা যায় না। এছাড়াও গরমে এবং বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে জীবাণুরা অনুকূল পরিবেশ পেয়ে অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে মেঝে ডিসইনফেকটেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার। এতে মেঝের জমে থাকা নোংরা দূর হয় এবং অ্যালার্জি হওয়ার চান্সও কম হয়ে যায়। ডিসইনফেকটেন্ট, জীবাণু এবং ভাইরাস রোধ করতে কার্যকরী এবং বাড়ির পরিবেশও সুগন্থিত হয়ে ওঠে। মেঝে Clean করার সময় কয়েক ফোঁটা ডেটল অথবা বাজারে অ্যাভেলেবেল ডিসইনফেকটেন্ট জলের সঙ্গে মিশিয়ে মেঝে এবং ঘরের প্রতিটি কোনা পরিষ্কার করে নিন।

৩)  রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতার খেয়াল রাখুন – নানা সমীক্ষায় পাওয়া গেছে রান্নাঘরের স্ল্যাবে করোনা ভাইরাসের জীবাণু কিছু ঘণ্টা থেকে নিয়ে পুরো একদিন পর্য‌ন্ত জীবিত থাকতে পারে। কার্ডবোর্ডের উপর 24 ঘণ্টা, স্টেনলেস স্টিলের উপর 2 দিন, কপারের উপর 5-6 ঘণ্টা, প্লাস্টিকের উপর 3 দিন পর্যন্ত এর জীবাণু জীবিত থাকতে পারে। সুতরাং বাড়ির সকলের সুস্থতার জন্য রান্নাঘরের পরিষ্কার-Cleanliness খুবই দরকার।

রান্নাঘরে কাজ শুরুর আগে হাত সাবান দিয়ে অথবা অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করুন। রান্নাঘরের কাজ শেষ হয়ে গেলে রান্নাঘরের সারফেস, মেঝে সব ওয়াইপস এবং ডিসইনফেকটেন্টের সাহায্যে পরিষ্কার অবশ্যই করুন। এছাড়াও রান্নাঘরের কাপড়, স্পঞ্জ সব সাবান দিয়ে রোজ পরিষ্কার করুন। কাটিং বোর্ডের উপর স্যালমোনেলা ভাইরাস, ই-কোলির মতোন ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে যার সংস্পর্শে এলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর গরমজল দিয়ে সেটি ধুয়ে ফেলুন। কাবার্ড-এর হ্যান্ডেল, মাইক্রোআভেন-এর হ্যান্ডেল এবং বাইরেটা, কল ইত্যাদিও ডিসইনফ্যাকটেন্ট দিয়ে রোজ পরিষ্কার করুন এবং ডাস্টবিন যেখানে নোংরা জমার ফলে এমনিতেই জীবাণুর আঁতুরঘর মানা হয় সেটাও রোজ সাবান দিয়ে ধুতে অথবা ডিসইনফ্যাকটেন্ট ছড়িয়ে পরিষ্কার করতে যেন ভুল না হয়।

৪)  পোশাক আশাক রাখুন জীবাণুমুক্ত – আমাদের অজান্তেই আমাদের জামাকাপড়ের সংস্পর্শে চলে আসে জীবাণু। বাচ্চাদের জামাকাপড় থেকে বড়োদের জামাকাপড় রোজ ভালো ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোওয়া উচিত ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া মুক্ত রাখতে। মেশিনেও কাচার সময় সঠিক তাপমাত্রায় ওয়াশ করা উচিত যাতে সাবান ঠিকমতো কাজ করে। খুব নোংরা কাপড় হলে রোজের জামাকাপড়ের থেকে আলাদা রাখুন। একসঙ্গে বাড়িতে পরার জামাকাপড়ের সঙ্গে কাচবেন না।

নতুন বছরে নতুন রং

বাড়ির বাইরের দেয়ালে রং করতে চাইলে মাথায় রাখুন আবহাওয়া। বাইরের দেয়ালে রং করার জন্য গ্রীষ্মকাল সবচেয়ে উপযোগী। ভেতরের দেওয়ালে বছরের যে কোন সময় রঙ করাতে পারেন।

বাড়ির ভিতরের রং

ডিসটেম্পারঃ ইট, কংক্রিট ও প্লাস্টারের ওপর ডিসটেম্পার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ডিসটেম্পার, যেমন- অ্যাক্রেলিক, সিনথেটিক, ড্রাই ইত্যাদি। অ্যাক্রেলিক ডিসটেম্পার পানি দিয়ে ধোঁয়া যায়। কিন্তু সিনথেটিক ও ড্রাই ডিসটেম্পার পানি দিয়ে ধোঁয়া যায় না।

প্লাস্টিক পেইন্টঃ প্লাস্টিক ইমালশন নামেই বেশি পরিচিত। পানি ভিত্তিক রঙ, যা দীর্ঘস্থায়ী ও ধোঁয়া যায়। প্লাস্টিক পেইন্ট তিন ধরণের- রেগুলার, ইকোনমিক ও প্রিমিয়াম ইমালশন।

মনে রাখবেন, শুধু সৌন্দর্যর কথা ভেবে ঘরে রঙের ব্যবহার করলে চলবে না। জানতে হবে, ঘরে-বাইরে কোথায় কোন রং ব্যবহার করলে, সৌন্দর্যর পাশাপাশি ঠিকঠাক আলো ছড়াবে এবং চোখকে আরাম দেবে। যেমন, যে-ঘরে বাইরের পর্যাপ্ত  আলো এসে পড়ে, সেই ঘরে সামান্য ডিপ কালার ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু যে-ঘরে আলো কম ঢোকে, সেই ঘরে অবশ্যই হালকা রং ব্যবহার করা উচিত। সেইসঙ্গে, ঘরের উপরিভাগ, অর্থাৎ সিলিংয়ে সবসময়ই সাদা রং ব্যবহার করা দরকার। এতে বেশি আলো ছড়াবে এবং সৌন্দর্যও বাড়বে।

আর রান্নাঘরের দেয়ালে যেহেতু তেলকালি জমে, তাই রান্নাঘরের দেয়ালগুলিতে ডিপ কালার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, রান্নাঘরে এক্সজস্ট ফ্যান বা চিমনির ব্যবহার অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জল বা লিকুইড সোপ দিয়ে মাঝেমধ্যে যাতে দেয়াল পরিষ্কার করা যায়, তার জন্য অবশ্যই ওয়াশেবল কালার ব্যবহার করবেন। এখন বাজারে কয়েকটি ব্র‌্যান্ডের প্লাস্টিক পেন্ট পাওয়া যায়, যা ম্যাট ফিনিশ এবং ওয়াশেবল।

রঙের ব্যবহার প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখবেন, দেয়ালের রঙের তুলনায় দরজা-জানলার রং অবশ্যই আলাদা এবং গাঢ় হওয়া উচিত। এতে যেমন সৌন্দর্য বাড়ে, ঠিক তেমনই দেয়াল ভেবে দরজায় ধাক্কা খাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। তাই অল্প আলোতেও যাতে দরজা-জানলা সহজে আইডেন্টিফাই করা যায়, তেমন রং-ই ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া, দরজায় উডেন কালার কিংবা ব্রাউন কালার করলে, দেয়ালের রং যাই থাক, তা অবশ্যই নজর কাড়বে। আর জানলার গ্রিলে কালো রং ব্যবহার করলে, তা মানানসই হবে এবং নজর কাড়বে। তবে, দরজা-জানলা পরিষ্কার করার সুবিধার জন্য অবশ্যই অয়েল পেইন্ট ব্যবহার করা উচিত।

অবহেলা নয় অনলাইন ক্লাস-এ

আমাদের দেশে করোনা থাবা বসিয়েছিল ২০২০ সালের শুরু থেকে। লকডাউন শুরু হয়েছিল ২০২০-র মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। মাঝে কিছুদিন আনলক পর্ব চললেও, লকডাউন থেকে এখনও পুরোপুরি মুক্তি মেলেনি। আর তাই অন্যান্য অনেক অসুবিধার সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে পড়ুয়ারাও রয়েছে মহাসংকটে। ওরা বঞ্চিত হয়ে চলেছে স্বাভাবিক স্কুলজীবন থেকে।

পঠনপাঠন জারি রাখার জন্য এখন নিরুপায় ভাবে মাধ্যম করতে হয়েছে অনলাইন ক্লাস-কে। কিন্তু এই অনলাইন ক্লাস-কে মোটেই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ, কবে করোনা ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি ঘটবে, বা আদৌ মুক্তি ঘটবে কিনা কিংবা কবে আবার পড়ুয়ারা স্বাভাবিক স্কুলজীবন ফিরে পাবে তা আমরা কেউই এখন আন্দাজ করতে পারছি না। অতএব, অনলাইন ক্লাস-কে সন্তানের শিক্ষালাভের বর্তমান অনিবার্য মাধ্যম ধরে নিয়ে অভিভাবকদের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর এর জন্য কী কী পদক্ষেপ নিলে আপনার সন্তানের শিক্ষাজীবন অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে এবং শরীর, মন ভালো থাকবে সেই বিষয়ে রইল কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

ক্লাস করার উপযুক্ত পরিবেশ দিন বাচ্চাকে

বাসস্থান বড়ো, ছোটো যাইহোক না কেন, সন্তান যাতে উপযুক্ত নিরিবিলি আবহে অনলাইন ক্লাস করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিতে হবে মা-বাবাকেই। এর জন্য একটা পুরো ঘর কিংবা অন্তত ঘরের একটা কোণ বরাদ্দ করুন। রাখুন পড়ার জন্য উপযুক্ত চেয়ার-টেবিল। আর যদি আলাদা করে চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা করতে না পারেন, তাহলে খাটের উপর বসে যাতে আরামে বইখাতা রেখে পড়তে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখুন। কিনুন একটা ছোট্ট রিডিং টেবিল। মাত্র ৫০০ টাকায় ক্যাশ-অন ডেলিভারিতে এই রিডিং টেবিল কিনতে পারেন অনলাইনে। এই বিশেষ টেবিলে রাখা যাবে ল্যাপটপ। এমনকী, মোবাইল চালিয়ে রাখারও উপযুক্ত জায়গা করা রয়েছে।

বসার জায়গার বন্দোবস্ত করার পর, ব্যবস্থা করুন পড়ুয়ার আরামের। কারণ, দীর্ঘসময় বসে যেহেতু লেখাপড়া করতে হবে, তাই পড়ুয়া যাতে গরমে কষ্ট না পায়, সেই ব্যবস্থা করুন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে লেখাপড়ার ব্যবস্থা না করতে পারলেও, পড়ুয়ার মাথার উপর যেন একটা বৈদু্যতিক পাখা ঘোরে, সেই ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক।

হই-হট্টগোল, যানবাহনের আওয়াজে পড়াশোনায় মনোসংযোগ বিঘ্নিত হতে পারে, তাই যতটা সম্ভব সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আর নিজেরাও জোরে জোরে কথা বলবেন না কিংবা স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করবেন না। কারণ, এই ধরনের চিৎকার চ্যাঁচামেচি যেমন পড়ুয়ার মনে বিরক্তি আনবে, ঠিক তেমনই মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ-এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকার কানেও সেই চ্যাঁচামেচি পৌঁছে যাবে। এতে আপনাদের এবং সন্তানের সম্মানহানি ঘটতে পারে। অতএব, শান্তি বজায় রাখুন।

মোবাইল, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট-এর উপযুক্ত ব্যবস্থা করুন

যদি ল্যাপটপ না কিনে দিতে পারেন, তাহলে ইনস্টলমেন্ট-এ অন্তত একটা ভালো মোবাইল কিনে দিন। সেইসঙ্গে আনলিমিটেড কিংবা প্রতিদিন অন্তত চার জিবি ডেটা ইন্টারনেট-এর ব্যবস্থা করে দিন। আর যদি ল্যাপটপ ব্যবহার করে, তাহলে হটস্পট কিনে ইন্টারনেট সংযোগ দিন অথবা কেবল-ইন্টারনেট কিংবা ব্রডব্যান্ড কানেকশন-এর ব্যবস্থা রাখুন। আর পড়ুয়াকে মোবাইল, ল্যাপটপ অপারেটিং এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে কীভাবে অনলাইন ক্লাস করবে, সেই বিষয়ে হাতে ধরে শেখান। যদি আপনার নিজের জানা না থাকে এ বিষয়ে তাহলে এক্সপার্ট-এর সাহায্য নিন। মোবাইল শপ কিংবা কম্পিউটার অপারেটরের সাহায্য নিতে পারেন এ ব্যাপারে। প্রয়োজনে স্কুলশিক্ষক এবং আপনার সন্তানের সহপাঠীদের সাহায্যও নিতে পারেন।

পড়ুয়ার শারীরিক এবং মানসিক ভারসাম্যের খেয়াল

একটানা একবছর পড়ুয়ারা হারিয়েছে ওদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। স্কুলে যাওয়া নেই, বন্ধুদের সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলা নেই, হইহুল্লোড় নেই, স্কুলে শিষ্টাচার মেনে চলা নেই, খেলাধুলোও নেই। মনে রাখবেন, এই ছন্দপতন পড়ুয়াদের শরীর-মনে মারাত্মক খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিত্সকদের মতে, শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক সংযোগের ঘাটতির ফলে যেমন শারীরিক বৃদ্ধি ব্যহত করতে পারে, তেমনই মানসিক বিকাশও বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এর ফলে স্থলতার সমস্যা, ধৈর‌্য হারানোর সমস্যা, বুদ্ধির ঘাটতির সমস্যা প্রভতি হতে পারে। শুধু তাই নয়, সামাজিক মেলামেশার এই বিরতি, ভবিষ্যতে একাকিত্বের কবলে ফেলতে পারে পড়ুয়াকে। অতএব, সতর্ক থাকুন অভিভাবকরা এবং সমস্যামুক্ত থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

একটানা বসে লেখাপড়া না করিয়ে মাঝেমধ্যে ঘরের মধ্যে হাঁটাচলা করতে বলুন আপনার সন্তানকে। অনলাইন-এ একটা ক্লাস করার পর যাতে অন্তত পনের মিনিট বিরতি পায় পড়ুয়ারা, তা নিশ্চিত করুন স্কুল টিচার-এর সঙ্গে আলোচনা করে। কারণ, ওই বিরতি আবশ্যক পড়ুয়ার মেন্টাল রিলিফ-এর জন্য, খাওয়া এবং হাঁটাচলার জন্য।

লেখাপড়ার মাঝে সঠিক সময়ে যাতে খাবার খায় পড়ুয়ারা এবং উপযুক্ত পরিমাণে জল পান করে, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন এবং সঠিক উদ্যোগ নিন।

পড়ার সময়, কিংবা মোবাইল ও ল্যাপটপ-এ চোখ রেখে অনলাইন ক্লাস করার সময় যাতে পর্যাপ্ত আলো পায় পড়ুয়ারা, সেই ব্যবস্থা রাখুন সঠিক ভাবে। কারণ, উপযুক্ত আলো না পেলে চোখে পাওয়ার আসতে পারে কিংবা পাওয়ার থাকলে তা আরও বেড়ে যেতে পারে। প্রতিদিনই যদি পড়ুয়ার মাথা ধরে থাকা কিংবা মাথার যন্ত্রণা হতে থাকে, তাহলে অবশ্যই আই স্পেশালিস্ট-কে দেখাবেন। কারণ, ডক্টর চেক-আপ না করালে, পরে বড়ো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

প্রতিদিন সকাল-বিকেল বাড়ির আশপাশ অঞ্চলে কিংবা মাঠে হাঁটিয়ে নিয়ে আসবেন পড়ুয়াকে। আর তা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অবশ্যই বাড়িতে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করাবেন আপনার সন্তানকে।

সময় পেলে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন এবং ওর সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান। এতে ওর মানসিক ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকবে। সেই সঙ্গে, ওর স্কুল কিংবা পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে দূরভাষে কথা বলতে বলুন। কারণ, বাড়িতে থাকার একঘেয়েছি কাটাতে এটা এখন অন্যতম উপায়।

সন্তানকে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ-এ ব্যস্ত রাখুন। ভালো গান শোনান কিংবা শুনতে বলুন এতে মন ভালো থাকবে।

টিভিতে সারাক্ষণ প্রচারিত হতে থাকা অসুস্থতার খবর কিংবা মৃত্যুর খবর দেখাশোনা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করুন আপনার সন্তানকে। অর্থাত্, ওদের যেন কখনও নেগেটিভ চিন্তাভাবনা গ্রাস না করে।

লেখাপড়ার সময়ে অবসরে প্রয়োজনে মায়ের সঙ্গে ঘরের কাজেও ব্যস্ত রাখতে পারেন আপনার সন্তানকে। এর ফলে আপনার সন্তান বন্ধুদের সান্নিধ্য না পাওয়ার অভাব কিছুটা ভুলবে এবং একাকিত্ব গ্রাস করবে না।

বাড়িতে যেহেতু বেশিরভাগ সময়টা বসে অনলাইন ক্লাস করতে হচ্ছে ছোটোদের, তাই ওদের ফাস্ট ফুড খাওয়া থেকে বিরত রাখুন এবং খুব ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে যেন পড়তে না বসে। এতে স্থূলতা এবং হার্ট-এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইন্টারনেট যেহেতু সারা পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে, তাই পড়ুয়াদের খুব সাবধানে নজরে রাখা জরুরি। কারণ, ভালো কিছুর পাশাপাশি, খারাপ কিছুর নাগাল পেয়ে বিপথেও যেতে পারে আপনার সন্তান। যেমন ডেডলি গেমস, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদির শিকার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সতর্ক থাকুন এবং সন্তানকে সতর্কতার সঙ্গে নজরে রেখে, ওদের বিপথে যাওয়ার থেকে রক্ষা করুন।

কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র

অন্দরসজ্জায় পরিবর্তন আনতে হবে আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী। সবরকম আর্থিক সামর্থ্যের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে, বিপণিগুলি নিত্যনতুন পণ্যসম্ভারে বাজার ভরিয়ে তুলেছে। বাজেট অনুযায়ী, পছন্দসই ফার্নিশিংস আর আসবাবের কোনও অভাব নেই বাজারে। শুধু বাছাই করে নিতে পারলেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং : কী রকম অন্দরসজ্জা চান আপনি, তা ঠিক করে নিন প্রথমে। গুরুত্ব দিন আপনার পরিবারের বাকি সদস্যদের পছন্দকেও। এবার ঠিক করুন, সবাই
ট্র‌্যাডিশনাল লুক চান নাকি ফিউশন। এরপর গুরুত্ব দিন আলোর বিকল্প, আসবাব, ফ্লোরিং, বাড়ির বাইরের এবং ভিতরের রং অথবা ওয়ালপেপার। এই সবকিছুরই দাম জেনে নিয়ে কিছুটা
দরদাম করে, বাজেটের মধ্যে যেটা নিতে পারবেন, সেই পছন্দের জিনিস দিয়ে সাজিয়ে তুলুন নিজের একান্ত আপন বাড়িটিকে। অবশ্য বাড়ি সাজাবার আগে, যারা ওই বাড়িতে থাকবেন,তাদের রুচি এবং প্রয়োজন প্রাধান্য পাওয়া উচিত এক্ষেত্রে।

প্রত্যেকটি শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, বারান্দা প্রভৃতি কতটা স্পেস রয়েছে, তা দেখে নিয়ে সাজে বদল আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং। এতে ব্যক্তির প্রয়োজন, ঘরের রং, আসবাবের শেপ, ফ্যাব্রিক, মেটিরিয়াল, ডিজাইনিং প্রভৃতি একের সঙ্গে অপরের সামঞ্জস্য বজায় রেখে সোফা, কুশন, দেয়াল, সিলিং, পর্দা সবকিছুরই বিশেষ খেয়ালরাখা হয়।

বাজারে গিয়ে কিছু পছন্দসই জিনিস কিনলেন অথচ বাড়িতে নিয়ে এসে দেখলেন ঘরের আকার অনুযায়ী ঠিকমতো আঁটানো যাচ্ছে না, এমন ঝামেলায় পড়তে হয় অনেক সময়। যেটাই বাড়িতে নতুন তৈরি করা হবে, তা যেন বাড়ির পুরো ডেকরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে করানো হয় এবং বাজেটও আয়ত্বে থাকে। লিভিং রুমটি হয়তো আকারে ছোটো অথচ দোকানে গিয়ে পছন্দ হল বড়োসড়ো একটি সোফা। কখনওই সেটা মানানসই হবে না, উপরন্তু জায়গাতেও কম পড়বে। তার চেয়ে ভালো, ঘরের আকার অনুযায়ী কাস্টমাইজড সোফা বানিয়ে নেওয়া এবং সেইসঙ্গে, ঘরের অন্যান্য আসবাবও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র হল বিভিন্ন রকমের ডিজাইন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যম। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, জায়গা ইত্যাদি
দেখে বানানো হয়। এতে গ্রাহকের নিজস্ব পছন্দের বিষয়টিও ঠিক থাকে। সারা বাড়ির ডেকর বদলে ফেলা সম্ভব এই পদ্ধতিতে। লেদারের সঙ্গে সলিড কাঠের আসবাব মানানসই হলেও একটু বেশি গরমের অনুভূতি হয়। কিন্তু যদি কাঠ এবং মোটা তারের জাল ব্যবহার করে সোফা কিংবা খাট তৈরি করা হয়, তাহলে হাওয়া চলাচল সঠিক থাকবে এবং গরম হবে না। এরকম ডিজাইনার ফার্নিচারের প্রচুর বিকল্পও রয়েছে আজকাল। এগুলিকে মডার্ন লুকও দেওয়া যায়, আবার ক্রেতা চাইলে ট্র‌্যাডিশনাল লুক দিয়ে তৈরি করে দেন ফার্নিচার বিপণির কর্মীরা।

পছন্দসই ডেকর : আমরা যে-রঙের পর্দা ব্যবহার করি, সেই রঙের কুশন কভার, বেড কভার ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজাবার চেষ্টা করি, যাতে রং ও স্টাইল-এ একটা মিলমিশ থাকে।
পর্দার ঝালর লাগাতে চাইলে, দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লাগানো যেতে পারে। ঘর আকারে ছোটো হলে, বড়ো যাতে লাগে, সেইজন্য দেয়ালে ওয়ালপেপার লাগানো যেতে পারে অথবা ওয়ালপেপারে পেন্ট করানো যেতে পারে। ওয়ালপেপার পছন্দ করার প্রথম কারণ হচ্ছে, ঘর দেখতে সুন্দর লাগে। তারপর রং করাবার হলে, ভালো রঙের মিস্ত্রি খুঁজে বার করা এবং হাতে সময় থাকাটাও জরুরি। সময় বাঁচাতে চটজলদি ওয়ালপেপার লাগিয়ে ঘরের অন্দরসজ্জা সেরে ফেলতে ক্ষতি কী? বাড়ির সকলের আলাদা আলাদা পছন্দে এবং ওয়ালপেপারের বৈচিত্রে প্রত্যেকের ঘর সেজে উঠতে পারে সম্পূর্ণ ডিফারেন্ট লুক নিয়ে বাড়তি সুবিধা হল দেয়ালের অন্য
আর কিছু টাঙাবারও প্রয়োজন পড়ে না।

অনেকের মনেই এই ধারণা রয়েছে যে, নিজের পছন্দমতো বাড়ি সাজাতে গেলেই অর্থব্যয় অনেক বেশি হবে। কিছুদিন আগে পর‌্যন্ত হয়তো এই ধারণাটা সত্যি ছিল কিন্তু এখন সময়
বদলেছে। কারণ আর কিছুই নয়, এখন বাজারে ভ্যারাইটি এবং বিভিন্ন রকমের মেটিরিয়ালের
প্রাচুর্য রয়েছে। কাঠের আসবাব কিনতে গেলে, কাঠের মধ্যেই নানা ভ্যারাইটি পাবেন।
তাছাড়া, দামি, কমদামি সবই পেয়ে যাবেন একই ছাদের তলায়। এরকমই ফ্র‌্যাব্রিক, কিচেন অ্যাকসেসরিজ, ডেকোরেশনের জিনিস, সবই ফ্ল্যাট অথবা অ্যাপার্টমেন্ট অনুযায়ী এবং বাজেটের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। প্রয়োজন শুধু সঠিক খোঁজখবর নেওয়ার। সুতরাং অন্যের কথায় কান না দিয়ে নিজের প্রয়োজন জানুন এবং বাড়িতে বসবাসের দিনগুলিকে আনন্দময় করে তুলুন।

টুকিটাকি রদবদল : কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং-এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন জিনিসের সামান্য রদবদলেও, আপনার ফ্ল্যাটটি উত্সবের রঙে সেজে উঠতে পারে। হাতে সময় কম থাকলে অর্ডার প্লেস করা, জিনিস তৈরি হওয়ার সময় দেওয়া, কোনওটাই সম্ভব নয়। তাই বলে কি অন্দরসজ্জায় পরিবর্তন আনবেন না মাঝেমধ্যে? মন খারাপের কিছু নেই।

আসবাবপত্রের অবস্থান পরিবর্তন করেও ঘরের সাজ বদলে দেওয়া যায়। বারান্দায় অবহেলায় পড়ে থাকা ফুলের টবগুলিকে রঙিন করে ঘরের প্রতিটি কোণায় রাখুন ফুলের গাছ সহযোগে।
ঘরের দেয়ালের রং এবং পর্দার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কুশন কভার, বেড কভার, বালিশ এবং পাশবালিশের কবার বদলে ফেলুন। আজকাল মেঝেতে পাতার জন্য খুব সুন্দর ডিজাইনের
হালকা, সিন্থেটিক কার্পেট কিনতে পাওয়া যায়। নতুন বছরে বসার ঘরে যদি একটা কার্পেট বিছিয়ে নেন, তাহলে ঘরের সৌন্দর্যও বাড়বে এবং শীতকালে মেঝে থেকে ওঠা ঠান্ডাও আপ
পায়ে লেগে সমস্যায় পড়তে হবে না। আর বাড়িতে থাকা ফুলদানিতে টাটকা ফুল রেখেও ঘরের সৌন্দর্য‌ বাড়ানো যেতে পারে এবং ঘরকেও সুগন্ধময় করে রাখা যেতে পারে।

বাচ্চাকে গেরস্থালির কাজেও ব্যস্ত রাখা দরকার

ছোটো ছোটো বাড়ির কাজে Household chores বাচ্চাকে ব্যস্ত রেখে বাচ্চার বাড়িতে চুপচাপ বসে থাকার একঘেয়েমি যেমন কাটানো যাবে তেমনি বাচ্চাকে দায়িত্ব নেওয়ার পাঠও দিতে পারবেন।

১)  সকালে ঘুম থেকে উঠলে ছোটো ছোটো সহজ ব্যায়াম শেখান বাচ্চাকে এবং নিজেও সেটা বাচ্চার সঙ্গে করুন। নতুন জিনিস শিখলে বাচ্চার আগ্রহ বাড়বে।

২)  বাড়িতে রাখা টবের গাছগুলোতে মগে করে জল দিতে বলুন, বড়োদের সামনে থাকাটা জরুরি। এতে বাচ্চার প্রকৃতির সঙ্গে সখ্যতা বাড়বে।

৩)  রান্নার সময় সবজিগুলো বড়োদের হাতের কাছে এগিয়ে দিতে বলুন। এতে বিভিন্ন সবজি চেনাও হবে আবার বড়োদের সঙ্গে Household chores করতে পেরে মনে স্বস্তি অনুভব করবে। এতে বাচ্চার মনে হবে ছোটো হলেও বাড়িতে ওর একটা গুরুত্ব রয়েছে।

৪)  পড়াশোনা করার সময়টুকু বাদ দিয়ে বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে ইনডোর গেমস খেলুন। ক্যারাম, লুডো, তাস একসঙ্গে বসে খেলে দেখুন। এই মজা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না এবং ফ্যামিলি বন্ডিং-টাও বাড়বে।

৫)  বিভিন্ন ক্রসওয়ার্ড, ধাঁধা, সুডোকু ইত্যাদি খেলতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন, কীভাবে খেলতে হয় বুঝিয়ে বলুন। এগুলো মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করবে এবং শিশুমনকে স্ট্রেস অ্যাংজাইটি থেকেও দূরে রাখবে। বাইরে বেরোতে না পারার কষ্টকে ভুলে থাকতে অনেকটাই হেল্প করবে।

৬)  সারা দিনের শেষে একটি নির্দিষ্ট খাতায় বাচ্চাকে বলুন সারাদিনে যা যা করেছে সেটা লিখতে। সারাদিনটা কেমন কেটেছে, কী কী ভালো কাজ করেছে মনে করে খাতায় সেটা লিখে রাখতে বলুন। এতে ডায়ারি লেখার অভ্যাস হবে এবং একঘেয়েমি কেটে নতুন কিছু করার আনন্দে বাচ্চা মেতে উঠবে।বাচ্চাকে বলুন, ডায়ারিটা ওর নিজস্ব সম্পত্তি এবং ওতে ও যা যা লিখছে সেটা একমাত্র ওই জানবে। বড়োরা ওর এই ডায়ারিতে হাত দেবে না। এতে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

৭)  বাড়িতে বন্ধ হয়ে থাকার অস্বস্তি বাচ্চার মন থেকে দূর করতে নতুন নতুন গঠনমূলক অ্যাক্টিভিটিতে বাচচাকে ব্যস্ত রাখুন। বাচ্চার কাছে কাগজ, পেনসিল, রং, রঙিন কাগজ ইত্যাদি থাকেই। সেগুলোর সাহায্যে ড্রযিং করে অথবা নেটের সাহায্য নিয়ে নানারকম ক্রাফট বানাতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন। পিকচার পোস্টকার্ড, ওয়াল হ্যাঙ্গিং ইত্যাদি বাচ্চা নিজেই বানাতে পারে। নিজস্ব তৈরি জিনিসে বাড়ি সেজে উঠতে দেখলে বাচ্চা আনন্দ পাবে।

৮)  এছাড়াও সব কাজের শেষে বাচ্চাকে বলুন ছড়িয়ে থাকা বাচ্চাদেরই জিনিসপত্রগুলি ওদের নির্ধারিত জায়গায় তুলে রাখতে যাতে ঘরটি পরিষ্কার লাগে দেখতে। এই কাজে আপনিও ওদের সঙ্গে হাত লাগাতে পারেন। এতে বাচ্চার মধ্যে দায়িত্ববোধেরও বিকাশ ঘটবে।

এরকমই নানা ইনোভেটিভ অ্যাক্টিভিটিতে বাচ্চাকে ব্যস্ত রেখে বাচ্চার একঘেয়েমি কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন বাচ্চার অভিভাবকেরা। এই সমস্যা আজ শুধু দেশের নয় গোটা বিশ্বের। গৃহবন্দি জীবনই আশীর্বাদ হয়ে উঠুক একটি শিশুর জীবনে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব