প্রশ্ন – আমি ৩৮ বছর বয়সি অবিবাহিতা এবং কর্মরতা। বাড়ির পরিস্থিতির জন্য বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। আর এর জন্য আমি নিজেকেই দোষী মনে করি। মা-বাবা যতদিন বেঁচেছিলেন কেয়ার করার কেউ ছিল, এখন দাদা-বউদির সংসার। তারা নিজের নিজের জীবনে ব্যস্ত সুতরাং খুব একাকিত্ব বোধ করি। বিয়ে করলে কি একাকিত্ব দূর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? তাহলে কি আমি জীবনের লক্ষ্য ফিরে পাব?

সম্প্রতি একটি ছেলের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তার সঙ্গে পরিচয় বাড়ার পর আমার তাকে ভালো বলেই মনে হচ্ছে। ছেলেটির কথাবার্তা শুনে মনে হয় ও আমাকে পছন্দ করে। আমার থেকে 5 বছরের ছোটো ছেলেটি। কিছুদিন আগেই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, বার বার বলছে আমাকে ও বিয়ে করতে চায় কিন্তু আমিই সমাজ আর পরিবারের কথা ভেবে পিছিয়ে যাচ্ছি। এটা আমার Personal Problem। আমার থেকে বয়সে ছোট একটি ছেলেকে বিয়ে করলে সমাজ কি আমাদের ছেড়ে দেবে? নানারকম বাজে কথা রটতে দেরি লাগবে না। এসব ভেবে পিছিয়ে আসছি। যদি পরামর্শ দেন এই পরিস্থিতিতে কী করব?

 পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে একাকিত্ব অনুভব করা কিছুমাত্র আশ্চর্যজনক নয়। মানুষ সামাজিক প্রাণী তাই সে একা বাঁচতে পারে না, একজন সঙ্গীর প্রয়োজন সবসময় দরকার। আর আপনার তো কারণও আছে। মা-বাবার মৃত্যুর পর আপনি নিজের সুখ-দুঃখ কারও সঙ্গে শেয়ার করতে পারছেন না। দাদা-বউদিও আপনার প্রিয়জনের অভাব পূরণ করতে পারেননি।

এমন অনেক কথা থাকে যা কোনও বন্ধু বা আত্মীয়ের সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। একাকিত্ব দূর করার অনেক রাস্তা আছে ঠিকই, কিন্তু যেহেতু আপনার বিয়েতে কোনও আপত্তি নেই সুতরাং নির্দ্বিধায় পরিবার আর সমাজের পরোয়া না করে বিয়ে করে নিন।

আপনাকে যে ছেলেটি বিয়ে করতে চায় সে বয়সে আপনার চেয়ে ছোটো ঠিকই কিন্তু দ্বিধামুক্ত হয়ে তার প্রোপোজালে রাজি হয়ে যান। আপনি একজন সঙ্গী পাবেন এবং আপনার একাকিত্বও দূর হবে। জীবনেরও লক্ষ্য খুঁজে পাবেন। সমাজে এই ধরনের উদাহরণ প্রচুর আছে। আপনি কোনওভাবেই বেমানান হবেন না। এইসব দম্পতিরাই সুখে সংসার করছেন। একটু ঝুঁকি তো জীবনে সবাইকেই নিতে হয় সুতরাং এতে ঘাবড়াবার কিছু নেই। তবে সবথেকে আগে জরুরি, মানুষটি ভালো কিনা সেটা জাচাই করে নেওয়ার৷

Tags:
COMMENT